সংবাদ

ইতিহাসের অমর সাক্ষী

বৈদ্যনাথ বাবুর আম্রকানন থেকে মুজিবনগর


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

বৈদ্যনাথ বাবুর আম্রকানন থেকে মুজিবনগর
গার্ড অফ অনার নিচ্ছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম

মেহেরপুরের ভবেরপাড়া গ্রাম। এক সময় যে এলাকার জমিদার ছিলেন বৈদ্যনাথ বাবু। তার নামেই হয়েছিল বৈদ্যনাথতলা। চারপাশে তার আম্রকানন- ঘন সবুজের মাঝে দোলা দেওয়া আমগাছের সারি। কেউ বলে আম বাগান, কেউ বলে আম্রকানন। গ্রীষ্মের দুপুরে পাকা আমের গন্ধে ম ম করা এই জায়গাটি ছিল জমিদারের নিভৃত এক কোণ।

কেউ জানতোই না, একদিন এই আমবাগান বাংলার ইতিহাসের পাতায় সোনালি হরফে লেখা হয়ে থাকবে। যে বাগানের মাটিতে একসময় বৈদ্যনাথ বাবু হেঁটেছেন, বিশ্রাম নিয়েছেন, সেই মাটিতেই ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল দাঁড়িয়ে গেল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।

সেদিন সূর্য উঠেছিল ঠিকই। তবে আলোটা ছিল অন্য রকম দীপ্তিময়। আমের ডালে ডালে জেগেছিল মুক্তির প্রতীক্ষা। বৈদ্যনাথতলার ঘাসে ঘাসে ছড়িয়েছিল রক্তিম আভা। স্বাধীনতার জন্য উন্মাদ এক জাতি যেন ফিসফিস করে বলছিল- আজ অবিস্মরণীয় এক দিন।

তখন সকাল ৯টা। চারদিক থেকে মানুষ আসতে থাকে। কেউ হেঁটে, কেউ সাইকেলে, কেউ ভ্যানগাড়িতে। ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে আসেন জাতীয় নেতারা। সঙ্গে আসেন দেশি-বিদেশি সাংবাদিক। ব্রিটিশ সাংবাদিক মার্ক ট্যালি, পিটার হ্যাজেলহার্স্ট—যারা যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখতে এসেছিলেন, তারাও হাজির হলেন ইতিহাসের সাক্ষী হতে।

মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ

বাঁশের বাতা দিয়ে তৈরি করা হয় মঞ্চ। চারপাশে সবুজ আমগাছ। মাথার ওপর নীল আকাশ। আর মঞ্চে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের মন্ত্রীরা। বেলা ১১টা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন গৌরী নগরের ১৭ বছরের কিশোর বাকের আলী। তারপর ভবের পাড়া গ্রামের পিন্টু বিশ্বাস পাঠ করেন বাইবেল। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক বাংলার মানুষ এক সুরে বাঁধা পড়েন।

এরপর আওয়ামী লীগের তৎকালীন চিফ হুইফ অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী বাংলার মুক্ত মাটিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। প্রতিটি শব্দ আকাশে ভেসে গেল। আমগাছের পাতা কাঁপল। মানুষের চোখ ভিজে উঠল।তবে হৃদয়ে বাজল বজ্র।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম উত্তোলন করলেন সবুজের বুকে লাল সূর্যের পতাকা। মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর বিলম্বে ১২ ইপিআর আনসার সদস্য সামরিক কায়দায় গার্ড অব অনার জানালেন। রাষ্ট্রপতি সেই অভিবাদন নিলেন। সঙ্গে ছিল গ্রামের সহজ-সরল মানুষের উপচে পড়া ভালোবাসা।

এরপর অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মঞ্চে দাঁড়ালেন তাজউদ্দীন আহমদ। ৩০ মিনিটের ভাষণে তিনি বললেন- এই বৈদ্যনাথতলার নাম হবে ‘মুজিবনগর’। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী। বিশ্ববাসীর কাছে তিনি আবেদন জানালেন স্বীকৃতি আর সাহায্যের।

‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে প্রকৃতিও যেন কেঁপে উঠল। আমগাছেরা যেন সেদিন মুক্তির গানে মাতাল। মানুষ কাঁদল, হাসল, আলিঙ্গন করল। যে জাতি হাজার বছর বন্দি ছিল, সে জাতি আজ নিজের পতাকা নিজের হাতে তুলল।

শপথ নিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ। সেনাপ্রধান জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী নিলেন দায়িত্ব।

মাত্র ঘণ্টা দুয়েকের অনুষ্ঠান। কিন্তু তার প্রভাব গভীর। বৈদ্যনাথ বাবুর সেই আম্রকানন যেন চিরকালের জন্য পুণ্যভূমি হয়ে গেল।

হামলার আগের ভাস্কর্য

এর আগে ১০ এপ্রিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গোপন এক স্থানে সরকার গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপতি। কিন্তু সেই সরকারের তথ্য জানাতে হবে বিশ্বকে। তাই বেছে নেওয়া হয় এই আমবাগানটিকে- যেখানে বাংলার মাটির গন্ধ আছে, যেখানে সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়া আছে।

পরে বঙ্গবন্ধু নিজেই নির্দেশ দেন এই স্থান সংরক্ষণের। ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে স্থাপিত হয় ভিত্তিপ্রস্তর। আজ সেখানে মুজিবনগর কমপ্লেক্স। ২৩টি স্তম্ভ- পাকিস্তানি শাসনের ২৩ বছরের প্রতীক। লাল মঞ্চ- প্রথম সরকারের শপথের স্থান। ১১টি সিঁড়ি- ১১টি সেক্টরের যুদ্ধ। আর অসংখ্য ফুটো ও পাথর-ত্রিশ লাখ শহীদ আর তিন লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের প্রতীক।

তবে আজ সেই বৈদ্যনাথ বাবু নেই, নেই তার আমবাগানের আগের রূপ। কিন্তু আছে ‘মুজিবনগর’। আছে এক ইতিহাস। আছে বাংলার মানুষের অদম্য আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

প্রতি বছর ১৭ এপ্রিল বর্ষা আর গ্রীষ্মের সন্ধিক্ষণে, যখন আমগাছে মুকুল আসে— তখন যেন ফিরে আসে সেই দিনের মহড়া। আর মনে করিয়ে দেয়- একটি আমবাগান কীভাবে হতে পারে স্বাধীনতার দোলনা। একটি জমিদারের নামের জায়গা কীভাবে হয়ে ওঠে জাতির অভিমান।

বৈদ্যনাথতলা থেকে মুজিবনগর- শুধু নামের পরিবর্তন নয়, এটি এক জাতির বাঁচার অঙ্গীকারের উপাখ্যান। সেই উপাখ্যান যেন কোনো দিন ম্লান না হয়, সেই কামনা থাকলেও ইতিহাস চিরকাল এক দিকে ধেয়ে চলে না। তার আছে উত্থান, পতন, আর অন্ধকারের দীর্ঘ রাত। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতার পালাবদলের সেই উত্তাল ধাক্কায় প্রথমেই আঘাত আসে স্বাধীনতার প্রতীকী স্থাপনা ভাস্কর্যগুলোতে।মুজিবনগরের সেই স্মৃতি কমপ্লেক্স, যেখানে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বপ্নের শপথ নেওয়া হয়েছিল, সেদিন হয়ে ওঠে ক্রোধ আর প্রতিহিংসার লক্ষ্য।

ভাঙচুরের পরের দৃশ্য

ভেঙে চুরমার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি।এর সঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় প্রায় তিনশো ছোট-বড় ভাস্কর্য। যেগুলো প্রতিটি একেকটি অধ্যায়-একাত্তরের পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা, মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্দমনীয় সাহস, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত, তিন লাখ মা-বোনের অশ্রু।

পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া সেই শিল্পকর্মগুলো এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে। কোনো ভাস্কর্যে এখন শুধু হাত নেই, কারও নেই মাথা, কারও বুক ফুঁড়ে বেরিয়েছে ইটের টুকরো। যেখানে আগে দাঁড়িয়ে মানুষ নীরবে অশ্রু ফেলত, সেখানে এখন নিঃস্তব্ধতা আর বিষাদের ছায়া। বৈদ্যনাথ বাবুর সেই আমবাগান আজ বহন করছে একাধিক সত্য। 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬


বৈদ্যনাথ বাবুর আম্রকানন থেকে মুজিবনগর

প্রকাশের তারিখ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

মেহেরপুরের ভবেরপাড়া গ্রাম। এক সময় যে এলাকার জমিদার ছিলেন বৈদ্যনাথ বাবু। তার নামেই হয়েছিল বৈদ্যনাথতলা। চারপাশে তার আম্রকানন- ঘন সবুজের মাঝে দোলা দেওয়া আমগাছের সারি। কেউ বলে আম বাগান, কেউ বলে আম্রকানন। গ্রীষ্মের দুপুরে পাকা আমের গন্ধে ম ম করা এই জায়গাটি ছিল জমিদারের নিভৃত এক কোণ।

কেউ জানতোই না, একদিন এই আমবাগান বাংলার ইতিহাসের পাতায় সোনালি হরফে লেখা হয়ে থাকবে। যে বাগানের মাটিতে একসময় বৈদ্যনাথ বাবু হেঁটেছেন, বিশ্রাম নিয়েছেন, সেই মাটিতেই ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল দাঁড়িয়ে গেল স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকার।

সেদিন সূর্য উঠেছিল ঠিকই। তবে আলোটা ছিল অন্য রকম দীপ্তিময়। আমের ডালে ডালে জেগেছিল মুক্তির প্রতীক্ষা। বৈদ্যনাথতলার ঘাসে ঘাসে ছড়িয়েছিল রক্তিম আভা। স্বাধীনতার জন্য উন্মাদ এক জাতি যেন ফিসফিস করে বলছিল- আজ অবিস্মরণীয় এক দিন।

তখন সকাল ৯টা। চারদিক থেকে মানুষ আসতে থাকে। কেউ হেঁটে, কেউ সাইকেলে, কেউ ভ্যানগাড়িতে। ভারতের সীমান্ত পেরিয়ে আসেন জাতীয় নেতারা। সঙ্গে আসেন দেশি-বিদেশি সাংবাদিক। ব্রিটিশ সাংবাদিক মার্ক ট্যালি, পিটার হ্যাজেলহার্স্ট—যারা যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখতে এসেছিলেন, তারাও হাজির হলেন ইতিহাসের সাক্ষী হতে।

মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণ

বাঁশের বাতা দিয়ে তৈরি করা হয় মঞ্চ। চারপাশে সবুজ আমগাছ। মাথার ওপর নীল আকাশ। আর মঞ্চে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম সরকারের মন্ত্রীরা। বেলা ১১টা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন গৌরী নগরের ১৭ বছরের কিশোর বাকের আলী। তারপর ভবের পাড়া গ্রামের পিন্টু বিশ্বাস পাঠ করেন বাইবেল। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এক বাংলার মানুষ এক সুরে বাঁধা পড়েন।

এরপর আওয়ামী লীগের তৎকালীন চিফ হুইফ অধ্যাপক মো. ইউসুফ আলী বাংলার মুক্ত মাটিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। প্রতিটি শব্দ আকাশে ভেসে গেল। আমগাছের পাতা কাঁপল। মানুষের চোখ ভিজে উঠল।তবে হৃদয়ে বাজল বজ্র।

অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম উত্তোলন করলেন সবুজের বুকে লাল সূর্যের পতাকা। মেজর আবু ওসমান চৌধুরীর বিলম্বে ১২ ইপিআর আনসার সদস্য সামরিক কায়দায় গার্ড অব অনার জানালেন। রাষ্ট্রপতি সেই অভিবাদন নিলেন। সঙ্গে ছিল গ্রামের সহজ-সরল মানুষের উপচে পড়া ভালোবাসা।

এরপর অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মঞ্চে দাঁড়ালেন তাজউদ্দীন আহমদ। ৩০ মিনিটের ভাষণে তিনি বললেন- এই বৈদ্যনাথতলার নাম হবে ‘মুজিবনগর’। স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী রাজধানী। বিশ্ববাসীর কাছে তিনি আবেদন জানালেন স্বীকৃতি আর সাহায্যের।

‘জয় বাংলা’ ধ্বনিতে প্রকৃতিও যেন কেঁপে উঠল। আমগাছেরা যেন সেদিন মুক্তির গানে মাতাল। মানুষ কাঁদল, হাসল, আলিঙ্গন করল। যে জাতি হাজার বছর বন্দি ছিল, সে জাতি আজ নিজের পতাকা নিজের হাতে তুলল।

শপথ নিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী এম মনসুর আলী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম কামারুজ্জামান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ। সেনাপ্রধান জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী নিলেন দায়িত্ব।

মাত্র ঘণ্টা দুয়েকের অনুষ্ঠান। কিন্তু তার প্রভাব গভীর। বৈদ্যনাথ বাবুর সেই আম্রকানন যেন চিরকালের জন্য পুণ্যভূমি হয়ে গেল।

হামলার আগের ভাস্কর্য

এর আগে ১০ এপ্রিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গোপন এক স্থানে সরকার গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপ-রাষ্ট্রপতি। কিন্তু সেই সরকারের তথ্য জানাতে হবে বিশ্বকে। তাই বেছে নেওয়া হয় এই আমবাগানটিকে- যেখানে বাংলার মাটির গন্ধ আছে, যেখানে সাধারণ মানুষের আসা-যাওয়া আছে।

পরে বঙ্গবন্ধু নিজেই নির্দেশ দেন এই স্থান সংরক্ষণের। ১৯৭৪ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর দিবসে স্থাপিত হয় ভিত্তিপ্রস্তর। আজ সেখানে মুজিবনগর কমপ্লেক্স। ২৩টি স্তম্ভ- পাকিস্তানি শাসনের ২৩ বছরের প্রতীক। লাল মঞ্চ- প্রথম সরকারের শপথের স্থান। ১১টি সিঁড়ি- ১১টি সেক্টরের যুদ্ধ। আর অসংখ্য ফুটো ও পাথর-ত্রিশ লাখ শহীদ আর তিন লাখ মা-বোনের আত্মত্যাগের প্রতীক।

তবে আজ সেই বৈদ্যনাথ বাবু নেই, নেই তার আমবাগানের আগের রূপ। কিন্তু আছে ‘মুজিবনগর’। আছে এক ইতিহাস। আছে বাংলার মানুষের অদম্য আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

প্রতি বছর ১৭ এপ্রিল বর্ষা আর গ্রীষ্মের সন্ধিক্ষণে, যখন আমগাছে মুকুল আসে— তখন যেন ফিরে আসে সেই দিনের মহড়া। আর মনে করিয়ে দেয়- একটি আমবাগান কীভাবে হতে পারে স্বাধীনতার দোলনা। একটি জমিদারের নামের জায়গা কীভাবে হয়ে ওঠে জাতির অভিমান।

বৈদ্যনাথতলা থেকে মুজিবনগর- শুধু নামের পরিবর্তন নয়, এটি এক জাতির বাঁচার অঙ্গীকারের উপাখ্যান। সেই উপাখ্যান যেন কোনো দিন ম্লান না হয়, সেই কামনা থাকলেও ইতিহাস চিরকাল এক দিকে ধেয়ে চলে না। তার আছে উত্থান, পতন, আর অন্ধকারের দীর্ঘ রাত। 

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ক্ষমতার পালাবদলের সেই উত্তাল ধাক্কায় প্রথমেই আঘাত আসে স্বাধীনতার প্রতীকী স্থাপনা ভাস্কর্যগুলোতে।মুজিবনগরের সেই স্মৃতি কমপ্লেক্স, যেখানে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল স্বপ্নের শপথ নেওয়া হয়েছিল, সেদিন হয়ে ওঠে ক্রোধ আর প্রতিহিংসার লক্ষ্য।

ভাঙচুরের পরের দৃশ্য

ভেঙে চুরমার করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্যটি।এর সঙ্গে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় প্রায় তিনশো ছোট-বড় ভাস্কর্য। যেগুলো প্রতিটি একেকটি অধ্যায়-একাত্তরের পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতা, মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্দমনীয় সাহস, ত্রিশ লাখ শহীদের রক্ত, তিন লাখ মা-বোনের অশ্রু।

পর্যটকদের দৃষ্টি কেড়ে নেওয়া সেই শিল্পকর্মগুলো এখন ধ্বংসস্তূপের নিচে। কোনো ভাস্কর্যে এখন শুধু হাত নেই, কারও নেই মাথা, কারও বুক ফুঁড়ে বেরিয়েছে ইটের টুকরো। যেখানে আগে দাঁড়িয়ে মানুষ নীরবে অশ্রু ফেলত, সেখানে এখন নিঃস্তব্ধতা আর বিষাদের ছায়া। বৈদ্যনাথ বাবুর সেই আমবাগান আজ বহন করছে একাধিক সত্য। 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত