সংবাদ

শ্যামনগরে অবিক্রিত চামড়া নিয়ে বিপাকে এলাকাবাসি


প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রতিনিধি, সাতক্ষীরা
প্রকাশ: ২৯ মে ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

শ্যামনগরে অবিক্রিত চামড়া নিয়ে বিপাকে এলাকাবাসি
পশুর চামড়া অবিক্রিত থেকে যাওয়ায় স্তূপ করে রাখা চামড়া। ছবিঃ সংবাদ

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কোনোভাবেই ক্রেতা না মেলায় বাধ্য হয়ে অনেক এলাকায় চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আসা বেশ কিছু চামড়া উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ঈদের দিন সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা। কিন্তু দিনভর ঘুরেও আড়তদার বা বড় ক্রেতা না পাওয়ায় অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়। লবণের চড়া দাম ও লোকসানের আশঙ্কায় ছাগল, খাসি ও গরুর চামড়া কেউ কিনতে না চাওয়ায় অনেকেই তা শেষ পর্যন্ত ফেলে দেন।

স্থানীয় কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ। আড়তদাররা নামমাত্র মূল্যে চামড়া কিনতে চাচ্ছেন। এর ওপর পরিবহন খরচ ও লবণের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় তারা চামড়া কেনা থেকে বিরত থাকছেন।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদ্রাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, ‘সারাদিন ও সারারাত অপেক্ষা করেও কেউ চামড়া কিনতে আসেনি। পরে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর ভয়ে আমরা চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয়েছি।’ গাবুরা চাঁদনীমূখা মাদ্রাসার সভাপতি আবু মুসাও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে দুস্থ ও এতিম শিক্ষার্থীদের খরচের একটি বড় অংশ চালানো হয়। কিন্তু এবার চামড়া অবিক্রিত থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এদিকে সরকার কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে সাধারণ কোরবানিদাতারা অভিযোগ তুলেছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত আড়ত না থাকায় চামড়ার বাজারে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক বলেন, ‘কোরবানির আগে এতিমখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল। তারা চামড়াগুলো লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখবেন এবং দু-একদিন পরে বিক্রি করবেন এমনটাই সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু এভাবে চামড়া নষ্ট বা ফেলে দেওয়ার কথা ছিল না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।’

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬


শ্যামনগরে অবিক্রিত চামড়া নিয়ে বিপাকে এলাকাবাসি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬

featured Image

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে চরম বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। কোনোভাবেই ক্রেতা না মেলায় বাধ্য হয়ে অনেক এলাকায় চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।

শুক্রবার (২৯ মে) সকাল ১০টা পর্যন্ত উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন থেকে আসা বেশ কিছু চামড়া উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সামনে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, ঈদের দিন সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেন মৌসুমি ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় এতিমখানা ও মাদ্রাসার প্রতিনিধিরা। কিন্তু দিনভর ঘুরেও আড়তদার বা বড় ক্রেতা না পাওয়ায় অধিকাংশ চামড়া অবিক্রিত থেকে যায়। লবণের চড়া দাম ও লোকসানের আশঙ্কায় ছাগল, খাসি ও গরুর চামড়া কেউ কিনতে না চাওয়ায় অনেকেই তা শেষ পর্যন্ত ফেলে দেন।

স্থানীয় কয়েকজন মৌসুমি ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চামড়ার বাজার পরিস্থিতি আরও খারাপ। আড়তদাররা নামমাত্র মূল্যে চামড়া কিনতে চাচ্ছেন। এর ওপর পরিবহন খরচ ও লবণের দাম অতিরিক্ত বেড়ে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় তারা চামড়া কেনা থেকে বিরত থাকছেন।

বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট জামে মসজিদের ইমাম ও বাগে জান্নাত হাফিজিয়া মাদ্রাসার খতিব হাফেজ রেজাউল করিম বলেন, ‘সারাদিন ও সারারাত অপেক্ষা করেও কেউ চামড়া কিনতে আসেনি। পরে এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়ানোর ভয়ে আমরা চামড়াগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলতে বাধ্য হয়েছি।’ গাবুরা চাঁদনীমূখা মাদ্রাসার সভাপতি আবু মুসাও একই ধরনের অভিযোগ করেন।

স্থানীয় মাদ্রাসা ও এতিমখানা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিবছর কোরবানির চামড়া বিক্রির অর্থ দিয়ে দুস্থ ও এতিম শিক্ষার্থীদের খরচের একটি বড় অংশ চালানো হয়। কিন্তু এবার চামড়া অবিক্রিত থাকায় প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

এদিকে সরকার কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলে সাধারণ কোরবানিদাতারা অভিযোগ তুলেছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, স্থানীয় পর্যায়ে সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত আড়ত না থাকায় চামড়ার বাজারে এই বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে।

জানতে চাইলে শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জামান কনক বলেন, ‘কোরবানির আগে এতিমখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছিল। তারা চামড়াগুলো লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করে রাখবেন এবং দু-একদিন পরে বিক্রি করবেন এমনটাই সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু এভাবে চামড়া নষ্ট বা ফেলে দেওয়ার কথা ছিল না। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছি।’


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত