সংবাদ

সংকটে তেল কমে, চরিত্রে তেলেসমাতি বাড়ে


ফকর উদ্দিন মানিক
ফকর উদ্দিন মানিক
প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:২১ পিএম

সংকটে তেল কমে, চরিত্রে তেলেসমাতি বাড়ে
যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি প্রবাহে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে, তেলের দাম ওঠানামা করে, বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ ছড়ায়

বিশ্ব রাজনীতির আকাশে যুদ্ধের মেঘ ঘন হলে তার ছায়া শুধু সীমান্ত বা বাজারে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ঢুকে পড়ে রাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে, সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিটি হিসাব-খাতায়। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি প্রবাহে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে, তেলের দাম ওঠানামা করে, বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ ছড়ায়। একই সঙ্গে এই সংকট নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দেয়—বিকল্প জ্বালানি, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা এবং নীতিগত পুনর্গঠনের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। অর্থনীতি তখন একদিকে সংকটে কাঁপে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের পথ খুঁজতে বাধ্য হয়।

কিন্তু এই বৈশ্বিক আলোড়নের ভেতরে আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় আরেকটি অদৃশ্য প্রবাহ নীরবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অর্থনৈতিক সংকট যত দৃশ্যমান হয়, ততই সমাজের ভেতরে এক ধরনের আচরণগত প্রাচুর্য বেড়ে যায়। এই প্রাচুর্যের নাম তেলেসমাতি— যা কোনো জ্বালানি নয়, বরং ক্ষমতা, সুবিধা ও টিকে থাকার এক সূক্ষ্ম সামাজিক কৌশল।

রাষ্ট্র যখন সাশ্রয়ের আহ্বান জানায়, নাগরিক জীবন তখন হিসাব কষে সংকুচিত হয়। বাজারে দাম বাড়ে, চাপ বাড়ে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু এর পাশাপাশি আরেকটি সমান্তরাল বাস্তবতা চলতে থাকে— যেখানে সংকটের কোনো দৃশ্যমান প্রভাব নেই। সেখানে তেলের ঘাটতি নেই, বরং তেলেসমাতির প্রবাহ আরও স্বচ্ছন্দ ও বিস্তৃত।

এই প্রবাহ কোনো শিল্পকারখানার উৎপাদন নয়, বরং মানুষের আচরণের উৎপাদন। এটি জন্ম নেয় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা, সুবিধা নিশ্চিত করার কৌশল এবং সত্যকে আড়াল করে গ্রহণযোগ্যতার মোড়কে উপস্থাপনের অভ্যাস থেকে। এটি নরম, অদৃশ্য, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কার্যকর—এমন এক সামাজিক জ্বালানি, যা বহু কাঠামোকে নিঃশব্দে চালিয়ে নিয়ে যায়।

রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে এই তেলেসমাতির উপস্থিতি সবচেয়ে স্পষ্ট। মহান সংসদ থেকে প্রশাসনিক করিডোর পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে যুক্তির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে অবস্থান, আর অবস্থানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সম্পর্কের সূক্ষ্ম সমীকরণ। কে কী বলছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কাকে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে। সত্য সেখানে উচ্চারিত হয় না; বরং তাকে সাজানো হয়, পরিমার্জিত করা হয়, এবং গ্রহণযোগ্যতার মোড়কে পরিবেশন করা হয়।

এই সংস্কৃতি কেবল রাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি এখন সমাজের প্রতিটি স্তরে বিস্তৃত। পরিবারে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অনেক সময় সত্যকে নরম করা হয়, অসম্পূর্ণ রাখা হয় বা পরিস্থিতির সুবিধামতো রূপ দেয়া হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধার চেয়ে আচরণগত সামঞ্জস্য অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তার স্বাধীনতার পাশাপাশি গড়ে ওঠে সুবিধা-নির্ভর এক নীরব সমঝোতা, যেখানে প্রশ্নের চেয়ে নীরবতা অনেক সময় নিরাপদ।

অনলাইন জগতে এই তেলেসমাতি আরও দ্রুত, আরও তীক্ষ্ণ এবং আরও নির্লজ্জভাবে কাজ করে। এখানে প্রশংসা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। জনপ্রিয়তা অনেক সময় সত্যের চেয়ে বড় মাপকাঠি হয়ে ওঠে। ফলে বাস্তবতা নয়, বরং উপস্থাপনাই নির্ধারণ করে কে গুরুত্বপূর্ণ, কে অপ্রাসঙ্গিক। এই ডিজিটাল তেলেসমাতি অফলাইনের চেয়েও অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং প্রভাবশালী।

এই বাস্তবতায় সমাজ ধীরে ধীরে এক উল্টো মূল্যবোধের দিকে অগ্রসর হয়। যেখানে সরলতা দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়, আর কৌশল দক্ষতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। যোগ্যতা অনেক সময় নীরব থাকে, কিন্তু তোষামোদ কথা বলে। সত্য আড়ালে যায়, আর সুবিধা সামনের সারিতে উঠে আসে। এভাবেই গড়ে ওঠে এক নীরব প্রতিযোগিতা— কে কত নিখুঁতভাবে তেল ব্যবহার করতে পারে।

তেলের সংকট আমাদের শেখায় সীমাবদ্ধতা, বাস্তবতার কঠোর হিসাব। কিন্তু তেলেসমাতি শেখায় সেই সীমাবদ্ধতাকে কীভাবে অস্বীকার করা যায়, কীভাবে বাস্তবতাকে ভাষার কৌশলে আড়াল করা যায়। এই দুই শিক্ষা একসঙ্গে সমাজকে এক অদ্ভুত দ্বৈত অবস্থানে দাঁড় করায়—একদিকে বাস্তব চাপ, অন্যদিকে কৃত্রিম স্বস্তি। আর ধীরে ধীরে এই কৃত্রিম স্বস্তিই স্বাভাবিক বাস্তবতার রূপ নেয়।

রাষ্ট্রীয় নীতি, সংসদীয় আলোচনা, পারিবারিক সম্পর্ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অনলাইন ও অফলাইন সামাজিক পরিসর—সবখানেই এই প্রবাহ একইভাবে কাজ করে। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নয়, কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী অদৃশ্য কাঠামো। এটি বন্ধ হয় না, কারণ এর জ্বালানি মানুষের ভয়, আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সুবিধার প্রবণতা। এই অদৃশ্য চেইনই সমাজকে ভেতর থেকে চালিয়ে নিয়ে যায়—নিঃশব্দে, নিয়মিতভাবে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কেবল অর্থনীতির নয়; এটি আমাদের চরিত্রের প্রশ্ন। আমরা কি শুধু জ্বালানির সংকটে ভুগছি, নাকি তার চেয়েও গভীর সংকটে—আমাদের আচরণগত জ্বালানির সংকটে?

তেলের সংকট হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেটে যাবে, নতুন প্রযুক্তি আসবে, বিকল্প জ্বালানি তৈরি হবে, বাজার স্থিতিশীল হবে। কিন্তু যদি তেলেসমাতির এই সংস্কৃতি স্থায়ীভাবে সমাজের ভেতরে শিকড় গেঁড়ে বসে, তাহলে সংকট কেবল রূপ বদলাবে, সমাধান নয়।

কারণ শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে শুধু তেল নয়, চালায় তার নৈতিক জ্বালানিও। আর সেই জ্বালানি যখন তোষামোদ, সুবিধা আর নীরব সম্মতির ওপর দাঁড়িয়ে যায়—তখন সংকট আর বাইরে থাকে না, তা ভেতরেই স্থায়ী হয়ে যায়।

[লেখক : সভাপতি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬


সংকটে তেল কমে, চরিত্রে তেলেসমাতি বাড়ে

প্রকাশের তারিখ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিশ্ব রাজনীতির আকাশে যুদ্ধের মেঘ ঘন হলে তার ছায়া শুধু সীমান্ত বা বাজারে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা ঢুকে পড়ে রাষ্ট্রের অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে, সাধারণ মানুষের জীবনের প্রতিটি হিসাব-খাতায়। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি প্রবাহে নতুন অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করে, তেলের দাম ওঠানামা করে, বৈশ্বিক বাজারে উদ্বেগ ছড়ায়। একই সঙ্গে এই সংকট নতুন সম্ভাবনার দরজাও খুলে দেয়—বিকল্প জ্বালানি, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা এবং নীতিগত পুনর্গঠনের বাস্তব প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। অর্থনীতি তখন একদিকে সংকটে কাঁপে, অন্যদিকে ভবিষ্যতের পথ খুঁজতে বাধ্য হয়।

কিন্তু এই বৈশ্বিক আলোড়নের ভেতরে আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় আরেকটি অদৃশ্য প্রবাহ নীরবে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। অর্থনৈতিক সংকট যত দৃশ্যমান হয়, ততই সমাজের ভেতরে এক ধরনের আচরণগত প্রাচুর্য বেড়ে যায়। এই প্রাচুর্যের নাম তেলেসমাতি— যা কোনো জ্বালানি নয়, বরং ক্ষমতা, সুবিধা ও টিকে থাকার এক সূক্ষ্ম সামাজিক কৌশল।

রাষ্ট্র যখন সাশ্রয়ের আহ্বান জানায়, নাগরিক জীবন তখন হিসাব কষে সংকুচিত হয়। বাজারে দাম বাড়ে, চাপ বাড়ে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠে। কিন্তু এর পাশাপাশি আরেকটি সমান্তরাল বাস্তবতা চলতে থাকে— যেখানে সংকটের কোনো দৃশ্যমান প্রভাব নেই। সেখানে তেলের ঘাটতি নেই, বরং তেলেসমাতির প্রবাহ আরও স্বচ্ছন্দ ও বিস্তৃত।

এই প্রবাহ কোনো শিল্পকারখানার উৎপাদন নয়, বরং মানুষের আচরণের উৎপাদন। এটি জন্ম নেয় ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার আকাঙ্ক্ষা, সুবিধা নিশ্চিত করার কৌশল এবং সত্যকে আড়াল করে গ্রহণযোগ্যতার মোড়কে উপস্থাপনের অভ্যাস থেকে। এটি নরম, অদৃশ্য, কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে কার্যকর—এমন এক সামাজিক জ্বালানি, যা বহু কাঠামোকে নিঃশব্দে চালিয়ে নিয়ে যায়।

রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে এই তেলেসমাতির উপস্থিতি সবচেয়ে স্পষ্ট। মহান সংসদ থেকে প্রশাসনিক করিডোর পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রে যুক্তির চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে অবস্থান, আর অবস্থানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে সম্পর্কের সূক্ষ্ম সমীকরণ। কে কী বলছে তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে কাকে উদ্দেশ করে বলা হচ্ছে। সত্য সেখানে উচ্চারিত হয় না; বরং তাকে সাজানো হয়, পরিমার্জিত করা হয়, এবং গ্রহণযোগ্যতার মোড়কে পরিবেশন করা হয়।

এই সংস্কৃতি কেবল রাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি এখন সমাজের প্রতিটি স্তরে বিস্তৃত। পরিবারে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে অনেক সময় সত্যকে নরম করা হয়, অসম্পূর্ণ রাখা হয় বা পরিস্থিতির সুবিধামতো রূপ দেয়া হয়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেধার চেয়ে আচরণগত সামঞ্জস্য অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ে চিন্তার স্বাধীনতার পাশাপাশি গড়ে ওঠে সুবিধা-নির্ভর এক নীরব সমঝোতা, যেখানে প্রশ্নের চেয়ে নীরবতা অনেক সময় নিরাপদ।

অনলাইন জগতে এই তেলেসমাতি আরও দ্রুত, আরও তীক্ষ্ণ এবং আরও নির্লজ্জভাবে কাজ করে। এখানে প্রশংসা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে। জনপ্রিয়তা অনেক সময় সত্যের চেয়ে বড় মাপকাঠি হয়ে ওঠে। ফলে বাস্তবতা নয়, বরং উপস্থাপনাই নির্ধারণ করে কে গুরুত্বপূর্ণ, কে অপ্রাসঙ্গিক। এই ডিজিটাল তেলেসমাতি অফলাইনের চেয়েও অনেক বেশি আক্রমণাত্মক এবং প্রভাবশালী।

এই বাস্তবতায় সমাজ ধীরে ধীরে এক উল্টো মূল্যবোধের দিকে অগ্রসর হয়। যেখানে সরলতা দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হয়, আর কৌশল দক্ষতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ায়। যোগ্যতা অনেক সময় নীরব থাকে, কিন্তু তোষামোদ কথা বলে। সত্য আড়ালে যায়, আর সুবিধা সামনের সারিতে উঠে আসে। এভাবেই গড়ে ওঠে এক নীরব প্রতিযোগিতা— কে কত নিখুঁতভাবে তেল ব্যবহার করতে পারে।

তেলের সংকট আমাদের শেখায় সীমাবদ্ধতা, বাস্তবতার কঠোর হিসাব। কিন্তু তেলেসমাতি শেখায় সেই সীমাবদ্ধতাকে কীভাবে অস্বীকার করা যায়, কীভাবে বাস্তবতাকে ভাষার কৌশলে আড়াল করা যায়। এই দুই শিক্ষা একসঙ্গে সমাজকে এক অদ্ভুত দ্বৈত অবস্থানে দাঁড় করায়—একদিকে বাস্তব চাপ, অন্যদিকে কৃত্রিম স্বস্তি। আর ধীরে ধীরে এই কৃত্রিম স্বস্তিই স্বাভাবিক বাস্তবতার রূপ নেয়।

রাষ্ট্রীয় নীতি, সংসদীয় আলোচনা, পারিবারিক সম্পর্ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে অনলাইন ও অফলাইন সামাজিক পরিসর—সবখানেই এই প্রবাহ একইভাবে কাজ করে। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নয়, কিন্তু সবচেয়ে শক্তিশালী অদৃশ্য কাঠামো। এটি বন্ধ হয় না, কারণ এর জ্বালানি মানুষের ভয়, আকাঙ্ক্ষা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সুবিধার প্রবণতা। এই অদৃশ্য চেইনই সমাজকে ভেতর থেকে চালিয়ে নিয়ে যায়—নিঃশব্দে, নিয়মিতভাবে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি কেবল অর্থনীতির নয়; এটি আমাদের চরিত্রের প্রশ্ন। আমরা কি শুধু জ্বালানির সংকটে ভুগছি, নাকি তার চেয়েও গভীর সংকটে—আমাদের আচরণগত জ্বালানির সংকটে?

তেলের সংকট হয়তো সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কেটে যাবে, নতুন প্রযুক্তি আসবে, বিকল্প জ্বালানি তৈরি হবে, বাজার স্থিতিশীল হবে। কিন্তু যদি তেলেসমাতির এই সংস্কৃতি স্থায়ীভাবে সমাজের ভেতরে শিকড় গেঁড়ে বসে, তাহলে সংকট কেবল রূপ বদলাবে, সমাধান নয়।

কারণ শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে শুধু তেল নয়, চালায় তার নৈতিক জ্বালানিও। আর সেই জ্বালানি যখন তোষামোদ, সুবিধা আর নীরব সম্মতির ওপর দাঁড়িয়ে যায়—তখন সংকট আর বাইরে থাকে না, তা ভেতরেই স্থায়ী হয়ে যায়।

[লেখক : সভাপতি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত