হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এনার্জি ড্রিংকসের নামে অবাধে বিক্রি হচ্ছে নেশাজাতীয় ও যৌন উত্তেজক পানীয়। এসব নকল ও ভেজাল পানীয় পান করে বিপথগামী হচ্ছে স্থানীয় যুবসমাজ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এসব পানীয়তে আসক্ত হয়ে পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে অভিভাবকদের মনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যুবক ও তরুণ-তরুণীদের কাছে এনার্জি ড্রিংকস এখন অত্যন্ত জনপ্রিয়। তবে এ জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে বাজারে বেশ কিছু অনুমোদনহীন পানীয় ছড়িয়ে দিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। ‘অ্যাকটিভ হর্স পাওয়ার’, ‘মাশরুম’, ‘হকিং’, ‘জিনসিন প্লাস’, ‘নাইট পাওয়ার’-এমন নানা নামে এসব পানীয় পাওয়া যাচ্ছে পাড়া-মহল্লার মুদিদোকানগুলোতে। অধিকাংশ বোতলের গায়ে বিএসটিআইয়ের কোনো লোগো নেই। কোনো কোনোটিতে আবার কৌশলে লেখা থাকে ‘বিএসটিআইয়ের আওতামুক্ত’।
দেখা যায়, অনেক বোতলের গায়ে ‘শুধুমাত্র প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য’ লেখা থাকে। এই লেখা দেখেই মূলত কৌতূহলী হয়ে উঠতি বয়সের কিশোর-কিশোরীরা এসব পানীয়র দিকে ঝুঁকছে। নিম্নমানের রাসায়নিক দিয়ে তৈরি এসব পানীয় পানের ফলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে তারা। অভিযোগ রয়েছে, এসব পানীয়র অর্থ জোগাতে অনেক শিক্ষার্থী ছোটখাটো নানা অপরাধেও জড়িয়ে পড়ছে।
শাহাদাত হোসেন নামের নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী বলে, ‘গরমে শরীর সতেজ রাখতে ড্রিংকস কিনে খাই। এটা যে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর তা জানি, কিন্তু খেতে মজা লাগে বলেই খাই।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মুদিদোকানি জানান, সাধারণ কোমল পানীয়র চেয়ে এসব পানীয় বিক্রি করলে লাভ বেশি হয়। যুবকদের মাঝে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় তারাও দোকানে এসব মালামাল রাখেন।
এ বিষয়ে চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো পানীয়ই বৈধ নয়। আমরা খোঁজ নিয়ে খুব দ্রুত এসব ভেজাল ও অনুমোদনহীন পানীয়র বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
আপনার মতামত লিখুন