সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

শোভাযাত্রায় বর্ষবরণ উৎসবমুখর গোটা দেশ


সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ ডিজিটাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম

শোভাযাত্রায় বর্ষবরণ উৎসবমুখর গোটা দেশ
আত্রাই উপজেলা চত্বর থেকে বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা।

ঢাক-ঢোলের বাদ্য, রঙিন মুখোশ, গরুর গাড়ি আর পান্তা-ইলিশের ঘ্রাণ- যেন প্রাণ ফিরে পায় বাঙালির চিরায়ত উৎসবে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে জেলা শহর, শিক্ষাঙ্গণ থেকে প্রশাসনিক ভবন- সব জায়গায় যেন এক সুরে বাজল ‘এসো হে বৈশাখ’। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিয়েছে দেশবাসী নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে। সংবাদ প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উৎসবের চিত্র।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা।

ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসক চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অম্বিকা ময়দানে শেষ হয় র‌্যালিটি। জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে অম্বিকা ময়দানে গান ও নৃত্যের আয়োজন করা হয়।

 সাতক্ষীরায় বর্ষবরণ 

সাতক্ষীরা থেকে মীর খায়রুল আলম জানান, সকাল ৮টায় কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক।’ পরে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলা। প্রায় ৫০টি স্টলে দেশীয় হস্তশিল্প, পোশাক, মাটির তৈজসপত্র বিক্রি হচ্ছে।

নওগাঁ থেকে কাজী কামাল হোসেন জানান, সকাল ৯টায় শহরের এটিম মাঠ থেকে বের হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় ছিল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, ঘোড়া, পালকি, মাটির বাসন আর রঙিন বেলুন। প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নরসিংদীতে বর্ষবরণ

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, জেলা স্টেডিয়াম থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া ও পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

রংপুর থেকে নিজস্ব বার্তা পরিবেশক জানান, বিভাগীয় নগরী রংপুরেও বর্ণাঢ্য নানান আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখ। সকাল থেকেই রংপুর জিলা স্কুলের বটতলা ও পাবলিক লাইব্রেরি মাঠের উন্মুক্ত মঞ্চে বৈশাখকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশিত হয় সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতা ও বৈশাখী গান। হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়াও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, লাঠিখেলা ও মাছ ধরাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রুহুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহাফুজুন্নবী ডনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

রংপুরে বর্ষবরণ

পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসবের আমেজই নয়, ভাগাভাগিরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে রংপুরে। বিভাগীয় নগরী ও জেলার ৮টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার সহায়-সম্বলহীন দুস্থ মানুষের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়েছে। রংপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রুহুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ।

জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এতদিন সরকারি আমলা ও বড় কর্তারা সরকারি টাকায় পহেলা বৈশাখে বাহারী খাবার খেতেন। এবার হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষদের মাঝে এই খাবার দেওয়া হলো।’

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা থেকে আশরাফুর রহমান হাকিম জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। প্রধান অতিথি ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তিনি বক্তব্যে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব। সকল ভেদাভেদ ভুলে নতুন বছরে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থেকে মোজাম্মেল হক সবুজ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরীনের নেতৃত্বে বের হয় শোভাযাত্রা। প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ হান্নান। পরে অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা ভাত-ভর্তার আয়োজন করা হয়। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও পৃথক শোভাযাত্রা ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।

সখীপুরে বর্ষবরণ

টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে জুলহাস গায়েন জানান, সকাল ৯টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা মাঠে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রনী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও লোকজ আয়োজন দর্শকদের মুগ্ধ করে।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা থেকে মো. কাজী রহমান জানান, সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলা চত্বর থেকে বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ছিল পান্তাভাত খাওয়ার আয়োজন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।


পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহিদুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম ফিতা কেটে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন। সকাল সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঘুড়ি উৎসব প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান ও প্রফেসর ড. কবিরুল ইসলামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা ও পান্তা-ইলিশ খাওয়ার আয়োজন ছিল উল্লেখযোগ্য।

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন নানা বয়সী মানুষ। নারীরা সাদা শাড়িতে লাল পাড়, পুরুষরা পাঞ্জাবি-পায়জামায় সেজেছেন। শিশুদের আনন্দের যেন সীমা নেই- রঙিন মুখোশ, বেলুন আর হাতে আঁকা বৈশাখী কার্ড তাদের উৎসবে মাতিয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের সব ভেদাভেদ ভুলে এক অনন্য প্রাণের উৎসবে মিলিত হয়েছে গোটা বাংলাদেশ। নতুন বছর যেন নিয়ে আসে নতুন সম্ভাবনা, নতুন স্বপ্ন- এই প্রত্যাশা নিয়েই বাঙালি জাতি বরণ করে নিয়েছে পহেলা বৈশাখকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


শোভাযাত্রায় বর্ষবরণ উৎসবমুখর গোটা দেশ

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

ঢাক-ঢোলের বাদ্য, রঙিন মুখোশ, গরুর গাড়ি আর পান্তা-ইলিশের ঘ্রাণ- যেন প্রাণ ফিরে পায় বাঙালির চিরায়ত উৎসবে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই দেশের প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে জেলা শহর, শিক্ষাঙ্গণ থেকে প্রশাসনিক ভবন- সব জায়গায় যেন এক সুরে বাজল ‘এসো হে বৈশাখ’। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ করে নিয়েছে দেশবাসী নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনে। সংবাদ প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে উঠে এসেছে উৎসবের চিত্র।

ফরিদপুর জেলা প্রশাসক চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা।

ফরিদপুর প্রতিনিধি জানান, সকাল ৮টায় জেলা প্রশাসক চত্বর থেকে এক বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বের হয়। শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অম্বিকা ময়দানে শেষ হয় র‌্যালিটি। জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান মোল্লা, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলামসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে অম্বিকা ময়দানে গান ও নৃত্যের আয়োজন করা হয়।

 সাতক্ষীরায় বর্ষবরণ 

সাতক্ষীরা থেকে মীর খায়রুল আলম জানান, সকাল ৮টায় কালেক্টরেট পার্কে জাতীয় সংগীত ও ‘এসো হে বৈশাখ’ গানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। জেলা প্রশাসক আফরোজা আখতার বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ঐক্য ও সংস্কৃতির প্রতীক।’ পরে শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী উদ্যোক্তা মেলা। প্রায় ৫০টি স্টলে দেশীয় হস্তশিল্প, পোশাক, মাটির তৈজসপত্র বিক্রি হচ্ছে।

নওগাঁ থেকে কাজী কামাল হোসেন জানান, সকাল ৯টায় শহরের এটিম মাঠ থেকে বের হয় আনন্দ শোভাযাত্রা। শোভাযাত্রায় ছিল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী গরুর গাড়ি, ঘোড়া, পালকি, মাটির বাসন আর রঙিন বেলুন। প্রধান অতিথি ছিলেন সদর আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

নরসিংদীতে বর্ষবরণ

নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, জেলা স্টেডিয়াম থেকে বের হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া ও পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

রংপুর থেকে নিজস্ব বার্তা পরিবেশক জানান, বিভাগীয় নগরী রংপুরেও বর্ণাঢ্য নানান আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পহেলা বৈশাখ। সকাল থেকেই রংপুর জিলা স্কুলের বটতলা ও পাবলিক লাইব্রেরি মাঠের উন্মুক্ত মঞ্চে বৈশাখকে স্বাগত জানিয়ে পরিবেশিত হয় সঙ্গীত, নৃত্য, কবিতা ও বৈশাখী গান। হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এ ছাড়াও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, লাঠিখেলা ও মাছ ধরাসহ নানা ঐতিহ্যবাহী আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রুহুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহাফুজুন্নবী ডনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

রংপুরে বর্ষবরণ

পহেলা বৈশাখ শুধু উৎসবের আমেজই নয়, ভাগাভাগিরও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করা হয়েছে রংপুরে। বিভাগীয় নগরী ও জেলার ৮টি উপজেলায় প্রায় ১০ হাজার সহায়-সম্বলহীন দুস্থ মানুষের মাঝে উন্নতমানের খাবার বিতরণ করা হয়েছে। রংপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক রুহুল ইসলাম ও জেলা পরিষদের কর্মকর্তাবৃন্দ।

জেলা পরিষদের প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এতদিন সরকারি আমলা ও বড় কর্তারা সরকারি টাকায় পহেলা বৈশাখে বাহারী খাবার খেতেন। এবার হতদরিদ্র ও দুস্থ মানুষদের মাঝে এই খাবার দেওয়া হলো।’

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলা থেকে আশরাফুর রহমান হাকিম জানান, উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। প্রধান অতিথি ছিলেন মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। তিনি বক্তব্যে বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ বাঙালি জাতির প্রাণের উৎসব। সকল ভেদাভেদ ভুলে নতুন বছরে সম্প্রীতির বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে আমাদের সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর থেকে মোজাম্মেল হক সবুজ জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরীনের নেতৃত্বে বের হয় শোভাযাত্রা। প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ হান্নান। পরে অডিটোরিয়ামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পান্তা ভাত-ভর্তার আয়োজন করা হয়। উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও পৃথক শোভাযাত্রা ও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়।

সখীপুরে বর্ষবরণ

টাঙ্গাইলের সখীপুর থেকে জুলহাস গায়েন জানান, সকাল ৯টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শোভাযাত্রা শেষে উপজেলা মাঠে শুরু হয়েছে সাত দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল রনী সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও লোকজ আয়োজন দর্শকদের মুগ্ধ করে।

নওগাঁর আত্রাই উপজেলা থেকে মো. কাজী রহমান জানান, সকাল সাড়ে দশটায় উপজেলা চত্বর থেকে বের হয় বৈশাখী শোভাযাত্রা। প্রধান অতিথি ছিলেন নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. রেজাউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম। অনুষ্ঠানে ছিল পান্তাভাত খাওয়ার আয়োজন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।


পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্ষবরণ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জাহিদুল ইসলাম জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখ থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম ফিতা কেটে বৈশাখী মেলার উদ্বোধন করেন। সকাল সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ঘুড়ি উৎসব প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো. হাবিবুর রহমান ও প্রফেসর ড. কবিরুল ইসলামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বর্ষবরণ অনুষ্ঠিত হয়। শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বৈশাখী মেলা ও পান্তা-ইলিশ খাওয়ার আয়োজন ছিল উল্লেখযোগ্য।

নতুন বছরকে বরণ করে নিতে ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছেন নানা বয়সী মানুষ। নারীরা সাদা শাড়িতে লাল পাড়, পুরুষরা পাঞ্জাবি-পায়জামায় সেজেছেন। শিশুদের আনন্দের যেন সীমা নেই- রঙিন মুখোশ, বেলুন আর হাতে আঁকা বৈশাখী কার্ড তাদের উৎসবে মাতিয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের সব ভেদাভেদ ভুলে এক অনন্য প্রাণের উৎসবে মিলিত হয়েছে গোটা বাংলাদেশ। নতুন বছর যেন নিয়ে আসে নতুন সম্ভাবনা, নতুন স্বপ্ন- এই প্রত্যাশা নিয়েই বাঙালি জাতি বরণ করে নিয়েছে পহেলা বৈশাখকে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত