গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অবরোধের হুমকি দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এতেই গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ভারতে। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন।
এর আগে, স্থানীয় সময় গত শনিবার পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী এবং সেখান থেকে বের হওয়া সমস্ত ট্রাফিক বা নৌ-চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকির পর পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের বন্দরগুলো নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
যদিও নিজের জাহাজ চলাচল চালু রেখেছে দেশটি। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কিছু জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। যুদ্ধ শেষে টোল ব্যবস্থা চালুর কথাও বিবেচনা করছে দেশটি।
এদিকে, গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে আসায় নয়াদিল্লি বাণিজ্যিক খাতের পরিবর্তে সাধারণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল অনেক কোম্পানির শিল্প-মুনাফা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম কোটি কোটি মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে। মুম্বাই এবং দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতে অনেক অভিবাসী শ্রমিক তাদের নিজ গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ খাবার এবং রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের খরচ মেটানোর সামর্থ্য তাদের আর নেই।
যদিও সম্প্রতি ইরানের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত শনিবারও ভারতের পতাকাবাহী একটি এলপিজি জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। যার ফলে মোট জাহাজ পারাপারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টিতে। সে হিসেবে ট্রাম্প যদি তার এই অবরোধের হুমকি কার্যকর করেন, তবে ভারতের জন্য অবশিষ্ট এই সামান্য সুযোগটুকুও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
১৪০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই সরবরাহ ব্যবস্থায় যে কোনো ধরনের বাড়তি বিঘ্ন একটি তীব্র জ্বালানি সংকটের সূত্রপাত করতে পারে এবং ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিকে স্থবির করে দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়, যা এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।

বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে অবরোধের হুমকি দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আর এতেই গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করছে হাজার হাজার মাইল দূরে অবস্থিত ভারতে। এমনটাই জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা সিএনএন।
এর আগে, স্থানীয় সময় গত শনিবার পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত স্থায়ী যুদ্ধবিরতি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশকারী এবং সেখান থেকে বের হওয়া সমস্ত ট্রাফিক বা নৌ-চলাচলের ওপর অবরোধ আরোপ করবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন হুমকির পর পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরের বন্দরগুলো নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
যদিও নিজের জাহাজ চলাচল চালু রেখেছে দেশটি। পাশাপাশি অন্যান্য দেশের কিছু জাহাজকে সীমিতভাবে চলাচলের অনুমতি দিচ্ছে। যুদ্ধ শেষে টোল ব্যবস্থা চালুর কথাও বিবেচনা করছে দেশটি।
এদিকে, গ্যাসের মজুত ফুরিয়ে আসায় নয়াদিল্লি বাণিজ্যিক খাতের পরিবর্তে সাধারণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য হয়েছে। এর ফলে অনেক রেস্তোরাঁ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল অনেক কোম্পানির শিল্প-মুনাফা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম কোটি কোটি মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রাকে চরম সংকটে ফেলেছে। মুম্বাই এবং দিল্লির মতো বড় শহরগুলোতে অনেক অভিবাসী শ্রমিক তাদের নিজ গ্রামে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ খাবার এবং রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডারের খরচ মেটানোর সামর্থ্য তাদের আর নেই।
যদিও সম্প্রতি ইরানের দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত শনিবারও ভারতের পতাকাবাহী একটি এলপিজি জাহাজ নিরাপদে এই প্রণালী অতিক্রম করেছে। যার ফলে মোট জাহাজ পারাপারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯টিতে। সে হিসেবে ট্রাম্প যদি তার এই অবরোধের হুমকি কার্যকর করেন, তবে ভারতের জন্য অবশিষ্ট এই সামান্য সুযোগটুকুও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
১৪০ কোটি জনসংখ্যার এই দেশটি মধ্যপ্রাচ্যের তেল ও গ্যাসের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই সরবরাহ ব্যবস্থায় যে কোনো ধরনের বাড়তি বিঘ্ন একটি তীব্র জ্বালানি সংকটের সূত্রপাত করতে পারে এবং ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতিকে স্থবির করে দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে।
ইরানে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল হামলা শুরু করার পর থেকে হরমুজ প্রণালির ওপর কার্যত নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে তেহরান। বিশ্বব্যাপী তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথে পরিবাহিত হয়, যা এখন প্রায় অচল অবস্থায় রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন