সংবাদ

প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মধুপুরের আনারস


প্রতিনিধি,  মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রতিনিধি, মধুপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: ৬ মে ২০২৬, ০২:২৯ পিএম

প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মধুপুরের আনারস
বিক্রির অপেক্ষায় ভ্যানে সাজিয়ে রাখা রসালো আনারস। ছবি : সংবাদ

মধুপুর শালবন আর আনারসের জনপদ বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল মাটির মধুপুর গড়। এখানকার আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতি আনারস চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। সমতল ও উঁচু ভূমি হওয়ায় এখানে বন্যার পানি ওঠে না, আবার ‘বাইদ’ বা ছোট নালা দিয়ে পানি সরে যাওয়ায় জলাবদ্ধতাও হয় না। মাটির বিশেষ গুণের কারণে এখানে আনারস ও কলার ফলন হয় চমৎকার। 

দেশজুড়ে মধুপুরের আনারসের খ্যাতি থাকলেও কেবল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের অভাবে কৃষকেরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় চাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এখানে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে উঠলে জুস ও জেলি বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

ঘাটাইলের চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, মধুপুরে কারখানা হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে, আনারসও নষ্ট হবে না। পরিবহন খরচ কমবে এবং তারা সঠিক দাম পাবে।

মধুপুরে আনারস চাষের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ষাটের দশকের শেষ দিকে আউশনারা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের গারো নারী

ভেরেনা সাংমা ভারত থেকে ‘জায়ান্ট কিউ’ জাতের আনারসের কয়েকটি চারা নিয়ে আসেন। তার হাত ধরেই গড়াঞ্চলে আনারস চাষের বিপ্লব শুরু হয়। এখন জায়ান্ট কিউয়ের

পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের ‘জলডুগি’ জাতের চাষও হচ্ছে।

তবে বাজার ব্যবস্থার সিন্ডিকেট ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবকে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখছেন চাষিরা। কৃষক আরশেদ আলীর মতে, এলাকায় গ্যাস সংযোগ ও সরকারি উদ্যোগে কারখানা স্থাপন করা গেলে কৃষকেরা সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পেতেন। এতে এলাকার ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হতো।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, মধুপুরে আরও আগেই শিল্পকারখানা হওয়া উচিত ছিল। কারখানা হলে আনারস থেকে জুস, জেলি ও বিস্কুটসহ নানা পণ্য তৈরি করা সম্ভব হতো। এতে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষকেরাও লাভবান হতেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, চলতি মৌসুমে মধুপুরে ৬ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জলডুগি ৩২৪ হেক্টর এবং ক্যালেন্ডার জাতের আনারস চাষ হয়েছে ৬ হাজার ১২৫ হেক্টরে। এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে এমডি-টু জাতের আনারসও লাগানো হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর মধুপুরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আনারস বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বিশাল সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবে নষ্ট হচ্ছে মধুপুরের আনারস

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

মধুপুর শালবন আর আনারসের জনপদ বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে লাল মাটির মধুপুর গড়। এখানকার আবহাওয়া ও ভূপ্রকৃতি আনারস চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। সমতল ও উঁচু ভূমি হওয়ায় এখানে বন্যার পানি ওঠে না, আবার ‘বাইদ’ বা ছোট নালা দিয়ে পানি সরে যাওয়ায় জলাবদ্ধতাও হয় না। মাটির বিশেষ গুণের কারণে এখানে আনারস ও কলার ফলন হয় চমৎকার। 

দেশজুড়ে মধুপুরের আনারসের খ্যাতি থাকলেও কেবল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রের অভাবে কৃষকেরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

স্থানীয় চাষি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এখানে প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র গড়ে উঠলে জুস ও জেলি বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব।

ঘাটাইলের চাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, মধুপুরে কারখানা হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে, আনারসও নষ্ট হবে না। পরিবহন খরচ কমবে এবং তারা সঠিক দাম পাবে।

মধুপুরে আনারস চাষের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ষাটের দশকের শেষ দিকে আউশনারা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের গারো নারী

ভেরেনা সাংমা ভারত থেকে ‘জায়ান্ট কিউ’ জাতের আনারসের কয়েকটি চারা নিয়ে আসেন। তার হাত ধরেই গড়াঞ্চলে আনারস চাষের বিপ্লব শুরু হয়। এখন জায়ান্ট কিউয়ের

পাশাপাশি পার্বত্য অঞ্চলের ‘জলডুগি’ জাতের চাষও হচ্ছে।

তবে বাজার ব্যবস্থার সিন্ডিকেট ও প্রক্রিয়াজাতকরণের অভাবকে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেখছেন চাষিরা। কৃষক আরশেদ আলীর মতে, এলাকায় গ্যাস সংযোগ ও সরকারি উদ্যোগে কারখানা স্থাপন করা গেলে কৃষকেরা সিন্ডিকেটের হাত থেকে রক্ষা পেতেন। এতে এলাকার ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হতো।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জুবায়ের হোসেন বলেন, মধুপুরে আরও আগেই শিল্পকারখানা হওয়া উচিত ছিল। কারখানা হলে আনারস থেকে জুস, জেলি ও বিস্কুটসহ নানা পণ্য তৈরি করা সম্ভব হতো। এতে বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কৃষকেরাও লাভবান হতেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা জানান, চলতি মৌসুমে মধুপুরে ৬ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। এর মধ্যে জলডুগি ৩২৪ হেক্টর এবং ক্যালেন্ডার জাতের আনারস চাষ হয়েছে ৬ হাজার ১২৫ হেক্টরে। এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে এমডি-টু জাতের আনারসও লাগানো হয়েছে।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এ বছর মধুপুরে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার আনারস বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বিশাল সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হলে আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র স্থাপনের কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত