সংবাদ

ইরানের সাথে যুদ্ধে ৪২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস: সিআরএস


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ০৯:৩৮ এএম

ইরানের সাথে যুদ্ধে ৪২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস: সিআরএস

​ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অন্তত ৪২টি সামরিক বিমান ও ড্রোন হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে চলমান সংঘাত এবং বেশ কিছু গোপনীয় তথ্যের কারণে ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​সিআরএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিমান বাহিনীর যে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার একটি খতিয়ান তুলে ধরা হলো:

​যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার: ৪টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, ১টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান, ১টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ স্থল-আক্রমণকারী বিমান এবং ১টি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

​লজিস্টিক ও নজরদারি বিমান: ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার (আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান), ১টি ই-৩ সেন্ট্রি (আগাম সতর্কীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিমান) এবং ২টি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযানকারী বিমান।

​ড্রোন (চালকেরবিহীন বিমান): ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার (মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ উড়তে সক্ষম) এবং ১টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ উড়তে সক্ষম)।

​পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে সিআরএস বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম, পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পেন্টাগনের অর্থবিষয়ক প্রধান জুলস হার্স্ট (তৃতীয়) জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত এবং নতুন সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের কারণে যুদ্ধের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

​চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা শুরু করে, যার কোডনেম দেওয়া হয় 'অপারেশন এপিক ফিউরি'। সিআরএসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

​মার্কিন থিঙ্কট্যাংকের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। প্রতিবেদনটি শেয়ার করে তিনি লেখেন: ​"এই যুদ্ধ থেকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।"

​তিনি ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের জন্য সামনে আরও বড় 'চমক' অপেক্ষা করছে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


ইরানের সাথে যুদ্ধে ৪২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস: সিআরএস

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

​ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কংগ্রেসনাল রিসার্চ সার্ভিসের (সিআরএস) এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অন্তত ৪২টি সামরিক বিমান ও ড্রোন হারিয়েছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মার্কিন বাহিনী। তবে চলমান সংঘাত এবং বেশ কিছু গোপনীয় তথ্যের কারণে ক্ষয়ক্ষতির এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​সিআরএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন বিমান বাহিনীর যে বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তার একটি খতিয়ান তুলে ধরা হলো:

​যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার: ৪টি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান, ১টি অত্যাধুনিক এফ-৩৫এ লাইটনিং-২ যুদ্ধবিমান, ১টি এ-১০ থান্ডারবোল্ট-২ স্থল-আক্রমণকারী বিমান এবং ১টি এইচএইচ-৬০ডব্লিউ জলি গ্রিন-২ উদ্ধারকারী হেলিকপ্টার।

​লজিস্টিক ও নজরদারি বিমান: ৭টি কেসি-১৩৫ স্ট্রাটোট্যাঙ্কার (আকাশপথে জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান), ১টি ই-৩ সেন্ট্রি (আগাম সতর্কীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিমান) এবং ২টি এমসি-১৩০জে কমান্ডো-২ বিশেষ অভিযানকারী বিমান।

​ড্রোন (চালকেরবিহীন বিমান): ২৪টি এমকিউ-৯ রিপার (মাঝারি উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ উড়তে সক্ষম) এবং ১টি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন (উচ্চ উচ্চতায় দীর্ঘক্ষণ উড়তে সক্ষম)।

​পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে সিআরএস বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম, পেন্টাগন ও মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (CENTCOM) উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য নিশ্চিত করেছে।

পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে এই সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে। পেন্টাগনের অর্থবিষয়ক প্রধান জুলস হার্স্ট (তৃতীয়) জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সরঞ্জাম মেরামত এবং নতুন সরঞ্জাম প্রতিস্থাপনের কারণে যুদ্ধের খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে।

​চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের ওপর আকস্মিক সামরিক হামলা শুরু করে, যার কোডনেম দেওয়া হয় 'অপারেশন এপিক ফিউরি'। সিআরএসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

​মার্কিন থিঙ্কট্যাংকের এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি। প্রতিবেদনটি শেয়ার করে তিনি লেখেন: ​"এই যুদ্ধ থেকে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে।"

​তিনি ওয়াশিংটনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখায়, তবে তাদের জন্য সামনে আরও বড় 'চমক' অপেক্ষা করছে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত