সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বর্ষবরণে চাঁদপুরের একদল তরুণের অন্যরকম গল্প


প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রতিনিধি, চাঁদপুর
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০১ পিএম

বর্ষবরণে চাঁদপুরের একদল তরুণের অন্যরকম গল্প

পহেলা বৈশাখ। চারদিকে উৎসবের আমেজ। রঙিন পোশাক, মুখোশ আর বেলুনে সেজেছে শহর। কিন্তু প্রখর রোদ আর তীব্র তাপপ্রবাহ যেন কিছুটা যেন কমিয়ে দিচ্ছিল আনন্দের মাত্রা। হাঁসফাঁস করছে মানুষ। ঠিক সেই সময়টায় ভিন্ন এক আয়োজন- বিনামূল্যে শীতল পানি, লেমন মিট, হাতপাখা আর রঙিন সানগ্লাস। হাতে কলমে স্বস্তির ছোঁয়া।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অধিকাংশ স্টলে ভিড় কম থাকলেও একটি স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আর সেই ভিড়ের পেছনে ছিল একদল তরুণের মানবিক উদ্যোগ।

প্রখর রোদ উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস হাজী মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন একদল তরুণ।

তাদের হাত ধরেই বিনামূল্যে পৌঁছেছে শীতল পানি, টক-মিষ্টি লেমন মিট, হাতপাখা, নববর্ষ খচিত সানগ্লাস আর চাবির রিং। পাশাপাশি রাখা হয়েছিল খেলার সামগ্রী, যেখানে অংশ নিয়ে উপহার পেয়েছেন দর্শনার্থীরা।

তরুণদের এই দলের প্রধান সমন্বয়ক মারজুক মুঈদ (ঐশ্বর্য) জানান, তীব্র গরমে আগত সাধারণ মানুষ যেন কিছুটা স্বস্তি পায়, সেটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

মারজুক বলেন, ‘আমরা চেয়েছি নববর্ষ উদযাপনে আসা মানুষদের আনন্দ যেন ব্যাহত না হয়। এই রঙিন দিনে তাদের আনন্দ আরও রঙিন হয়ে উঠুক—সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস।’

প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তরুণদের কেউ কেউ নিজের হাতে উপকরণ তৈরি ও পরিবেশন করতে গিয়ে কিছুটা হিমশিম খেলেও ক্লান্তির ছাপ ছিল না কারও চোখে। বরং মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারার আনন্দই যেন তাদের ক্লান্তিকে উড়িয়ে দিয়েছে।

প্রখর রোদে অনুষ্ঠানস্থলে ঘুরতে ঘুরতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। এমন সময় পানির বোতল বা লেমন মিটের কাপ পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন দর্শনার্থীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুনা বেগম বলেন, ‘এত গরমে পানি পেয়ে খুব ভালো লাগল। ওই ছেলেগুলো খুব ভালো কাজ করেছে। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুক।’ শিশু তানজিম সানগ্লাস পেয়ে চোখমুখ উজ্জ্বল করে বলে, ‘আমি সানগ্লাস পরে খুব সুন্দর লাগছে। আঙ্কেলরা আমাদের খেলার সামগ্রীও দিয়েছেন।’

উৎসবের দিনে ভিড়ের মাঝে সেবামূলক কাজ যে কতটা প্রয়োজনীয়, তা আবারও প্রমাণ করল এই উদ্যোগ। গরমের কারণে অনেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন, কিন্তু এই স্টলের কাছে এসে তারা কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করেছেন, উপভোগ করেছেন অনুষ্ঠান।

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তরুণদের।

স্থানীয় অনেকেই বলছেন, উৎসবের ভিড়ে এমন সেবামূলক কাজই প্রকৃত আনন্দের বার্তা দেয়। সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে চাঁদপুরের এই তরুণদের হাত ধরে পৌঁছে যাওয়া মানবতার ছোঁয়া।

হাজী মোশাররফ হোসেনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ বলছেন, ‘উৎসব মানেই শুধু আনন্দ নয়, বিলিয়ে দেওয়ারও আনন্দ আছে। আজ সেটাই দেখলাম।’

তরুণদের দলের অন্য সদস্যরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন তারা। শুধু উৎসবের দিনেই নয়, যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এই তরুণরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


বর্ষবরণে চাঁদপুরের একদল তরুণের অন্যরকম গল্প

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পহেলা বৈশাখ। চারদিকে উৎসবের আমেজ। রঙিন পোশাক, মুখোশ আর বেলুনে সেজেছে শহর। কিন্তু প্রখর রোদ আর তীব্র তাপপ্রবাহ যেন কিছুটা যেন কমিয়ে দিচ্ছিল আনন্দের মাত্রা। হাঁসফাঁস করছে মানুষ। ঠিক সেই সময়টায় ভিন্ন এক আয়োজন- বিনামূল্যে শীতল পানি, লেমন মিট, হাতপাখা আর রঙিন সানগ্লাস। হাতে কলমে স্বস্তির ছোঁয়া।

চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে অধিকাংশ স্টলে ভিড় কম থাকলেও একটি স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। আর সেই ভিড়ের পেছনে ছিল একদল তরুণের মানবিক উদ্যোগ।

প্রখর রোদ উপেক্ষা করে সাধারণ মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে চাঁদপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক জিএস হাজী মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বাধীন একদল তরুণ।

তাদের হাত ধরেই বিনামূল্যে পৌঁছেছে শীতল পানি, টক-মিষ্টি লেমন মিট, হাতপাখা, নববর্ষ খচিত সানগ্লাস আর চাবির রিং। পাশাপাশি রাখা হয়েছিল খেলার সামগ্রী, যেখানে অংশ নিয়ে উপহার পেয়েছেন দর্শনার্থীরা।

তরুণদের এই দলের প্রধান সমন্বয়ক মারজুক মুঈদ (ঐশ্বর্য) জানান, তীব্র গরমে আগত সাধারণ মানুষ যেন কিছুটা স্বস্তি পায়, সেটাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।

মারজুক বলেন, ‘আমরা চেয়েছি নববর্ষ উদযাপনে আসা মানুষদের আনন্দ যেন ব্যাহত না হয়। এই রঙিন দিনে তাদের আনন্দ আরও রঙিন হয়ে উঠুক—সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস।’

প্রায় দুই সহস্রাধিক মানুষের মাঝে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তরুণদের কেউ কেউ নিজের হাতে উপকরণ তৈরি ও পরিবেশন করতে গিয়ে কিছুটা হিমশিম খেলেও ক্লান্তির ছাপ ছিল না কারও চোখে। বরং মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে পারার আনন্দই যেন তাদের ক্লান্তিকে উড়িয়ে দিয়েছে।

প্রখর রোদে অনুষ্ঠানস্থলে ঘুরতে ঘুরতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছিলেন। এমন সময় পানির বোতল বা লেমন মিটের কাপ পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন দর্শনার্থীরা।

স্থানীয় বাসিন্দা রুনা বেগম বলেন, ‘এত গরমে পানি পেয়ে খুব ভালো লাগল। ওই ছেলেগুলো খুব ভালো কাজ করেছে। আল্লাহ তাদের মঙ্গল করুক।’ শিশু তানজিম সানগ্লাস পেয়ে চোখমুখ উজ্জ্বল করে বলে, ‘আমি সানগ্লাস পরে খুব সুন্দর লাগছে। আঙ্কেলরা আমাদের খেলার সামগ্রীও দিয়েছেন।’

উৎসবের দিনে ভিড়ের মাঝে সেবামূলক কাজ যে কতটা প্রয়োজনীয়, তা আবারও প্রমাণ করল এই উদ্যোগ। গরমের কারণে অনেকে বাড়ি ফিরে যাচ্ছিলেন, কিন্তু এই স্টলের কাছে এসে তারা কিছুটা শক্তি সঞ্চয় করেছেন, উপভোগ করেছেন অনুষ্ঠান।

ব্যতিক্রমী উদ্যোগ তরুণদের।

স্থানীয় অনেকেই বলছেন, উৎসবের ভিড়ে এমন সেবামূলক কাজই প্রকৃত আনন্দের বার্তা দেয়। সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে চাঁদপুরের এই তরুণদের হাত ধরে পৌঁছে যাওয়া মানবতার ছোঁয়া।

হাজী মোশাররফ হোসেনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ। কেউ বলছেন, ‘উৎসব মানেই শুধু আনন্দ নয়, বিলিয়ে দেওয়ারও আনন্দ আছে। আজ সেটাই দেখলাম।’

তরুণদের দলের অন্য সদস্যরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখবেন তারা। শুধু উৎসবের দিনেই নয়, যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন এই তরুণরা।



সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত