সংবাদ

তেল খালাসে নতুন যুগ, বছরে সাশ্রয় ৬০০ কোটি টাকা


মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম

তেল খালাসে নতুন যুগ, বছরে সাশ্রয় ৬০০ কোটি টাকা
মহেশখালীর এসপিএম পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে ইন্দোনেশিয়ার পার্টামিনার সঙ্গে ১,৯৪৬ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষর

দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও পরিবহনে দীর্ঘদিনের ব্যয়বহুল লাইটারেজনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত দেশের প্রথম সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) স্থাপনার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিটি পার্টামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টালকে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সূত্রমতে, এসপিএম চালু হলে তেল খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বিপিসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল খালাস করতে যেখানে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগে, এসপিএমের মাধ্যমে তা প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন হবে। এছাড়া ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন ডিজেল খালাসে সময় লাগবে আনুমানিক ২৮ ঘণ্টা। বিপিসির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বছরে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিপিসির লিয়াজোঁ অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে বিপিসির পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হক এবং পার্টামিনার পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর হ্যারিস আবদি সেম্বিরিং মেলিয়ালা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর সমুদ্রের মুরিং ব্যবস্থা, উপকূলীয় স্থাপনা ও পাইপলাইন–সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামসহ পুরো ব্যবস্থার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে পার্টামিনা। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পার্টামিনাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে। ভ্যাট ও করসহ পাঁচ বছরের জন্য চুক্তির মোট আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা (১৫ কোটি ৯১ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার)।

এসপিএম প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত বড় তেলবাহী জাহাজ (মাদার ট্যাংকার) থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত জ্বালানি তেল খালাস করা। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট লাইটারেজ জাহাজে তেল স্থানান্তর করে উপকূলে আনা হয়। এই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় পরিবহন খরচ ও সময়—দুটোই অনেক বেশি লাগে।

নতুন ব্যবস্থায় মহেশখালীর পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে স্থাপিত বিশেষ ভাসমান বয়া বা মুরিং পয়েন্টে বড় জাহাজ নোঙর করবে। সেখান থেকে সমুদ্রের তলদেশ ও স্থলভাগের পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত ক্রুড অয়েল এবং পরিশোধিত ডিজেল সরাসরি মহেশখালীর কালারমারছড়ায় নির্মিত স্টোরেজ ট্যাংকে নেওয়া হবে। সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে এবং ডিজেল সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম ডিপোতে।

এসপিএম চালু হলে তেল খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বিপিসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল খালাস করতে যেখানে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগে, এসপিএমের মাধ্যমে তা প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন হবে। এছাড়া ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন ডিজেল খালাসে সময় লাগবে আনুমানিক ২৮ ঘণ্টা। বিপিসির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বছরে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

প্রকল্পের আওতায় সমুদ্র ও স্থলভাগ মিলিয়ে মোট ২২০ কিলোমিটার ডাবল পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের জন্য রয়েছে পৃথক লাইন। মহেশখালীতে নির্মাণ করা হয়েছে ছয়টি বিশাল স্টোরেজ ট্যাংক। এর মধ্যে তিনটির প্রতিটিতে ৫০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত তেল এবং বাকি তিনটির প্রতিটিতে ৩০ হাজার ঘনমিটার ডিজেল ধারণ করা সম্ভব। এছাড়া পুরো ব্যবস্থায় পাম্পিং স্টেশন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি (এসসিএডিএ) যুক্ত করা হয়েছে।

চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিপিপিইসি) কর্তৃক চীনা ঋণসহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের আগস্টে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পের বাজেট প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা থাকলেও কয়েক দফায় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালের মার্চে অবকাঠামো নির্মাণ ও সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হয়।

অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও অপারেটর নিয়োগ জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন এসপিএম বাণিজ্যিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে প্রকল্পের জন্য নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে; বিপিসি ইতিমধ্যে ৩,০৭৭ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৬৯০ কোটি টাকা পরিশোধের কথা রয়েছে। বিলম্বের কারণে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ১৮ মাসের ‘ডিফেক্ট লায়াবিলিটি’ মেয়াদের সময়সীমাও ২০২৬ সালের আগস্টে শেষ হয়েছে। ফলে এখন থেকে স্থাপনায় কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তার মেরামতের ব্যয় বিপিসিকেই বহন করতে হতে পারে।

এদিকে, অপারেটর নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রথম ধাপ বাতিল হওয়ার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আহ্বান করা দ্বিতীয় ধাপের দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে যোগ্য নির্বাচিত হয় পার্টামিনা।

তবে এসপিএম চালু হলেও এর শতভাগ সক্ষমতা ব্যবহারে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ থেকে যাচ্ছে। এসপিএমের অপরিশোধিত তেল পরিবাহী পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন ক্ষমতা ৪৫ লাখ টন, অথচ দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ টন। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) নির্মিত হলে অতিরিক্ত ৩০ লাখ টন পরিশোধন সক্ষমতা যুক্ত হবে, যা এসপিএম অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করবে।    

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


তেল খালাসে নতুন যুগ, বছরে সাশ্রয় ৬০০ কোটি টাকা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

দেশের জ্বালানি তেল আমদানি ও পরিবহনে দীর্ঘদিনের ব্যয়বহুল লাইটারেজনির্ভর ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার উদ্যোগ অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে নির্মিত দেশের প্রথম সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) স্থাপনার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পিটি পার্টামিনা ট্রান্স কন্টিনেন্টালকে। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির পাঁচ বছর মেয়াদি একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

সূত্রমতে, এসপিএম চালু হলে তেল খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বিপিসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল খালাস করতে যেখানে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগে, এসপিএমের মাধ্যমে তা প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন হবে। এছাড়া ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন ডিজেল খালাসে সময় লাগবে আনুমানিক ২৮ ঘণ্টা। বিপিসির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বছরে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় বিপিসির লিয়াজোঁ অফিসে আনুষ্ঠানিকভাবে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তিতে বিপিসির পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থাটির পরিচালক (পরিকল্পনা) মুহাম্মদ আসাদুল হক এবং পার্টামিনার পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ডিরেক্টর হ্যারিস আবদি সেম্বিরিং মেলিয়ালা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম।

চুক্তি অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছর সমুদ্রের মুরিং ব্যবস্থা, উপকূলীয় স্থাপনা ও পাইপলাইন–সংশ্লিষ্ট সরঞ্জামসহ পুরো ব্যবস্থার পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে পার্টামিনা। এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি পার্টামিনাকে এই দায়িত্ব দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করে। ভ্যাট ও করসহ পাঁচ বছরের জন্য চুক্তির মোট আর্থিক মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা (১৫ কোটি ৯১ লাখ ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার)।

এসপিএম প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত বড় তেলবাহী জাহাজ (মাদার ট্যাংকার) থেকে সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত জ্বালানি তেল খালাস করা। বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে বড় জাহাজ থেকে ছোট লাইটারেজ জাহাজে তেল স্থানান্তর করে উপকূলে আনা হয়। এই জটিল ও দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় পরিবহন খরচ ও সময়—দুটোই অনেক বেশি লাগে।

নতুন ব্যবস্থায় মহেশখালীর পশ্চিমে বঙ্গোপসাগরে স্থাপিত বিশেষ ভাসমান বয়া বা মুরিং পয়েন্টে বড় জাহাজ নোঙর করবে। সেখান থেকে সমুদ্রের তলদেশ ও স্থলভাগের পাইপলাইনের মাধ্যমে অপরিশোধিত ক্রুড অয়েল এবং পরিশোধিত ডিজেল সরাসরি মহেশখালীর কালারমারছড়ায় নির্মিত স্টোরেজ ট্যাংকে নেওয়া হবে। সেখান থেকে অপরিশোধিত তেল চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে এবং ডিজেল সরবরাহ করা হবে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম ডিপোতে।

এসপিএম চালু হলে তেল খালাসের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। বিপিসির প্রাক্কলন অনুযায়ী, বর্তমানে প্রচলিত ব্যবস্থায় এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল খালাস করতে যেখানে ৮ থেকে ১০ দিন সময় লাগে, এসপিএমের মাধ্যমে তা প্রায় ৪৮ ঘণ্টায় সম্পন্ন হবে। এছাড়া ৬০ থেকে ৭০ হাজার টন ডিজেল খালাসে সময় লাগবে আনুমানিক ২৮ ঘণ্টা। বিপিসির সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে বছরে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।

প্রকল্পের আওতায় সমুদ্র ও স্থলভাগ মিলিয়ে মোট ২২০ কিলোমিটার ডাবল পাইপলাইন নির্মাণ করা হয়েছে, যার মধ্যে অপরিশোধিত তেল ও ডিজেলের জন্য রয়েছে পৃথক লাইন। মহেশখালীতে নির্মাণ করা হয়েছে ছয়টি বিশাল স্টোরেজ ট্যাংক। এর মধ্যে তিনটির প্রতিটিতে ৫০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত তেল এবং বাকি তিনটির প্রতিটিতে ৩০ হাজার ঘনমিটার ডিজেল ধারণ করা সম্ভব। এছাড়া পুরো ব্যবস্থায় পাম্পিং স্টেশন, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা এবং আধুনিক নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি (এসসিএডিএ) যুক্ত করা হয়েছে।

চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিপিপিইসি) কর্তৃক চীনা ঋণসহায়তায় নির্মিত এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালের আগস্টে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রকল্পের বাজেট প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা থাকলেও কয়েক দফায় তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮ হাজার ২৯৮ কোটি টাকায়। ২০২৪ সালের মার্চে অবকাঠামো নির্মাণ ও সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শেষ হয়।

অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও অপারেটর নিয়োগ জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন এসপিএম বাণিজ্যিকভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ইতোমধ্যে প্রকল্পের জন্য নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে; বিপিসি ইতিমধ্যে ৩,০৭৭ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ করেছে এবং ডিসেম্বরের মধ্যে আরও ৬৯০ কোটি টাকা পরিশোধের কথা রয়েছে। বিলম্বের কারণে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের ১৮ মাসের ‘ডিফেক্ট লায়াবিলিটি’ মেয়াদের সময়সীমাও ২০২৬ সালের আগস্টে শেষ হয়েছে। ফলে এখন থেকে স্থাপনায় কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তার মেরামতের ব্যয় বিপিসিকেই বহন করতে হতে পারে।

এদিকে, অপারেটর নিয়োগে আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রথম ধাপ বাতিল হওয়ার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আহ্বান করা দ্বিতীয় ধাপের দরপত্রে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে যোগ্য নির্বাচিত হয় পার্টামিনা।

তবে এসপিএম চালু হলেও এর শতভাগ সক্ষমতা ব্যবহারে কিছু বাস্তব চ্যালেঞ্জ থেকে যাচ্ছে। এসপিএমের অপরিশোধিত তেল পরিবাহী পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন ক্ষমতা ৪৫ লাখ টন, অথচ দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারির বর্তমান বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা মাত্র ১৫ লাখ টন। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) নির্মিত হলে অতিরিক্ত ৩০ লাখ টন পরিশোধন সক্ষমতা যুক্ত হবে, যা এসপিএম অবকাঠামোর পূর্ণ ব্যবহারের পথ উন্মুক্ত করবে।    


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত