সংবাদ

ফিকে হচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন, বিপাকে কয়েক হাজার পরিবার


প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রতিনিধি, বাগেরহাট
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

ফিকে হচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন, বিপাকে কয়েক হাজার পরিবার
বাগেরহাটে টানা বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়া ধানক্ষেত। ছবি : সংবাদ

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বাগেরহাট জেলায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির বোরো ও ইরি ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে রোদের দেখা না মেলায় কাটা ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে অনেকে আগাম ধান কাটা শুরু করলেও অবিরাম বর্ষণে সেই ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বাগেরহাটে মোট ৭৩ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ধান এখনো মাঠে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। টানা চার দিনের বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিতে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন এখন দুশ্চিন্তায় রূপ নিয়েছে। নিচু এলাকার খেতগুলোতে পানি জমে ধান তলিয়ে যাচ্ছে, আবার রোদের অভাবে কাটা ধানও শুকানো যাচ্ছে না।

সদর উপজেলার গোটাপাড়া এলাকার কৃষক সাইফুল হক মনি বলেন, ‘ধারদেনা করে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচে এবার উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি হয়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টিতে ধান নষ্ট হলে আমাদের পথে বসতে হবে।’

একই উপজেলার রবিউল ও কচুয়া উপজেলার ইয়াকুব আলী জানান, তারা আলাদাভাবে ৬ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে সব ধান কেটে উঠতে পারেননি। অর্ধেকের বেশি ধান এখনো জমিতে রয়ে গেছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানান তারা।

নিচু জমির কৃষকেরা আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন। আব্দুল ওহাব শেখ ও শান্তি রঞ্জন চৌধুরী নামের দুই কৃষক বলেন, ‘দুই দিন ধরে চারজন শ্রমিক নিয়ে ধান কেটেছি। কিন্তু আকাশ মেঘলা থাকায় সেই ধান শুকানো যাচ্ছে না। জমি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সব তলিয়ে গেছে। এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে অন্তত ১০ শতাংশ ধান ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে বৃষ্টি কমে দ্রুত রোদ উঠলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


ফিকে হচ্ছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন, বিপাকে কয়েক হাজার পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে বাগেরহাট জেলায় প্রায় আড়াই হাজার হেক্টর জমির বোরো ও ইরি ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টির কারণে রোদের দেখা না মেলায় কাটা ধান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন জেলার হাজারো কৃষক। বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে অনেকে আগাম ধান কাটা শুরু করলেও অবিরাম বর্ষণে সেই ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বাগেরহাটে মোট ৭৩ হাজার ১৭১ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ধান এখনো মাঠে থাকায় ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ছে। টানা চার দিনের বজ্রসহ ভারী বৃষ্টিতে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন এখন দুশ্চিন্তায় রূপ নিয়েছে। নিচু এলাকার খেতগুলোতে পানি জমে ধান তলিয়ে যাচ্ছে, আবার রোদের অভাবে কাটা ধানও শুকানো যাচ্ছে না।

সদর উপজেলার গোটাপাড়া এলাকার কৃষক সাইফুল হক মনি বলেন, ‘ধারদেনা করে সার, বীজ, সেচ ও শ্রমিকের বাড়তি খরচে এবার উৎপাদন ব্যয় অনেক বেশি হয়েছে। এর মধ্যে অতিবৃষ্টিতে ধান নষ্ট হলে আমাদের পথে বসতে হবে।’

একই উপজেলার রবিউল ও কচুয়া উপজেলার ইয়াকুব আলী জানান, তারা আলাদাভাবে ৬ বিঘা জমিতে বোরো চাষ করেছিলেন। ফলন ভালো হলেও বৃষ্টির কারণে সব ধান কেটে উঠতে পারেননি। অর্ধেকের বেশি ধান এখনো জমিতে রয়ে গেছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয় বলে জানান তারা।

নিচু জমির কৃষকেরা আরও বেশি অসহায় হয়ে পড়েছেন। আব্দুল ওহাব শেখ ও শান্তি রঞ্জন চৌধুরী নামের দুই কৃষক বলেন, ‘দুই দিন ধরে চারজন শ্রমিক নিয়ে ধান কেটেছি। কিন্তু আকাশ মেঘলা থাকায় সেই ধান শুকানো যাচ্ছে না। জমি নিচু হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই সব তলিয়ে গেছে। এখন কী করব ভেবে পাচ্ছি না।’

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক রমেশ চন্দ্র ঘোষ বলেন, আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে অন্তত ১০ শতাংশ ধান ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। তবে বৃষ্টি কমে দ্রুত রোদ উঠলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত