সংবাদ

দ্বীপবাসীর জীবন ধ্বংস ও সার্বভৌমত্ব সংকটের মুখে ফেলার অভিযোগ

সেন্টমার্টিন থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:০০ পিএম

সেন্টমার্টিন থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি'

সংগঠনটি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকেমানবসভ্যতার শত্রুহিসেবে আখ্যায়িত করে দ্বীপটির ওপর থেকে দ্রুত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক এসব দাবি জানান।

তিনি বলেন, “বৈদেশিক ফান্ডিংয়ে চলা . ইউনূসের পরিবেশবাদীথ্রি জিরো থিউরি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানদের কট্টরপন্থি পরিবেশবাদী ধারণা মানবসভ্যতার জন্য বড় হুমকি। পরিবেশ মানবসমাজকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে যারা মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে পরিবেশ রক্ষার কথা বলে, তাদের পেছনে বিদেশি এজেন্ডা রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে জিয়াউল হক সেন্টমার্টিনের বর্তমান অবস্থাকে কিউবার ওপর আমেরিকার অবরোধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্বীপবাসীর মৌলিক অধিকার সীমিত করা হয়েছে। এতে খাদ্য, চিকিৎসা শিক্ষার চরম সংকট তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে এবং শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশীয় ব্যবসা মানব বসতি ধ্বংস করে বিদেশি ব্যবসা প্রসারণ এবং বিদেশি অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিলো তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সেন্টমার্টিনে নিষেধাজ্ঞার ফলে পর্যটকরা ভারত, থাইল্যান্ড নেপালের মতো দেশে চলে যাচ্ছে, যা দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

জিয়াউল হক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “দ্বীপের বাসিন্দারা জীবিকার তাগিদে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে, ফলে দ্বীপটি জনশূন্য হয়ে পড়ছে। এতে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের মগ, আরাকান ভারতীয় জেলেদের আনাগোনা বাড়ছে। ২০১৯ সালেও মিয়ানমার দ্বীপটিকে তাদের মানচিত্রে দেখিয়েছিলো। তাই নিষেধাজ্ঞা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা মেডিকেল শিক্ষার্থী সুমাইয়া সুমী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “পর্যটকদের যেতে না দেওয়ায় স্থানীয়রা উপার্জনহীন হয়ে পড়েছেন। সেখানকার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পুরোপুরি পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। এখন তাদের না খেয়ে মরার অবস্থা তৈরি হয়েছে।

দ্বীপবাসীর মানবাধিকার রক্ষা সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে পর্যটন উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬


সেন্টমার্টিন থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধকে কেন্দ্র করে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কঠোর সমালোচনা করেছে ছাত্র সংগঠন 'স্টুডেন্টস ফর সভরেন্টি'

সংগঠনটি সাবেক প্রধান উপদেষ্টা . মুহাম্মদ ইউনূস পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানকেমানবসভ্যতার শত্রুহিসেবে আখ্যায়িত করে দ্বীপটির ওপর থেকে দ্রুত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের আহ্বায়ক মুহম্মদ জিয়াউল হক এসব দাবি জানান।

তিনি বলেন, “বৈদেশিক ফান্ডিংয়ে চলা . ইউনূসের পরিবেশবাদীথ্রি জিরো থিউরি সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানদের কট্টরপন্থি পরিবেশবাদী ধারণা মানবসভ্যতার জন্য বড় হুমকি। পরিবেশ মানবসমাজকে মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে যারা মানুষকে বাস্তুচ্যুত করে পরিবেশ রক্ষার কথা বলে, তাদের পেছনে বিদেশি এজেন্ডা রয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে জিয়াউল হক সেন্টমার্টিনের বর্তমান অবস্থাকে কিউবার ওপর আমেরিকার অবরোধের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দ্বীপবাসীর মৌলিক অধিকার সীমিত করা হয়েছে। এতে খাদ্য, চিকিৎসা শিক্ষার চরম সংকট তৈরি হয়েছে। বহু মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে এবং শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, দেশীয় ব্যবসা মানব বসতি ধ্বংস করে বিদেশি ব্যবসা প্রসারণ এবং বিদেশি অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিলো তাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, সেন্টমার্টিনে নিষেধাজ্ঞার ফলে পর্যটকরা ভারত, থাইল্যান্ড নেপালের মতো দেশে চলে যাচ্ছে, যা দেশের রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

জিয়াউল হক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “দ্বীপের বাসিন্দারা জীবিকার তাগিদে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হচ্ছে, ফলে দ্বীপটি জনশূন্য হয়ে পড়ছে। এতে পার্শ্ববর্তী মিয়ানমারের মগ, আরাকান ভারতীয় জেলেদের আনাগোনা বাড়ছে। ২০১৯ সালেও মিয়ানমার দ্বীপটিকে তাদের মানচিত্রে দেখিয়েছিলো। তাই নিষেধাজ্ঞা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য চরম হুমকি।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সেন্টমার্টিনের স্থানীয় বাসিন্দা মেডিকেল শিক্ষার্থী সুমাইয়া সুমী আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “পর্যটকদের যেতে না দেওয়ায় স্থানীয়রা উপার্জনহীন হয়ে পড়েছেন। সেখানকার মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পুরোপুরি পর্যটন ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। এখন তাদের না খেয়ে মরার অবস্থা তৈরি হয়েছে।

দ্বীপবাসীর মানবাধিকার রক্ষা সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে পর্যটন উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত