সিলেটের পাথরকোয়ারিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে বেকার সময় কাটাচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমিক। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা সরকার গঠন করলে পাথরকোয়ারি সনাতন পদ্ধতিতে খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক আহ্বান করেছে। এত করে পাদর শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা আশার ও সঞ্চার হয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ- এর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন জাফলং বল্লাঘাট পাথর ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন খাঁন।
সংবাদ: সিলেটের পাথরকোয়ারিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি আপনি কীভাবে দেখছেন?
আনোয়ার হোসেন : বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময়। সিলেট অঞ্চলের পাথরকোয়ারিগুলো শুধু ব্যবসার জায়গা নয়, এগুলো হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকার উৎস। দীর্ঘদিন ধরে এসব কোয়ারি বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন, আর স্থানীয় অর্থনীতি স্থবির হয়ে গেছে। এটি এখন শুধুমাত্র একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং একটি মানবিক সংকটেও পরিণত হয়েছে।
সংবাদ: মন্ত্রী হওয়ার আগে আরিফুল হক চৌধুরী পাথরকোয়ারি খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
আনোয়ার হোসেন: হ্যাঁ, তিনি স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে সরকারে গেলে পাথরকোয়ারি খোলার ব্যবস্থা করবেন। আমরা সেই প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখেই অপেক্ষা করেছি। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি কিছু আশ্বাস পাওয়া গেছে, যা আমাদের মধ্যে সামান্য আশা তৈরি করেছে। তবে আমরা মনে করি, শুধু আশ্বাস নয়- বাস্তব পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সংবাদ: এই খাতের সঙ্গে কত মানুষের জীবিকা জড়িত বলে আপনি মনে করেন?
আনোয়ার হোসেন: সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষ এই খাতের সঙ্গে জড়িত। শুধু শ্রমিকই নয়- ড্রাইভার, শ্রমিক সরবরাহকারী, ছোট ব্যবসায়ী, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, এমনকি পরিবহন খাতও এর ওপর নির্ভরশীল। ফলে পাথরকোয়ারি বন্ধ থাকলে এর প্রভাব বহুমাত্রিকভাবে পড়ে।
সংবাদ: পরিবেশগত কারণে অনেক সময় এসব কোয়ারি বন্ধ রাখা হয়। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?
আনোয়ার হোসেন: আমরা পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার করি না। বরং আমরা চাই একটি সুষম সমাধান, যেখানে পরিবেশও রক্ষা পাবে, আবার মানুষের জীবিকাও নিশ্চিত হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং সঠিক নীতিমালা মেনে পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব। সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
সংবাদ: সরকার থেকে সম্প্রতি যে আশ্বাস পাওয়া গেছে, সেটি আপনি কতটা ইতিবাচকভাবে দেখছেন?
আনোয়ার হোসেন: আশ্বাস অবশ্যই ইতিবাচক একটি দিক। তবে আমরা আগেও অনেক আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আমরা চাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
সংবাদ: পাথরকেয়ারি চালু হলে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আপনি মনে করেন?
আনোয়ার হোসেন: সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে কর্মসংস্থানে। হাজার হাজার শ্রমিক আবার কাজে ফিরতে পারবেন। স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে, ছোট ব্যবসাগুলো আবার সচল হবে। সামগ্রিকভাবে সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।
সংবাদ: বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অবস্থা কেমন?
আনোয়ার হোসেন: খুবই করুণ। অনেক শ্রমিক অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছেন, কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। অনেক পরিবারে অভাব-অনটন দেখা দিয়েছে। শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সামাজিক সমস্যা আরও বাড়বে।
সংবাদ: আপনার সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারকে কী বার্তা দিতে চান?
আনোয়ার হোসেন: আমাদের একটাই দাবি- দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত। আমরা চাই একটি সমন্বিত নীতিমালা, যেখানে পরিবেশ, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবিকা-সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। শুধু প্রয়োজন আন্তরিকতা এবং বাস্তবায়নের সদিচ্ছা।
সংবাদ: ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার আশা কী?
আনোয়ার হোসেন: আমরা আশাবাদী হতে চাই। কারণ এই খাতটি শুধু একটি ব্যবসা নয়, এটি একটি অঞ্চলের জীবনরেখা। যদি সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে খুব দ্রুতই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি, যখন আবার পাথরকোয়ারিগুলো চালু হবে এবং মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে।

বুধবার, ০৬ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মে ২০২৬
সিলেটের পাথরকোয়ারিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে বেকার সময় কাটাচ্ছেন হাজার হাজার শ্রমিক। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরাও। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সিলেট-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারা সরকার গঠন করলে পাথরকোয়ারি সনাতন পদ্ধতিতে খুলে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার (৭ মে) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক আহ্বান করেছে। এত করে পাদর শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটা আশার ও সঞ্চার হয়েছে। এ বিষয়ে সংবাদ- এর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলেছেন জাফলং বল্লাঘাট পাথর ব্যবসায়ী বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন খাঁন।
সংবাদ: সিলেটের পাথরকোয়ারিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি আপনি কীভাবে দেখছেন?
আনোয়ার হোসেন : বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময়। সিলেট অঞ্চলের পাথরকোয়ারিগুলো শুধু ব্যবসার জায়গা নয়, এগুলো হাজার হাজার শ্রমিকের জীবিকার উৎস। দীর্ঘদিন ধরে এসব কোয়ারি বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন, ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন, আর স্থানীয় অর্থনীতি স্থবির হয়ে গেছে। এটি এখন শুধুমাত্র একটি অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, বরং একটি মানবিক সংকটেও পরিণত হয়েছে।
সংবাদ: মন্ত্রী হওয়ার আগে আরিফুল হক চৌধুরী পাথরকোয়ারি খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এ বিষয়ে আপনার মতামত কী?
আনোয়ার হোসেন: হ্যাঁ, তিনি স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে সরকারে গেলে পাথরকোয়ারি খোলার ব্যবস্থা করবেন। আমরা সেই প্রতিশ্রুতির ওপর আস্থা রেখেই অপেক্ষা করেছি। কিন্তু এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি কিছু আশ্বাস পাওয়া গেছে, যা আমাদের মধ্যে সামান্য আশা তৈরি করেছে। তবে আমরা মনে করি, শুধু আশ্বাস নয়- বাস্তব পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।
সংবাদ: এই খাতের সঙ্গে কত মানুষের জীবিকা জড়িত বলে আপনি মনে করেন?
আনোয়ার হোসেন: সরাসরি ও পরোক্ষভাবে লক্ষাধিক মানুষ এই খাতের সঙ্গে জড়িত। শুধু শ্রমিকই নয়- ড্রাইভার, শ্রমিক সরবরাহকারী, ছোট ব্যবসায়ী, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, এমনকি পরিবহন খাতও এর ওপর নির্ভরশীল। ফলে পাথরকোয়ারি বন্ধ থাকলে এর প্রভাব বহুমাত্রিকভাবে পড়ে।
সংবাদ: পরিবেশগত কারণে অনেক সময় এসব কোয়ারি বন্ধ রাখা হয়। এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?
আনোয়ার হোসেন: আমরা পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব অস্বীকার করি না। বরং আমরা চাই একটি সুষম সমাধান, যেখানে পরিবেশও রক্ষা পাবে, আবার মানুষের জীবিকাও নিশ্চিত হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং সঠিক নীতিমালা মেনে পাথর উত্তোলন করলে পরিবেশের ক্ষতি কমানো সম্ভব। সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না।
সংবাদ: সরকার থেকে সম্প্রতি যে আশ্বাস পাওয়া গেছে, সেটি আপনি কতটা ইতিবাচকভাবে দেখছেন?
আনোয়ার হোসেন: আশ্বাস অবশ্যই ইতিবাচক একটি দিক। তবে আমরা আগেও অনেক আশ্বাস পেয়েছি, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি। তাই আমরা চাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক। একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন দেখতে চাই।
সংবাদ: পাথরকেয়ারি চালু হলে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে আপনি মনে করেন?
আনোয়ার হোসেন: সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে কর্মসংস্থানে। হাজার হাজার শ্রমিক আবার কাজে ফিরতে পারবেন। স্থানীয় বাজারে অর্থের প্রবাহ বাড়বে, ছোট ব্যবসাগুলো আবার সচল হবে। সামগ্রিকভাবে সিলেট অঞ্চলের অর্থনীতি নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।
সংবাদ: বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের অবস্থা কেমন?
আনোয়ার হোসেন: খুবই করুণ। অনেক শ্রমিক অন্য পেশায় যেতে বাধ্য হয়েছেন, কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। অনেক পরিবারে অভাব-অনটন দেখা দিয়েছে। শিশুদের পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, স্বাস্থ্যসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সামাজিক সমস্যা আরও বাড়বে।
সংবাদ: আপনার সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারকে কী বার্তা দিতে চান?
আনোয়ার হোসেন: আমাদের একটাই দাবি- দ্রুত কার্যকর সিদ্ধান্ত। আমরা চাই একটি সমন্বিত নীতিমালা, যেখানে পরিবেশ, অর্থনীতি এবং মানুষের জীবিকা-সবকিছুর মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। আমরা সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছি। শুধু প্রয়োজন আন্তরিকতা এবং বাস্তবায়নের সদিচ্ছা।
সংবাদ: ভবিষ্যৎ নিয়ে আপনার আশা কী?
আনোয়ার হোসেন: আমরা আশাবাদী হতে চাই। কারণ এই খাতটি শুধু একটি ব্যবসা নয়, এটি একটি অঞ্চলের জীবনরেখা। যদি সরকার সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে খুব দ্রুতই পরিস্থিতি বদলানো সম্ভব। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি, যখন আবার পাথরকোয়ারিগুলো চালু হবে এবং মানুষ তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবে।

আপনার মতামত লিখুন