সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

ঝড়-ঢলের শঙ্কায় হাওরের বোরো চাষিরা


লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
লতিফুর রহমান রাজু, সুনামগঞ্জ
প্রকাশ: ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

ঝড়-ঢলের শঙ্কায় হাওরের বোরো চাষিরা
ছবি : সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের চোখ এখন আকাশে। একদিকে বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা। দ্রুত পাকা ধান ঘরে তুলতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। স্বপ্নের ফসল শেষমেষ ঘরে উঠবে কি না, সেই দুশ্চিন্তাও যেন কাটছে না।

উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের বোরো ধান পেকে গেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের। তবে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষকেরা জানান, প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একমাত্র বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়ে। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হওয়া ও কাজে অনিয়মের কারণে অনেক সময় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে অকাল বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এদিকে, ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল হাওরের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, এই ঢল এলে দুর্বল বাঁধ ভেঙে মুহূর্তেই পানিতে ডুবে যেতে পারে পাকা ধান। ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে অনেক কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে।

কৃষক মহরম আলী বলেন, ‘জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারা নিয়েই দুশ্চিন্তা।’ আরেক কৃষক জমির মিয়া জানান, ‘ফসল ভালো হলেও বাঁধের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। বাঁধের কাজে অনিয়ম আছে বলেই এত দুশ্চিন্তা।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, কিছু হাওরে ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।তিনি বলেন, ‘এতে অকাল বন্যায় বা পাহাড়ি ঢলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে। আমরা কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, বিলম্ব না করে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে।’

উপজেলা প্রশাসন জানায়, বাঁধগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হাওরের কৃষকেরা জানেন, প্রকৃতির রোষ থেকে রেহাই পাওয়া সহজ নয়। তবুও আশা ছাড়েন না তারা। স্বপ্ন দেখেন- ভালো ফলন হয়েছে, ধান ঘরে উঠুক, যেন সারা বছরের সংসারের চাকা সচল থাকে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬


ঝড়-ঢলের শঙ্কায় হাওরের বোরো চাষিরা

প্রকাশের তারিখ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলের কৃষকদের চোখ এখন আকাশে। একদিকে বৈরী আবহাওয়া, অন্যদিকে পাহাড়ি ঢলের আশঙ্কা। দ্রুত পাকা ধান ঘরে তুলতে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। স্বপ্নের ফসল শেষমেষ ঘরে উঠবে কি না, সেই দুশ্চিন্তাও যেন কাটছে না।

উপজেলার বিভিন্ন হাওরে আগাম জাতের বোরো ধান পেকে গেছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকদের। তবে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

কৃষকেরা জানান, প্রতিবছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে একমাত্র বোরো ফসল হুমকির মুখে পড়ে। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হওয়া ও কাজে অনিয়মের কারণে অনেক সময় বাঁধ দুর্বল হয়ে পড়ে। এতে অকাল বন্যায় ফসল তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এদিকে, ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢল হাওরের জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা বলছেন, এই ঢল এলে দুর্বল বাঁধ ভেঙে মুহূর্তেই পানিতে ডুবে যেতে পারে পাকা ধান। ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন হাওরে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে অনেক কৃষকের স্বপ্ন ধূলিসাৎ হয়েছে।

কৃষক মহরম আলী বলেন, ‘জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারা নিয়েই দুশ্চিন্তা।’ আরেক কৃষক জমির মিয়া জানান, ‘ফসল ভালো হলেও বাঁধের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না। বাঁধের কাজে অনিয়ম আছে বলেই এত দুশ্চিন্তা।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় প্রায় ২ লাখ ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে প্রায় ১৪ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন হাওরে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও সংস্কারে ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭১০টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, কিছু হাওরে ইতিমধ্যে ধান কাটা শুরু হয়েছে। ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই দ্রুত কেটে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের।তিনি বলেন, ‘এতে অকাল বন্যায় বা পাহাড়ি ঢলে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমবে। আমরা কৃষকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, বিলম্ব না করে দ্রুত ধান ঘরে তুলতে।’

উপজেলা প্রশাসন জানায়, বাঁধগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং কৃষকদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত পাকা ধান ঘরে তোলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

হাওরের কৃষকেরা জানেন, প্রকৃতির রোষ থেকে রেহাই পাওয়া সহজ নয়। তবুও আশা ছাড়েন না তারা। স্বপ্ন দেখেন- ভালো ফলন হয়েছে, ধান ঘরে উঠুক, যেন সারা বছরের সংসারের চাকা সচল থাকে।


সংবাদ - ঘটনা যখন সংবাদ তখন

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত