আজ বাংলা নববর্ষ| ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন| আজকের দিনটি কেবল একটি বর্ষপঞ্জির নতুন শুরু নয়| বাঙালির সাংস্কৃতিক সত্তার স্মারক পহেলা বৈশাখ| আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক এই উৎসব|
আজ বাংলার মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হবে নতুন দিনের আগমনী গান| পথে পথে বের হবে শোভাযাত্রা| শ্রেণী-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি একে অন্যকে জানাবে নববর্ষের অভিবাদন|
বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখের আয়োজন বহুদিনের| গ্রামবাংলায় সাধারণ মানুষ এটি পালন করত হালখাতার মাধ্যমে| চৈত্র সংক্রান্তির পর পুরনো বছরের দেনা-পাওনা মিটিয়ে, জমিদারের খাজনা শোধ করে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে মানুষ বৈশাখী মেলায় অংশ নিত| সে সময় শহরের মানুষ বাংলা নববর্ষ তেমন জাঁকজমক করে উদযাপন করত না|
আসলে নববর্ষের সূচনা হয়েছিল একটি আর্থ-সামাজিক প্রয়োজনে| মোগল আমলে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ফসলি সনের প্রবর্তন করা হয়| সম্রাট আকবর হিজরি সনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলায় এই ফসলি সন চালু করেন| তবে হিজরি সনের মতো চান্দ্র পদ্ধতি অনুসরণ না করে তিনি সৌরবছরভিত্তিক একটি বর্ষপঞ্জি চালু করেন, যাতে কৃষিকাজ ও রাজস্ব আদায় সহজ হয়|
একসময় বাংলা নববর্ষ ছিল কৃষিনির্ভর গ্রামজীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত| পরে জাতীয় চেতনার বিকাশের ধারায় এর রূপ বদলাতে থাকে| দ্বিজাতিতত্ত্বের চাপের বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে সাংস্কৃতিক জাগরণ ˆতরি হয়, তার প্রভাবেই ধীরে ধীরে নগরজীবনেও নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়| পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের পর ষাটের দশকে নগর সংস্কৃতিতেও নববর্ষের আয়োজন আরও বিস্তৃত ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে|
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা নববর্ষ একটি জাতীয় উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়| বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সারাদেশে এটি উদযাপন করে আসছে| পয়লা বৈশাখ এখন জাতীয় ছুটির দিন, যা বাঙালির ঐক্য, সংস্কৃতি ও নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে|
নববর্ষের দিনে প্রত্যাশা হচ্ছে, আমাদের সামাজিক জীবনে পারস্পরিক বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান ঘটুক| সব দল ও মতের মানুষ আজ জাতির প্রতি তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে উঠে আসুক| অতীতের হানাহানি, বিদ্বেষ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে তারা দৃঢ় অবস্থান নিক| মানবিকতার পক্ষে নিজেদের মেধা, মনন ও শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসুক| যারা নির্যাতিত ও বিপর্যস্ত, তাদের পাশে সবাই মিলে দাঁড়ানোই হোক এই দিনের অঙ্গীকার|
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা|

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
আজ বাংলা নববর্ষ| ১৪৩৩ সালের প্রথম দিন| আজকের দিনটি কেবল একটি বর্ষপঞ্জির নতুন শুরু নয়| বাঙালির সাংস্কৃতিক সত্তার স্মারক পহেলা বৈশাখ| আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনের প্রতীক এই উৎসব|
আজ বাংলার মানুষের কণ্ঠে ধ্বনিত হবে নতুন দিনের আগমনী গান| পথে পথে বের হবে শোভাযাত্রা| শ্রেণী-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাঙালি একে অন্যকে জানাবে নববর্ষের অভিবাদন|
বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখের আয়োজন বহুদিনের| গ্রামবাংলায় সাধারণ মানুষ এটি পালন করত হালখাতার মাধ্যমে| চৈত্র সংক্রান্তির পর পুরনো বছরের দেনা-পাওনা মিটিয়ে, জমিদারের খাজনা শোধ করে কিছুটা স্বস্তি নিয়ে মানুষ বৈশাখী মেলায় অংশ নিত| সে সময় শহরের মানুষ বাংলা নববর্ষ তেমন জাঁকজমক করে উদযাপন করত না|
আসলে নববর্ষের সূচনা হয়েছিল একটি আর্থ-সামাজিক প্রয়োজনে| মোগল আমলে খাজনা আদায়ের সুবিধার্থে ফসলি সনের প্রবর্তন করা হয়| সম্রাট আকবর হিজরি সনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলায় এই ফসলি সন চালু করেন| তবে হিজরি সনের মতো চান্দ্র পদ্ধতি অনুসরণ না করে তিনি সৌরবছরভিত্তিক একটি বর্ষপঞ্জি চালু করেন, যাতে কৃষিকাজ ও রাজস্ব আদায় সহজ হয়|
একসময় বাংলা নববর্ষ ছিল কৃষিনির্ভর গ্রামজীবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত| পরে জাতীয় চেতনার বিকাশের ধারায় এর রূপ বদলাতে থাকে| দ্বিজাতিতত্ত্বের চাপের বিরুদ্ধে ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যে সাংস্কৃতিক জাগরণ ˆতরি হয়, তার প্রভাবেই ধীরে ধীরে নগরজীবনেও নববর্ষ উদযাপন শুরু হয়| পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের পর ষাটের দশকে নগর সংস্কৃতিতেও নববর্ষের আয়োজন আরও বিস্তৃত ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে|
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলা নববর্ষ একটি জাতীয় উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়| বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সারাদেশে এটি উদযাপন করে আসছে| পয়লা বৈশাখ এখন জাতীয় ছুটির দিন, যা বাঙালির ঐক্য, সংস্কৃতি ও নতুন সূচনার প্রতীক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে|
নববর্ষের দিনে প্রত্যাশা হচ্ছে, আমাদের সামাজিক জীবনে পারস্পরিক বিদ্বেষ ও শত্রুতার অবসান ঘটুক| সব দল ও মতের মানুষ আজ জাতির প্রতি তাদের দায়িত্ব, কর্তব্য ও ভালোবাসাকে সঙ্গে নিয়ে নতুন করে উঠে আসুক| অতীতের হানাহানি, বিদ্বেষ ও ঘৃণার বিরুদ্ধে তারা দৃঢ় অবস্থান নিক| মানবিকতার পক্ষে নিজেদের মেধা, মনন ও শক্তি নিয়ে এগিয়ে আসুক| যারা নির্যাতিত ও বিপর্যস্ত, তাদের পাশে সবাই মিলে দাঁড়ানোই হোক এই দিনের অঙ্গীকার|
সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা|

আপনার মতামত লিখুন