সংবাদ

গরমে স্বস্তি দিচ্ছে মহন জল দাসের হাতপাখা


প্রতিনিধি, ফেনী
প্রতিনিধি, ফেনী
প্রকাশ: ৬ মে ২০২৬, ০১:১১ পিএম

গরমে স্বস্তি দিচ্ছে মহন জল দাসের হাতপাখা
মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলায় হাতপাখা তৈরিতে ব্যস্ত সময় কাটছে জেলে পরিবারের। ছবি : সংবাদ

ফেনীর সোনাগাজীতে ঘনঘন লোডশেডিং আর তীব্র গরমে হাতপাখার চাহিদা বেড়েছে। বিক্রিও ভালো হয়।

সাগরে মাছ ধরায় ৫৮দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় হাতপাখায় ভাগ্যের চাকা ঘুরছে শ্রী মহন জল দাসের। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় তিনি হাতপাখা বানিয়ে বিক্রি করে থাকেন। তার তৈরী করা হাতপাখা পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন।

শ্রী মহন জল দাস (৫৮) এর বাড়ি উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের বড় ফেনী নদী উপকূলীয় দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়ার জেলেপাড়া এলাকায়। সংসারে স্ত্রী ও চার ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে অভাবে কারনে ছেলে-মেয়েদেরকে পঞ্চম শ্রেণির বেশি লেখাপড়া করাতে পারেননি। মেয়েরা বাড়ির কাজ করে ও ছেলেরা নদীতে মাছ ধরে।

সরেজমিনে উপজেলার জেলেপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির ভেতরে ঘরের সামনের সড়কের পাশে বসে মহন জল দাস ও তার স্ত্রী স্বর্ণা রানী জল দাস হাতপাখা তৈরী করছেন। এই পাখা কিনছেন পথচারীরা। কেউ রিকশা থামিয়ে, কেউ মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে, আবার কেউবা হাঁটতে গিয়ে পাখা নেড়েচেড়ে দেখে দরদাম করে কিনছেন।

মহন জলদাস বলেন, তার কাছে কয়েক ধরনের পাখা রয়েছে। তালপাতা, বাঁশের চাটাই, কাপড়ের ওপর নকশাখচিত পাখা। এর মধ্যে তালপাতা ও বাঁশের তৈরী পাখা বেশি বিক্রি হয়। মানভেদে প্রতিটি পাখার দাম ১২০-২৫০ টাকা।

দীর্ঘ ৩০ বছরের পাখা বানানোর অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে মহন জল দাস জানান, তারা জেলে পরিবারের সন্তান এবং তাদের মূল পেশা নদীতে মাছ শিকার করা। কিন্তু গত ৩০ বছর ধরে নদী ও সাগরে যখনই সরকারিভাবে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আসে, তখনই বসে না থেকে স্ত্রীর কাছ থেকে শিখে বাঁশ, সুতা, কাপড়সহ হাতপাখা তৈরীর সরঞ্জাম কিনে এনে স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে হাতপাখা বানানো শুরু করেন। এখনও নদী ও সাগরে ৫৮দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। এসময়ে সরকারের সাহায্যের আশায় বসে না থেকে নিজের তৈরী করা পাখা বিক্রি করেই তারা সংসারের চালাচ্ছে।

মহন জল দাসের স্ত্রী স্বর্ণা রানী জলদাস বলেন, স্বামী ও ছেলেরা নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকলেও তিনি বছরের বারো মাসই হাতপাখা তৈরী করে ঘরে জমিয়ে রাখেন। গরমের মৌসুম শুরু হলে হাতপাখাগুলোকে ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করে বিক্রি করেন। এই পাখা তিনি জেলেপাড়া, সোনাগাজী পৌরশহর ও জোরারগঞ্জ বাজার এলাকায় বিক্রি করে থাকেন। গত দেড় মাসে তারা প্রায় ২০০ হাতপাখা বিক্রি করেছেন। খরচ বাদ দিয়ে এতে তাদের প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা আয় হয়েছে।

পাখা কিনতে আসা ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে টিকে থাকা দায়। তাই ৫৮০ টাকা দিয়ে তিনি তিনটি হাতপাখা কিনেছেন।

চর খোন্দকার এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আগে তো এই হাতপাখাই ভরসা ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের কারনে মানুষের জীবনও পাল্টে গেছে। অভ্যাসও পরিবর্তন হয়েছে। তাই এখন হয়তো হাতপাখার খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এরপরও তীব্র গরমে লোডশেড়িংয়ের কারনে গরম থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে দুটি পাখা কিনেছেন তিনি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার পাল বলেন, শ্রী মহন জল দাস নিবন্ধিত জেলে হলেও তিনি নদীতে মাছ ধরেন। সমুদ্রগামী জেলে না হওয়ায় বন্ধের সময় সরকারি সহায়তার আওতায় তার নাম নেই। তবে বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য সযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬


গরমে স্বস্তি দিচ্ছে মহন জল দাসের হাতপাখা

প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬

featured Image

ফেনীর সোনাগাজীতে ঘনঘন লোডশেডিং আর তীব্র গরমে হাতপাখার চাহিদা বেড়েছে। বিক্রিও ভালো হয়।

সাগরে মাছ ধরায় ৫৮দিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় হাতপাখায় ভাগ্যের চাকা ঘুরছে শ্রী মহন জল দাসের। দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে নদীতে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় তিনি হাতপাখা বানিয়ে বিক্রি করে থাকেন। তার তৈরী করা হাতপাখা পৌর শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন।

শ্রী মহন জল দাস (৫৮) এর বাড়ি উপজেলার চর চান্দিয়া ইউনিয়নের বড় ফেনী নদী উপকূলীয় দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়ার জেলেপাড়া এলাকায়। সংসারে স্ত্রী ও চার ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে অভাবে কারনে ছেলে-মেয়েদেরকে পঞ্চম শ্রেণির বেশি লেখাপড়া করাতে পারেননি। মেয়েরা বাড়ির কাজ করে ও ছেলেরা নদীতে মাছ ধরে।

সরেজমিনে উপজেলার জেলেপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির ভেতরে ঘরের সামনের সড়কের পাশে বসে মহন জল দাস ও তার স্ত্রী স্বর্ণা রানী জল দাস হাতপাখা তৈরী করছেন। এই পাখা কিনছেন পথচারীরা। কেউ রিকশা থামিয়ে, কেউ মোটরসাইকেল দাঁড় করিয়ে, আবার কেউবা হাঁটতে গিয়ে পাখা নেড়েচেড়ে দেখে দরদাম করে কিনছেন।

মহন জলদাস বলেন, তার কাছে কয়েক ধরনের পাখা রয়েছে। তালপাতা, বাঁশের চাটাই, কাপড়ের ওপর নকশাখচিত পাখা। এর মধ্যে তালপাতা ও বাঁশের তৈরী পাখা বেশি বিক্রি হয়। মানভেদে প্রতিটি পাখার দাম ১২০-২৫০ টাকা।

দীর্ঘ ৩০ বছরের পাখা বানানোর অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে মহন জল দাস জানান, তারা জেলে পরিবারের সন্তান এবং তাদের মূল পেশা নদীতে মাছ শিকার করা। কিন্তু গত ৩০ বছর ধরে নদী ও সাগরে যখনই সরকারিভাবে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা আসে, তখনই বসে না থেকে স্ত্রীর কাছ থেকে শিখে বাঁশ, সুতা, কাপড়সহ হাতপাখা তৈরীর সরঞ্জাম কিনে এনে স্বামী-স্ত্রী দুজন মিলে হাতপাখা বানানো শুরু করেন। এখনও নদী ও সাগরে ৫৮দিনের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা চলছে। এসময়ে সরকারের সাহায্যের আশায় বসে না থেকে নিজের তৈরী করা পাখা বিক্রি করেই তারা সংসারের চালাচ্ছে।

মহন জল দাসের স্ত্রী স্বর্ণা রানী জলদাস বলেন, স্বামী ও ছেলেরা নদীতে মাছ শিকারে ব্যস্ত থাকলেও তিনি বছরের বারো মাসই হাতপাখা তৈরী করে ঘরে জমিয়ে রাখেন। গরমের মৌসুম শুরু হলে হাতপাখাগুলোকে ধুয়ে-মুছে পরিস্কার করে বিক্রি করেন। এই পাখা তিনি জেলেপাড়া, সোনাগাজী পৌরশহর ও জোরারগঞ্জ বাজার এলাকায় বিক্রি করে থাকেন। গত দেড় মাসে তারা প্রায় ২০০ হাতপাখা বিক্রি করেছেন। খরচ বাদ দিয়ে এতে তাদের প্রায় ১৫-২০ হাজার টাকা আয় হয়েছে।

পাখা কিনতে আসা ক্রেতা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রচন্ড গরমে বিদ্যুৎ চলে গেলে টিকে থাকা দায়। তাই ৫৮০ টাকা দিয়ে তিনি তিনটি হাতপাখা কিনেছেন।

চর খোন্দকার এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আগে তো এই হাতপাখাই ভরসা ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের কারনে মানুষের জীবনও পাল্টে গেছে। অভ্যাসও পরিবর্তন হয়েছে। তাই এখন হয়তো হাতপাখার খুব একটা প্রয়োজন হয় না। এরপরও তীব্র গরমে লোডশেড়িংয়ের কারনে গরম থেকে কিছুটা রক্ষা পেতে দুটি পাখা কিনেছেন তিনি।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার পাল বলেন, শ্রী মহন জল দাস নিবন্ধিত জেলে হলেও তিনি নদীতে মাছ ধরেন। সমুদ্রগামী জেলে না হওয়ায় বন্ধের সময় সরকারি সহায়তার আওতায় তার নাম নেই। তবে বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য সযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত