‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’- রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী আবাহনে মাতোয়ারা সাটুরিয়া। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য উৎসবে মিলিত হন সব বয়সের মানুষ। তবে এবারের আয়োজনে সবার নজর কেড়েছে গ্রামবাংলার প্রায় বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য—পুতুলনাচ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলা চত্বর যেন অন্যরূপ ধারণ করে। রং-বেরঙের ফেস্টুন, মুখোশ আর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে উঠেন নারী-পুরুষ-শিশুরা। উপজেলা চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। লোকজ বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মেতে ওঠে পুরো এলাকা।
শোভাযাত্রা শেষে বকুলতলা চত্বরে শুরু হয় পান্তা-ইলিশ ভোজ। এরপরই আসে দিনের প্রধান আকর্ষণ-পুতুলনাচ। দীর্ঘ সময় পর এই আয়োজন দেখে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণদের চোখেমুখে ফিরে আসে শৈশবের স্মৃতি।
বেশ কয়েক বছর ধরে সাটুরিয়ায় পুতুলনাচের আয়োজন ছিল না। তাই এবারের এই আয়োজন যেন হারিয়ে যাওয়া এক বন্ধুর ফিরে আসার মতো অনুভূতি তৈরি করে। সাদা-কালো রঙের পোশাক পরা পুতুল, তার হাতের মুঠোয় বাঁশি, আর সুরে সুরে গল্প বলা- দেখে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ (৬৫) বলেন, ‘ছেলেবেলায় পুতুলনাচ দেখতে অনেক দূরে যেতে হতো। আজকের আয়োজন দেখে মনে হলো, আবার সেই দিন ফিরে এসেছে। ছোট ছেলেমেয়েরা পুতুলনাচ দেখে এত খুশি, সেটাই বড় পাওয়া।’
দশ বছর বয়সী নিশিতা আক্তার বলে, ‘পুতুলনাচ খুব মজার ছিল। পুতুলটা যেন সত্যি সত্যি কথা বলছিল। আমি তো চোখই সরাতে পারছিলাম না।’
পুতুলনাচ শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় লোকসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। সকল ভেদাভেদ ভুলে নতুন বছরে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই আমাদের আত্মপরিচয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুতুলনাচের মতো বিলুপ্তপ্রায় শিল্পগুলোকে বাঁচাতে প্রশাসন সর্বদা কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
পুতুলনাচে মুগ্ধ দর্শক। ছবি: প্রতিনিধি
পান্তা-ইলিশের আয়োজন ছিল অন্যতম আকর্ষণ। বর্ষবরণের ঐতিহ্য ধরে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব বয়সী মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। বর্ষার গন্ধ, ইলিশের স্বাদ আর পান্তার টকটকে স্বাদ- যেন বর্ষবরণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
সাটুরিয়ার এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়, এটি হারিয়ে যাওয়া একটি ঐতিহ্যকে আবারও মাটিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। পুতুলনাচের পোশাক, গান, সুর—সবকিছুতেই ছিল মায়াবী এক জাদু।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পুতুলনাচের নিয়মিত আয়োজন করা হবে। স্থানীয় শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’- রবীন্দ্রনাথের কালজয়ী আবাহনে মাতোয়ারা সাটুরিয়া। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বর্ণাঢ্য উৎসবে মিলিত হন সব বয়সের মানুষ। তবে এবারের আয়োজনে সবার নজর কেড়েছে গ্রামবাংলার প্রায় বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্য—পুতুলনাচ।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকে উপজেলা চত্বর যেন অন্যরূপ ধারণ করে। রং-বেরঙের ফেস্টুন, মুখোশ আর ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজে উঠেন নারী-পুরুষ-শিশুরা। উপজেলা চত্বর থেকে বের হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রা। র্যালিটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। লোকজ বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে মেতে ওঠে পুরো এলাকা।
শোভাযাত্রা শেষে বকুলতলা চত্বরে শুরু হয় পান্তা-ইলিশ ভোজ। এরপরই আসে দিনের প্রধান আকর্ষণ-পুতুলনাচ। দীর্ঘ সময় পর এই আয়োজন দেখে শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে প্রবীণদের চোখেমুখে ফিরে আসে শৈশবের স্মৃতি।
বেশ কয়েক বছর ধরে সাটুরিয়ায় পুতুলনাচের আয়োজন ছিল না। তাই এবারের এই আয়োজন যেন হারিয়ে যাওয়া এক বন্ধুর ফিরে আসার মতো অনুভূতি তৈরি করে। সাদা-কালো রঙের পোশাক পরা পুতুল, তার হাতের মুঠোয় বাঁশি, আর সুরে সুরে গল্প বলা- দেখে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল লতিফ (৬৫) বলেন, ‘ছেলেবেলায় পুতুলনাচ দেখতে অনেক দূরে যেতে হতো। আজকের আয়োজন দেখে মনে হলো, আবার সেই দিন ফিরে এসেছে। ছোট ছেলেমেয়েরা পুতুলনাচ দেখে এত খুশি, সেটাই বড় পাওয়া।’
দশ বছর বয়সী নিশিতা আক্তার বলে, ‘পুতুলনাচ খুব মজার ছিল। পুতুলটা যেন সত্যি সত্যি কথা বলছিল। আমি তো চোখই সরাতে পারছিলাম না।’
পুতুলনাচ শেষে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় লোকসংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘পহেলা বৈশাখ আমাদের বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। সকল ভেদাভেদ ভুলে নতুন বছরে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে হবে। আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই আমাদের আত্মপরিচয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুতুলনাচের মতো বিলুপ্তপ্রায় শিল্পগুলোকে বাঁচাতে প্রশাসন সর্বদা কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী, স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
পুতুলনাচে মুগ্ধ দর্শক। ছবি: প্রতিনিধি
পান্তা-ইলিশের আয়োজন ছিল অন্যতম আকর্ষণ। বর্ষবরণের ঐতিহ্য ধরে রাখতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব বয়সী মানুষের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। বর্ষার গন্ধ, ইলিশের স্বাদ আর পান্তার টকটকে স্বাদ- যেন বর্ষবরণকে আরও স্মরণীয় করে তোলে।
সাটুরিয়ার এই আয়োজন শুধু একটি উৎসব নয়, এটি হারিয়ে যাওয়া একটি ঐতিহ্যকে আবারও মাটিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা। পুতুলনাচের পোশাক, গান, সুর—সবকিছুতেই ছিল মায়াবী এক জাদু।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পুতুলনাচের নিয়মিত আয়োজন করা হবে। স্থানীয় শিল্পীদের প্রশিক্ষণ দিয়ে এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন