খুলনা প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত ও হুমকির প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে ক্লাবের সামনে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। এ ঘটনায় গতকাল রোববার রাতে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী সংগঠন প্রেসক্লাবে ঢুকে এ ধরনের হামলা ও লাঞ্ছনা গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তাকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অতীতে খুলনায় হুমায়ুন কবীর বালু, হারুনর রশীদ খোকন, মানিক চন্দ্র সাহা ও শেখ বেলাল উদ্দীনের মতো সাংবাদিকদের প্রাণ দিতে হয়েছে। বর্তমান প্রজন্ম এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি দেখতে চায় না।
আন্দোলনরত সাংবাদিকেরা অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের চিহ্নিত একদল ব্যক্তি গতকাল সন্ধ্যায় প্রেসক্লাবে ঢুকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেন। তারা ক্লাবের সভাপতি পদপ্রার্থী মোস্তফা সরোয়ারকে হুমকি দেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী তরিকুল ইসলামকে লাঞ্ছিত ও গালিগালাজ করেন। আগামী ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় খুলনা প্রেসক্লাব নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে অবিলম্বে নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ‘এ ঘটনায় কোনো রাজনৈতিক দলের কেউ জড়িত থাকলে তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হকের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন সদস্যসচিব রফিউল ইসলাম টুটুল, সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, এস এম হাবিব, মোতাহার রহমান বাবু, তরিকুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ক্লাবের নির্বাহী সদস্য আশরাফুল ইসলাম নূর। কর্মসূচিতে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলনের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, গতকাল রোববার সন্ধ্যা ছয়টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রসহ প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হয়। এ ঘটনায় রাতে ক্লাবের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার দত্ত বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় রিপন আকন, গাউস, হালিম ও মিজানসহ আরও অজ্ঞাতদের আসামি করে মামলা করেন।
খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
আপনার মতামত লিখুন