দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য এবং অনিরাপদ কর্মপরিবেশের বাস্তবতায় বাংলাদেশে গৃহশ্রমিক ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষ এখনও মৌলিক শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত। ন্যায্য মজুরি, সামাজিক স্বীকৃতি এবং আইনি সুরক্ষার অভাবে তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে যা আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার আলোচনায়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সামনে গৃহশ্রমিক ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষের শ্রম অধিকার, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবিতে র্যা লি ও সমাবেশ হয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অংশগ্রহণকারীরা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আশার আলো সোসাইটি,সহায় এবং নারী মৈত্রী যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন এবং ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় পরিচালিত ‘ECSAP’ প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়িত হয়, যেখানে আমরাই পারি জোটসহ বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন যুক্ত রয়েছে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জানান, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, হয়রানি ও সহিংসতা তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। লিঙ্গ বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান, সমান কাজের জন্য সমান মজুরি এবং শ্রম আইন ও নীতিমালায় তাদের স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অন্যদিকে গৃহশ্রমিকরা শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম, ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা গৃহকর্মীদের নিবন্ধন, একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ তৈরি এবং দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তার দাবিও তোলেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে গৃহশ্রমিক ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষের শ্রম অধিকার এখনো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। যদিও নীতিগত আলোচনা হয়েছে তবে বাস্তবায়নের ঘাটতি রয়ে গেছে। আয়োজকরা জানান, ECSAP প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক নারী, দলিত, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, লিঙ্গ বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমের মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবসে লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠীর দাবি:-
•সকল লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠীর জন্য বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে
•কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে
•সমান কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করতে হবে
•শ্রম আইন ও নীতিমালায় লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
•স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
•লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় শ্রমিকদের মর্যাদা ও মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে
আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবসে গৃহশ্রমিকদের দাবি :-
•শ্রম আইনে অর্ন্তভুক্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তর সমূহকে কার্যকরী ব্যাবস্থা নিতে হবে ।
•গৃহকর্মীদের কাজের সময়সীমা, বিশ্রাম, বিনোদন, বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সুদূঢ় আইনি কাঠামো তৈরি করা;
•গৃহকর্মে নিয়োজিত গৃহকর্মীদের নিবন্ধন ও তথ্যগুলো রক্ষনাবেক্ষন সরকারের মনিটরিং সেল থেকে নিশ্চিত করা;
•গৃহকর্মীদের শহরে কাজে পাঠানোর আগে নিজ ইউনিয়নে ও থানায় নিবন্ধন করা বাধ্যতা মূলক করতে হবে।
•গৃহকর্মীরা গৃহকাজে নিযুক্ত অবস্থায় কোন প্রকার অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে তার চিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিয়োগ কর্তা ও শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশন থেকে করা।
সরকারি উদ্যোগে গৃহকর্মীদের একটি ডাটা বেইজ তৈরি করতে হবে। এতে করে গৃহকর্মী ও নিয়োগকর্তার নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে বলে সমাবেশ থেকে বলা হয়।

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬
দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, বৈষম্য এবং অনিরাপদ কর্মপরিবেশের বাস্তবতায় বাংলাদেশে গৃহশ্রমিক ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষ এখনও মৌলিক শ্রম অধিকার থেকে বঞ্চিত। ন্যায্য মজুরি, সামাজিক স্বীকৃতি এবং আইনি সুরক্ষার অভাবে তাদের জীবনে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকি নিত্যসঙ্গী হয়ে আছে যা আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার আলোচনায়ও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এই প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আজ জাতীয় প্রেসক্লাব-এর সামনে গৃহশ্রমিক ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষের শ্রম অধিকার, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিতের দাবিতে র্যা লি ও সমাবেশ হয়। ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত অংশগ্রহণকারীরা এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন এবং তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
আশার আলো সোসাইটি,সহায় এবং নারী মৈত্রী যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন এবং ক্রিশ্চিয়ান এইডের সহায়তায় পরিচালিত ‘ECSAP’ প্রকল্পের আওতায় এটি বাস্তবায়িত হয়, যেখানে আমরাই পারি জোটসহ বিভিন্ন স্থানীয় সংগঠন যুক্ত রয়েছে।
সমাবেশে অংশগ্রহণকারীরা জানান, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য, হয়রানি ও সহিংসতা তাদের নিত্যদিনের বাস্তবতা। লিঙ্গ বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান, সমান কাজের জন্য সমান মজুরি এবং শ্রম আইন ও নীতিমালায় তাদের স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অন্যদিকে গৃহশ্রমিকরা শ্রম আইনে অন্তর্ভুক্তি, নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টা, বিশ্রাম, ন্যায্য পারিশ্রমিক এবং সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। তারা গৃহকর্মীদের নিবন্ধন, একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইজ তৈরি এবং দুর্ঘটনা বা অসুস্থতার ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণের নিশ্চয়তার দাবিও তোলেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, বাংলাদেশে গৃহশ্রমিক ও লিঙ্গ বৈচিত্র্যের মানুষের শ্রম অধিকার এখনো কাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। যদিও নীতিগত আলোচনা হয়েছে তবে বাস্তবায়নের ঘাটতি রয়ে গেছে। আয়োজকরা জানান, ECSAP প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক নারী, দলিত, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, লিঙ্গ বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠী এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অধিকার নিশ্চিতে কাজ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় এই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমের মর্যাদা ও সমান অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তারা সরকারের কাছে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবসে লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠীর দাবি:-
•সকল লিঙ্গীয় বৈচিত্র্যের জনগোষ্ঠীর জন্য বৈষম্যহীন কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে
•কর্মক্ষেত্রে হয়রানি ও সহিংসতা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে
•সমান কাজের জন্য সমান মজুরি নিশ্চিত করতে হবে
•শ্রম আইন ও নীতিমালায় লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীর স্বীকৃতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে
•স্বাস্থ্য, সামাজিক নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে
•লিঙ্গ বৈচিত্র্যময় শ্রমিকদের মর্যাদা ও মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে
আর্ন্তজাতিক শ্রমিক দিবসে গৃহশ্রমিকদের দাবি :-
•শ্রম আইনে অর্ন্তভুক্তির বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় ও অধিদপ্তর সমূহকে কার্যকরী ব্যাবস্থা নিতে হবে ।
•গৃহকর্মীদের কাজের সময়সীমা, বিশ্রাম, বিনোদন, বেতন ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য সুদূঢ় আইনি কাঠামো তৈরি করা;
•গৃহকর্মে নিয়োজিত গৃহকর্মীদের নিবন্ধন ও তথ্যগুলো রক্ষনাবেক্ষন সরকারের মনিটরিং সেল থেকে নিশ্চিত করা;
•গৃহকর্মীদের শহরে কাজে পাঠানোর আগে নিজ ইউনিয়নে ও থানায় নিবন্ধন করা বাধ্যতা মূলক করতে হবে।
•গৃহকর্মীরা গৃহকাজে নিযুক্ত অবস্থায় কোন প্রকার অসুস্থ হলে বা দুর্ঘটনার শিকার হলে তার চিকিৎসা এবং ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিয়োগ কর্তা ও শ্রমিক কল্যান ফাউন্ডেশন থেকে করা।
সরকারি উদ্যোগে গৃহকর্মীদের একটি ডাটা বেইজ তৈরি করতে হবে। এতে করে গৃহকর্মী ও নিয়োগকর্তার নিরাপত্তা সুরক্ষিত হবে বলে সমাবেশ থেকে বলা হয়।

আপনার মতামত লিখুন