নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় ছোট যমুনা নদী এখন অবৈধ বালু উত্তোলনকারীদের কবলে। উপজেলার নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন নদী থেকে দিনরাত নির্বিঘ্নে বালু লুট করা হচ্ছে। এতে নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। যার ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ি, আবাদি জমি ও নদীর তীরবর্তী জনপদ।
সরেজমিনে দেখা যায়, ছোট যমুনা নদীর নালুকাবাড়ী ও মানপুর এলাকায় ট্রাক্টর দিয়ে বালু পরিবহনের মহোৎসব চলছে। নদীর পাড়জুড়ে বালুর বিশাল স্তূপ করে রাখা হয়েছে। কোনো ইজারা বা অনুমতি না থাকলেও প্রভাবশালী একটি চক্র প্রকাশ্যে বালু বিক্রি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রচ্ছায়ায় দেড় বছর ধরে এই লুটপাট চললেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
বালু উত্তোলনের ফলে ইতিমধ্যে নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর কাছে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মুকুল বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। সরকার মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছে। এখন বালু উত্তোলনের কারণে সেই ঘরটুকুও হারানোর ভয় করছি। আমরা এখন কোথায় যাব?’
স্থানীয় কৃষকেরা জানান, শুধু ঘরবাড়িই নয়, বিলীন হচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমিও। হানিফ নামে এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ‘মিজান, দেলোয়ার, সুমন ও হিরো নামের কয়েকজন স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি দেড় বছর ধরে অবৈধভাবে বালু তুলে বিক্রি করছেন। প্রতিবাদ করলে তাঁরা প্রাণনাশের হুমকি দেন। ফসল রক্ষার জন্য আমরা অনেক জায়গায় বাঁশের বেড়া দিয়েছি। কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না।’
খবর পেয়ে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে বালুশ্রমিকেরা ট্রাক্টর ফেলে পালিয়ে যান। পরে এক শ্রমিকের সঙ্গে কথা হলে তিনি স্বীকার করেন, কোনো ইজারা ছাড়াই এখান থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। প্রতি ট্রাক্টর বালু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ টাকায়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দেলোয়ার নামের এক ব্যক্তি নিয়ন্ত্রণ করেন বলে জানান তিনি।
বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, ‘অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে অনেক সময় অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। যেসব জায়গায় বালুর স্তূপ রয়েছে, সেগুলো জব্দ করার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জান্নাত আরা তিথি বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। জড়িত ব্যক্তিদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
স্থানীয়দের দাবি, এখনই বালু উত্তোলন বন্ধ না করলে বর্ষা মৌসুমে নালুকাবাড়ী ও মানপুর আশ্রয়ণ প্রকল্প দুটি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে। সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর পাশাপাশি গৃহহীন হবে শতাধিক পরিবার।
আপনার মতামত লিখুন