সংবাদ

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স


মাদকাসক্তি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স
মাদকাসক্তি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ০৫:৪৭ পিএম

মাদকাসক্তি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স

আজকাল খবরের কাগজে কিংবা বিভিন্ন মিডিয়ায় শিরোনাম হচ্ছে, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে একটির পর একটি অমানবিক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। যার কারণ হচ্ছে- মাদকাসক্তি। মাদকাসক্তির কারণে ছেলের হাতে খুন হচ্ছেন মা, বাবার হাতে ছেলে অথবা মেয়ে! কখনও ছেলে-মেয়ে নিজেরাই আত্মহত্যা করছে। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট মাদকাসক্ত তরুণী ঐশীর হাতে একইভাবে নিহত হন তার বাবা-মা। সম্প্রতি এক মাদকাসক্ত পিতার আছাড়ে প্রাণ হারিয়েছে এক বছরের শিশুপুত্র। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তথ্য বিবরণীতে জানা যায়, গত কয়েক বছরে নেশাখোর সন্তানের হাতে প্রায় ২০০ বাবা-মা খুন হয়েছেন, স্বামী হত্যা করেছে স্ত্রীকে, স্ত্রী হত্যা করেছে স্বামীকে। খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, পরকীয়া প্রেম, দাম্পত্য কলহ, অস্ত্র বা অর্থ লেনদেন, হত্যা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম সব কিছুর মূলেই রয়েছে এই মাদকের নেশা। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, কিন্তু সেই মানুষ মাদকের নেশায় হয়ে উঠে হিংস্র দানব, নরপশু!

মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ মাদকের বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এশিয়ার গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ওয়েজ নামে পরিচিত মাদক চোরাচালানের তিনটি প্রধান অঞ্চলের কেন্দ্রে বাংলাদেশের অবস্থান। এ কারণেই আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিরা বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে সহজে ব্যবহার করছে। 

বিগত কয়েক বছরে আইস ছাড়াও দেশে কয়েক ধরনের অপ্রচলিত মাদক ধরা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনইথাইলামিন (দেখতে কোকেনের মতো), এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড), ডায়মিথাইলট্রিপ্টামাইন বা ডিএমটি, ম্যাজিক মাশরুম এবং খাত (ইথিওপিয়ার উঁচু ভূমিতে জন্মানো এক ধরনের উদ্ভিদের পাতা)। কয়েক বছর ধরে আইসের চালান বেশি আসছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে ইয়াবার মতোই আইসের বিস্তার ঘটতে পারে। 

একটি গবেষণার তথ্য বলছে, দেশের প্রায় ১০ লাখ মানুষ মাদক কারবারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এর মধ্যে মাদক পাচারে এক লাখ নারী ও শিশুকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যেসব নারী ও শিশুকে মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই দরিদ্র। সামান্য অর্থের বিনিময়ে তাদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর মাদকাসক্তদের মধ্যে চার ভাগের এক ভাগই তরুণ। তাদের অধিকাংশ আবার শিক্ষার্থী। 

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় নয় হাজার ইয়াবা সেবী। একটানা মাত্র দুই-আড়াই বছর ইয়াবা সেবনের ফলেই তারা মারাতড়বকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাদের নার্ভগুলো সম্পূর্ন বিকল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে- দেশের তরুণ প্রজন্মের এক চতুর্থাংশই কোন না কোন ধরনের নেশায় আসক্ত। এমনকি উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবকদের একটা বিপুল অংশ নিয়মিত ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে টেনশন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে। চিকিৎসকদের মতে এটাও এক ধরনের মাদকাসক্তি। বিত্ত্ববানদের একটা অংশ ছেলে এবং মেয়েরা মদ না খেলেও নিয়মিত সিসা খায় এবং পরবর্তীতে তারা মাদকে আসক্ত হয়। বস্তি কিংবা রাজপথে দেখা যায়- ছিন্নমূল শিশু কিশোররা জুতা তৈরির গাম যা ডান্ডি নামে পরিচিত- সেগুলো দিয়ে নিয়মিত নেশা করে। 

আইস বা ক্রিস্টাল মেথ ইয়াবার চেয়েও ভয়ঙ্কর মাদক। কারণ, ইয়াবা তৈরির মূল উপাদান মেথঅ্যাম্ফিটামিন হলেও ইয়াবায় মেথঅ্যাম্ফিটামিন থাকে মাত্র ১৫ শতাংশ। আর আইস বা ক্রিস্টাল মেথের ৯৬ শতাংশই এ মেথঅ্যাম্ফিটামিন। এটি দেখতে স্বচ্ছ কাচের (ক্রিস্টাল) মতো। এ মাদক সেবনে নিদ্রাহীনতা, স্মৃতিবিভ্রম, মস্তিস্কবিকৃতিসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে এ মাদক সেবনে ওজন হারানো, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা হয় এবং বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটির মতো মাদকাসক্ত রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে ধারণা করা হয়। দেশে এত বিপুল সংখ্যক রোগীর জন্য নেই প্রয়োজনীয় হাসপাতাল বা নিরাময় কেন্দ্র। এদের চিকিৎসার জন্য দেশের ৪৪ জেলায় অনুমোদনপ্রাপ্ত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র আছে মোটে ৩৫১টি। এর মধ্যে শতাধিক ঢাকায়। অনুমোদনপ্রাপ্ত কেন্দ্রগুলোর মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭২৮। এখানে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা হৃদরোগসহ অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত কিনা, তা নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে, ইসিজিসহ নানা পরীক্ষার দরকার হয়। কিন্তু এসব পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই সেখানে। একটি অনুসন্ধানে দেখা যায়, দিন দিনই বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা। মাদকসেবী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদকের বাজারও বিস্তৃত হচ্ছে। শহর থেকে তা গ্রাম-গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশে ১৫ বছরের বেশি মাদক সেবী আছে ৬৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। এতে করে প্রতি ১৭ জনে একজন তরুণ মাদকাসক্ত। 

বাংলাদেশে একটি ভয়ঙ্কর চিত্র হচ্ছে যে, ইয়াবা গ্রহণকারী শতকরা ৮৫ ভাগই তরুণ যুবসমাজ। যার ফলে এসব ইয়াবা গ্রহণকারী মাদকাসক্তরা নানান ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে মেয়েদের মধ্যেও মাদকের নেশা এখন অনেকাংশে বেড়েছে। মাদকাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৫ শতাংশ নারী। তাদের বয়স ১৫-৩৫ বছরের মধ্যে। নারী মাদকাসক্তদের শতকরা ৪৩ শতাংশ ইয়াবাসেবী। কিছু ভ্রান্ত ধারনা থেকে তারা মাদক নেয় যেমন স্লিম হওয়া যায়, রাত জেগে পড়া যায়, যৌনশক্তি বৃদ্ধি হওয়া ইত্যাদি। নিয়মিত মাদক গ্রহণে তরুণদের মধ্যে নানা ধরণের লক্ষণ দেখা যায়। 

পরিসংখ্যানে জানা যায় দেশে গত তিন বছরে নারী ও শিশু মাদকাসক্ত বেড়েছে তিন গুণ। অপরিকল্পিত গর্ভপাতসহ বিভিন্ন কারণে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন নারীরা। উচ্চবিত্ত পরিবারের নারীদের মধ্যে এ নিয়ে চিকিৎসা নেয়ার প্রবণতা বাড়লেও, মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তের মধ্যে তা বাড়েনি। সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপে এখনও অধিকাংশ মাদকাসক্ত নারী চিকিৎসার বাইরে। সূত্র থেকে জানা যায় আমাদের দেশে মাদকাসক্তদের ৮৪ ভাগ পুরুষ ১৬ ভাগ নারী এর মধ্যে ৮০ ভাগ তরুণ, ৬০ ভাগ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, ৯৮% ভাগ ধূমপায়ী, ৫৭% যৌন অপরাধী এবং ৭% নেশা গ্রহণকারী এইচআইভি আক্রান্ত। বাংলাদেশে বর্তমানে জনপ্রিয় নেশা ইয়াবা এবং এই ইয়াবা আসক্তদের ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী। ইয়াবা এমনই একটি ধংসাত্বক মাদক যেটা গ্রহণ করলে সাময়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও চরম শারীরিক ও মানসিক অবসাদ হয় এবং সেটা থেকে চরম হতাশা, নৈরাজ্য ও বিষাদে পতিত হয় শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে পারে এই ইয়াবা গ্রহণকারী। 

দেশে মাদকের বিস্তৃতি আজ ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। দেশের বর্তমান আর ভবিষ্যতের সব সম্ভাবনা ধ্বংসের মূলেই মাদক। মাদকাসক্তদের শীর্ষে দেশের তরুণ সমাজ। সর্বনাশা মাদকের মরণ ছোবলে আক্রান্ত তরুণ ও যুবসমাজ আজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। বর্তমান সমাজে মাদক জন্ম দিচ্ছে একের পর এক অপরাধ। এছাড়া মাদক সেবনে কিডনি, স্নায়ুর জটিলতাসহ শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়। পাশাপাশি বদমেজাজ, চরম অবসাদ, আত্মহত্যার প্রবণতা, অসংলগ্ন ব্যবহার, হ্যালুসিনেশন, ভুলে যাওয়া, দুর্বলচিত্ততা, হতাশা ইত্যাদি মানসিক বিকারের শিকার হয় মাদকাসক্ত ব্যক্তি। 

মাদক ধীরে ধীরে জীবনীশক্তি হ্রাস করে। শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে সংক্রমনের হার ২২ শতাংশ। বাংলাদেশ জনসংখ্যার ৪৯% ভাগ মানুষ বয়সে তরুণ অর্থাৎ দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যা ১ কোটি ৫৬ লাখ। মাদক ব্যবসায়ীরা এই কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীকে মাদকের ভোক্তা হিসেবে পেতে চায়। 

একটি সমীক্ষায় বলা হয়, মাদকসেবী বছরে অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে। একজন মাদকাসক্তির ব্যক্তির মাদক ব্যবহারজনিত ব্যয় বছরে ৫৬ হাজার ৫৬০ টাকা থেকে ৯০ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। ৭৫ লাখ মাদকসেবী বছরে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে। এখন মাদকাসক্তের সংখ্যা আরও বেশি। অবধারিতভাবে ব্যয় আরও অনেক বেশি। 

রাজধানীসহ দেশের বড় বড় বানিজ্যিক শহরগুলোতে কিশোর অপরাধ ও গ্যাং সংস্কৃতি ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। একটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে মাদকসেবীরা গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ কোটি টাকার মাদক সেবন করে থাকে, হিসাব অনুযায়ী মাসে ৬০০ কোটি টাকা অন্যদিকে সারাদেশে প্রায় ৩০ লাখ মাদক ব্যবসায়ী প্রতিদিন কমপক্ষে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা করে। দেশে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো মাদক বলে জানিয়েছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমানে মরণব্যাধি ও সংক্রামকসহ নানা ধরনের রোগ ব্যাধি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো মাদক। 

মাদকাসক্তি- আমাদের করণীয়:আমাদের দেশে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে অন্যতম বড় অন্তরায় হচ্ছে সন্তান বা অন্যদের মাদক গ্রহণ সম্পর্কে অভিভাবকদের বা শিক্ষা কার্যক্রমে অনেক দেরিতে জানতে পারা (গড়ে দেড় থেকে দু’বছর পর)। অথচ সন্তানের মাদক গ্রহণের ব্যপারে যত তাড়াতাড়ি জানা সম্ভব হয়-পূর্ণ আসক্তি সৃষ্টির আগেই তাকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে তোলা ততটা সহজ হয়। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিবার ও স্থানীয় মুরব্বিদের ভূমিকা ছিল। তারা কিশোরদের বখাটেপনার প্রশ্রয় দিতেন না। এখন মুরব্বিদের জায়গাটি নিয়েছেন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তারা কিশোরদের ব্যবহার করেন। 

ঘর থেকে শুরু করে সব পেশার সমন্বয়ে এবং রাজনীতিবিদদের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাদক নির্মূলের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। তাহলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সম্ভব হবে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করা। মাদকসক্তি একটি রোগ। তাই মাদকাসক্তদেরকে শাষণ বা ঘৃণা অবহেলা না করে তাকে স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ চিকিৎসা দিতে হবে। সে সুস্থ হয়ে আবার পরিবারে ফিরে আসবে। তাই পিতা-মাতার প্রতি অনুরোধ আপনার সন্তানকে মাদকাসক্ত হওয়ার কারনে লুকিয়ে রাখবেন না, ঘৃণা করবেন না, বরং তাকে স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যান, তাকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিন। মাদকাসক্তরা সমাজের এই পরিস্থিতির স্বীকার। তাই পাপকে ঘৃণা করুন পাপীকে নয়। 

বর্তমানে সরকার মাদকাসক্ত তরুণদের রক্ষায় বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসু পদক্ষেপ হতে পারে- প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ক্লাস/ওরিয়েন্টেশন (অভিভাবক এবং শিক্ষকসহ)। উদাহরণস্বরুপ, জাপানের স্কুলে শিশুদের পড়াশোনা শুরুতেই চাপ দেয়া হয় না। বরং প্রথম থেকেই তাদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা, ভদ্রতা, নম্রতা, শিষ্টাচার শেখানো হয়। নির্দিষ্ট শ্রেণী পর্যন্ত শিশুদের কোনো বই পড়ানো হয় না। সেখানে এর পরিবর্তে, শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণকারী এবং বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে সহায়ক কাজ করানো হয়। 

এই শিক্ষার মাধ্যমে ˆশশব থেকেই তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সময়নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে ওঠে। তারা বড় হয়ে হয় দায়িত্বশীল এবং সামাজিকভাবে সচেতন মানুষ, যারা সমাজের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটাও চিন্তা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন অপরিহার্য। একই সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে এবং উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। 

 [লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)]

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


মাদকাসক্তি প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

আজকাল খবরের কাগজে কিংবা বিভিন্ন মিডিয়ায় শিরোনাম হচ্ছে, পারিবারিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে একটির পর একটি অমানবিক ঘটনা ঘটে যাচ্ছে। যার কারণ হচ্ছে- মাদকাসক্তি। মাদকাসক্তির কারণে ছেলের হাতে খুন হচ্ছেন মা, বাবার হাতে ছেলে অথবা মেয়ে! কখনও ছেলে-মেয়ে নিজেরাই আত্মহত্যা করছে। ২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট মাদকাসক্ত তরুণী ঐশীর হাতে একইভাবে নিহত হন তার বাবা-মা। সম্প্রতি এক মাদকাসক্ত পিতার আছাড়ে প্রাণ হারিয়েছে এক বছরের শিশুপুত্র। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে তথ্য বিবরণীতে জানা যায়, গত কয়েক বছরে নেশাখোর সন্তানের হাতে প্রায় ২০০ বাবা-মা খুন হয়েছেন, স্বামী হত্যা করেছে স্ত্রীকে, স্ত্রী হত্যা করেছে স্বামীকে। খুন, রাহাজানি, ধর্ষণ, পরকীয়া প্রেম, দাম্পত্য কলহ, অস্ত্র বা অর্থ লেনদেন, হত্যা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম সব কিছুর মূলেই রয়েছে এই মাদকের নেশা। মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব, কিন্তু সেই মানুষ মাদকের নেশায় হয়ে উঠে হিংস্র দানব, নরপশু!

মাদক উৎপাদনকারী দেশ না হয়েও ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ মাদকের বড় ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এশিয়ার গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল, গোল্ডেন ক্রিসেন্ট ও গোল্ডেন ওয়েজ নামে পরিচিত মাদক চোরাচালানের তিনটি প্রধান অঞ্চলের কেন্দ্রে বাংলাদেশের অবস্থান। এ কারণেই আন্তর্জাতিক মাদক কারবারিরা বাংলাদেশকে ট্রানজিট হিসেবে সহজে ব্যবহার করছে। 

বিগত কয়েক বছরে আইস ছাড়াও দেশে কয়েক ধরনের অপ্রচলিত মাদক ধরা পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফেনইথাইলামিন (দেখতে কোকেনের মতো), এলএসডি (লাইসার্জিক অ্যাসিড ডাইথ্যালামাইড), ডায়মিথাইলট্রিপ্টামাইন বা ডিএমটি, ম্যাজিক মাশরুম এবং খাত (ইথিওপিয়ার উঁচু ভূমিতে জন্মানো এক ধরনের উদ্ভিদের পাতা)। কয়েক বছর ধরে আইসের চালান বেশি আসছে। আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে ইয়াবার মতোই আইসের বিস্তার ঘটতে পারে। 

একটি গবেষণার তথ্য বলছে, দেশের প্রায় ১০ লাখ মানুষ মাদক কারবারে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এর মধ্যে মাদক পাচারে এক লাখ নারী ও শিশুকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যেসব নারী ও শিশুকে মাদকের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই দরিদ্র। সামান্য অর্থের বিনিময়ে তাদের বাহক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। আর মাদকাসক্তদের মধ্যে চার ভাগের এক ভাগই তরুণ। তাদের অধিকাংশ আবার শিক্ষার্থী। 

গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে প্রায় ১৫ হাজার মাদকাসক্ত চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে প্রায় নয় হাজার ইয়াবা সেবী। একটানা মাত্র দুই-আড়াই বছর ইয়াবা সেবনের ফলেই তারা মারাতড়বকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। তাদের নার্ভগুলো সম্পূর্ন বিকল হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সূত্র বলছে- দেশের তরুণ প্রজন্মের এক চতুর্থাংশই কোন না কোন ধরনের নেশায় আসক্ত। এমনকি উচ্চ শিক্ষিত বেকার যুবকদের একটা বিপুল অংশ নিয়মিত ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে টেনশন থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে। চিকিৎসকদের মতে এটাও এক ধরনের মাদকাসক্তি। বিত্ত্ববানদের একটা অংশ ছেলে এবং মেয়েরা মদ না খেলেও নিয়মিত সিসা খায় এবং পরবর্তীতে তারা মাদকে আসক্ত হয়। বস্তি কিংবা রাজপথে দেখা যায়- ছিন্নমূল শিশু কিশোররা জুতা তৈরির গাম যা ডান্ডি নামে পরিচিত- সেগুলো দিয়ে নিয়মিত নেশা করে। 

আইস বা ক্রিস্টাল মেথ ইয়াবার চেয়েও ভয়ঙ্কর মাদক। কারণ, ইয়াবা তৈরির মূল উপাদান মেথঅ্যাম্ফিটামিন হলেও ইয়াবায় মেথঅ্যাম্ফিটামিন থাকে মাত্র ১৫ শতাংশ। আর আইস বা ক্রিস্টাল মেথের ৯৬ শতাংশই এ মেথঅ্যাম্ফিটামিন। এটি দেখতে স্বচ্ছ কাচের (ক্রিস্টাল) মতো। এ মাদক সেবনে নিদ্রাহীনতা, স্মৃতিবিভ্রম, মস্তিস্কবিকৃতিসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া দীর্ঘ মেয়াদে এ মাদক সেবনে ওজন হারানো, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা হয় এবং বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১ কোটির মতো মাদকাসক্ত রয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে ধারণা করা হয়। দেশে এত বিপুল সংখ্যক রোগীর জন্য নেই প্রয়োজনীয় হাসপাতাল বা নিরাময় কেন্দ্র। এদের চিকিৎসার জন্য দেশের ৪৪ জেলায় অনুমোদনপ্রাপ্ত মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র আছে মোটে ৩৫১টি। এর মধ্যে শতাধিক ঢাকায়। অনুমোদনপ্রাপ্ত কেন্দ্রগুলোর মোট শয্যাসংখ্যা ৪ হাজার ৭২৮। এখানে মাদকাসক্ত ব্যক্তিরা হৃদরোগসহ অন্য কোনো রোগে আক্রান্ত কিনা, তা নির্ণয়ের জন্য এক্স-রে, ইসিজিসহ নানা পরীক্ষার দরকার হয়। কিন্তু এসব পরীক্ষার কোন ব্যবস্থা নেই সেখানে। একটি অনুসন্ধানে দেখা যায়, দিন দিনই বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা। মাদকসেবী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাদকের বাজারও বিস্তৃত হচ্ছে। শহর থেকে তা গ্রাম-গ্রামান্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। দেশে ১৫ বছরের বেশি মাদক সেবী আছে ৬৩ দশমিক ২৫ শতাংশ। এতে করে প্রতি ১৭ জনে একজন তরুণ মাদকাসক্ত। 

বাংলাদেশে একটি ভয়ঙ্কর চিত্র হচ্ছে যে, ইয়াবা গ্রহণকারী শতকরা ৮৫ ভাগই তরুণ যুবসমাজ। যার ফলে এসব ইয়াবা গ্রহণকারী মাদকাসক্তরা নানান ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। বর্তমানে মেয়েদের মধ্যেও মাদকের নেশা এখন অনেকাংশে বেড়েছে। মাদকাসক্তদের মধ্যে শতকরা ৫ শতাংশ নারী। তাদের বয়স ১৫-৩৫ বছরের মধ্যে। নারী মাদকাসক্তদের শতকরা ৪৩ শতাংশ ইয়াবাসেবী। কিছু ভ্রান্ত ধারনা থেকে তারা মাদক নেয় যেমন স্লিম হওয়া যায়, রাত জেগে পড়া যায়, যৌনশক্তি বৃদ্ধি হওয়া ইত্যাদি। নিয়মিত মাদক গ্রহণে তরুণদের মধ্যে নানা ধরণের লক্ষণ দেখা যায়। 

পরিসংখ্যানে জানা যায় দেশে গত তিন বছরে নারী ও শিশু মাদকাসক্ত বেড়েছে তিন গুণ। অপরিকল্পিত গর্ভপাতসহ বিভিন্ন কারণে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন নারীরা। উচ্চবিত্ত পরিবারের নারীদের মধ্যে এ নিয়ে চিকিৎসা নেয়ার প্রবণতা বাড়লেও, মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্তের মধ্যে তা বাড়েনি। সামাজিক ও অর্থনৈতিক চাপে এখনও অধিকাংশ মাদকাসক্ত নারী চিকিৎসার বাইরে। সূত্র থেকে জানা যায় আমাদের দেশে মাদকাসক্তদের ৮৪ ভাগ পুরুষ ১৬ ভাগ নারী এর মধ্যে ৮০ ভাগ তরুণ, ৬০ ভাগ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত, ৯৮% ভাগ ধূমপায়ী, ৫৭% যৌন অপরাধী এবং ৭% নেশা গ্রহণকারী এইচআইভি আক্রান্ত। বাংলাদেশে বর্তমানে জনপ্রিয় নেশা ইয়াবা এবং এই ইয়াবা আসক্তদের ৮০ ভাগ শিক্ষার্থী। ইয়াবা এমনই একটি ধংসাত্বক মাদক যেটা গ্রহণ করলে সাময়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলেও চরম শারীরিক ও মানসিক অবসাদ হয় এবং সেটা থেকে চরম হতাশা, নৈরাজ্য ও বিষাদে পতিত হয় শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা করতে পারে এই ইয়াবা গ্রহণকারী। 

দেশে মাদকের বিস্তৃতি আজ ভয়াবহ রূপ লাভ করেছে। দেশের বর্তমান আর ভবিষ্যতের সব সম্ভাবনা ধ্বংসের মূলেই মাদক। মাদকাসক্তদের শীর্ষে দেশের তরুণ সমাজ। সর্বনাশা মাদকের মরণ ছোবলে আক্রান্ত তরুণ ও যুবসমাজ আজ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে। বর্তমান সমাজে মাদক জন্ম দিচ্ছে একের পর এক অপরাধ। এছাড়া মাদক সেবনে কিডনি, স্নায়ুর জটিলতাসহ শরীরের সব অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হয়। পাশাপাশি বদমেজাজ, চরম অবসাদ, আত্মহত্যার প্রবণতা, অসংলগ্ন ব্যবহার, হ্যালুসিনেশন, ভুলে যাওয়া, দুর্বলচিত্ততা, হতাশা ইত্যাদি মানসিক বিকারের শিকার হয় মাদকাসক্ত ব্যক্তি। 

মাদক ধীরে ধীরে জীবনীশক্তি হ্রাস করে। শিরায় মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে সংক্রমনের হার ২২ শতাংশ। বাংলাদেশ জনসংখ্যার ৪৯% ভাগ মানুষ বয়সে তরুণ অর্থাৎ দেশে কর্মক্ষম জনসংখ্যা ১ কোটি ৫৬ লাখ। মাদক ব্যবসায়ীরা এই কর্মক্ষম তরুণ জনগোষ্ঠীকে মাদকের ভোক্তা হিসেবে পেতে চায়। 

একটি সমীক্ষায় বলা হয়, মাদকসেবী বছরে অন্তত ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে। একজন মাদকাসক্তির ব্যক্তির মাদক ব্যবহারজনিত ব্যয় বছরে ৫৬ হাজার ৫৬০ টাকা থেকে ৯০ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। ৭৫ লাখ মাদকসেবী বছরে অন্তত ৫০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে থাকে। এখন মাদকাসক্তের সংখ্যা আরও বেশি। অবধারিতভাবে ব্যয় আরও অনেক বেশি। 

রাজধানীসহ দেশের বড় বড় বানিজ্যিক শহরগুলোতে কিশোর অপরাধ ও গ্যাং সংস্কৃতি ভয়াবহ রূপ ধারন করেছে। একটি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে মাদকসেবীরা গড়ে প্রতিদিন অন্তত ২০ কোটি টাকার মাদক সেবন করে থাকে, হিসাব অনুযায়ী মাসে ৬০০ কোটি টাকা অন্যদিকে সারাদেশে প্রায় ৩০ লাখ মাদক ব্যবসায়ী প্রতিদিন কমপক্ষে প্রায় ২০০ কোটি টাকার মাদক কেনাবেচা করে। দেশে অপরাধ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো মাদক বলে জানিয়েছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞদের মতে বর্তমানে মরণব্যাধি ও সংক্রামকসহ নানা ধরনের রোগ ব্যাধি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হলো মাদক। 

মাদকাসক্তি- আমাদের করণীয়:আমাদের দেশে মাদকাসক্তি প্রতিরোধে অন্যতম বড় অন্তরায় হচ্ছে সন্তান বা অন্যদের মাদক গ্রহণ সম্পর্কে অভিভাবকদের বা শিক্ষা কার্যক্রমে অনেক দেরিতে জানতে পারা (গড়ে দেড় থেকে দু’বছর পর)। অথচ সন্তানের মাদক গ্রহণের ব্যপারে যত তাড়াতাড়ি জানা সম্ভব হয়-পূর্ণ আসক্তি সৃষ্টির আগেই তাকে পরিপূর্ণ সুস্থ করে তোলা ততটা সহজ হয়। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, সমাজে শৃঙ্খলা রক্ষায় পরিবার ও স্থানীয় মুরব্বিদের ভূমিকা ছিল। তারা কিশোরদের বখাটেপনার প্রশ্রয় দিতেন না। এখন মুরব্বিদের জায়গাটি নিয়েছেন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তারা কিশোরদের ব্যবহার করেন। 

ঘর থেকে শুরু করে সব পেশার সমন্বয়ে এবং রাজনীতিবিদদের মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে মাদক নির্মূলের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। তাহলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। সম্ভব হবে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করা। মাদকসক্তি একটি রোগ। তাই মাদকাসক্তদেরকে শাষণ বা ঘৃণা অবহেলা না করে তাকে স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে সম্পূর্ণ চিকিৎসা দিতে হবে। সে সুস্থ হয়ে আবার পরিবারে ফিরে আসবে। তাই পিতা-মাতার প্রতি অনুরোধ আপনার সন্তানকে মাদকাসক্ত হওয়ার কারনে লুকিয়ে রাখবেন না, ঘৃণা করবেন না, বরং তাকে স্নেহ ভালোবাসা দিয়ে মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে নিয়ে যান, তাকে পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা দিন। মাদকাসক্তরা সমাজের এই পরিস্থিতির স্বীকার। তাই পাপকে ঘৃণা করুন পাপীকে নয়। 

বর্তমানে সরকার মাদকাসক্ত তরুণদের রক্ষায় বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ফলপ্রসু পদক্ষেপ হতে পারে- প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক ক্লাস/ওরিয়েন্টেশন (অভিভাবক এবং শিক্ষকসহ)। উদাহরণস্বরুপ, জাপানের স্কুলে শিশুদের পড়াশোনা শুরুতেই চাপ দেয়া হয় না। বরং প্রথম থেকেই তাদের শৃঙ্খলা ও নৈতিকতা, ভদ্রতা, নম্রতা, শিষ্টাচার শেখানো হয়। নির্দিষ্ট শ্রেণী পর্যন্ত শিশুদের কোনো বই পড়ানো হয় না। সেখানে এর পরিবর্তে, শিশুদের মনোযোগ আকর্ষণকারী এবং বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে সহায়ক কাজ করানো হয়। 

এই শিক্ষার মাধ্যমে ˆশশব থেকেই তাদের মধ্যে শৃঙ্খলা, সময়নিষ্ঠা, পরিশ্রম এবং সহযোগিতার মানসিকতা গড়ে ওঠে। তারা বড় হয়ে হয় দায়িত্বশীল এবং সামাজিকভাবে সচেতন মানুষ, যারা সমাজের উন্নতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটাও চিন্তা করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন অপরিহার্য। একই সঙ্গে তাদের সাংস্কৃতিক চর্চা ও খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত রাখতে হবে এবং উপযুক্ত পরিবেশ ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। 

 [লেখক: প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা (মানস)]


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত