নীলফামারীর ডোমারে পানি নিষ্কাশনের দীর্ঘদিনের পথ বন্ধ করে দেওয়ায় কয়েক দিনের বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে শত শত একর বোরো ধান। উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাকডোকরা এলাকায় এক ব্যক্তি প্রভাব খাটিয়ে ক্যানেল ভরাট করে রাস্তা নির্মাণ করায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বোরো ধান ঘরে তোলা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, যে ক্যানেল দিয়ে আগে এলাকার পানি বের হয়ে যেত, সেটি মাটি দিয়ে ভরাট করে রাস্তা তৈরি করেছেন বুলু ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। এতে মির্জাগঞ্জ, কলেজ মোড়, জোড়াদিঘী, বেতগাড়া, গাইবান্ধাপাড়া, বসুনিয়াপাড়া ও মিস্ত্রিপাড়া দোলার পানি বের হতে পারছে না। জলাবদ্ধতার কারণে এসব এলাকার শত শত একর জমির ধান এখন ডুবো ডুবো অবস্থায় রয়েছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, ক্যানেলটি বিভিন্ন মানুষের ব্যক্তিগত জমির ওপর দিয়ে গেলেও জনস্বার্থে কেউ কোনো দিন বাধা দেননি। কিন্তু বুলু ইসলাম তার প্রস্তাবিত ফিলিং স্টেশন ও অটো রাইস মিলের জন্য নিজের জমির বাইরের অংশ, যা মসজিদের জমি হিসেবে পরিচিত, সেখানেও মাটি ফেলে পানি চলাচলের পথ বন্ধ করে দিয়েছেন। ৪০ বছর ধরে এই পথ দিয়েই বৃষ্টির পানি নিষ্কাশিত হয়ে আসছিল।
হামিদুল ও মজিদুল ইসলাম নামের দুই কৃষক বলেন, ‘জমি ভরাট করার ফলে আমাদের ফসল এখন পানির নিচে। প্রতিবাদ করলে তিনি মামলা-হামলার ভয় দেখান। দ্রুত পানি নামার ব্যবস্থা না হলে আমরা ফসল ঘরে তুলতে পারব না।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বুলু ইসলাম বলেন, ‘আমি আমার জায়গায় রাস্তা করেছি। সরকার এলেও আমি রাস্তা কেটে পানি যেতে দেব না। আমার নামে কয়টা মামলা হবে, সেটা পরে দেখা যাবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (কৃষিবিদ) রফিকুল ইসলাম বলেন, নিজের জমি হলেও কেউ জনস্বার্থ বিরোধী কোনো বাঁধ বা রাস্তা তৈরি করতে পারেন না, যা ফসলের ক্ষতি করে। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানো হয়েছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, ‘বিষয়টি আমি শুনেছি। ইতিমধ্যে ইউনিয়ন তহশিলদারকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে ফসলের ক্ষতি করা হলে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত পানি বের করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
আপনার মতামত লিখুন