জলবায়ু পরিবর্তনের কড়াল গ্রাসে বাংলাদেশে পাল্টে যাচ্ছে মানুষের চিরচেনা আবাসন। প্রতিনিয়ত উপকূল ও নিম্নাঞ্চল থেকে মানুষ ভিড় করছে বড় শহরগুলোতে, যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন ধরণের সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি ড. তাসনিম সিদ্দিকীর এক গবেষণায় এই চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
তিনি জানান, গ্রাউন্ডসওয়েল রিপোর্ট ২০২১ অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে ধীরগতির জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে মানুষ ঘর হারিয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক কনফারেন্সে গবেষণার এ সকল তথ্য উঠে আসে।
গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়, এক সময় ধারণা করা হয়েছিল যে উন্নত জীবনের জন্য মানুষ বিদেশে পাড়ি দেবে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে 'অভিবাসন' মূলত দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর ও সাতক্ষীরা থেকে নতুন রাজধানীতে আসা বাসিন্দাদের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, কেবল দারিদ্র্য বা পরিবেশ নয়, সরকারের মেগা-সিটি কেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতিও মানুষকে শহরমুখী করছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে শিল্প এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি থাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষ এই দুই শহরেই বেশি ভিড় করছে। তবে শহরে আসার ফলে অনেক অভিবাসীর জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তনও এসেছে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, শহরে এসে তাদের আয় বেড়েছে, পরিবারের নারীরা কাজে যোগ দিতে পারছেন এবং শিশুদের স্কুলে যাওয়ার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে নতুন ঠিকানায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। তবে এই উন্নয়নের উল্টো পিঠে রয়েছে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। বস্তি এলাকায় জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সমস্যা, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এছাড়া অনানুষ্ঠানিক খাতে চাকরির অনিশ্চয়তা এবং উচ্ছেদের ভয় তাদের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি মোকাবিলায় সরকার ২০২১ সালে জাতীয় কৌশল এবং ২০২২ সালে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
গবেষণায় ড. তাসনিম সিদ্দিকী সুপারিশ করেন, দেশের উন্নয়ন কেবল বড় শহরকেন্দ্রিক না রেখে বিকেন্দ্রীকরণ করা জরুরি। মেগা-সিটির ওপর চাপ কমাতে ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর উন্নয়ন জোরদার করা দরকার। এতে মানুষ নিজ নিজ এলাকার কাছাকাছি কাজের সুযোগ পাবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এই অভিবাসন আরও টেকসই ও পরিকল্পিত হবে বলে গবেষণায় মত প্রকাশ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৮ এপ্রিল ২০২৬
জলবায়ু পরিবর্তনের কড়াল গ্রাসে বাংলাদেশে পাল্টে যাচ্ছে মানুষের চিরচেনা আবাসন। প্রতিনিয়ত উপকূল ও নিম্নাঞ্চল থেকে মানুষ ভিড় করছে বড় শহরগুলোতে, যার ফলে সৃষ্টি হচ্ছে নতুন ধরণের সামাজিক ও পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ। সম্প্রতি ড. তাসনিম সিদ্দিকীর এক গবেষণায় এই চিত্রটি ফুটে উঠেছে।
তিনি জানান, গ্রাউন্ডসওয়েল রিপোর্ট ২০২১ অনুযায়ী ২০৫০ সালের মধ্যে ধীরগতির জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো দুর্যোগে মানুষ ঘর হারিয়ে গ্রাম ছেড়ে শহরমুখী হচ্ছে।
মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এক কনফারেন্সে গবেষণার এ সকল তথ্য উঠে আসে।
গবেষণা রিপোর্টে বলা হয়, এক সময় ধারণা করা হয়েছিল যে উন্নত জীবনের জন্য মানুষ বিদেশে পাড়ি দেবে, কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে 'অভিবাসন' মূলত দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, যশোর ও সাতক্ষীরা থেকে নতুন রাজধানীতে আসা বাসিন্দাদের ওপর জরিপ চালিয়ে দেখা গেছে, কেবল দারিদ্র্য বা পরিবেশ নয়, সরকারের মেগা-সিটি কেন্দ্রিক উন্নয়ন নীতিও মানুষকে শহরমুখী করছে। ঢাকা ও চট্টগ্রামে শিল্প এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি থাকায় বাস্তুচ্যুত মানুষ এই দুই শহরেই বেশি ভিড় করছে। তবে শহরে আসার ফলে অনেক অভিবাসীর জীবনমানে ইতিবাচক পরিবর্তনও এসেছে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা জানান, শহরে এসে তাদের আয় বেড়েছে, পরিবারের নারীরা কাজে যোগ দিতে পারছেন এবং শিশুদের স্কুলে যাওয়ার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেকে নতুন ঠিকানায় ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। তবে এই উন্নয়নের উল্টো পিঠে রয়েছে কিছু তিক্ত অভিজ্ঞতা। বস্তি এলাকায় জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ সমস্যা, বিশুদ্ধ পানির সংকট ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী। এছাড়া অনানুষ্ঠানিক খাতে চাকরির অনিশ্চয়তা এবং উচ্ছেদের ভয় তাদের উদ্বেগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুতি মোকাবিলায় সরকার ২০২১ সালে জাতীয় কৌশল এবং ২০২২ সালে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
গবেষণায় ড. তাসনিম সিদ্দিকী সুপারিশ করেন, দেশের উন্নয়ন কেবল বড় শহরকেন্দ্রিক না রেখে বিকেন্দ্রীকরণ করা জরুরি। মেগা-সিটির ওপর চাপ কমাতে ছোট ও মাঝারি শহরগুলোর উন্নয়ন জোরদার করা দরকার। এতে মানুষ নিজ নিজ এলাকার কাছাকাছি কাজের সুযোগ পাবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এই অভিবাসন আরও টেকসই ও পরিকল্পিত হবে বলে গবেষণায় মত প্রকাশ করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন