সংকটাপন্ন ও দুর্বল বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ অর্থ আমানত হিসেবে রাখার ঘটনা খতিয়ে দেখতে মাঠে নামছে সংস্থাটি। ৪ হাজার ৮১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ঠিক কোন প্রক্রিয়ায়, কার বা কাদের সুপারিশে এবং কী বিবেচনায় ওই সব ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল - তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে বিপিসি।
মাত্র আমানত রাখার প্রক্রিয়াই নয়, বরং অস্বাভাবিক উচ্চ সুদের প্রলোভনে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য, ঘুষ কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই অর্থ জমা রাখা হয়েছিল কি না, তাও কঠোরভাবে অনুসন্ধান করবে তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা এই অর্থ নিরাপদে ফেরত আনার কার্যকর উপায় বের করা এবং এই অনিয়মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাদের ওপর।
গত ৩ নভেম্বর বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানার সই করা এক অফিস আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। বিপিসির পরিচালককে (অর্থ) নাজনীন পারভীনকে কমিটির আহ্বায়ক এবং সংস্থাটির ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. আল-আমিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হবে গঠিত কমিটিকে।
তদন্তের মূল পরিধি ও নির্দেশিকা:
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, কমিটির অনুসন্ধানের আওতায় প্রধানত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
প্রক্রিয়া ও সুপারিশ যাচাই: বিপিসি এবং এর অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর অর্থ কোন আইনি বা দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোতে রাখা হয়েছিল এবং এর পেছনে কার বা কাদের সুপারিশ ও উদ্দেশ্য কাজ করেছে তা খতিয়ে দেখা।
দুর্নীতি ও অনৈতিক লেনদেন অনুসন্ধান: অস্বাভাবিক উচ্চ সুদের লোভ দেখিয়ে কোনো কমিশন লেনদেন, ঘুষ বা গোপন ও অনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই আমানতগুলো প্লেস করা হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করা।
অর্থ উদ্ধার ও নগদায়ন: সংকটাপন্ন বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ফিক্সড ডিপোজিট রিসিটের (এফডিআর) বিপরীতে জমা থাকা ৪ হাজার ৮১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা দ্রুত ও নিরাপদে নগদায়ন বা ফেরত আনার উপায় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করা।
ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়ানোর পথনকশা: ভবিষ্যতে এ ধরনের আর্থিক ঝুঁকি এড়াতে বিপিসি এবং এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর যেকোনো স্থায়ী আমানত রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য, তারল্য ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে ব্যাংক নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার সুপারিশ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার হাজার হাজার কোটি টাকা এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা দেশের জ্বালানি খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এক বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। তাই গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে আটকে থাকা অর্থের ভবিষ্যৎ এবং দায়ীদের জবাবদিহিতা।

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সংকটাপন্ন ও দুর্বল বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ অর্থ আমানত হিসেবে রাখার ঘটনা খতিয়ে দেখতে মাঠে নামছে সংস্থাটি। ৪ হাজার ৮১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকার এই বিশাল অঙ্কের অর্থ ঠিক কোন প্রক্রিয়ায়, কার বা কাদের সুপারিশে এবং কী বিবেচনায় ওই সব ব্যাংকে জমা রাখা হয়েছিল - তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করতে সাত সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ে কমিটি গঠন করেছে বিপিসি।
মাত্র আমানত রাখার প্রক্রিয়াই নয়, বরং অস্বাভাবিক উচ্চ সুদের প্রলোভনে কোনো ধরনের কমিশন বাণিজ্য, ঘুষ কিংবা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই অর্থ জমা রাখা হয়েছিল কি না, তাও কঠোরভাবে অনুসন্ধান করবে তদন্ত কমিটি। একই সঙ্গে ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা এই অর্থ নিরাপদে ফেরত আনার কার্যকর উপায় বের করা এবং এই অনিয়মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে তাদের ওপর।
গত ৩ নভেম্বর বিপিসির সচিব শাহিনা সুলতানার সই করা এক অফিস আদেশে এই তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানানো হয়। বিপিসির পরিচালককে (অর্থ) নাজনীন পারভীনকে কমিটির আহ্বায়ক এবং সংস্থাটির ব্যবস্থাপক (হিসাব) মো. আল-আমিনকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট অফিস আদেশ অনুযায়ী, আগামী এক মাসের মধ্যে যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন বিপিসির চেয়ারম্যানের কাছে জমা দিতে হবে গঠিত কমিটিকে।
তদন্তের মূল পরিধি ও নির্দেশিকা:
বিপিসি সূত্রে জানা যায়, কমিটির অনুসন্ধানের আওতায় প্রধানত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
প্রক্রিয়া ও সুপারিশ যাচাই: বিপিসি এবং এর অধীনস্থ কোম্পানিগুলোর অর্থ কোন আইনি বা দাপ্তরিক প্রক্রিয়ায় সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোতে রাখা হয়েছিল এবং এর পেছনে কার বা কাদের সুপারিশ ও উদ্দেশ্য কাজ করেছে তা খতিয়ে দেখা।
দুর্নীতি ও অনৈতিক লেনদেন অনুসন্ধান: অস্বাভাবিক উচ্চ সুদের লোভ দেখিয়ে কোনো কমিশন লেনদেন, ঘুষ বা গোপন ও অনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে এই আমানতগুলো প্লেস করা হয়েছিল কি না, তা গভীরভাবে অনুসন্ধান করে সংশ্লিষ্টদের চিহ্নিত করা।
অর্থ উদ্ধার ও নগদায়ন: সংকটাপন্ন বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ফিক্সড ডিপোজিট রিসিটের (এফডিআর) বিপরীতে জমা থাকা ৪ হাজার ৮১৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা দ্রুত ও নিরাপদে নগদায়ন বা ফেরত আনার উপায় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ পেশ করা।
ভবিষ্যতের ঝুঁকি এড়ানোর পথনকশা: ভবিষ্যতে এ ধরনের আর্থিক ঝুঁকি এড়াতে বিপিসি এবং এর আওতাধীন কোম্পানিগুলোর যেকোনো স্থায়ী আমানত রাখার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আর্থিক স্বাস্থ্য, তারল্য ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাই করে ব্যাংক নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট নীতিমালার সুপারিশ করা।
বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রীয় এই গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার হাজার হাজার কোটি টাকা এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও সংকটাপন্ন ব্যাংকগুলোতে আটকে থাকা দেশের জ্বালানি খাতের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এক বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয়। তাই গঠিত এই তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এবং পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে আটকে থাকা অর্থের ভবিষ্যৎ এবং দায়ীদের জবাবদিহিতা।

আপনার মতামত লিখুন