সংবাদ

৫০ নারী এমপির ৩৭ জনই কোটিপতি পরিবারের


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ৭ মে ২০২৬, ১০:১৫ পিএম

৫০ নারী এমপির ৩৭ জনই কোটিপতি পরিবারের
জাতীয় সংসদ ভবন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যদের (এমপি) মধ্যে ৩৭ জনই কোটিপতি পরিবারের সদস্য। এ হিসেবে ৭৪ শতাংশ এমপি কোটিপতি পরিবারের সদস্য। নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে ৪৪ জন বা ৮৮ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)।

যে ৩৭ এমপির পরিবারের সম্পদ কোটি টাকার ওপরে তাদের মধ্যে বিএনপির আছেন ২৭ জন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের ১০ জন।

এই ৩৭ জন এমপির মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার ওপরে সম্পদ রয়েছে ২০ জনের পরিবারের। এক থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদ রয়েছে ১৭ জনের পরিবারের।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’। 

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পাশপাশি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন প্রার্থীরা। সেখানে প্রার্থীদের পাশাপাশি নির্ভরশীলদের তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। ওই হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য তুলে ধরে সুজন। মনোনয়নকে কার্যকর ও অর্থবহ করার জন্য কতগুলো শর্ত পূরণ করার সুপরিশও করেছে এই সংগঠন।

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। আরও উপস্থিত ছিলেন সুজনের ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী এবং কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সজল কোরায়েশী।

সুজনের ওয়েবসাইটে বলা আছে, দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সব স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নারী এমপিদের ২০ জনের পরিবারের পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন বিএনপির, ১ জন জামায়াত জোটের। পরিবারের সম্পদ এক থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত দেখিয়েছেন ১৭ জন। এর মধ্যে বিএনপির ৮ জন, জামায়াত জোটের ৯ জন। পাঁচ লাখের নিচে সম্পদ রয়েছে দুজনের, তাদের একজন বিএনপির, আরেকজন জামায়াত জোটের। এ ছাড়া বিএনপির একজন সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেননি।

৮৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত: নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন বা  ৮৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)।  এর মধ্যে ৩০ জন স্নাতকোত্তর এবং ১৪ জন স্নাতক। উচ্চশিক্ষিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিএনপির ৩২ জন আর জামায়াত জোটের ১১ জন। স্বতন্ত্র জোট থেকে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্যও উচ্চশিক্ষিত। এর বাইরে দুজন নিজেদের স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেছেন আর একজন শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেননি। তারা সবাই বিএনপির।

সর্বোচ্চ আয়ের ১০ জনই বিএনপির: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এমপিদের মধ্যে যাদের পরিবারের আয় সবচেয়ে বেশি, তাদের ১০ জনই বিএনপির। এর মধ্যে বছরে কোটি টাকার বেশি আয় করে চারজনের পরিবার। তারা হলেন শামীম আরা বেগম, জহরত আদিব চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা ও আন্না মিনজ। এ ক্ষেত্রেও এমপিদের আয়ের তথ্যের পাশাপাশি নির্ভরশীলদের তথ্য যুক্ত করেছে সুজন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুজন এমপির পরিবার বছরে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আয় করে। তারা দুজনই বিএনপির। বছরে দুই লাখ টাকার কম আয় দুজনের পরিবারের, তারা জামায়াত জোটের। এ ছাড়া ৭ জন এমপি হলফনামায় আয়ের ঘর পূরণ করেননি।

শীর্ষ ঋণগ্রহিতা: নির্বাচিত নারী এমপিদের মধ্যে ১০ জনের পরিবারের ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে। তাদের মধ্যে কোটি টাকার বেশি ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে চারজনের পরিবারের। তাদের সবাই বিএনপির। জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে দুজনের পরিবারের ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে।

যেসব এমপিদের পরিবারের কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে, তারা হলেন সেলিমা রহমান, হেলেন জেরিন খান, শিরীন সুলতানা ও নিপুণ রায় চৌধুরী। তারা সবাই বিএনপির এমপি।

আয়কর তথ্য নেই: সুজনের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচিত এমপিদের ৪০ জনের আয়কর দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১০ জন হলফনামায় আয়কর বিবরণী জমা দেননি। আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া ৪০ জনের মধ্যে বছরে লাখ টাকার বেশি আয়কর দেন, এমন এমপি আছেন ১৩ জন। তাদের মধ্যে ১২ জন বিএনপির, ১ জন জামায়াত জোটের। চারজন বছরে পাঁচ হাজার টাকার কম আয়কর দেন, তাদের একজন বিএনপির, তিনজন জামায়াত জোটের।

আইনজীবী বেশি: ৫০ জন নারী এমপির মধ্যে আইনজীবী ১৩ জন আর ১০ জনের পেশা ব্যবসা। আইনজীবীদের মধ্যে বিএনপির ১১ জন আর ১১-দলীয় জোটের আছেন ২ জন। আর ১০ জন ব্যবসায়ীর সবাই বিএনপির। এ ছাড়া চারজন শিক্ষক, একজন চাকরিজীবী ও পাঁচজন গৃহিণী। পেশা হিসেবে রাজনীতি উল্লেখ করেছেন ছয়জন। এ ছাড়া আটজন বিভিন্ন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। হলফনামায় তিনজন পেশার ঘর পূরণ করেননি।

মামলার আসামি: এমপিদের মধ্যে যে ছয়জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে তারা সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। এ ছাড়া অতীতে মামলা ছিল ২১ জনের বিরুদ্ধে। অতীত ও বর্তমান উভয় সময়ে মামলা ছিল বা রয়েছে এমন সংসদ সদস্যের সংখ্যা চারজন। ৩০২ ধারায় বর্তমানে মামলা রয়েছে একজনের বিরুদ্ধে এবং অতীতেও মামলা ছিল একজনের বিরুদ্ধে।

কোন বয়সের কতজন: নির্বাচিত নারী এমপিদের অর্ধেকের বয়স (২৫ জন) ৩৬ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া ৫৬ থেকে ৭৫ বছর বয়সী আছেন ১৮ জন, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী আছেন ৪ জন, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী আছেন ১ জন। বয়স উল্লেখ করেননি দুজন।

এলাকার প্রতি পক্ষপাতিত্ব: সংবাদ সম্মেলনে সুজন দাবি করে, প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো কোনো এলাকার প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং কোনো কোনো এলাকা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে সংগঠনটি বলে, ঢাকা বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা ১৩টি হলেও এমপি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ১৯ জন। আবার রংপুর বিভাগে জেলার সংখ্যা ৮টি, কিন্তু সেখানে এমপি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ২ জন।

সুজনের সুপারিশ: নারীদের জন্য সংসদে আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে কার্যকর ও অর্থবহ করার জন্য কতগুলো শর্ত পূরণ করার সুপরিশ করেছে সুজন।

শর্তগুলো হলো- সংরক্ষিত নারী আসনের পদ্ধতিটিকে দলীয় নেতৃবৃন্দের অনুগ্রহনির্ভর ‘টোকেনিজমে (লোক দেখানো)’ পরিণত না করে সংসদে পর্যাপ্তসংখ্যক নারী প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা; সংরক্ষিত আসনেও সাধারণ আসনের মতো প্রত্যক্ষ ভোটের নির্বাচনের বিধান করা; জনগণের কাছে সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের দায়বদ্ধতার বিধান তৈরি; এই আসন সংরক্ষণ পদ্ধতি এমন করা, যাতে কোনো দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) না থাকে, এ ক্ষেত্রে ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে সরাসরি আসনভিত্তিক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে; 

সাধারণ আসনের মতো সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব হবে সমান; সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ভিত্তি হবে নারী রাজনীতিবিদের যোগ্যতা; সংরক্ষিত আসনের পদটিকে দলীয় নেতৃবৃন্দ, বিশেষত দলীয় প্রধানের পৃষ্ঠপোষকতা বা অনুগ্রহ বণ্টনের হাতিয়ারে পরিণত না করা এবং নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসনের লক্ষ্য অর্জনের ন্যায়সংগত ধারণা সামনে রেখে সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সাধারণ আসনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে নির্দিষ্ট হারে প্রার্থী মনোনয়নের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬


৫০ নারী এমপির ৩৭ জনই কোটিপতি পরিবারের

প্রকাশের তারিখ : ০৭ মে ২০২৬

featured Image

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যদের (এমপি) মধ্যে ৩৭ জনই কোটিপতি পরিবারের সদস্য। এ হিসেবে ৭৪ শতাংশ এমপি কোটিপতি পরিবারের সদস্য। নির্বাচিত এমপিদের মধ্যে ৪৪ জন বা ৮৮ শতাংশই উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)।

যে ৩৭ এমপির পরিবারের সম্পদ কোটি টাকার ওপরে তাদের মধ্যে বিএনপির আছেন ২৭ জন, জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের ১০ জন।

এই ৩৭ জন এমপির মধ্যে পাঁচ কোটি টাকার ওপরে সম্পদ রয়েছে ২০ জনের পরিবারের। এক থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সম্পদ রয়েছে ১৭ জনের পরিবারের।

বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’। 

সংরক্ষিত নারী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পাশপাশি হলফনামা জমা দিয়েছিলেন প্রার্থীরা। সেখানে প্রার্থীদের পাশাপাশি নির্ভরশীলদের তথ্যও যুক্ত করা হয়েছে। ওই হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য তুলে ধরে সুজন। মনোনয়নকে কার্যকর ও অর্থবহ করার জন্য কতগুলো শর্ত পূরণ করার সুপরিশও করেছে এই সংগঠন।

‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের তথ্য উপস্থাপন’ শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনান সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার। আরও উপস্থিত ছিলেন সুজনের ঢাকা মহানগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ক্যামেলিয়া চৌধুরী এবং কর্মসূচি ব্যবস্থাপক সজল কোরায়েশী।

সুজনের ওয়েবসাইটে বলা আছে, দেশের সচেতন নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী এই সংগঠন গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া-সহ রাষ্ট্রের সব স্তরে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নারী এমপিদের ২০ জনের পরিবারের পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে ১৯ জন বিএনপির, ১ জন জামায়াত জোটের। পরিবারের সম্পদ এক থেকে পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত দেখিয়েছেন ১৭ জন। এর মধ্যে বিএনপির ৮ জন, জামায়াত জোটের ৯ জন। পাঁচ লাখের নিচে সম্পদ রয়েছে দুজনের, তাদের একজন বিএনপির, আরেকজন জামায়াত জোটের। এ ছাড়া বিএনপির একজন সম্পদের তথ্য উল্লেখ করেননি।

৮৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত: নারী সংসদ সদস্যের মধ্যে ৪৪ জন বা  ৮৮ শতাংশ উচ্চশিক্ষিত (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর)।  এর মধ্যে ৩০ জন স্নাতকোত্তর এবং ১৪ জন স্নাতক। উচ্চশিক্ষিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে বিএনপির ৩২ জন আর জামায়াত জোটের ১১ জন। স্বতন্ত্র জোট থেকে নির্বাচিত একমাত্র সংসদ সদস্যও উচ্চশিক্ষিত। এর বাইরে দুজন নিজেদের স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেছেন আর একজন শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেননি। তারা সবাই বিএনপির।

সর্বোচ্চ আয়ের ১০ জনই বিএনপির: সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এমপিদের মধ্যে যাদের পরিবারের আয় সবচেয়ে বেশি, তাদের ১০ জনই বিএনপির। এর মধ্যে বছরে কোটি টাকার বেশি আয় করে চারজনের পরিবার। তারা হলেন শামীম আরা বেগম, জহরত আদিব চৌধুরী, সাকিলা ফারজানা ও আন্না মিনজ। এ ক্ষেত্রেও এমপিদের আয়ের তথ্যের পাশাপাশি নির্ভরশীলদের তথ্য যুক্ত করেছে সুজন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দুজন এমপির পরিবার বছরে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা আয় করে। তারা দুজনই বিএনপির। বছরে দুই লাখ টাকার কম আয় দুজনের পরিবারের, তারা জামায়াত জোটের। এ ছাড়া ৭ জন এমপি হলফনামায় আয়ের ঘর পূরণ করেননি।

শীর্ষ ঋণগ্রহিতা: নির্বাচিত নারী এমপিদের মধ্যে ১০ জনের পরিবারের ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে। তাদের মধ্যে কোটি টাকার বেশি ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে চারজনের পরিবারের। তাদের সবাই বিএনপির। জামায়াত জোট থেকে নির্বাচিতদের মধ্যে দুজনের পরিবারের ঋণ ও দায়দেনা রয়েছে।

যেসব এমপিদের পরিবারের কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে, তারা হলেন সেলিমা রহমান, হেলেন জেরিন খান, শিরীন সুলতানা ও নিপুণ রায় চৌধুরী। তারা সবাই বিএনপির এমপি।

আয়কর তথ্য নেই: সুজনের সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, নির্বাচিত এমপিদের ৪০ জনের আয়কর দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। বাকি ১০ জন হলফনামায় আয়কর বিবরণী জমা দেননি। আয়কর বিবরণী জমা দেওয়া ৪০ জনের মধ্যে বছরে লাখ টাকার বেশি আয়কর দেন, এমন এমপি আছেন ১৩ জন। তাদের মধ্যে ১২ জন বিএনপির, ১ জন জামায়াত জোটের। চারজন বছরে পাঁচ হাজার টাকার কম আয়কর দেন, তাদের একজন বিএনপির, তিনজন জামায়াত জোটের।

আইনজীবী বেশি: ৫০ জন নারী এমপির মধ্যে আইনজীবী ১৩ জন আর ১০ জনের পেশা ব্যবসা। আইনজীবীদের মধ্যে বিএনপির ১১ জন আর ১১-দলীয় জোটের আছেন ২ জন। আর ১০ জন ব্যবসায়ীর সবাই বিএনপির। এ ছাড়া চারজন শিক্ষক, একজন চাকরিজীবী ও পাঁচজন গৃহিণী। পেশা হিসেবে রাজনীতি উল্লেখ করেছেন ছয়জন। এ ছাড়া আটজন বিভিন্ন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। হলফনামায় তিনজন পেশার ঘর পূরণ করেননি।

মামলার আসামি: এমপিদের মধ্যে যে ছয়জনের বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা আছে তারা সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। এ ছাড়া অতীতে মামলা ছিল ২১ জনের বিরুদ্ধে। অতীত ও বর্তমান উভয় সময়ে মামলা ছিল বা রয়েছে এমন সংসদ সদস্যের সংখ্যা চারজন। ৩০২ ধারায় বর্তমানে মামলা রয়েছে একজনের বিরুদ্ধে এবং অতীতেও মামলা ছিল একজনের বিরুদ্ধে।

কোন বয়সের কতজন: নির্বাচিত নারী এমপিদের অর্ধেকের বয়স (২৫ জন) ৩৬ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে। এ ছাড়া ৫৬ থেকে ৭৫ বছর বয়সী আছেন ১৮ জন, ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সী আছেন ৪ জন, ৭৫ বছরের বেশি বয়সী আছেন ১ জন। বয়স উল্লেখ করেননি দুজন।

এলাকার প্রতি পক্ষপাতিত্ব: সংবাদ সম্মেলনে সুজন দাবি করে, প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে কোনো কোনো এলাকার প্রতি পক্ষপাতিত্ব করা হয়েছে এবং কোনো কোনো এলাকা বৈষম্যের শিকার হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে সংগঠনটি বলে, ঢাকা বিভাগে মোট জেলার সংখ্যা ১৩টি হলেও এমপি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ১৯ জন। আবার রংপুর বিভাগে জেলার সংখ্যা ৮টি, কিন্তু সেখানে এমপি হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন ২ জন।

সুজনের সুপারিশ: নারীদের জন্য সংসদে আসন সংরক্ষণ ব্যবস্থাকে কার্যকর ও অর্থবহ করার জন্য কতগুলো শর্ত পূরণ করার সুপরিশ করেছে সুজন।

শর্তগুলো হলো- সংরক্ষিত নারী আসনের পদ্ধতিটিকে দলীয় নেতৃবৃন্দের অনুগ্রহনির্ভর ‘টোকেনিজমে (লোক দেখানো)’ পরিণত না করে সংসদে পর্যাপ্তসংখ্যক নারী প্রতিনিধিত্বের সুযোগ সৃষ্টি করা; সংরক্ষিত আসনেও সাধারণ আসনের মতো প্রত্যক্ষ ভোটের নির্বাচনের বিধান করা; জনগণের কাছে সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের দায়বদ্ধতার বিধান তৈরি; এই আসন সংরক্ষণ পদ্ধতি এমন করা, যাতে কোনো দ্বৈততা (ওভারল্যাপিং) না থাকে, এ ক্ষেত্রে ঘূর্ণমান পদ্ধতিতে সরাসরি আসনভিত্তিক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে; 

সাধারণ আসনের মতো সংরক্ষিত আসনের সদস্যদের অধিকার, দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব হবে সমান; সংরক্ষিত আসনে মনোনয়নের ভিত্তি হবে নারী রাজনীতিবিদের যোগ্যতা; সংরক্ষিত আসনের পদটিকে দলীয় নেতৃবৃন্দ, বিশেষত দলীয় প্রধানের পৃষ্ঠপোষকতা বা অনুগ্রহ বণ্টনের হাতিয়ারে পরিণত না করা এবং নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ আসনের লক্ষ্য অর্জনের ন্যায়সংগত ধারণা সামনে রেখে সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি সাধারণ আসনে প্রতিটি রাজনৈতিক দল থেকে নির্দিষ্ট হারে প্রার্থী মনোনয়নের বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত