সংবাদ

দিল্লির নজরে ঢাকা পোস্টিং


দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
দীপক মুখার্জী, কলকাতা থেকে
প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৬ পিএম

দিল্লির নজরে ঢাকা পোস্টিং

হাইকমিশনার পদে নতুন মুখ, জল্পনায় দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ ঘিরে জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা ২০২২ সাল থেকে ঢাকায় দায়িত্বে রয়েছেন। কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, তাঁকে শীঘ্রই বেলজিয়ামে পাঠানো হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন মুখ হিসেবে সামনে এসেছে এক চমকপ্রদ নাম দীনেশ ত্রিবেদী। যদিও এখনো পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে এই নিয়োগ নিয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি, তবুও দেশের একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমে এই সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে।আগেও দু’একজনের নাম ভেসে উঠেছিল, তবে এখন ফের আলোচনার কেন্দ্রে দীনেশ ত্রিবেদী।

সাধারণত এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে Indian Foreign Service-এর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদেরই নিয়োগ করা হয়। সেই জায়গায় একজন সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে পাঠানোর সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। জনতা দল থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস—এবং পরবর্তীতে বিজেপি বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্ব অতিক্রম করেছেন তিনি। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দিল্লির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০৯ সালে লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং পরে রেলমন্ত্রী হন।

তবে রেলভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয় এবং শেষপর্যন্ত ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সংসদের ডিজিটাল লাইব্রেরি সংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি এবং গুজরাতি চারটি ভাষাতেই সাবলীল, যা বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগে একটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে ত্রিবেদী নিজে জানিয়েছেন, “সরকার যদি আমাকে এই দায়িত্ব দেয়, তা হলে সেটা আমার জন্য সম্মানের। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে আমি আমার সাধ্যমতো কাজ করব।”

তবে সবশেষে বলা যায়, এখনও পর্যন্ত এই নিয়োগ পুরোপুরি জল্পনার স্তরেই রয়েছে। সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে এই সম্ভাব্য নিয়োগ যদি বাস্তবায়িত হয়, তা হলে এটি হবে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কারণ কূটনৈতিক পরিষেবার বাইরে থেকে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি মিশনে পাঠানো বিরল ঘটনা। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের রাজনৈতিক মাত্রা আরও স্পষ্ট হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬


দিল্লির নজরে ঢাকা পোস্টিং

প্রকাশের তারিখ : ২০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

হাইকমিশনার পদে নতুন মুখ, জল্পনায় দীনেশ ত্রিবেদী বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার নিয়োগ ঘিরে জল্পনা ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় বর্মা ২০২২ সাল থেকে ঢাকায় দায়িত্বে রয়েছেন। কূটনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, তাঁকে শীঘ্রই বেলজিয়ামে পাঠানো হতে পারে।

এই প্রেক্ষাপটে নতুন মুখ হিসেবে সামনে এসেছে এক চমকপ্রদ নাম দীনেশ ত্রিবেদী। যদিও এখনো পর্যন্ত ভারত সরকারের তরফে এই নিয়োগ নিয়ে কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি, তবুও দেশের একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমে এই সম্ভাবনার কথা প্রকাশ্যে এসেছে।আগেও দু’একজনের নাম ভেসে উঠেছিল, তবে এখন ফের আলোচনার কেন্দ্রে দীনেশ ত্রিবেদী।

সাধারণত এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে Indian Foreign Service-এর অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদেরই নিয়োগ করা হয়। সেই জায়গায় একজন সক্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে পাঠানোর সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি করেছে।

দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক জীবন দীর্ঘ ও বহুমাত্রিক। জনতা দল থেকে শুরু করে তৃণমূল কংগ্রেস—এবং পরবর্তীতে বিজেপি বিভিন্ন রাজনৈতিক পর্ব অতিক্রম করেছেন তিনি। একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে দিল্লির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ২০০৯ সালে লোকসভায় নির্বাচিত হয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এবং পরে রেলমন্ত্রী হন।

তবে রেলভাড়া বৃদ্ধির প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব তৈরি হয় এবং শেষপর্যন্ত ২০২১ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি সংসদের ডিজিটাল লাইব্রেরি সংক্রান্ত দায়িত্বে রয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, দীনেশ ত্রিবেদী বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি এবং গুজরাতি চারটি ভাষাতেই সাবলীল, যা বাংলাদেশের মতো প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগে একটি বাড়তি সুবিধা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে ত্রিবেদী নিজে জানিয়েছেন, “সরকার যদি আমাকে এই দায়িত্ব দেয়, তা হলে সেটা আমার জন্য সম্মানের। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক উন্নয়নে আমি আমার সাধ্যমতো কাজ করব।”

তবে সবশেষে বলা যায়, এখনও পর্যন্ত এই নিয়োগ পুরোপুরি জল্পনার স্তরেই রয়েছে। সরকারিভাবে কোনও ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

তবে এই সম্ভাব্য নিয়োগ যদি বাস্তবায়িত হয়, তা হলে এটি হবে একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ কারণ কূটনৈতিক পরিষেবার বাইরে থেকে একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সরাসরি গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি মিশনে পাঠানো বিরল ঘটনা। এর ফলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের রাজনৈতিক মাত্রা আরও স্পষ্ট হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত