সরকারি বরাদ্দের আশায় আর বসে থাকেননি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। বছরের পর বছর দুর্ভোগ সয়ে অবশেষে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে গাজীখালী নদীর ওপর নির্মাণ করেছেন একটি সেতু। এর মাধ্যমে কান্দাপাড়া, নয়াপাড়া, ভগনপুরসহ প্রায় ১০টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীখালী নদীর ওপর সেতু না থাকায় বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই ছিল যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সাঁকো থেকে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। অবশেষ ২০২৫ সালের রোজার ঈদে গ্রামবাসী এক বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোগে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
গ্রামের কেউ ৩ হাজার, কেউ ৫ হাজার টাকা এভাবে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়। ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের এই সেতুর পিলার ও বিম ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয় গ্রামবাসীর জমানো টাকায়। পরবর্তীতে সেতুর ওপরের স্টিলের পাটাতনের খরচ বহন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। ২০২৫ সালের মার্চে শুরু হওয়া কাজ চলতি বছরের এপ্রিলে শেষ হলে জনসাধারণের চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের বর্ষায় আল্লাহর রহমতে আমাদের আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। সেতুটি হওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন সহজে চলাচল করতে পারছে।’
আরেক বাসিন্দা আব্দুস সালাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে ঘুরে কোনো সুফল না পেয়েই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আগে চার কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হতো। এখন সেই সময় বেঁচে যাচ্ছে।’
সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সেতুর পাটাতন ৬ ফুট প্রশস্ত থাকলেও দ্রুতই তা ৮ ফুটে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। এতে বড় আকারের যানবাহন চলাচল আরও সহজ হবে।
সরকারি দপ্তরে বারবার আবেদন করেও সাড়া না পেয়ে গ্রামবাসীর এই আত্মনির্ভরশীলতার উদ্যোগ এখন গোটা জেলায় প্রশংসিত হচ্ছে। অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে এই সেতুটি সাটুরিয়ার মানুষের জন্য আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৫ মে ২০২৬
সরকারি বরাদ্দের আশায় আর বসে থাকেননি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা। বছরের পর বছর দুর্ভোগ সয়ে অবশেষে নিজেদের কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে গাজীখালী নদীর ওপর নির্মাণ করেছেন একটি সেতু। এর মাধ্যমে কান্দাপাড়া, নয়াপাড়া, ভগনপুরসহ প্রায় ১০টি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হলো।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীখালী নদীর ওপর সেতু না থাকায় বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোই ছিল যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। সাঁকো থেকে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতেন বৃদ্ধ ও শিশুরা। অবশেষ ২০২৫ সালের রোজার ঈদে গ্রামবাসী এক বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোগে সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেন।
গ্রামের কেউ ৩ হাজার, কেউ ৫ হাজার টাকা এভাবে সামর্থ্য অনুযায়ী প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকার একটি তহবিল গঠন করা হয়। ৮০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থের এই সেতুর পিলার ও বিম ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয় গ্রামবাসীর জমানো টাকায়। পরবর্তীতে সেতুর ওপরের স্টিলের পাটাতনের খরচ বহন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। ২০২৫ সালের মার্চে শুরু হওয়া কাজ চলতি বছরের এপ্রিলে শেষ হলে জনসাধারণের চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবারের বর্ষায় আল্লাহর রহমতে আমাদের আর ভোগান্তি পোহাতে হবে না। সেতুটি হওয়ায় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও কৃষিপণ্যবাহী যানবাহন সহজে চলাচল করতে পারছে।’
আরেক বাসিন্দা আব্দুস সালাম উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘চেয়ারম্যান-মেম্বারদের কাছে ঘুরে কোনো সুফল না পেয়েই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। আগে চার কিলোমিটার পথ ঘুরে আসতে হতো। এখন সেই সময় বেঁচে যাচ্ছে।’
সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য মো. শরিফুল ইসলাম জানান, বর্তমানে সেতুর পাটাতন ৬ ফুট প্রশস্ত থাকলেও দ্রুতই তা ৮ ফুটে উন্নীত করার কাজ শুরু হবে। এতে বড় আকারের যানবাহন চলাচল আরও সহজ হবে।
সরকারি দপ্তরে বারবার আবেদন করেও সাড়া না পেয়ে গ্রামবাসীর এই আত্মনির্ভরশীলতার উদ্যোগ এখন গোটা জেলায় প্রশংসিত হচ্ছে। অসুস্থ রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কিংবা কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণে এই সেতুটি সাটুরিয়ার মানুষের জন্য আস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন