গ্রামবাংলার প্রাণ ছিল এক সময়ের দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা। লাঠির বদলে হাত, নিয়মের বদলে আন্তরিকতা- যেখানে শক্তি আর দক্ষতার মাপজোখ হতো দর্শকদের উল্লাসে। কালের বিবর্তনে বিলুপ্তপ্রায় সেই খেলা ফিরে এলো বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে। মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা।
মাঠের দুই পাশে দর্শনার্থীদের সারি। শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী থেকে পুরুষ- সবার চোখে কৌতূহল আর উন্মাদনা। একদিকে উপজেলা প্রশাসন দল, অপরদিকে সাধারণ মানুষের দল। লাঠির বদলে দুই দলের প্রতিযোগীরা দাঁড়িয়ে বাহুবলী যুদ্ধে মেতে ওঠেন। খেলা শেষে জয় পায় উপজেলা প্রশাসন দল।
দাঁড়িয়াবান্ধার অন্যতম প্রধান উপকরণ কোট। খেলার সময় প্রতিযোগিরা কাঁধে বিশেষ কোট পরে প্রতিপক্ষকে টানার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই কোট তৈরি জানা ছিল না কারও।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার পর কেউ বলতে পারেনি কোট কীভাবে তৈরি হয়। পরে গুগল ও ইউটিউব দেখে কোট তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী অনেক খেলাই এখন হারিয়ে গেছে। দাঁড়িয়াবান্ধা তার মধ্যে অন্যতম। আমরা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ খেলাটি নিয়মিত চালু করার ব্যবস্থা করব।’
মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে দর্শক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছেলেবেলায় দেখেছি এই খেলা। তারপর আর কখনো দেখিনি। আজ আবার দেখে খুব ভালো লাগল। মনে হচ্ছে শৈশবে ফিরে গেছি।’ স্থানীয় যুবক সজীব মোল্লা বলেন, ‘আমি তো নাম শুনেছি, সরাসরি কখনো দেখিনি। আজ দেখে খুব মজা পেলাম। এরকম আয়োজন নিয়মিত হলে ভালো হয়।’
খেলায় উপজেলা প্রশাসন দলে অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। অপর দলে ছিলেন স্থানীয় যুবক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ। খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল রানা, পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তুরাগ খান প্রমুখ।
শুধু দাঁড়িয়াবান্ধা খেলাই নয়, পুরো মাঠ জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ঢাকের বাদ্য, রঙিন পোশাক আর পান্তা-ইলিশের আয়োজন যেন আরও রঙিন করে তুলেছিল বর্ষবরণের আনন্দ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী খেলা নিয়মিত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়াবান্ধা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা যেন একাই যেন ফিরিয়ে দিল কালের স্মৃতি। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য আবারও মাটিতে নামল। মানুষের মুখে ফিরল শৈশবের হাসি। নববর্ষের এই আয়োজন যেন প্রমাণ করল, সংস্কৃতি কখনো মরে না, শুধু একটু যত্ন আর ভালোবাসার অপেক্ষায় থাকে।

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
গ্রামবাংলার প্রাণ ছিল এক সময়ের দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা। লাঠির বদলে হাত, নিয়মের বদলে আন্তরিকতা- যেখানে শক্তি আর দক্ষতার মাপজোখ হতো দর্শকদের উল্লাসে। কালের বিবর্তনে বিলুপ্তপ্রায় সেই খেলা ফিরে এলো বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে। মঙ্গলবার বিকেলে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলা পরিষদ মাঠে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয় দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা।
মাঠের দুই পাশে দর্শনার্থীদের সারি। শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী থেকে পুরুষ- সবার চোখে কৌতূহল আর উন্মাদনা। একদিকে উপজেলা প্রশাসন দল, অপরদিকে সাধারণ মানুষের দল। লাঠির বদলে দুই দলের প্রতিযোগীরা দাঁড়িয়ে বাহুবলী যুদ্ধে মেতে ওঠেন। খেলা শেষে জয় পায় উপজেলা প্রশাসন দল।
দাঁড়িয়াবান্ধার অন্যতম প্রধান উপকরণ কোট। খেলার সময় প্রতিযোগিরা কাঁধে বিশেষ কোট পরে প্রতিপক্ষকে টানার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই কোট তৈরি জানা ছিল না কারও।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান জানান, আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার পর কেউ বলতে পারেনি কোট কীভাবে তৈরি হয়। পরে গুগল ও ইউটিউব দেখে কোট তৈরি করা হয়। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী অনেক খেলাই এখন হারিয়ে গেছে। দাঁড়িয়াবান্ধা তার মধ্যে অন্যতম। আমরা প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ খেলাটি নিয়মিত চালু করার ব্যবস্থা করব।’
মাঠের পাশে দাঁড়িয়ে দর্শক মিজানুর রহমান বলেন, ‘ছেলেবেলায় দেখেছি এই খেলা। তারপর আর কখনো দেখিনি। আজ আবার দেখে খুব ভালো লাগল। মনে হচ্ছে শৈশবে ফিরে গেছি।’ স্থানীয় যুবক সজীব মোল্লা বলেন, ‘আমি তো নাম শুনেছি, সরাসরি কখনো দেখিনি। আজ দেখে খুব মজা পেলাম। এরকম আয়োজন নিয়মিত হলে ভালো হয়।’
খেলায় উপজেলা প্রশাসন দলে অংশ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি), বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা। অপর দলে ছিলেন স্থানীয় যুবক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ। খেলা দেখতে উপস্থিত ছিলেন শিবচর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সোহেল রানা, পৌরসভা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক তুরাগ খান প্রমুখ।
শুধু দাঁড়িয়াবান্ধা খেলাই নয়, পুরো মাঠ জুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। ঢাকের বাদ্য, রঙিন পোশাক আর পান্তা-ইলিশের আয়োজন যেন আরও রঙিন করে তুলেছিল বর্ষবরণের আনন্দ।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী খেলা নিয়মিত আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দাঁড়িয়াবান্ধা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দাঁড়িয়াবান্ধা খেলা যেন একাই যেন ফিরিয়ে দিল কালের স্মৃতি। হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য আবারও মাটিতে নামল। মানুষের মুখে ফিরল শৈশবের হাসি। নববর্ষের এই আয়োজন যেন প্রমাণ করল, সংস্কৃতি কখনো মরে না, শুধু একটু যত্ন আর ভালোবাসার অপেক্ষায় থাকে।

আপনার মতামত লিখুন