সংবাদ

পশ্চিমবঙ্গ: সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেলো নির্বাচন কমিশন


প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রতিনিধি, কলকাতা
প্রকাশ: ৩ মে ২০২৬, ০৪:২৪ পিএম

পশ্চিমবঙ্গ: সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেলো নির্বাচন কমিশন

পশ্চিমবঙ্গের ভোট পরিচালনা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে তৈরি হওয়া বিতর্কে বড় মোড় এনে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের ওপর নির্ভর করা যাবে না। বরং ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ভোটগণনা; দুই ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় কর্মীদের সমন্বয় বাধ্যতামূলক।

এই নির্দেশ কার্যত সেই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যেখানে বলা হয়েছিল এবার রাজ্য সরকারের কর্মীরা ভোটের কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং শুধুমাত্র কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কর্মীরাই পুরো প্রক্রিয়া সামলাবেন।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই একাধিক পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। শুনানিতে আদালত জানায় নির্বাচন একটি যৌথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে রাজ্য প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া সংবিধানের ভাবনার পরিপন্থী।

আদালত আরও জানায়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত গাইডলাইন অনুযায়ী কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা বাধ্যতামূলক এবং এই সমন্বয় শুধু ভোট নেওয়ার সময় নয়, ভোটগণনার সময়ও সমানভাবে প্রযোজ্য। এতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকে বলেই আদালতের মত।

আদালতের এই স্পষ্ট অবস্থানের পর রাজনৈতিক মহলেও জোর প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, এই নির্দেশ তাদের অবস্থানকেই সঠিক প্রমাণ করেছে এবং রাজ্যের প্রশাসনিক ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে।  ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও বিশদ প্রতিক্রিয়া না এলেও, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে নির্বাচন পরিচালনায় একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে চলার বিষয়েও কড়াকড়ি বাড়বে। সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বার্তা স্পষ্ট; গণতন্ত্রে ভারসাম্য রক্ষা করেই ভোটের প্রতিটি ধাপ, ভোটগ্রহণ হোক বা ভোটগণনা, সম্পন্ন করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

রোববার, ০৩ মে ২০২৬


পশ্চিমবঙ্গ: সুপ্রিম কোর্টে ধাক্কা খেলো নির্বাচন কমিশন

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

পশ্চিমবঙ্গের ভোট পরিচালনা নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে তৈরি হওয়া বিতর্কে বড় মোড় এনে দিল সুপ্রিম কোর্ট। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র কেন্দ্রীয় কর্মীদের ওপর নির্ভর করা যাবে না। বরং ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ভোটগণনা; দুই ক্ষেত্রেই রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় কর্মীদের সমন্বয় বাধ্যতামূলক।

এই নির্দেশ কার্যত সেই বিতর্কিত বিজ্ঞপ্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে, যেখানে বলা হয়েছিল এবার রাজ্য সরকারের কর্মীরা ভোটের কাজে যুক্ত থাকতে পারবেন না এবং শুধুমাত্র কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত কর্মীরাই পুরো প্রক্রিয়া সামলাবেন।

এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই একাধিক পক্ষ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়। শুনানিতে আদালত জানায় নির্বাচন একটি যৌথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, যেখানে রাজ্য প্রশাসনকে সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া সংবিধানের ভাবনার পরিপন্থী।

আদালত আরও জানায়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত গাইডলাইন অনুযায়ী কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সমন্বয় বজায় রাখা বাধ্যতামূলক এবং এই সমন্বয় শুধু ভোট নেওয়ার সময় নয়, ভোটগণনার সময়ও সমানভাবে প্রযোজ্য। এতে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় থাকে বলেই আদালতের মত।

আদালতের এই স্পষ্ট অবস্থানের পর রাজনৈতিক মহলেও জোর প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস দাবি করেছে, এই নির্দেশ তাদের অবস্থানকেই সঠিক প্রমাণ করেছে এবং রাজ্যের প্রশাসনিক ভূমিকার স্বীকৃতি দিয়েছে।  ভারতের কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির পক্ষ থেকে এখনও বিশদ প্রতিক্রিয়া না এলেও, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায়ের ফলে ভবিষ্যতে নির্বাচন পরিচালনায় একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেকটাই কঠিন হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে চলার বিষয়েও কড়াকড়ি বাড়বে। সব মিলিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বার্তা স্পষ্ট; গণতন্ত্রে ভারসাম্য রক্ষা করেই ভোটের প্রতিটি ধাপ, ভোটগ্রহণ হোক বা ভোটগণনা, সম্পন্ন করতে হবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত