কার্তিক ও অগ্রহায়ণ - এই দুই মাস হেমন্ত কাল। হেমন্তের এই মাসটির আলাদা একটি সুঘ্রাণ আছে, তা হলো পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ। সকালে ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর হালকা কুয়াশার চাদরে হেমন্তের চিরচেনা রূপ জাগ্রত থাকে। শান্ত, স্নিগ্ধ ও রূপময় প্রকৃতিতে লাল টুকটুকে সূর্য ওঠে পূর্ব আকাশে। এই সময়ে মাঠভরা ধান, সেই ধান কেটে কৃষক বাড়িতে নিয়ে আসবে। নবান্ন আসে মন্থর শব্দের মতো।
এরই মধ্যে ভোরের দিকে কিংবা সন্ধ্যার পরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ধলেশ্বরী, কালীনগঙ্গা ও ইছামতি নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় হালকা কুয়াশার প্রলেপ পড়ছে পাকা ধানের দুব ঘাসে। সকালে সূর্যালোকে চকচক করছে পাকা ধানের শীষ আর দুব ঘাসের ডগা। চারদিকে হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে। পাশে কোথাও গরুর গলায় ঘণ্টা বাজছে টুপুরটুপুর শব্দে। নবান্ন হচ্ছে হেমন্তের প্রাণ। আর কয়েক দিন পরেই গ্রাম-গঞ্জে মেতে উঠবে নবান্ন উৎসবে।
হেমন্তেই মাঠভরা সোনালী ধান বাঙালি কৃষকের মনে আশা ও প্রত্যাশা জাগায়। এবারের কৃষকেরা এই আনন্দধারা একটু আগে থেকেই দেখছেন। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকেরা এখন থেকেই নতুন ধানের নবান্ন উৎসবে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন। কৃষকেরা কেউ কেউ পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন। কৃষক পরিবারের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে নবান্ন উৎসব। হেমন্তের স্তব্ধতা, শান্ত, স্নিগ্ধ ও সৌন্দর্য গ্রামীণ রূপ মানুষের মনে এনে দেয় উৎসবমুখর পরিবেশ। হেমন্তের হিম বাতাস কনকনে শীতের আগমন বার্তা ঘোষণা করে। এই সময়ে প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে। বর্ষার জল শুকিয়ে গিয়ে মাঠঘাট হয়ে ওঠে অনন্য।
বাঙালি জাতির হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এবং প্রাচীনতম উৎসবকে মনে করা হতো অসাম্প্রদায়িক উৎসব। কৃষকের উৎপাদিত সোনালী ধানের সোনালী দিন। এ উৎসব বাঙালি জাতিকে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মীতার বন্ধনে আবদ্ধ করে।
জানা গেছে, হেমন্তেই ফসল কাটার সময়। বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে ফসল তোলার পরের দিনই নতুন ধানের নতুন চাল দিয়ে ফিরনি, পায়েস, অথবা ক্ষীর তৈরি করে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর ঘরে ঘরে বিতরণ করা হয়। নবান্ন উৎসবে জামাইকে আমন্ত্রণ করা হয়। মেয়েকে বাপের বাড়িতে নাইওরি আনা হয়। এই সময়ে ঘরে ফসল তোলার জন্য একটি শুভলগ্নের অনুসন্ধান করে সাধারণ কৃষক। তারপর সেই কাঙ্ক্ষিত শুভ দিনে কেটে আনে খেতের সোনালী ফসল। পাকা ধান ঘরে তোলার আগে গ্রামের কৃষক পরিবার ঘরদুয়ার, দেওয়াল, উঠান ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নেওয়া হয়।
ঋতু বৈচিত্র্যে নবান্ন বাঙালির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতির মধ্যে অন্যতম নবান্ন উৎসব। নবান্ন হচ্ছে মূলত নতুন ধান ঘরে তোলার অনুষ্ঠান। নবান্নে নানা ধরনের নৃত্য, গান, বাজনাপ্রমুখ আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালিত হয়। লাঠিখেলা, বাউল গান, নাগরদোলা, শখের হাঁড়ি, বাইকোপ, বিচার গান, চুরি, খেলা, মোয়্যার ও পুতুল নাচের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন গ্রামে বসে গ্রাম্য মেলা। এ ঋতুতে ফোটে গন্ধরাজ, শিউলি, ছাতিম, দেবকাঞ্চন, কামিনী, মল্লিকা, শিউলি, হাসনাহেন্তা। তবে কৃষকদের এবারের আনন্দ ধারা একটু আগেই থেকেই দেখা দিয়েছে। প্রতিটি কৃষকের উঠানে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। নতুন ধানের গন্ধে মন ভরে যাবে তাদের। নতুন ধান ঘিরে আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি চলে কৃষকের ঘরে।
অগ্রহায়ণ মানেই কৃষকের মনে নতুন ধানের স্বপ্ন। এবারের অনাবৃষ্টির কেজে এ অঞ্চলের কৃষকেরা দেরিতে ধানচাষ শুরু করেছিলেন। শেষ মেম আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালোভাবে সোনালী ফসল ঘরে তুলবেন। এ অঞ্চলের কৃষকের আমনের ফলন ও দাম ভালো পাবে বলে আশাবাদী।
উপজেলার ঘিওর সদর, পয়লা, সিংজুরি, বালিয়াখোড়া, বানিয়াজুরি, নালী, বড়টিয়া গ্রামাঞ্চলে আর কদিন পরেই শুরু হবে ধান কাটা। অগ্রহায়ণের শুরুর দিন থেকে এবার পুরোদমে ধান কাটা ও মধুক্ষয়ণে হবে নবান্ন উৎসব। হেমন্তের শিশির ভিজে থাকা ধান কাটতে ভোর থেকে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। সোনালী ধান নিয়ে চারদিকে হৈচৈ।
এ বছর আমনের উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রতি মণ ৮০০ টাকা। আর কাঁচা ধান প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ টাকা। বাড়িতে বাড়িতে নাইওর আসছে। পিঠাপুলি ছাড়াও রান্না হচ্ছে খিচুড়ি। এ অঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলো এখন থেকে বিশেষ সময় পার করছে। সেই সঙ্গে উৎসবের শক্তি নিয়ে তারা আলু রোপণের জন্য তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানে ধান মাড়াই করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কিষাণ-কিষাণীরা। ঐতিহ্য অনুযায়ী অনেক পরিবার নতুন ধানের চাল থেকে পিঠাপুলি, পায়েশ তৈরি যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে। কৃষক পরিবারগুলোতে চলেছে আনন্দের ঢেউ। আবার অনেক বাড়িতেই ঢেঁকি ব্যবহার করেও ধান/চাল ছাঁটাই করছে। আর এই চাল থেকে পিঠার জন্য গুঁড়ো করছে গৃহিণীরা। মূলত শেষ রাত থেকেই পাড়ায় পাড়ায় ধান ভানার শব্দ শোনা যায়। বাঙালির হেমন্তের এই অপূর্ব দৃশ্যটি।
মানিকগঞ্জ প্রেসক্লবের সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, গ্রাম বাংলায় হেমন্তের এই সময় চিরঞ্জিত এক অপরূপ দৃশ্য ফুটে ওঠে। চারপাশে নতুন ধানের ঘ্রাণ মন ভরিয়া দেয়। প্রতিটি বাড়িতে পিঠাপুলি মুড়ি-মুড়কি, ক্ষীর-পায়েসের আয়োজন চলে। হেমন্তের শুরুতেই শীতের অনুভূতুটি পাওয়া যায়। এ ঋতুতে আরেকটি উপহার হলো খেঁজুরের রস। মিষ্টি রোদে বসে খেঁজুর গুড় দিয়ে তৈরি পিঠাপুলি খেতে এই বড় মজা। বাংলার এই সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তিনি বলেন, হেমন্ত এমন একটি ঋতু যা আমাদের হৃদয়কে শান্ত করে তোলে এবং ভালোবাসতে শেখায়।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, আমন ধানের ফলন ঘিরে এলাকার কৃষকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস তৈরি হয়েছে। এই নতুন ধান দিয়েই হেমন্তের পিঠাপুলি উৎসবে মাতবেন তারা। জেলায় চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৮৮৯ হেক্টর জমিতে, ফাউওয়াল, দীনা, ও ডাঁপো জাতের আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে কালো মানিকড়াজাতসহ বিভিন্ন জাতের আউশ ধান এবং ৪ হাজার ৬৬ হেক্টর জমিতে রোপা জাতের ধানের আবাদ করা হয়েছে।

রোববার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ নভেম্বর ২০২৬
কার্তিক ও অগ্রহায়ণ - এই দুই মাস হেমন্ত কাল। হেমন্তের এই মাসটির আলাদা একটি সুঘ্রাণ আছে, তা হলো পাকা ধানের মৌ মৌ গন্ধ। সকালে ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু আর হালকা কুয়াশার চাদরে হেমন্তের চিরচেনা রূপ জাগ্রত থাকে। শান্ত, স্নিগ্ধ ও রূপময় প্রকৃতিতে লাল টুকটুকে সূর্য ওঠে পূর্ব আকাশে। এই সময়ে মাঠভরা ধান, সেই ধান কেটে কৃষক বাড়িতে নিয়ে আসবে। নবান্ন আসে মন্থর শব্দের মতো।
এরই মধ্যে ভোরের দিকে কিংবা সন্ধ্যার পরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার ধলেশ্বরী, কালীনগঙ্গা ও ইছামতি নদীর পার্শ্ববর্তী এলাকায় হালকা কুয়াশার প্রলেপ পড়ছে পাকা ধানের দুব ঘাসে। সকালে সূর্যালোকে চকচক করছে পাকা ধানের শীষ আর দুব ঘাসের ডগা। চারদিকে হালকা কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে। পাশে কোথাও গরুর গলায় ঘণ্টা বাজছে টুপুরটুপুর শব্দে। নবান্ন হচ্ছে হেমন্তের প্রাণ। আর কয়েক দিন পরেই গ্রাম-গঞ্জে মেতে উঠবে নবান্ন উৎসবে।
হেমন্তেই মাঠভরা সোনালী ধান বাঙালি কৃষকের মনে আশা ও প্রত্যাশা জাগায়। এবারের কৃষকেরা এই আনন্দধারা একটু আগে থেকেই দেখছেন। প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষকেরা এখন থেকেই নতুন ধানের নবান্ন উৎসবে রঙিন স্বপ্ন দেখছেন। কৃষকেরা কেউ কেউ পাকা ধান কাটতে শুরু করেছেন। কৃষক পরিবারের ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে নবান্ন উৎসব। হেমন্তের স্তব্ধতা, শান্ত, স্নিগ্ধ ও সৌন্দর্য গ্রামীণ রূপ মানুষের মনে এনে দেয় উৎসবমুখর পরিবেশ। হেমন্তের হিম বাতাস কনকনে শীতের আগমন বার্তা ঘোষণা করে। এই সময়ে প্রকৃতি নতুন সাজে সেজে ওঠে। বর্ষার জল শুকিয়ে গিয়ে মাঠঘাট হয়ে ওঠে অনন্য।
বাঙালি জাতির হাজার বছরের পুরোনো ঐতিহ্যবাহী এবং প্রাচীনতম উৎসবকে মনে করা হতো অসাম্প্রদায়িক উৎসব। কৃষকের উৎপাদিত সোনালী ধানের সোনালী দিন। এ উৎসব বাঙালি জাতিকে ঐক্য, ভ্রাতৃত্ব ও আত্মীতার বন্ধনে আবদ্ধ করে।
জানা গেছে, হেমন্তেই ফসল কাটার সময়। বাংলাদেশের কোনো কোনো অঞ্চলে ফসল তোলার পরের দিনই নতুন ধানের নতুন চাল দিয়ে ফিরনি, পায়েস, অথবা ক্ষীর তৈরি করে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া-প্রতিবেশীর ঘরে ঘরে বিতরণ করা হয়। নবান্ন উৎসবে জামাইকে আমন্ত্রণ করা হয়। মেয়েকে বাপের বাড়িতে নাইওরি আনা হয়। এই সময়ে ঘরে ফসল তোলার জন্য একটি শুভলগ্নের অনুসন্ধান করে সাধারণ কৃষক। তারপর সেই কাঙ্ক্ষিত শুভ দিনে কেটে আনে খেতের সোনালী ফসল। পাকা ধান ঘরে তোলার আগে গ্রামের কৃষক পরিবার ঘরদুয়ার, দেওয়াল, উঠান ধুয়ে মুছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নেওয়া হয়।
ঋতু বৈচিত্র্যে নবান্ন বাঙালির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতির মধ্যে অন্যতম নবান্ন উৎসব। নবান্ন হচ্ছে মূলত নতুন ধান ঘরে তোলার অনুষ্ঠান। নবান্নে নানা ধরনের নৃত্য, গান, বাজনাপ্রমুখ আবহমান বাংলার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালিত হয়। লাঠিখেলা, বাউল গান, নাগরদোলা, শখের হাঁড়ি, বাইকোপ, বিচার গান, চুরি, খেলা, মোয়্যার ও পুতুল নাচের আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন গ্রামে বসে গ্রাম্য মেলা। এ ঋতুতে ফোটে গন্ধরাজ, শিউলি, ছাতিম, দেবকাঞ্চন, কামিনী, মল্লিকা, শিউলি, হাসনাহেন্তা। তবে কৃষকদের এবারের আনন্দ ধারা একটু আগেই থেকেই দেখা দিয়েছে। প্রতিটি কৃষকের উঠানে প্রস্তুতি চলছে পুরোদমে। নতুন ধানের গন্ধে মন ভরে যাবে তাদের। নতুন ধান ঘিরে আনন্দ-উৎসবের প্রস্তুতি চলে কৃষকের ঘরে।
অগ্রহায়ণ মানেই কৃষকের মনে নতুন ধানের স্বপ্ন। এবারের অনাবৃষ্টির কেজে এ অঞ্চলের কৃষকেরা দেরিতে ধানচাষ শুরু করেছিলেন। শেষ মেম আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ভালোভাবে সোনালী ফসল ঘরে তুলবেন। এ অঞ্চলের কৃষকের আমনের ফলন ও দাম ভালো পাবে বলে আশাবাদী।
উপজেলার ঘিওর সদর, পয়লা, সিংজুরি, বালিয়াখোড়া, বানিয়াজুরি, নালী, বড়টিয়া গ্রামাঞ্চলে আর কদিন পরেই শুরু হবে ধান কাটা। অগ্রহায়ণের শুরুর দিন থেকে এবার পুরোদমে ধান কাটা ও মধুক্ষয়ণে হবে নবান্ন উৎসব। হেমন্তের শিশির ভিজে থাকা ধান কাটতে ভোর থেকে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষকেরা। সোনালী ধান নিয়ে চারদিকে হৈচৈ।
এ বছর আমনের উৎপাদন খরচ হয়েছে প্রতি মণ ৮০০ টাকা। আর কাঁচা ধান প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৫০ টাকা। বাড়িতে বাড়িতে নাইওর আসছে। পিঠাপুলি ছাড়াও রান্না হচ্ছে খিচুড়ি। এ অঞ্চলের কৃষক পরিবারগুলো এখন থেকে বিশেষ সময় পার করছে। সেই সঙ্গে উৎসবের শক্তি নিয়ে তারা আলু রোপণের জন্য তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, বাড়ির উঠানে ধান মাড়াই করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কিষাণ-কিষাণীরা। ঐতিহ্য অনুযায়ী অনেক পরিবার নতুন ধানের চাল থেকে পিঠাপুলি, পায়েশ তৈরি যেন রীতিতে পরিণত হয়েছে। কৃষক পরিবারগুলোতে চলেছে আনন্দের ঢেউ। আবার অনেক বাড়িতেই ঢেঁকি ব্যবহার করেও ধান/চাল ছাঁটাই করছে। আর এই চাল থেকে পিঠার জন্য গুঁড়ো করছে গৃহিণীরা। মূলত শেষ রাত থেকেই পাড়ায় পাড়ায় ধান ভানার শব্দ শোনা যায়। বাঙালির হেমন্তের এই অপূর্ব দৃশ্যটি।
মানিকগঞ্জ প্রেসক্লবের সভাপতি মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস বলেন, গ্রাম বাংলায় হেমন্তের এই সময় চিরঞ্জিত এক অপরূপ দৃশ্য ফুটে ওঠে। চারপাশে নতুন ধানের ঘ্রাণ মন ভরিয়া দেয়। প্রতিটি বাড়িতে পিঠাপুলি মুড়ি-মুড়কি, ক্ষীর-পায়েসের আয়োজন চলে। হেমন্তের শুরুতেই শীতের অনুভূতুটি পাওয়া যায়। এ ঋতুতে আরেকটি উপহার হলো খেঁজুরের রস। মিষ্টি রোদে বসে খেঁজুর গুড় দিয়ে তৈরি পিঠাপুলি খেতে এই বড় মজা। বাংলার এই সংস্কৃতি যুগ যুগ ধরে চলে আসছে। তিনি বলেন, হেমন্ত এমন একটি ঋতু যা আমাদের হৃদয়কে শান্ত করে তোলে এবং ভালোবাসতে শেখায়।
মানিকগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শাহজাহান সিরাজ বলেন, আমন ধানের ফলন ঘিরে এলাকার কৃষকদের মধ্যে আনন্দ-উল্লাস তৈরি হয়েছে। এই নতুন ধান দিয়েই হেমন্তের পিঠাপুলি উৎসবে মাতবেন তারা। জেলায় চলতি মৌসুমে ১৫ হাজার ৮৮৯ হেক্টর জমিতে, ফাউওয়াল, দীনা, ও ডাঁপো জাতের আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এছাড়া ১৮ হাজার ৮৬২ হেক্টর জমিতে কালো মানিকড়াজাতসহ বিভিন্ন জাতের আউশ ধান এবং ৪ হাজার ৬৬ হেক্টর জমিতে রোপা জাতের ধানের আবাদ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন