দীর্ঘ জল্পনার অবসান। অবশেষে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিদ্ধারামাইয়া। বুধবার দুপুরে লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের হাতে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, যিনি এখন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অপেক্ষায়।
এই পদত্যাগ কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের বড় রদবদলের ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ইস্তফার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা। তিনি স্পষ্ট জানান, কংগ্রেস হাইকমান্ড ডি কে শিবকুমারের নামই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে এবং তিনি সেই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। সিদ্ধারামাইয়ার কথায়, “আমি কোনোদিন অর্থ বা ক্ষমতার পিছনে দৌড়াইনি। দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে সর্বাগ্রে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদত্যাগ কার্যত আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কংগ্রেসের ভিতরে ‘পাওয়ার শেয়ারিং’ ফর্মুলা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চাপানউতোর চলছিল। শেষ পর্যন্ত হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপেই সমাধান সূত্র বেরোয়।
বুধবার সকালে নাটকীয়তার আবহ তৈরি হয়। সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে যান ডি কে শিবকুমার। সেখানে তিনি সিদ্ধারামাইয়ার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন—যা রাজনৈতিক সৌজন্যের পাশাপাশি দলের ঐক্যের বার্তাও বহন করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের কাছে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন সিদ্ধারামাইয়া।
দুপুর তিনটে নাগাদ দুই নেতা একসঙ্গে লোকভবনে পৌঁছন। সেখানেই রাজ্যপালের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফাপত্র তুলে দেন সিদ্ধারামাইয়া, আর সেই মুহূর্তেই কর্ণাটকের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
তবে এই পরিবর্তনের পিছনে কেবল মুখ বদল নয়, রয়েছে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলও। কংগ্রেস সূত্রে খবর, জাতীয় রাজনীতিতে সিদ্ধারামাইয়ার বড় ভূমিকার কথা ভাবা হচ্ছে। চলতি বছরে কর্ণাটক থেকে রাজ্যসভার তিনটি আসন খালি হতে চলেছে। সেই আসনগুলির একটিতে তাঁকে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব—মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও রাহুল গান্ধী।
যদিও এই প্রস্তাবে সিদ্ধারামাইয়া শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তিনি যদি দিল্লির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তাহলে জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ডি কে শিবকুমারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—দলের ভিতরে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা প্রমাণ করা। কর্ণাটকের রাজনীতিতে তাঁর উত্থান অনেকটাই সংগঠনিক শক্তি ও কৌশলগত দক্ষতার উপর দাঁড়িয়ে। এবার সেই দক্ষতারই পরীক্ষা মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে।
সব মিলিয়ে, কর্ণাটকে এই নেতৃত্ব বদল শুধু একটি রাজনৈতিক রদবদল নয়—এটি কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রণকৌশলেরও ইঙ্গিত বহন করছে। এখন নজর শপথগ্রহণের দিকে, এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক চালের দিকে।

শুক্রবার, ২৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ মে ২০২৬
দীর্ঘ জল্পনার অবসান। অবশেষে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিদ্ধারামাইয়া। বুধবার দুপুরে লোকভবনে গিয়ে রাজ্যপালের হাতে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। তাঁর সঙ্গে ছিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, যিনি এখন রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার অপেক্ষায়।
এই পদত্যাগ কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ সমীকরণের বড় রদবদলের ইঙ্গিত বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ইস্তফার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বর্ষীয়ান এই কংগ্রেস নেতা। তিনি স্পষ্ট জানান, কংগ্রেস হাইকমান্ড ডি কে শিবকুমারের নামই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে এবং তিনি সেই সিদ্ধান্তে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন। সিদ্ধারামাইয়ার কথায়, “আমি কোনোদিন অর্থ বা ক্ষমতার পিছনে দৌড়াইনি। দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে সর্বাগ্রে।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদত্যাগ কার্যত আগেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। কংগ্রেসের ভিতরে ‘পাওয়ার শেয়ারিং’ ফর্মুলা নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে চাপানউতোর চলছিল। শেষ পর্যন্ত হাইকমান্ডের হস্তক্ষেপেই সমাধান সূত্র বেরোয়।
বুধবার সকালে নাটকীয়তার আবহ তৈরি হয়। সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে যান ডি কে শিবকুমার। সেখানে তিনি সিদ্ধারামাইয়ার পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন—যা রাজনৈতিক সৌজন্যের পাশাপাশি দলের ঐক্যের বার্তাও বহন করে। কিছুক্ষণের মধ্যেই মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের কাছে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন সিদ্ধারামাইয়া।
দুপুর তিনটে নাগাদ দুই নেতা একসঙ্গে লোকভবনে পৌঁছন। সেখানেই রাজ্যপালের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইস্তফাপত্র তুলে দেন সিদ্ধারামাইয়া, আর সেই মুহূর্তেই কর্ণাটকের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
তবে এই পরিবর্তনের পিছনে কেবল মুখ বদল নয়, রয়েছে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলও। কংগ্রেস সূত্রে খবর, জাতীয় রাজনীতিতে সিদ্ধারামাইয়ার বড় ভূমিকার কথা ভাবা হচ্ছে। চলতি বছরে কর্ণাটক থেকে রাজ্যসভার তিনটি আসন খালি হতে চলেছে। সেই আসনগুলির একটিতে তাঁকে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব—মল্লিকার্জুন খাড়্গে ও রাহুল গান্ধী।
যদিও এই প্রস্তাবে সিদ্ধারামাইয়া শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তিনি যদি দিল্লির রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তাহলে জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের কৌশলে নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, ডি কে শিবকুমারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—দলের ভিতরে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা প্রমাণ করা। কর্ণাটকের রাজনীতিতে তাঁর উত্থান অনেকটাই সংগঠনিক শক্তি ও কৌশলগত দক্ষতার উপর দাঁড়িয়ে। এবার সেই দক্ষতারই পরীক্ষা মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসে।
সব মিলিয়ে, কর্ণাটকে এই নেতৃত্ব বদল শুধু একটি রাজনৈতিক রদবদল নয়—এটি কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ রণকৌশলেরও ইঙ্গিত বহন করছে। এখন নজর শপথগ্রহণের দিকে, এবং তার পরবর্তী রাজনৈতিক চালের দিকে।

আপনার মতামত লিখুন