পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর ঘিঞ্জি রাস্তা, মানুষের অন্তহীন কোলাহল আর রিকশার অবিরাম টুংটাং শব্দের মাঝে হঠাৎ করেই চোখ আটকে যায় রক্তিম এক লাল দালানে।
ব্রিটিশ স্থাপত্যের ছোঁয়ায় নির্মিত, দোতলার সমান উঁচু একতলা এই ভবনটি কেবল কোনো ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এটি হলো সুমনা হাসপাতালের কাছে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা ১৮৬৬ সালের ঐতিহাসিক ব্রাহ্মসমাজ মন্দির। দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই স্থাপনাটি তৎকালীন ঢাকার সমাজ সংস্কার, নারী শিক্ষা আর আধুনিক মনন গঠনের এক অনন্য বাতিঘর, যার প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে ইতিহাসের কিছু পরম মানবিক গল্প।
১৮৬৬ সালে সমাজ সংস্কারক দীননাথ সেনের নেতৃত্বে যখন এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এখান থেকেই প্রথম দেখা হয়েছিল আধুনিক ঢাকার শিক্ষার স্বপ্ন। আজকের যে ঐতিহ্যবাহী ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’, তার আঁতুড়ঘর ছিল এই মন্দিরের প্রাঙ্গণেই গড়ে ওঠা ‘ব্রাহ্ম স্কুল’।
শুধু তাই নয়, ঢাকার প্রথম সাধারণ পাঠাগার ‘রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি’ ছিল এই প্রাঙ্গণেরই এক কোণে। এই মন্দিরের প্রতিটি দেয়াল ছুঁয়ে গেছে ইতিহাসের অবিস্মরণীয় সব নাম।
তবে এই লাল দালানের সবচেয়ে মধুর আর মানবিক গল্পটি লুকিয়ে আছে বাংলা সাহিত্যের নির্জনতম কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনের সাথে। ১৯৩০ সালের ৯ মে, এই মন্দিরের শান্ত-স্নিগ্ধ আবহেই কবি জীবনানন্দ দাশ ভালোবেসে রোহিনী কুমার দাশের কন্যা লাবণ্য দাশের হাত ধরেছিলেন, আবদ্ধ হয়েছিলেন বৈবাহিক পরিণয়সূত্রে।
ব্রাহ্মসমাজের সেক্রেটারি রণবীর পাল রবি সেই 'নস্টালজিক দিনগুলোর' স্মৃতি হাতড়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "এই সেই পবিত্র বেদি, যেখানে বসে কবি জীবনানন্দ দাশ তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এখানে এসে যখন নারীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেছিলেন, তখন এই পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছিলো। অথচ আজ সময়ের আবর্তে মানুষ এসব ভুলে যাচ্ছে।"

রোববার, ৩১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ৩০ মে ২০২৬
পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর ঘিঞ্জি রাস্তা, মানুষের অন্তহীন কোলাহল আর রিকশার অবিরাম টুংটাং শব্দের মাঝে হঠাৎ করেই চোখ আটকে যায় রক্তিম এক লাল দালানে।
ব্রিটিশ স্থাপত্যের ছোঁয়ায় নির্মিত, দোতলার সমান উঁচু একতলা এই ভবনটি কেবল কোনো ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এটি হলো সুমনা হাসপাতালের কাছে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা ১৮৬৬ সালের ঐতিহাসিক ব্রাহ্মসমাজ মন্দির। দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকে থাকা এই স্থাপনাটি তৎকালীন ঢাকার সমাজ সংস্কার, নারী শিক্ষা আর আধুনিক মনন গঠনের এক অনন্য বাতিঘর, যার প্রতিটি ধূলিকণায় মিশে আছে ইতিহাসের কিছু পরম মানবিক গল্প।
১৮৬৬ সালে সমাজ সংস্কারক দীননাথ সেনের নেতৃত্বে যখন এই কেন্দ্রটি প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন এখান থেকেই প্রথম দেখা হয়েছিল আধুনিক ঢাকার শিক্ষার স্বপ্ন। আজকের যে ঐতিহ্যবাহী ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়’, তার আঁতুড়ঘর ছিল এই মন্দিরের প্রাঙ্গণেই গড়ে ওঠা ‘ব্রাহ্ম স্কুল’।
শুধু তাই নয়, ঢাকার প্রথম সাধারণ পাঠাগার ‘রাজা রামমোহন রায় লাইব্রেরি’ ছিল এই প্রাঙ্গণেরই এক কোণে। এই মন্দিরের প্রতিটি দেয়াল ছুঁয়ে গেছে ইতিহাসের অবিস্মরণীয় সব নাম।
তবে এই লাল দালানের সবচেয়ে মধুর আর মানবিক গল্পটি লুকিয়ে আছে বাংলা সাহিত্যের নির্জনতম কবি জীবনানন্দ দাশের জীবনের সাথে। ১৯৩০ সালের ৯ মে, এই মন্দিরের শান্ত-স্নিগ্ধ আবহেই কবি জীবনানন্দ দাশ ভালোবেসে রোহিনী কুমার দাশের কন্যা লাবণ্য দাশের হাত ধরেছিলেন, আবদ্ধ হয়েছিলেন বৈবাহিক পরিণয়সূত্রে।
ব্রাহ্মসমাজের সেক্রেটারি রণবীর পাল রবি সেই 'নস্টালজিক দিনগুলোর' স্মৃতি হাতড়ে আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, "এই সেই পবিত্র বেদি, যেখানে বসে কবি জীবনানন্দ দাশ তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ এখানে এসে যখন নারীদের উদ্দেশ্যে কথা বলেছিলেন, তখন এই পুরো প্রাঙ্গণ মুখরিত হয়ে উঠেছিলো। অথচ আজ সময়ের আবর্তে মানুষ এসব ভুলে যাচ্ছে।"

আপনার মতামত লিখুন