উত্তেজনা, সংঘাত, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের পর অবশেষে আজই সেই মহেন্দ্রক্ষণ, ফল ঘোষণার দিন। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ নির্বাচনী প্রক্রিয়া আজ এসে পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্বে। পাঁচ রাজ্যে মোট ৮২৩টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভাগ্যপরীক্ষা হচ্ছে ৮ হাজার ৯০৪ জন প্রার্থীর। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি— কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে আজ গোটা দেশের নজর পশ্চিমবঙ্গের দিকে। কারণ এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, এটা মর্যাদার লড়াই, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
গত কয়েক মাসে বাংলার ভোট ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকের কাছেই ছিল কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। এসআইআরের নামে সাধারণ ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ, প্রশাসনে একের পর এক বদলি, আর তার সঙ্গে আড়াই লক্ষেরও বেশি আধাসেনা মোতায়েন—সব মিলিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই উত্তপ্ত আবহের পর আজ শুরু হচ্ছে গণনা, আর সেই গণনাকেও ঘিরে তৈরি হয়েছে কড়া নিরাপত্তা বলয়।
রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম স্তরে রয়েছে রাজ্য পুলিশের লাঠিধারী বাহিনী, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ ও আধাসেনার যৌথ মোতায়েন, আর তৃতীয় তথা সবচেয়ে সুরক্ষিত বলয়ে রয়েছে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। ভোট গাননা কেন্দ্রের আসে পাশে সব রকম জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিটি কেন্দ্রেই বসানো হয়েছে সিসিটিভি নজরদারি। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে গণনাকর্মী, প্রার্থী বা এজেন্টদের ঢুকতে হবে কেন্দ্রে—তারপর আর কাউকে প্রবেশের অনুমতি নেই। এমনকি কাউন্টিং এজেন্টদের পরিচয়পত্রেও যুক্ত করা হয়েছে কিউআর কোড, যা স্ক্যান করে যাচাই করার পরই মিলবে প্রবেশের অনুমতি।
গণনা প্রক্রিয়াও ধাপে ধাপে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে পোস্টাল ব্যালট গণনা, আর সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে ইভিএম গণনা। ন্যূনতম ১৪ রাউন্ড গণনা বাধ্যতামূলক, যা বিধানসভা অনুযায়ী বাড়তে বাড়তে সর্বাধিক ২৮ রাউন্ড পর্যন্ত যেতে পারে। প্রতিটি রাউন্ডের ফল প্রথমে ট্যাবুলেশন টেবিলে পাঠানো হবে, সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং অফিসার ও অবজার্ভারের সই না হওয়া পর্যন্ত ফল বাইরে জানানো যাবে না। এমনকি প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফলের স্ক্রিনশট তুলে কমিশনে পাঠাতে হবে, এবং সেখান থেকে সবুজ সংকেত মিললেই শুরু হবে পরবর্তী রাউন্ড। সবশেষে ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালটের ফল মিলিয়ে ঘোষণা করা হবে জয়ী প্রার্থীর নাম।
পশ্চিমবঙ্গে মোট ২ হাজার ৯২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হবেন মাত্র ২৯৩ জন, কারণ একটি কেন্দ্রে অর্থাৎ ফলতার পুনর্র্নিবাচনের জন্য ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। এখন একটাই প্রশ্ন দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রচেষ্টা কি সফল হবে?নাকি শেষ হাসি হাসবেন মমতাবন্দ্যোপাধ্যায়?
বাংলার পাশাপাশি আজই ফল ঘোষণা হবে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির। এছাড়া কর্ণাটক, ত্রিপুরা, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, গোয়া ও নাগাল্যান্ডের কয়েকটি উপনির্বাচনের ফলও প্রকাশিত হবেআজ।

সোমবার, ০৪ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ মে ২০২৬
উত্তেজনা, সংঘাত, অভিযোগ আর পাল্টা অভিযোগের পর অবশেষে আজই সেই মহেন্দ্রক্ষণ, ফল ঘোষণার দিন। ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই দীর্ঘ নির্বাচনী প্রক্রিয়া আজ এসে পৌঁছেছে চূড়ান্ত পর্বে। পাঁচ রাজ্যে মোট ৮২৩টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়েছে। ভাগ্যপরীক্ষা হচ্ছে ৮ হাজার ৯০৪ জন প্রার্থীর। অসম, কেরল, তামিলনাড়ু, পুদুচেরি— কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে আজ গোটা দেশের নজর পশ্চিমবঙ্গের দিকে। কারণ এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের লড়াই নয়, এটা মর্যাদার লড়াই, অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।
গত কয়েক মাসে বাংলার ভোট ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা অনেকের কাছেই ছিল কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের মতো। এসআইআরের নামে সাধারণ ভোটারদের হয়রানির অভিযোগ, প্রশাসনে একের পর এক বদলি, আর তার সঙ্গে আড়াই লক্ষেরও বেশি আধাসেনা মোতায়েন—সব মিলিয়ে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। সেই উত্তপ্ত আবহের পর আজ শুরু হচ্ছে গণনা, আর সেই গণনাকেও ঘিরে তৈরি হয়েছে কড়া নিরাপত্তা বলয়।
রাজ্যের ৭৭টি গণনাকেন্দ্রে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রথম স্তরে রয়েছে রাজ্য পুলিশের লাঠিধারী বাহিনী, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ ও আধাসেনার যৌথ মোতায়েন, আর তৃতীয় তথা সবচেয়ে সুরক্ষিত বলয়ে রয়েছে শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় বাহিনী। গণনাকেন্দ্রের ২০০ মিটারের মধ্যে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। ভোট গাননা কেন্দ্রের আসে পাশে সব রকম জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিটি কেন্দ্রেই বসানো হয়েছে সিসিটিভি নজরদারি। সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে গণনাকর্মী, প্রার্থী বা এজেন্টদের ঢুকতে হবে কেন্দ্রে—তারপর আর কাউকে প্রবেশের অনুমতি নেই। এমনকি কাউন্টিং এজেন্টদের পরিচয়পত্রেও যুক্ত করা হয়েছে কিউআর কোড, যা স্ক্যান করে যাচাই করার পরই মিলবে প্রবেশের অনুমতি।
গণনা প্রক্রিয়াও ধাপে ধাপে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে পোস্টাল ব্যালট গণনা, আর সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হবে ইভিএম গণনা। ন্যূনতম ১৪ রাউন্ড গণনা বাধ্যতামূলক, যা বিধানসভা অনুযায়ী বাড়তে বাড়তে সর্বাধিক ২৮ রাউন্ড পর্যন্ত যেতে পারে। প্রতিটি রাউন্ডের ফল প্রথমে ট্যাবুলেশন টেবিলে পাঠানো হবে, সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের পর রিটার্নিং অফিসার ও অবজার্ভারের সই না হওয়া পর্যন্ত ফল বাইরে জানানো যাবে না। এমনকি প্রতিটি রাউন্ডের ফলাফলের স্ক্রিনশট তুলে কমিশনে পাঠাতে হবে, এবং সেখান থেকে সবুজ সংকেত মিললেই শুরু হবে পরবর্তী রাউন্ড। সবশেষে ইভিএম ও পোস্টাল ব্যালটের ফল মিলিয়ে ঘোষণা করা হবে জয়ী প্রার্থীর নাম।
পশ্চিমবঙ্গে মোট ২ হাজার ৯২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে জয়ী হবেন মাত্র ২৯৩ জন, কারণ একটি কেন্দ্রে অর্থাৎ ফলতার পুনর্র্নিবাচনের জন্য ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। এখন একটাই প্রশ্ন দিল্লির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রচেষ্টা কি সফল হবে?নাকি শেষ হাসি হাসবেন মমতাবন্দ্যোপাধ্যায়?
বাংলার পাশাপাশি আজই ফল ঘোষণা হবে অসম, কেরল, তামিলনাড়ু এবং পুদুচেরির। এছাড়া কর্ণাটক, ত্রিপুরা, মহারাষ্ট্র, গুজরাত, গোয়া ও নাগাল্যান্ডের কয়েকটি উপনির্বাচনের ফলও প্রকাশিত হবেআজ।

আপনার মতামত লিখুন