সংবাদ

১৫ শিক্ষার্থীর চুল কাটলেন প্রধান শিক্ষক, ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা


জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
জেলা বার্তা পরিবেশক, নওগাঁ
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

১৫ শিক্ষার্থীর চুল কাটলেন প্রধান শিক্ষক, ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা
ছবি : সংবাদ

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু চুল কাটাজুড়েই নয়, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রায়ই মারধর করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অতীতে এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুলও কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এতে শিশুদের মাথার চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও আকৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে শিশুদের মাথার চুল এলোমেলো ও খোপ খোপ কাটা অবস্থায় দেখা যায়।

অভিভাবক মিলন জানান, বাড়িতে এসে তিনি দেখতে পান তাঁর ছেলে ফাহামুদ হোসাইনের মাথার স্বাভাবিক চুলগুলো খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শীতের এই সময়ে শিশুদের এভাবে চুল কেটে দেওয়ায় তারা সমাজে ও সহপাঠীদের সামনে বিব্রত হচ্ছে। এর আগেও প্রধান শিক্ষক এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছিলেন। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের অমানবিক আচরণ করেন।

মিতু বানু নামের আরেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে তার ছেলেকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে তার দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়। ভয়ে শিশুটি এখন আর বিদ্যালয়ে যেতে চাচ্ছে না। অভিভাবকরা এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের চুল অনেক বড় হয়ে চোখের ওপর এসে পড়ছিল, তাই কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।’ নাপিত ডেকে বা অভিভাবকদের না জানিয়ে কেন এভাবে চুল কাটা হলো - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘তাদের দেখতে খারাপ লাগছিল, তাই কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। আমি প্রশিক্ষণে আছি। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কাটা হলো, তা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন তদন্ত করছেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি জানান, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬


১৫ শিক্ষার্থীর চুল কাটলেন প্রধান শিক্ষক, ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

নওগাঁর বদলগাছীতে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু চুল কাটাজুড়েই নয়, ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের প্রায়ই মারধর করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। এমনকি অতীতে এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুলও কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলার পালশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অন্তত ১৫ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কাঁচি দিয়ে খোপ খোপ করে কেটে দেন প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম। এতে শিশুদের মাথার চুলের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও আকৃতি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়ে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে শিশুদের মাথার চুল এলোমেলো ও খোপ খোপ কাটা অবস্থায় দেখা যায়।

অভিভাবক মিলন জানান, বাড়িতে এসে তিনি দেখতে পান তাঁর ছেলে ফাহামুদ হোসাইনের মাথার স্বাভাবিক চুলগুলো খোপ খোপ করে কেটে দেওয়া হয়েছে। আরেক অভিভাবক রকেট হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শীতের এই সময়ে শিশুদের এভাবে চুল কেটে দেওয়ায় তারা সমাজে ও সহপাঠীদের সামনে বিব্রত হচ্ছে। এর আগেও প্রধান শিক্ষক এক শিক্ষার্থীর ভ্রুর চুল কেটে দিয়েছিলেন। তিনি প্রায়ই শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এ ধরনের অমানবিক আচরণ করেন।

মিতু বানু নামের আরেক অভিভাবক অভিযোগ করেন, কয়েক দিন আগে তার ছেলেকে এমনভাবে মারধর করা হয়েছে যে তার দুই পা রক্তাক্ত হয়ে যায়। ভয়ে শিশুটি এখন আর বিদ্যালয়ে যেতে চাচ্ছে না। অভিভাবকরা এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক শহিদুল ইসলাম নিজের অপরাধ স্বীকার করে বলেন, ‘ছেলে-মেয়েদের চুল অনেক বড় হয়ে চোখের ওপর এসে পড়ছিল, তাই কয়েকজন শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দিয়েছি।’ নাপিত ডেকে বা অভিভাবকদের না জানিয়ে কেন এভাবে চুল কাটা হলো - এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ‘তাদের দেখতে খারাপ লাগছিল, তাই কপালের ওপরের চুল কেটে দিয়েছি।’

এ বিষয়ে বদলগাছী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুর রহমান বলেন, ‘ঘটনাটি শুনেছি। আমি প্রশিক্ষণে আছি। কী কারণে শিক্ষার্থীদের মাথার চুল এভাবে কাটা হলো, তা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রুহুল আমিন তদন্ত করছেন।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ছনি জানান, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, সংবাদ ডিজিটাল
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত