শিশুদের সংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষা দিতে সারাদেশে মাসব্যাপী হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। আগামী ১০ মে পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এই টিকা প্রদান করা হবে। সংবাদ’র জেলা বার্তা পরিবেশক ও উপজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো প্রতিবেদনে বিস্তারিত।
সিলেট : নগরের অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন বস্ত্র ও পাট এবং শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এমপি এবং সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, সরকার জনস্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এর ফলে দেশে অচিরেই হামের প্রকোপ কমে আসবে।
তিনি সিলেটে শিগগিরই ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতাল চালুর ঘোষণা দেন এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবায় আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান এবং কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ করেন।
রাজবাড়ী : জেলা সিভিল সার্জন অফিসের আয়োজনে রাজবাড়ী পৌরসভার সম্মেলন কক্ষে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন। জেলায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬০ জন শিশুকে টিকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট ১ হাজার ১০০টি কেন্দ্রে এই কার্যক্রম চলবে ১০ মে পর্যন্ত। সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বান্দরবান : পার্বত্য জেলা বান্দরবানেও সোমবার সকালে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। কালাঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক সামিউল ফেরদৌস। সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ শাহীন হোসাইন চৌধুরী জানান, জেলার ৭টি উপজেলায় ৭৬৮টি অস্থায়ী ও ৮টি স্থায়ী কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬০ হাজার ২২৭ জন শিশুকে এই টিকা দেওয়া হবে।
চুয়াডাঙ্গা : জেলায় ১ লাখ ৩০৫ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার সিভিল সার্জন কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সিভিল সার্জন ডা. হাদী জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানান, ৯৮০টি আউটরিচ ও ৮টি স্থায়ী কেন্দ্রে প্রায় দুই হাজার স্বেচ্ছাসেবী এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন।
সাতক্ষীরা : সকালে সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক মিজ্ আফরোজা আখতার এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। জেলায় ২ হাজার ৪১৭টি কেন্দ্রে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮১৫ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
খাগড়াছড়ি : সকালে খাগড়াছড়ি নতুন কুঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট হাই স্কুলে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রুমানা আক্তার। খাগড়াছড়ির সিভিল সার্জন ডা. মো. ছাবের জানান, জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং বিভিন্ন কমিউনিটি কেন্দ্রসহ মোট ১ হাজার ৫১৯টি টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে ৭৯ হাজার ৪৩২ জন শিশুকে বিনামূল্যে এই টিকা প্রদান করা হবে। ক্যাম্পেইন চলবে আগামী ১০ মে পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জুবায়েদ, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফারুক আবদুল্লাহ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিনিধি ডা. উৎপল চাকমা ও জেলা স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্মকর্তা মেমং মারমাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আত্রাই (নওগাঁ) : আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে ১৯ হাজার ৯৫৫ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্য নিয়ে কর্মসূচি শুরু হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ মো. আলাউল ইসলাম এর উদ্বোধন করেন। স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, একটি স্থায়ী ও ২৪টি অস্থায়ী ক্যাম্পের মাধ্যমে আগামী ১০ মে পর্যন্ত শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
মহেশপুর (ঝিনাইদহ) : ‘সব শিশুদের টিকা দেবো, হাম-রুবেলা রোধ করবো’-এই স্লোগানকে সামনে রেখে মহেশপুরে ক্যাম্পেইন উদ্বোধন করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বক্তারা শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সখীপুর (টাঙ্গাইল) : সখীপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল্লাহ আল রনী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেহেনা পারভীন জানান, শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন ২৪০টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে।
নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : নাসিরনগর সরকারি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীনা নাছরিন এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন। উপজেলায় মোট ৫২ হাজার ৩১১ জন শিশুকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
সারাদেশে এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। শিশুদের শারীরিক জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমাতে এই টিকা অত্যন্ত কার্যকর বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
আপনার মতামত লিখুন