সংবাদ

‘জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, তা চাই না’: মির্জা ফখরুল


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ মে ২০২৬, ০২:১২ পিএম

‘জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, তা চাই না’: মির্জা ফখরুল

জিয়া পরিষদের নামে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা ‘দোকান’ খোলা হোক এমনটি চান না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গবেষণামূলক কাজে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান

শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপির অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে, নতুন করে আর কোনো সংগঠনের দরকার নেই। আমাদের এখন প্রয়োজন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও কাজ নিয়ে গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান। জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, তা আমি চাই না। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।” তিনি আরও জানান, তার ব্যক্তিগত চাপে জিয়া পরিষদ কয়েকটি বই প্রকাশ করেছে এবং আগামীতেও তারা গবেষণামূলক কাজ করবে বলেই তার প্রত্যাশা

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সরকারের ভেতর যত ঢুকছি, তত আতঙ্কিত হচ্ছি। যেদিকে তাকাই শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি দেখতে পাই। গত ১৫ বছরে তদবির ছাড়া কাজ না হওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা দেশের অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” এমনকি উপাচার্য হওয়ার জন্যও অনেকে তদবির করেছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি

ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে বাহাস হওয়া ভালো, কিন্তু তা যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না হয়। জুলাই সনদের অধিকাংশ বিষয়ে আমরা একমত হলেও কিছু জায়গায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছি। উচ্চকক্ষ বা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সব বিষয়ে আমরা একমত হইনি; সবকিছু সংসদের মাধ্যমে হতে হবে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি সংস্কার চায় না বলে যে প্রচারণা চলছে, তার প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপিই সংস্কারের জনক। জিয়াউর রহমান প্রথম দেশে সংস্কার এনেছিলেন। অথচ একটি মহল মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আমল আমাদের ওপর ৮০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রেখে গেছে। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা। এই সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।”

ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীদের যুক্ত করতে হবে এবং একে সঠিক পথে প্রবাহিত করতে হবে। তা না হলে অতীতে ছাত্র রাজনীতি দেশের যে ক্ষতি করেছে, ভবিষ্যতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে

 

 

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬


‘জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, তা চাই না’: মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

জিয়া পরিষদের নামে কোনো ব্যক্তিস্বার্থ বা ‘দোকান’ খোলা হোক এমনটি চান না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি সংগঠনের নেতা-কর্মীদের গবেষণামূলক কাজে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান

শনিবার (২ মে) দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন

মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপির অনেক অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন রয়েছে, নতুন করে আর কোনো সংগঠনের দরকার নেই। আমাদের এখন প্রয়োজন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও কাজ নিয়ে গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান। জিয়া পরিষদের নামে দোকান খোলা হোক, তা আমি চাই না। এ ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।” তিনি আরও জানান, তার ব্যক্তিগত চাপে জিয়া পরিষদ কয়েকটি বই প্রকাশ করেছে এবং আগামীতেও তারা গবেষণামূলক কাজ করবে বলেই তার প্রত্যাশা

সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “সরকারের ভেতর যত ঢুকছি, তত আতঙ্কিত হচ্ছি। যেদিকে তাকাই শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি আর স্বজনপ্রীতি দেখতে পাই। গত ১৫ বছরে তদবির ছাড়া কাজ না হওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা দেশের অগ্রযাত্রায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” এমনকি উপাচার্য হওয়ার জন্যও অনেকে তদবির করেছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি

ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের পর নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, “জুলাই সনদ ও সংবিধান নিয়ে বাহাস হওয়া ভালো, কিন্তু তা যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না হয়। জুলাই সনদের অধিকাংশ বিষয়ে আমরা একমত হলেও কিছু জায়গায় ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছি। উচ্চকক্ষ বা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সব বিষয়ে আমরা একমত হইনি; সবকিছু সংসদের মাধ্যমে হতে হবে।”

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিএনপি সংস্কার চায় না বলে যে প্রচারণা চলছে, তার প্রতিবাদ জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিএনপিই সংস্কারের জনক। জিয়াউর রহমান প্রথম দেশে সংস্কার এনেছিলেন। অথচ একটি মহল মানুষকে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “ফ্যাসিস্ট আমল আমাদের ওপর ৮০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা রেখে গেছে। এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো পুনর্গঠন করা। এই সংকট উত্তরণে জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।”

ছাত্র রাজনীতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ছাত্র রাজনীতিতে মেধাবীদের যুক্ত করতে হবে এবং একে সঠিক পথে প্রবাহিত করতে হবে। তা না হলে অতীতে ছাত্র রাজনীতি দেশের যে ক্ষতি করেছে, ভবিষ্যতেও তার পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে

 

 


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত