সংবাদ

জেলে ও জলমহাল


হিমাংশুদেব বর্মণ
হিমাংশুদেব বর্মণ
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১০ পিএম

জেলে ও জলমহাল
দেশের অধিকাংশ বিল-বাঁওড়ই প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলে পেশাধারী এই মৎস্যজীবিরা নানাবিধ সংকটের মধ্যে তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছে| একসময় প্রতিটি জেলে পল্লীতে দেখা যেত দেশি সুতোর জাল বোনার প্রচলন| জেলে পল্লীর গৃহিনীরা রাতদিন বসে বসে জাল বুনতেন| এই জাল দিয়ে জেলেরা মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে তাই দিয়ে সংসার চালাতেন| কেবল তাই-ই নয়, ওই জাল নিজেরা মাছ ধরার কাজে খুব কমই ব্যবহার করতেন| বিক্রি করতেন বেশি জাল| বাইরের জেলা থেকে ক্রেতা এসে জাল কিনে নিয়ে যেতেন| একেকটি জাল বিক্রি করলে তখনকার দিনে পাঁচ কেজি চাউল ও বাজার খরচের টাকা হয়ে যেত| 

এক কথায় জাল বোনা ছিল জেলেদের একমাত্র অবলম্বন| সেই চল্লিশ বছর আগেই ভাটা পড়ে গেল সেই জাল বোনায়| কারণ ছিল এখনকার দিনের এই কারেন্ট জাল| এই কারেন্ট জাল যখনই দেশে এলো তখনই মানুষ দেশী সুতোর জাল কেনা ছেড়ে দিল| কারণ দেশি সুতোর জালের দাম বেশি, আর কারেন্ট জালের দাম অনেক কম| তাছড়া দেশি সুতোর জালের চেয়ে কারেন্ট জালে মাছ পাওয়া যায় অনেক বেশি| এই সুবিধা পেয়ে মানুষ ঝুঁকে পড়লো কারেন্ট জালের প্রতি| আর ধ্বংস হয়ে জেলে পল্লীর হস্তশিল্পটি| এই হস্তশিল্পজাত জাল এখন আর কোথাও পাওয়া যায় না| এই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া হস্তশিল্পজাত দেশি সুতোর ফাঁস জালের উৎপাদন আবার শুরু করে এই ক্ষুদ্রশিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখা যায় কি না, এমন আশা নিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম তখনকার সেই জাল বোনা গৃহিনীরা এখন আর বেঁচে নেই বেশির ভাগ| যা-ও আছেন তারা চোখে দেখেন না| কারো হাত কাঁপে| অনেক বয়স হয়ে গেছে তো তাই| তবুও চেষ্টা করে সম্ভব হতো, যদি সে জালগুলো বিক্রি করা যেতো| তারা বলেন, একটি জাল বুনে আগেকার দিনের হিসেবে যদি দাম ধরা হয়, তাহলে তা কেউ কিনবে না| কারণ একটি জালের দামে তারা কমপক্ষে পাঁচটি জাল কিনতে পারছে| এখন জাল বুনলে তাদের পুরোটাই লোকসান হবে| 

বৈধ সরঞ্জামের কথা বলতে গেলে সত্যি বলতে কী, বর্তমানে মাছ ধরার জন্য কোনো বৈধ সরঞ্জামই নেই| জাল বলতে সবই কারেন্ট জাল| ভেসাল জাল অবৈধ| খেপলা, উড়নী, খেও, ঝাঁকি (স্থান ভেদে) জাল বৈধ, কিন্তু এখন তো আর হাতে বোনা জাল নেই| কারেন্ট জাল দিয়েই তৈরি হচ্ছে এই উড়নী জাল| এখন, যদি কেউ একবার খাওয়ার জন্যও মাছ ধরতে যায় তাকে ওই অবৈধ সরঞ্জাম কারেন্ট জাল দিয়েই মাছ ধরতে হবে| এছাড়া উপায় নেই| এছাড়া বর্তমানে আরেকটি মরণঘাতী উপায় রয়েছে চায়না দুয়াড়ী| এই চায়না দুয়াড়ীর ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, বাজারে না পেলে তারা কিনবে কোথা থেকে? কেউ কেউ বলেন তারা মাছ বেশি ধরার প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিয়ে এই চায়না দুয়াড়ী কিনে আনে| প্রশাসন অভিযানে এসে সব জাল নিয়ে পুড়িয়ে দেয়| পরদিন আবার তারা আগের চেয়ে বেশি কিনে আনে| তারাও জানে এটা ভুল ও অপরাধ| তবু এছাড়া তাদের অন্য কোনো উপায় নেই বলেই তারা জানায়| 

বাংলাদেশ মৎস্য আইনের আওতায় ‘উন্মুক্ত জলাশয়’ নীতিতে এই উক্তিটির ভুল ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের ফলে মৎস্যজীবিরা মৎস্য আহরনের ক্ষেত্র তথা নদী, নালা, খাল, বিল থেকে বিতাড়িত হওয়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে| ‘উন্মুক্ত জলাশয়’- এর দোহায় দিয়ে স্থানীয় অবস্থাশালী লোকেরাও মাছ ধরার সরঞ্জাম তৈরি করে নিয়ে জলাশয় দখল করে নিয়ে মাছ ধরছে তারা| এ কারণে প্রকৃতপক্ষে মাছ ধরেই যাদের জীবন জীবিকা চলে তারা সেই সব জলাশয় থেকে মাছ ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছে বললে ভুল হবে না| 

স্থায়ীভাবে মাছ ধরার কাজ তারাই করছে যাদের মাছ না ধরলেও কৃষিকাজ, ব্যবসা বা অন্য উপায়ে তাদের সংসার যথেষ্ট গ্রচলভাবেই চলছে| তাদের কারণে পেশাগত মৎস্যজীবিরা মাছ ধরতে পারছে না| দেশের অধিকাংশ বিল বাওড়ই প্রভাবশালী লোকেদের দখলে চলে গেছে| বিল-বাঁওড় দখলের প্রতিবাদে আমরা প্রায়ই মৎস্যজীবিদেরকে রাজপথে দাঁড়াতে দেখি| শুধু বিল-বাঁওড়ই নয়, নদ নদীগুলোতেও চলছে এই দখলদারিত্বের রাজত্ব| আসলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের এই ভুল ব্যাখ্যা এবং এই এটাকে আশ্রয় করে সুযোগ নিয়ে মৎস্যজীবিদেরকে জলাশয় থেকে উৎখাত করার পায়তারা থেকে সরে আসতে হবে| এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে| 

আসলে এ ব্যবস্থার একটি সুষ্ঠ সমাধান দরকার| আর সমাধানের জন্য আমাদের ভাবনাটাকে আরও গভীরে নিয়ে যেতে হবে| সেই আলোকে আমার একটি ঘটনা মনে পড়ে| তা হলো, এখন থেকে বছর দশের আগে ইউটিউব, ফেইসবুকে দেখতাম চীনারা তাদের দেশের জঙ্গলে এই চায়না দুয়াড়ী পেতে সাপ ধরতো| মূলত চীন থেকে আগত বলেই এর নাম হয় চায়না দুয়াড়ী| জেলেরা যা সেদিন চোখেও দেখেনি, সেই চায়না দুয়াড়ী চীনের সুপ্রশস্ত প্রাচীর ডিঙিয়ে, ভারতের ত্রিপুরা ও মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য পেরিয়ে ঠিকই বাংলাদেশে চলে এসেছে| এটা কিভাবে সম্ভব হলো! কোনো জেলে তো সেদিন ডোঙা কিংবা নৌকা বেয়ে এই দুয়াড়ী জাল চীন থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেনি! তাহলে কে বা কারা আনলো এই জাল! এটা খুঁজেবের করাটা আজ খুব জরুরি নয় কি?

যদি বলি বা মেনে নিই এটা অবশ্যই কোনো অসাধু ব্যবসায়ীর কাজ| তাহলে এটা আমদানি করার কাজে অবশ্যই প্রশাসনিক অনুমতি কেউ না কেউ তো অবশ্যই দিয়েছিল| তাছাড়া তো আমদানি করা সম্ভব হয়নি| সেই অসাধু প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তাকেও খুঁজে করাটাও জরুরি কি না এটাও এখন ভেবে দেখা দরকার| যদি আমরা আমাদের সামগ্রীক ভালো চাই তাহলে অবশ্যই এদিকে গুরুত্বের সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে| হ্যাঁ, বর্তমানে এই দুয়াড়ীসহ সমস্ত প্রকার কারেন্ট জালই আমাদের দেশে উৎপাদন হচ্ছে| এই উৎপাদন বন্ধ করতে হবে| যেখান থেকে এই অবৈধ সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছে সেখানেই পদক্ষেপ নেয়াটা সবচেয়ে উত্তম| এই দুয়াড়ীসহ সমস্ত প্রকার কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধ হলে আমাদের দেশের এই হস্তশিল্পটাকে আবার পুনরুজ্জীবিত করে সেটাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে| সেই সঙ্গে জলজ জীব বৈচিত্র্য ধ্বংসকারী এই কারেন্ট জাল না থাকলে আমাদের দেশের ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ প্রবাদকেও বাঁচিয়ে রাখা অবশ্যই সম্ভব| 

[লেখক: সংবাদকর্মী]


আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


জেলে ও জলমহাল

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জেলে পেশাধারী এই মৎস্যজীবিরা নানাবিধ সংকটের মধ্যে তাদের জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করে যাচ্ছে| একসময় প্রতিটি জেলে পল্লীতে দেখা যেত দেশি সুতোর জাল বোনার প্রচলন| জেলে পল্লীর গৃহিনীরা রাতদিন বসে বসে জাল বুনতেন| এই জাল দিয়ে জেলেরা মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে তাই দিয়ে সংসার চালাতেন| কেবল তাই-ই নয়, ওই জাল নিজেরা মাছ ধরার কাজে খুব কমই ব্যবহার করতেন| বিক্রি করতেন বেশি জাল| বাইরের জেলা থেকে ক্রেতা এসে জাল কিনে নিয়ে যেতেন| একেকটি জাল বিক্রি করলে তখনকার দিনে পাঁচ কেজি চাউল ও বাজার খরচের টাকা হয়ে যেত| 

এক কথায় জাল বোনা ছিল জেলেদের একমাত্র অবলম্বন| সেই চল্লিশ বছর আগেই ভাটা পড়ে গেল সেই জাল বোনায়| কারণ ছিল এখনকার দিনের এই কারেন্ট জাল| এই কারেন্ট জাল যখনই দেশে এলো তখনই মানুষ দেশী সুতোর জাল কেনা ছেড়ে দিল| কারণ দেশি সুতোর জালের দাম বেশি, আর কারেন্ট জালের দাম অনেক কম| তাছড়া দেশি সুতোর জালের চেয়ে কারেন্ট জালে মাছ পাওয়া যায় অনেক বেশি| এই সুবিধা পেয়ে মানুষ ঝুঁকে পড়লো কারেন্ট জালের প্রতি| আর ধ্বংস হয়ে জেলে পল্লীর হস্তশিল্পটি| এই হস্তশিল্পজাত জাল এখন আর কোথাও পাওয়া যায় না| এই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া হস্তশিল্পজাত দেশি সুতোর ফাঁস জালের উৎপাদন আবার শুরু করে এই ক্ষুদ্রশিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখা যায় কি না, এমন আশা নিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারলাম তখনকার সেই জাল বোনা গৃহিনীরা এখন আর বেঁচে নেই বেশির ভাগ| যা-ও আছেন তারা চোখে দেখেন না| কারো হাত কাঁপে| অনেক বয়স হয়ে গেছে তো তাই| তবুও চেষ্টা করে সম্ভব হতো, যদি সে জালগুলো বিক্রি করা যেতো| তারা বলেন, একটি জাল বুনে আগেকার দিনের হিসেবে যদি দাম ধরা হয়, তাহলে তা কেউ কিনবে না| কারণ একটি জালের দামে তারা কমপক্ষে পাঁচটি জাল কিনতে পারছে| এখন জাল বুনলে তাদের পুরোটাই লোকসান হবে| 

বৈধ সরঞ্জামের কথা বলতে গেলে সত্যি বলতে কী, বর্তমানে মাছ ধরার জন্য কোনো বৈধ সরঞ্জামই নেই| জাল বলতে সবই কারেন্ট জাল| ভেসাল জাল অবৈধ| খেপলা, উড়নী, খেও, ঝাঁকি (স্থান ভেদে) জাল বৈধ, কিন্তু এখন তো আর হাতে বোনা জাল নেই| কারেন্ট জাল দিয়েই তৈরি হচ্ছে এই উড়নী জাল| এখন, যদি কেউ একবার খাওয়ার জন্যও মাছ ধরতে যায় তাকে ওই অবৈধ সরঞ্জাম কারেন্ট জাল দিয়েই মাছ ধরতে হবে| এছাড়া উপায় নেই| এছাড়া বর্তমানে আরেকটি মরণঘাতী উপায় রয়েছে চায়না দুয়াড়ী| এই চায়না দুয়াড়ীর ব্যাপারে জানতে চাইলে বলেন, বাজারে না পেলে তারা কিনবে কোথা থেকে? কেউ কেউ বলেন তারা মাছ বেশি ধরার প্রতিযোগিতায় পাল্লা দিয়ে এই চায়না দুয়াড়ী কিনে আনে| প্রশাসন অভিযানে এসে সব জাল নিয়ে পুড়িয়ে দেয়| পরদিন আবার তারা আগের চেয়ে বেশি কিনে আনে| তারাও জানে এটা ভুল ও অপরাধ| তবু এছাড়া তাদের অন্য কোনো উপায় নেই বলেই তারা জানায়| 

বাংলাদেশ মৎস্য আইনের আওতায় ‘উন্মুক্ত জলাশয়’ নীতিতে এই উক্তিটির ভুল ব্যাখ্যা ও প্রয়োগের ফলে মৎস্যজীবিরা মৎস্য আহরনের ক্ষেত্র তথা নদী, নালা, খাল, বিল থেকে বিতাড়িত হওয়ার প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে| ‘উন্মুক্ত জলাশয়’- এর দোহায় দিয়ে স্থানীয় অবস্থাশালী লোকেরাও মাছ ধরার সরঞ্জাম তৈরি করে নিয়ে জলাশয় দখল করে নিয়ে মাছ ধরছে তারা| এ কারণে প্রকৃতপক্ষে মাছ ধরেই যাদের জীবন জীবিকা চলে তারা সেই সব জলাশয় থেকে মাছ ধরার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়ে গেছে বললে ভুল হবে না| 

স্থায়ীভাবে মাছ ধরার কাজ তারাই করছে যাদের মাছ না ধরলেও কৃষিকাজ, ব্যবসা বা অন্য উপায়ে তাদের সংসার যথেষ্ট গ্রচলভাবেই চলছে| তাদের কারণে পেশাগত মৎস্যজীবিরা মাছ ধরতে পারছে না| দেশের অধিকাংশ বিল বাওড়ই প্রভাবশালী লোকেদের দখলে চলে গেছে| বিল-বাঁওড় দখলের প্রতিবাদে আমরা প্রায়ই মৎস্যজীবিদেরকে রাজপথে দাঁড়াতে দেখি| শুধু বিল-বাঁওড়ই নয়, নদ নদীগুলোতেও চলছে এই দখলদারিত্বের রাজত্ব| আসলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের এই ভুল ব্যাখ্যা এবং এই এটাকে আশ্রয় করে সুযোগ নিয়ে মৎস্যজীবিদেরকে জলাশয় থেকে উৎখাত করার পায়তারা থেকে সরে আসতে হবে| এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে| 

আসলে এ ব্যবস্থার একটি সুষ্ঠ সমাধান দরকার| আর সমাধানের জন্য আমাদের ভাবনাটাকে আরও গভীরে নিয়ে যেতে হবে| সেই আলোকে আমার একটি ঘটনা মনে পড়ে| তা হলো, এখন থেকে বছর দশের আগে ইউটিউব, ফেইসবুকে দেখতাম চীনারা তাদের দেশের জঙ্গলে এই চায়না দুয়াড়ী পেতে সাপ ধরতো| মূলত চীন থেকে আগত বলেই এর নাম হয় চায়না দুয়াড়ী| জেলেরা যা সেদিন চোখেও দেখেনি, সেই চায়না দুয়াড়ী চীনের সুপ্রশস্ত প্রাচীর ডিঙিয়ে, ভারতের ত্রিপুরা ও মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য পেরিয়ে ঠিকই বাংলাদেশে চলে এসেছে| এটা কিভাবে সম্ভব হলো! কোনো জেলে তো সেদিন ডোঙা কিংবা নৌকা বেয়ে এই দুয়াড়ী জাল চীন থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেনি! তাহলে কে বা কারা আনলো এই জাল! এটা খুঁজেবের করাটা আজ খুব জরুরি নয় কি?

যদি বলি বা মেনে নিই এটা অবশ্যই কোনো অসাধু ব্যবসায়ীর কাজ| তাহলে এটা আমদানি করার কাজে অবশ্যই প্রশাসনিক অনুমতি কেউ না কেউ তো অবশ্যই দিয়েছিল| তাছাড়া তো আমদানি করা সম্ভব হয়নি| সেই অসাধু প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে তাকেও খুঁজে করাটাও জরুরি কি না এটাও এখন ভেবে দেখা দরকার| যদি আমরা আমাদের সামগ্রীক ভালো চাই তাহলে অবশ্যই এদিকে গুরুত্বের সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে| হ্যাঁ, বর্তমানে এই দুয়াড়ীসহ সমস্ত প্রকার কারেন্ট জালই আমাদের দেশে উৎপাদন হচ্ছে| এই উৎপাদন বন্ধ করতে হবে| যেখান থেকে এই অবৈধ সরঞ্জাম তৈরি করা হচ্ছে সেখানেই পদক্ষেপ নেয়াটা সবচেয়ে উত্তম| এই দুয়াড়ীসহ সমস্ত প্রকার কারেন্ট জাল উৎপাদন বন্ধ হলে আমাদের দেশের এই হস্তশিল্পটাকে আবার পুনরুজ্জীবিত করে সেটাকে বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে| সেই সঙ্গে জলজ জীব বৈচিত্র্য ধ্বংসকারী এই কারেন্ট জাল না থাকলে আমাদের দেশের ‘মাছে ভাতে বাঙালি’ প্রবাদকেও বাঁচিয়ে রাখা অবশ্যই সম্ভব| 

[লেখক: সংবাদকর্মী]



সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত