আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ওই দিন রাজ্যের মোট ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য এই জেলাকে মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর; এই দুই পুলিশ জেলায় ভাগ করা হয়েছে। দুই অংশ মিলিয়ে সেখানে মোট ৩১৬ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী থাকবে।
উত্তর দিনাজপুর জেলাকেও ইসলামপুর ও রায়গঞ্জ; এই দুই পুলিশ জেলায় ভাগ করে সেখানে মোট ১৩২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইসলামপুরে ৬১ এবং রায়গঞ্জে ৭১ কোম্পানি বাহিনী থাকবে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নিরিখে পূর্ব মেদিনীপুরে ২৭৩ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া বাঁকুড়ায় ১৯৩, বীরভূমে ১৭৬, মালদায় ১৭২, পুরুলিয়ায় ১৫১ এবং কোচবিহারে ১৪৬ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
জলপাইগুড়িতে ৯২ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮৩, আলিপুরদুয়ারে ৭৭, ঝাড়গ্রামে ৭৪, দার্জিলিঙে ৬১ এবং কালিম্পঙে ২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, আগামী সোমবারের মধ্যে সমস্ত বাহিনী মোতায়েনের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।
পাশাপাশি প্রথম দফার ভোটে পর্যাপ্ত সংখ্যায় রাজ্য পুলিশ মোতায়েন নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি বরদাস্ত করা হবে না। ডিউটিতে থাকা প্রত্যেক পুলিশকর্মীর কাছে ঢাল ও সার্ভিস রিভলভার রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বাহিনী পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ির ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থে এই ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় হলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে বিজেপির মতে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই মোতায়েন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বামফ্রন্টের শরিক সিপিআই (এম) নেতৃত্ব প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার উপর জোর দিয়েছে এবং কংগ্রেসও জানিয়েছে, নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই নির্বাচন পরিচালনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটারদের একাংশের মতে, বাড়তি নিরাপত্তা থাকলে ভোটদান প্রক্রিয়া অনেকটাই নির্ভয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে কিছু এলাকায় অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখনও সংশয় রয়ে গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
আগামী ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ওই দিন রাজ্যের মোট ১৫২টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করতে নির্বাচন কমিশন রাজ্যে মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে মুর্শিদাবাদ জেলায়। প্রশাসনিক সুবিধার জন্য এই জেলাকে মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর; এই দুই পুলিশ জেলায় ভাগ করা হয়েছে। দুই অংশ মিলিয়ে সেখানে মোট ৩১৬ কোম্পানি আধা-সামরিক বাহিনী থাকবে।
উত্তর দিনাজপুর জেলাকেও ইসলামপুর ও রায়গঞ্জ; এই দুই পুলিশ জেলায় ভাগ করে সেখানে মোট ১৩২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইসলামপুরে ৬১ এবং রায়গঞ্জে ৭১ কোম্পানি বাহিনী থাকবে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নিরিখে পূর্ব মেদিনীপুরে ২৭৩ এবং পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৭১ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া বাঁকুড়ায় ১৯৩, বীরভূমে ১৭৬, মালদায় ১৭২, পুরুলিয়ায় ১৫১ এবং কোচবিহারে ১৪৬ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে।
জলপাইগুড়িতে ৯২ কোম্পানি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৮৩, আলিপুরদুয়ারে ৭৭, ঝাড়গ্রামে ৭৪, দার্জিলিঙে ৬১ এবং কালিম্পঙে ২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছে, আগামী সোমবারের মধ্যে সমস্ত বাহিনী মোতায়েনের কাজ সম্পূর্ণ করতে হবে।
পাশাপাশি প্রথম দফার ভোটে পর্যাপ্ত সংখ্যায় রাজ্য পুলিশ মোতায়েন নিশ্চিত করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
কমিশন জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি বরদাস্ত করা হবে না। ডিউটিতে থাকা প্রত্যেক পুলিশকর্মীর কাছে ঢাল ও সার্ভিস রিভলভার রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং বাহিনী পরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত গাড়ির ব্যবস্থাও রাখতে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, শান্তিপূর্ণ ভোটের স্বার্থে এই ব্যবস্থা প্রয়োজনীয় হলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
অন্যদিকে বিজেপির মতে, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই মোতায়েন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
বামফ্রন্টের শরিক সিপিআই (এম) নেতৃত্ব প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার উপর জোর দিয়েছে এবং কংগ্রেসও জানিয়েছে, নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই নির্বাচন পরিচালনা করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভোটারদের একাংশের মতে, বাড়তি নিরাপত্তা থাকলে ভোটদান প্রক্রিয়া অনেকটাই নির্ভয়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। তবে কিছু এলাকায় অতীত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এখনও সংশয় রয়ে গিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন