সংবাদ

“বাংলা যখন হারাম”


জাঁ-নেসার ওসমান
জাঁ-নেসার ওসমান
প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৪৫ পিএম

“বাংলা যখন হারাম”
“আপনে ইংরেজি বছরের পেরথমে থার্টি ফার্স্ট ডিসেম্বরে পার্টি করা পারেন, আর বাঙালিগো বছরের পয়লা দিন পহেলা বৈশাখ পালন করতে আপনের দোষ কিতা!”

“এইডা কী কন বাংলা যখন হারাম! আপনে তো মিয়া আস্ত নাজায়েজ কথা কন! বাংলা যখন হারাম! 

মিয়া বাংলাদেশ না হইলে এই পানিওয়ালীর পোলারানি, এয়ারলাইনসের মালিক হোইতো? ওর্য়াল্ডবেস্ট অল রাউন্ডার হোইতেন! লজ্জা করে না মিয়া ফালতু কথা কোইতে!”

“আরে মনু তুমি চ্যেতকা| আমি কী বলতে চাইছি আর তুই কী বুঝছিস!”

“ক্যান আমার বুঝতে অসুবিধা কি? আপনে তো বাংলা ভাষায় কথা কোইতাছেন| হীব্রু ভাষায়তো মাতেন ন’| তো, এইডা বুঝতে আমার কি অসুবিধা| বাংলা যখন হারাম| বাংলাদেশ স্বাধীনতা না পাইলে আপনে মিয়া হোটেলের বেয়ারা থাকতেন| রম্য লেখক! ভুইল্লা যান মিয়া| বাংলাদেশ স্বাধীন না হোইলে আপনের বাপের নামও ভুইল্লা যাইতেন!”

“বুঝলাম বাংলাদেশর স্বাধীনতার আগে বাঙালিদের ওপর অনেক অন্যায় হয়েছে| সেনাবাহিনিতে বাঙালিদের নিতো না... ” 

“তো বুঝেন না মিয়া| মেজর জেনারেল! বাংলাদেশ স্বাধীন না হোইলে সাধারণ সিপাইভি হোইবার পারতেন না| 

আবার কতা কন মিয়া, বাংলা যখন হারাম! মেডিকেল কলেজের ডিরেক্টার! ডিরেক্টার জেনারেল ফোর্সেস ইন্টালিজেন্সের চিফ, উঁহ মরে যাই সখী তোর আতরের গন্ধে! মিয়া, লাখ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগে দেশ স্বাধীন, আর অহন কন বাংলা যখন হারাম! এই লাখ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগের কী কোনোই দাম নাই! আসলে আপনে মিয়া আস্ত নাজায়েজ পোলা| আপনের মিয়া জন্মেরই ঠিক নাই!”

“দ্যেখ এভাবে আমার পূর্ব পুরুষকে টানছিস ক্যেনো! বুঝলাম বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়াতে সারাবিশ্বে বাঙালি জাতি একটা ভুখণ্ড পেয়েছে| বাঙালি এবং বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বে একটা পরিচিত নাম| তোরা দাদাদের ভাষায় তথাকথিত মুচুরম্যানরা পৃথিবীর বুকে লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে বাঙালি জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছিস| যেটা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো ন্যাশানালিষ্টরা পারেননি, আর বর্তমান কোটি কোটি দাদারা নিজেদের প্রথমে ভারতীয় তারপর বাঙালি বলে একটা আত্মতৃপ্তি পায়| কিন্তু বাঙালি হিসেবে আমাদের মতো আলাদা কোনো মর্যাদা নেই| এই দাদারাই এক সময় লিখতেন, স্বাধীনতা হীনতা কে বাঁচিতে চায় রে, কে বাঁচিতে চায়| সব কাগুজে বাঘ| আর তোর দিদিতো তোদের ধর্মের লোকেদের কাছে ভোটের জন্য পা চাঁটে, কিন্তু সৃষ্টির সৃষ্ট পানির হিসসা দেয়না| দু’মুখো শর্প এই তোর কাউলা দিদি|”

“থাক ভাই হ্যাগো মানে দাদাগো কথা ছাড়েন, হ্যেরাতো বাউন্ড্রী লাইনে পা-লাগায়া ক্যাচ ধইরা ছক্কা না দিয়া আউট দিয়াদ্যেয়| ওই খাচ্চরগো কথা থুয়া মিয়া আপনের কথা কন, আপনে মিয়া বাঙালি হয়া, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হয়া আপনে ক্যেমনে কন বাংলা যখন হারাম! আপনের লজ্জা করে না নিজেরে নিজে ছোট করতে?”

“আমি বলছিলাম কি, এবার পয়লা বৈশাখকে অনেকে নাজায়েজ কাজ বলেছে”

“ধ্যারর মিয়া আপনে হালায় আস্ত প্যাচাইল্লা মানুষ, আপনে ইংরেজি বছরের পেরথমে থার্টি ফার্স্ট ডিসেম্বরে পার্টি করা পারেন, আর বাঙালিগো বছরের পয়লা দিন পহেলা বৈশাখ পালন করতে আপনের দোষ কিতা!”

“না অনেকে মানে আমাদের টাওয়ারের ম্যানেজার বলছিল, এসব পহেলা বৈশাখ শেরেকি কায়কারবার! তাই আমরা যদি...”

“আরে মিয়া, মরার জ্বালা আপনের টাওয়ারে ম্যানেজার বাঙালি না?”

“নিশ্চয় বাঙালি| আলবৎ বাঙালি | ও তো আর পাকিস্তান থেকে বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসেনি|”

“তায়লে! বাঙালি হোইলে ওর বাংলা মাসকে উই মানবো না? প্রতিটা খবরের কাগজে, প্রতিদিন ইংরেজি, বাংলা, হিজরী সনের দিন তারিখ লেখা থাকে| তো আপনের টাওয়ারের ম্যানেজার মানলো নাতো বাংলা মাস বাংলা তারিখ বন্ধ হয়া যাইবো?”

“না তা না| সর্বপ্রথম আমরা বাঙালি, তারপর কেউ মুসলমান, কেই হিন্দু, কেউ বুদ্ধ, কেউ জৈন, কেউ ব্রাহ্মধর্মে দিক্ষীত, সে যাই হোক প্রথমে আমরা সবাই বাঙালি, তারপর যার যার ধর্ম, যে ব্যক্তি যেই ধর্মে বিশ্বাস করে তা পালন করবে, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু প্রথমে আমরা সবাই বাঙালি|”

“জ্বী-অয়, প্রথমে আমরা সবাই বাঙালি, হেরপর লক্ষপ্রাণের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক| ধর্ম যার যার সংস্কৃতি মানে পয়লা বৈশাখ সব্বার| এখানে হিন্দু, বুদ্ধ, ˆজন, ব্রাহ্মধর্মে বইলা কিছু নাই| বুজচোইন|”

“আমিতো বুঝলাম, কিন্তু অনেক বাঙালি, বাঙালি হয়েও বুঝতে চায় না|”

“আচ্ছা মুরুক্ষু হ্যেরা না বুঝুক, কিন্তু আপনে ক্যেমনে কোইলেন, বাংলা যখন হারাম?”

“তুইতো আমার কথা শুনতেই চাসনা, খালি ভুল বুঝিস!”

“কি ভুল বুঝলাম, বাংলা যখন হারাম, এতে আমি কি ভুল বুঝলাম কন?”

“আরে আমি বলছিলাম তোরা যেমন নিউ ইয়ারস’ডে তে, অনেকে ওই পাগলা পানি টানি পানা করে, ঠিক তেমনি পহেলা বৈশাখেও অনেক বাঙালি বাংলা টাংলা পান করে| সেটা বন্ধকরা যায় কিনা| মানে বাংলা চোলাই কারণবারিটা বাদ দেয়া যায় কিনা?”

“হেঁ হেঁ, মিয়া আপনে আমারে হাসাইলেন! নিউ ইয়ার্স’ডে কন আর পহেলা বৈশাখ কন, পাগলা পানি সব সময় পরিত্যাজ্য|”

“হেঁ হেঁ আমিও তো তাই বলছিলাম, পহেলা বৈশাখে বাংলা হবে হারাম...” 

“শুধু পহেলা বৈশাখ না, হারা বছরই বাংলা কারণ বারি, হোইবো হারাম| হেঁ হেঁ হেঁ...”

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


“বাংলা যখন হারাম”

প্রকাশের তারিখ : ১৬ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

“এইডা কী কন বাংলা যখন হারাম! আপনে তো মিয়া আস্ত নাজায়েজ কথা কন! বাংলা যখন হারাম! 

মিয়া বাংলাদেশ না হইলে এই পানিওয়ালীর পোলারানি, এয়ারলাইনসের মালিক হোইতো? ওর্য়াল্ডবেস্ট অল রাউন্ডার হোইতেন! লজ্জা করে না মিয়া ফালতু কথা কোইতে!”

“আরে মনু তুমি চ্যেতকা| আমি কী বলতে চাইছি আর তুই কী বুঝছিস!”

“ক্যান আমার বুঝতে অসুবিধা কি? আপনে তো বাংলা ভাষায় কথা কোইতাছেন| হীব্রু ভাষায়তো মাতেন ন’| তো, এইডা বুঝতে আমার কি অসুবিধা| বাংলা যখন হারাম| বাংলাদেশ স্বাধীনতা না পাইলে আপনে মিয়া হোটেলের বেয়ারা থাকতেন| রম্য লেখক! ভুইল্লা যান মিয়া| বাংলাদেশ স্বাধীন না হোইলে আপনের বাপের নামও ভুইল্লা যাইতেন!”

“বুঝলাম বাংলাদেশর স্বাধীনতার আগে বাঙালিদের ওপর অনেক অন্যায় হয়েছে| সেনাবাহিনিতে বাঙালিদের নিতো না... ” 

“তো বুঝেন না মিয়া| মেজর জেনারেল! বাংলাদেশ স্বাধীন না হোইলে সাধারণ সিপাইভি হোইবার পারতেন না| 

আবার কতা কন মিয়া, বাংলা যখন হারাম! মেডিকেল কলেজের ডিরেক্টার! ডিরেক্টার জেনারেল ফোর্সেস ইন্টালিজেন্সের চিফ, উঁহ মরে যাই সখী তোর আতরের গন্ধে! মিয়া, লাখ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগে দেশ স্বাধীন, আর অহন কন বাংলা যখন হারাম! এই লাখ লাখ বাঙালির আত্মত্যাগের কী কোনোই দাম নাই! আসলে আপনে মিয়া আস্ত নাজায়েজ পোলা| আপনের মিয়া জন্মেরই ঠিক নাই!”

“দ্যেখ এভাবে আমার পূর্ব পুরুষকে টানছিস ক্যেনো! বুঝলাম বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়াতে সারাবিশ্বে বাঙালি জাতি একটা ভুখণ্ড পেয়েছে| বাঙালি এবং বাংলাদেশ এখন সারাবিশ্বে একটা পরিচিত নাম| তোরা দাদাদের ভাষায় তথাকথিত মুচুরম্যানরা পৃথিবীর বুকে লাখ লাখ প্রাণের বিনিময়ে বাঙালি জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে শিখিয়েছিস| যেটা নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো ন্যাশানালিষ্টরা পারেননি, আর বর্তমান কোটি কোটি দাদারা নিজেদের প্রথমে ভারতীয় তারপর বাঙালি বলে একটা আত্মতৃপ্তি পায়| কিন্তু বাঙালি হিসেবে আমাদের মতো আলাদা কোনো মর্যাদা নেই| এই দাদারাই এক সময় লিখতেন, স্বাধীনতা হীনতা কে বাঁচিতে চায় রে, কে বাঁচিতে চায়| সব কাগুজে বাঘ| আর তোর দিদিতো তোদের ধর্মের লোকেদের কাছে ভোটের জন্য পা চাঁটে, কিন্তু সৃষ্টির সৃষ্ট পানির হিসসা দেয়না| দু’মুখো শর্প এই তোর কাউলা দিদি|”

“থাক ভাই হ্যাগো মানে দাদাগো কথা ছাড়েন, হ্যেরাতো বাউন্ড্রী লাইনে পা-লাগায়া ক্যাচ ধইরা ছক্কা না দিয়া আউট দিয়াদ্যেয়| ওই খাচ্চরগো কথা থুয়া মিয়া আপনের কথা কন, আপনে মিয়া বাঙালি হয়া, বাংলাদেশের স্বাধীন নাগরিক হয়া আপনে ক্যেমনে কন বাংলা যখন হারাম! আপনের লজ্জা করে না নিজেরে নিজে ছোট করতে?”

“আমি বলছিলাম কি, এবার পয়লা বৈশাখকে অনেকে নাজায়েজ কাজ বলেছে”

“ধ্যারর মিয়া আপনে হালায় আস্ত প্যাচাইল্লা মানুষ, আপনে ইংরেজি বছরের পেরথমে থার্টি ফার্স্ট ডিসেম্বরে পার্টি করা পারেন, আর বাঙালিগো বছরের পয়লা দিন পহেলা বৈশাখ পালন করতে আপনের দোষ কিতা!”

“না অনেকে মানে আমাদের টাওয়ারের ম্যানেজার বলছিল, এসব পহেলা বৈশাখ শেরেকি কায়কারবার! তাই আমরা যদি...”

“আরে মিয়া, মরার জ্বালা আপনের টাওয়ারে ম্যানেজার বাঙালি না?”

“নিশ্চয় বাঙালি| আলবৎ বাঙালি | ও তো আর পাকিস্তান থেকে বা মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসেনি|”

“তায়লে! বাঙালি হোইলে ওর বাংলা মাসকে উই মানবো না? প্রতিটা খবরের কাগজে, প্রতিদিন ইংরেজি, বাংলা, হিজরী সনের দিন তারিখ লেখা থাকে| তো আপনের টাওয়ারের ম্যানেজার মানলো নাতো বাংলা মাস বাংলা তারিখ বন্ধ হয়া যাইবো?”

“না তা না| সর্বপ্রথম আমরা বাঙালি, তারপর কেউ মুসলমান, কেই হিন্দু, কেউ বুদ্ধ, কেউ জৈন, কেউ ব্রাহ্মধর্মে দিক্ষীত, সে যাই হোক প্রথমে আমরা সবাই বাঙালি, তারপর যার যার ধর্ম, যে ব্যক্তি যেই ধর্মে বিশ্বাস করে তা পালন করবে, সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু প্রথমে আমরা সবাই বাঙালি|”

“জ্বী-অয়, প্রথমে আমরা সবাই বাঙালি, হেরপর লক্ষপ্রাণের বিনিময়ে পাওয়া স্বাধীন বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক| ধর্ম যার যার সংস্কৃতি মানে পয়লা বৈশাখ সব্বার| এখানে হিন্দু, বুদ্ধ, ˆজন, ব্রাহ্মধর্মে বইলা কিছু নাই| বুজচোইন|”

“আমিতো বুঝলাম, কিন্তু অনেক বাঙালি, বাঙালি হয়েও বুঝতে চায় না|”

“আচ্ছা মুরুক্ষু হ্যেরা না বুঝুক, কিন্তু আপনে ক্যেমনে কোইলেন, বাংলা যখন হারাম?”

“তুইতো আমার কথা শুনতেই চাসনা, খালি ভুল বুঝিস!”

“কি ভুল বুঝলাম, বাংলা যখন হারাম, এতে আমি কি ভুল বুঝলাম কন?”

“আরে আমি বলছিলাম তোরা যেমন নিউ ইয়ারস’ডে তে, অনেকে ওই পাগলা পানি টানি পানা করে, ঠিক তেমনি পহেলা বৈশাখেও অনেক বাঙালি বাংলা টাংলা পান করে| সেটা বন্ধকরা যায় কিনা| মানে বাংলা চোলাই কারণবারিটা বাদ দেয়া যায় কিনা?”

“হেঁ হেঁ, মিয়া আপনে আমারে হাসাইলেন! নিউ ইয়ার্স’ডে কন আর পহেলা বৈশাখ কন, পাগলা পানি সব সময় পরিত্যাজ্য|”

“হেঁ হেঁ আমিও তো তাই বলছিলাম, পহেলা বৈশাখে বাংলা হবে হারাম...” 

“শুধু পহেলা বৈশাখ না, হারা বছরই বাংলা কারণ বারি, হোইবো হারাম| হেঁ হেঁ হেঁ...”

[লেখক: চলচ্চিত্রকার]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত