একদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবুজ ও নীলের মেলবন্ধন, অন্যদিকে উত্তর আটলান্টিকের বরফ ও আগুনের খেলা। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক পর্যটন জরিপে আলোচনার শীর্ষে দুটি নাম- ভিয়েতনাম ও আইসল্যান্ড। একটি পকেটবান্ধব গন্তব্য, অন্যটি বিলাসবহুল রোমাঞ্চের ঠিকানা। কেন এই দুই দেশে এখন বিশ্বপর্যটকদের রেকর্ডসংখ্যক আগমন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
বাংলাদেশের পাসপোর্টে ভিসার ঝামেলা কম এবং খরচ সাশ্রয়ী- এমন আন্তর্জাতিক গন্তব্য খুঁজলে ভিয়েতনাম সবার প্রথম সারিতে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি এখন পর্যটকদের কাছে ‘নিউ থাইল্যান্ড’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে। কেন?
পকেটবান্ধব বাজেট: ইউরোপ বা আমেরিকা ভ্রমণের এক দিনের খরচে ভিয়েতনামে চলে যায় কয়েক দিন। থাকা, খাওয়া, ভ্রমণ- সব মিলিয়ে বাংলাদেশি ও ভারতীয় পর্যটকদের জন্য এটি অন্যতম সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক গন্তব্য।সমুদ্রের বুক চিরে জেগে ওঠা হাজারো চুনাপাথরের পাহাড়, নীল জলরাশি আর গ্রিনল্যান্ডের মতো সবুজ দ্বীপ- হালং বে ইউনেসকোর বিশ্বঐতিহ্য। আর রাতের বেলা লণ্ঠনের আলোয় ভেসে ওঠা হোই আন যেন স্বপ্নপুরী।
যারা চাকরি আর ভ্রমণ একসঙ্গে করতে চান, তাদের কাছে ভিয়েতনাম এখন প্রথম পছন্দ। কারণ, দারুণ ইন্টারনেট স্পিড, ক্যাফে সংস্কৃতি আর কম থাকার খরচ।
বাংলাদেশিসহ বেশির ভাগ দেশের পর্যটকদের জন্য ই-ভিসা সুবিধা বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা থাকায় ভিয়েতনাম পৌঁছানো খুব সহজ।অন্যদিকে আইসল্যান্ডের আবেদন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিলাসী ও রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের জন্য এটি ইউরোপের সবচেয়ে দাবিদার গন্তব্য। সেখানে ২০২৬ সালে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হয়েছে বিশেষ কারণে।
২০২৬ সাল সৌর কার্যকলাপের শীর্ষ বছর। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’। আর এই সময় আইসল্যান্ডের আকাশে মেরুজ্যোতি বা নর্দান লাইটস দেখা যায় সবচেয়ে উজ্জ্বল ও পরিষ্কার। যা দেখতে সারা বছর থেকেই বুক চেপে থাকে পর্যটকেরা।বিশাল হিমবাহ আর সক্রিয় আগ্নেয়গিরি- দুই বিপরীত শক্তির লীলা খেলা আইসল্যান্ডের প্রকৃতি। বরফের গুহায় ভ্রমণ আর প্রাকৃতিক গরম পানির ঝরনায় গোসল- এমন অভিজ্ঞতা সত্যিই বিরল।
আইসল্যান্ড তাদের পুরো পর্যটনশিল্প ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ পদ্ধতিতে পরিচালনা করে। টেকসই ভ্রমণে অভ্যস্ত পর্যটকদের জন্য এটি আকর্ষণের বড় কারণ।জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অফ থ্রোনস’-এর শুটিং লোকেশন আইসল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে। ফলে সিরিজটির ভক্তদের একটি বড় অংশ ছুটে আসছেন ওই স্পটে নিজ চোখে দেখতে।
আপনার বাজেট কম এবং ভ্রমণে হবে সংস্কৃতি আর প্রকৃতির সন্ধান? তাহলে ভিয়েতনাম হতে পারে সেরা পছন্দ। আবার আপনি যদি একটু ব্যয় করতে রাজি থাকেন আর পৃথিবীর আদিম সৌন্দর্য দেখতে চান, তবে আইসল্যান্ড দিতে পারে আজীবনের সেরা অভিজ্ঞতা।
ট্যুর অপারেটররা জানাচ্ছেন, ২০২৬-এর শুরু থেকেই এই দুই দেশে টিকেট ও হোটেল বুকিং রেকর্ড হারে বেড়েছে। তাই ভ্রমণে আগ্রহী হলে দেরি না করাই ভালো। আর ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে জানাবেন, ‘সত্যিই কি স্বর্গের ঠিকানা ওগুলো?’
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ এপ্রিল ২০২৬
একদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবুজ ও নীলের মেলবন্ধন, অন্যদিকে উত্তর আটলান্টিকের বরফ ও আগুনের খেলা। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক পর্যটন জরিপে আলোচনার শীর্ষে দুটি নাম- ভিয়েতনাম ও আইসল্যান্ড। একটি পকেটবান্ধব গন্তব্য, অন্যটি বিলাসবহুল রোমাঞ্চের ঠিকানা। কেন এই দুই দেশে এখন বিশ্বপর্যটকদের রেকর্ডসংখ্যক আগমন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
বাংলাদেশের পাসপোর্টে ভিসার ঝামেলা কম এবং খরচ সাশ্রয়ী- এমন আন্তর্জাতিক গন্তব্য খুঁজলে ভিয়েতনাম সবার প্রথম সারিতে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটি এখন পর্যটকদের কাছে ‘নিউ থাইল্যান্ড’ নামে পরিচিতি পাচ্ছে। কেন?
পকেটবান্ধব বাজেট: ইউরোপ বা আমেরিকা ভ্রমণের এক দিনের খরচে ভিয়েতনামে চলে যায় কয়েক দিন। থাকা, খাওয়া, ভ্রমণ- সব মিলিয়ে বাংলাদেশি ও ভারতীয় পর্যটকদের জন্য এটি অন্যতম সাশ্রয়ী আন্তর্জাতিক গন্তব্য।সমুদ্রের বুক চিরে জেগে ওঠা হাজারো চুনাপাথরের পাহাড়, নীল জলরাশি আর গ্রিনল্যান্ডের মতো সবুজ দ্বীপ- হালং বে ইউনেসকোর বিশ্বঐতিহ্য। আর রাতের বেলা লণ্ঠনের আলোয় ভেসে ওঠা হোই আন যেন স্বপ্নপুরী।
যারা চাকরি আর ভ্রমণ একসঙ্গে করতে চান, তাদের কাছে ভিয়েতনাম এখন প্রথম পছন্দ। কারণ, দারুণ ইন্টারনেট স্পিড, ক্যাফে সংস্কৃতি আর কম থাকার খরচ।
বাংলাদেশিসহ বেশির ভাগ দেশের পর্যটকদের জন্য ই-ভিসা সুবিধা বা অন-অ্যারাইভাল ভিসার ব্যবস্থা থাকায় ভিয়েতনাম পৌঁছানো খুব সহজ।অন্যদিকে আইসল্যান্ডের আবেদন সম্পূর্ণ ভিন্ন। বিলাসী ও রোমাঞ্চপ্রিয় পর্যটকদের জন্য এটি ইউরোপের সবচেয়ে দাবিদার গন্তব্য। সেখানে ২০২৬ সালে বাড়তি আকর্ষণ তৈরি হয়েছে বিশেষ কারণে।
২০২৬ সাল সৌর কার্যকলাপের শীর্ষ বছর। বিজ্ঞানীরা একে বলছেন ‘সোলার ম্যাক্সিমাম’। আর এই সময় আইসল্যান্ডের আকাশে মেরুজ্যোতি বা নর্দান লাইটস দেখা যায় সবচেয়ে উজ্জ্বল ও পরিষ্কার। যা দেখতে সারা বছর থেকেই বুক চেপে থাকে পর্যটকেরা।বিশাল হিমবাহ আর সক্রিয় আগ্নেয়গিরি- দুই বিপরীত শক্তির লীলা খেলা আইসল্যান্ডের প্রকৃতি। বরফের গুহায় ভ্রমণ আর প্রাকৃতিক গরম পানির ঝরনায় গোসল- এমন অভিজ্ঞতা সত্যিই বিরল।
আইসল্যান্ড তাদের পুরো পর্যটনশিল্প ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ পদ্ধতিতে পরিচালনা করে। টেকসই ভ্রমণে অভ্যস্ত পর্যটকদের জন্য এটি আকর্ষণের বড় কারণ।জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অফ থ্রোনস’-এর শুটিং লোকেশন আইসল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে। ফলে সিরিজটির ভক্তদের একটি বড় অংশ ছুটে আসছেন ওই স্পটে নিজ চোখে দেখতে।
আপনার বাজেট কম এবং ভ্রমণে হবে সংস্কৃতি আর প্রকৃতির সন্ধান? তাহলে ভিয়েতনাম হতে পারে সেরা পছন্দ। আবার আপনি যদি একটু ব্যয় করতে রাজি থাকেন আর পৃথিবীর আদিম সৌন্দর্য দেখতে চান, তবে আইসল্যান্ড দিতে পারে আজীবনের সেরা অভিজ্ঞতা।
ট্যুর অপারেটররা জানাচ্ছেন, ২০২৬-এর শুরু থেকেই এই দুই দেশে টিকেট ও হোটেল বুকিং রেকর্ড হারে বেড়েছে। তাই ভ্রমণে আগ্রহী হলে দেরি না করাই ভালো। আর ভ্রমণ শেষে ফিরে এসে জানাবেন, ‘সত্যিই কি স্বর্গের ঠিকানা ওগুলো?’
আপনার মতামত লিখুন