সংবাদ

ঝড়ে ভাঙলো মধু কবির সেই বটগাছ, কাঁদছে সাগরদাঁড়ি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২ মে ২০২৬, ০৯:৩৬ পিএম

ঝড়ে ভাঙলো মধু কবির সেই বটগাছ, কাঁদছে সাগরদাঁড়ি
কবির ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার সেই স্মৃতিবিজড়িত বিরাট বটগাছটি কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উপড়ে পড়েছে।

কপোতাক্ষের তীরে হারিয়ে গেল কবির বটবৃক্ষ। উপড়ে গেল মাইকেল মধুসূদনের স্মৃতি। ১৬০ বছর আগে যে বৃক্ষটি দেখে কবি লিখেছিলেন, ‘দেব-অবতার ভাবি বন্দে যে তোমারে, নাহি চাহে মনঃ মোর তাহে নিন্দা করি’...। কবির ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার সেই স্মৃতিবিজড়িত বিরাট বটগাছটি কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উপড়ে পড়েছে।

শনিবার (২ মে) দুপুরে কালো মেঘ করে প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদের তীরে কবির পূর্বপুরুষের বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বটবৃক্ষটি উপড়ে যায়। পর্যটকদের ভিড়, কবিপ্রেমীদের আড্ডা, আর কত ইতিহাসের সাক্ষী জানায় এই গাছ-তা এখন শুধু স্মৃতির পাতায়।

বটবৃক্ষের পাশেই বাড়ি সুনীল হালদারের (৭০)।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এই বটগাছটির সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে। কবি এই গাছ দেখেই লিখেছিলেন বিখ্যাত কবিতা। দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ আসতেন এই গাছ দেখতে। আজ তা আর নেই। আর হয়তো পর্যটকের পদধূলি পড়বে না এখানে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের মন আজ ভারী। তাদের একজন বলেন, ‘যেন নিজের বাড়ির কোনো স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে গেল।’

মধুসূদন একাডেমির পরিচালক ও মধুসূদন-গবেষক কবি খসরু পারভেজ জানান, ‘বটবৃক্ষ’ কবিতাটি কবি ১৮৬৫ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে বসে লিখেছিলেন। সুদূর দেশে বসে তিনি সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ তীরের এই বটগাছটিকেই স্মরণ করেছিলেন। ১৮৬৭ সালে ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি’ বইয়ে তা প্রকাশিত হয়।

উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে কবির এই স্মৃতিময় বটবৃক্ষটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু বটবৃক্ষটি রক্ষার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় কবির শেষ স্মৃতিচিহ্নটিও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। এটা খুবই বেদনার এবং কষ্টের।’

১৮৬৫ থেকে ২০২৬- এই বটগাছটি প্রায় সাড়ে ১৬০ বছর সাগরদাঁড়ির আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। ঝড়-জল, কালের আবর্তন, নদীর ভাঙন- সবকিছু উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্মৃতিবৃক্ষ আজ উপড়ে পড়ল চিরকালের মতো। মধুসূদনের স্মৃতিধন্য সাগরদাঁড়ি আজ যেন আরও নিঃস্ব হয়ে গেল।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

শনিবার, ০২ মে ২০২৬


ঝড়ে ভাঙলো মধু কবির সেই বটগাছ, কাঁদছে সাগরদাঁড়ি

প্রকাশের তারিখ : ০২ মে ২০২৬

featured Image

কপোতাক্ষের তীরে হারিয়ে গেল কবির বটবৃক্ষ। উপড়ে গেল মাইকেল মধুসূদনের স্মৃতি। ১৬০ বছর আগে যে বৃক্ষটি দেখে কবি লিখেছিলেন, ‘দেব-অবতার ভাবি বন্দে যে তোমারে, নাহি চাহে মনঃ মোর তাহে নিন্দা করি’...। কবির ‘বটবৃক্ষ’ কবিতার সেই স্মৃতিবিজড়িত বিরাট বটগাছটি কালবৈশাখীর তাণ্ডবে উপড়ে পড়েছে।

শনিবার (২ মে) দুপুরে কালো মেঘ করে প্রচণ্ড ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে যশোরের কেশবপুরের সাগরদাঁড়ি কপোতাক্ষ নদের তীরে কবির পূর্বপুরুষের বাড়ির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বটবৃক্ষটি উপড়ে যায়। পর্যটকদের ভিড়, কবিপ্রেমীদের আড্ডা, আর কত ইতিহাসের সাক্ষী জানায় এই গাছ-তা এখন শুধু স্মৃতির পাতায়।

বটবৃক্ষের পাশেই বাড়ি সুনীল হালদারের (৭০)।কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘এই বটগাছটির সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে। কবি এই গাছ দেখেই লিখেছিলেন বিখ্যাত কবিতা। দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ আসতেন এই গাছ দেখতে। আজ তা আর নেই। আর হয়তো পর্যটকের পদধূলি পড়বে না এখানে।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের মন আজ ভারী। তাদের একজন বলেন, ‘যেন নিজের বাড়ির কোনো স্মৃতিচিহ্ন হারিয়ে গেল।’

মধুসূদন একাডেমির পরিচালক ও মধুসূদন-গবেষক কবি খসরু পারভেজ জানান, ‘বটবৃক্ষ’ কবিতাটি কবি ১৮৬৫ সালে ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে বসে লিখেছিলেন। সুদূর দেশে বসে তিনি সাগরদাঁড়ির কপোতাক্ষ তীরের এই বটগাছটিকেই স্মরণ করেছিলেন। ১৮৬৭ সালে ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি’ বইয়ে তা প্রকাশিত হয়।

উচ্ছ্বাসের সঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমরা বহুদিন ধরে কবির এই স্মৃতিময় বটবৃক্ষটি রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছিলাম। কিন্তু বটবৃক্ষটি রক্ষার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ না করায় কবির শেষ স্মৃতিচিহ্নটিও নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল। এটা খুবই বেদনার এবং কষ্টের।’

১৮৬৫ থেকে ২০২৬- এই বটগাছটি প্রায় সাড়ে ১৬০ বছর সাগরদাঁড়ির আকাশে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছিল। ঝড়-জল, কালের আবর্তন, নদীর ভাঙন- সবকিছু উপেক্ষা করে দাঁড়িয়ে থাকা এই স্মৃতিবৃক্ষ আজ উপড়ে পড়ল চিরকালের মতো। মধুসূদনের স্মৃতিধন্য সাগরদাঁড়ি আজ যেন আরও নিঃস্ব হয়ে গেল।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত