সংবাদ

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোট ৩৭ শতাংশের কম


নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
নিজস্ব বার্তা পরিবেশক
প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৬, ১০:১৬ পিএম

সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোট ৩৭ শতাংশের কম
সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোট ৩৭ শতাংশের কম

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) ২০২৬-২০২৭ সেশনের দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম। ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন মাত্র ৪ হাজার ৪৮ জন। সে হিসেবে মোট ভোটারের মাত্র ৩৬.৪৮ শতাংশ ভোট দিয়েছেন।

বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় সমিতির অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল ৫টায় শেষ হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন উপ-কমিটি।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর মোট ভোটার ছিল ৭ হাজার ৭০০ থেকে ৮ হাজার ৬০০-এর মধ্যে। এসব নির্বাচনে গড়ে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজারের কাছাকাছি ভোট কাস্ট হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০-২০২১ মেয়াদে ৭ হাজার ৭৮১ জন ভোটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৯৪০টি ভোট পড়েছিল।

২০২৩-২০২৪ মেয়াদের নির্বাচনে ৮ হাজার ৬০২ জন ভোটারের বিপরীতে মাত্র ৪ হাজার ১৩৭টি ভোট কাস্ট হয়। তবে ২০২৪-২০২৫ মেয়াদে তা কিছুটা বেড়ে ৭ হাজার ৮৮৩ ভোটারের মধ্যে ৫ হাজার ৩১৯টি ভোট পড়ে।

সবশেষ ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে মোট ভোটার ছিল ১১ হাজার ৯৭ জন । ভোটার সংখ্যা বাড়লেও ভোটদানের চিত্রে চরম হতাশা দেখা গেছে। ১১ হাজারেরও বেশি ভোটারের এই নির্বাচনে দুই দিন মিলিয়ে ভোট পড়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৮টি (প্রথম দিন ১৭৭১, দ্বিতীয় দিন ২২৭৭)। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও অনেক কম ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। 

একটি প্যানেলের ভোট বর্জনের ঘোষণা এবং কম ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী অতীত ও বর্তমানের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আগে এই সিস্টেম ছিলো না, এখন তো অন্য সিস্টেম হইছে। আগে হাল্কা আওয়াজ ছিলো, আনন্দ ফুর্তি ছিলো। আমরা সারারাতই ফুর্তি করতাম। কিন্তু এই মারামারি, হাউকাউ ছিলো না।”

বিগত কয়েক বছরের নির্বাচনের বিশ্রী অবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিশেষ করে লাস্ট যে ইলেকশনটা, আমরা তো বাইরে, ভিডিওতে দেখছি। গ্যালারিতে সবার হাতে পকেটে মোবাইল, সব ওই টিপে পাঠায়ে দিচ্ছে। যে এইটার ভিতরে মারামারি, এবং ওই যে দুইজনরে সেক্রেটারি ডিক্লেয়ার করতে হইছে। ইলেকশনের যিনি দায়িত্বে ছিলেন উনি বাধ্য হইয়া এগুলা করছেন। তো যাক, আমরা তো সেই সিচুয়েশনটা হয় নাই, আশা করি ভবিষ্যতেও হবে না।”

ভোট বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কোনো পক্ষ নাই, সবাই কলিগ। যারা বর্জনকারী পক্ষ হিসেবে পরিচিত, তাদের অনেকেও ভোট দিতে এসেছেন। সুতরাং ওই নোংরামিটা তারাও পছন্দ করে না। নানা জনের নানা মত থাকে, অনেকে মনে করতেছে ধুর, আজকে ভোট না গেলে কী হইবে।”

সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে ওঠা অভিযোগ নির্বাচন সাব-কমিটি উড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে এনসিপি সমর্থিত প্যানেলের সহ-সম্পাদক প্রার্থী মোস্তফা আসগর শরীফী বলেন, “যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিখিতভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অফিশিয়ালি কোনো জবাব দেয়নি। এই অফিশিয়াল জবাবটা সাধারণ ভোটারের জানার জন্য জরুরি ছিল।”

ভোটার উপস্থিতির হার নিয়ে শরীফী বলেন, “ভোটের হার কম ছিল, তবে যতটুকু কম মনে করা হয়েছিল আসলে ততটুকু কম হয়নি। ৪ হাজারের ওপরে ভোট কাস্ট হয়েছে, এটা মোটামুটি সন্তোষজনক।”

ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে জামায়াত ইসলামী সমর্থিত সবুজ প্যানেলের সহ সভাপতি প্রার্থী মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, একজনের সাতটি ভোট দেওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছে, তা তিনি শুনেছেন তবে এখনো বিস্তারিত খবর নেননি। ভোটের পরিবেশ ভালো দাবি করে তিনি বলেন, “পরিবেশ খারাপ মনে হয় নাই। উপস্থিতি তো খুব কম না, এর আগেরবারও এরকমই হইছে।” আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা পরিচিত মুখ বা যাদের উপরে ক্ষোভ আছে, এরকম আসে নাই। যারা সাইলেন্ট আওয়ামী লীগার বা অত বেশি অ্যাক্টিভিস্ট না, তারা বাদে এরা দিছে।”

জুলাই আন্দোলনে সরকারপতনের পর ২০২৫-২০২৬ মেয়াদে বারে কোনো নির্বাচন হয়নি। প্রায় দুই বছরের বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে তিনটি প্যানেল থেকে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্যানেলগুলো হলো-বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী নীল প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল।

২০২৬-২০২৭ মেয়াদের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) নির্বাচনের তফসিল ১৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হয়। এই তফসিল অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী নির্বাচনটি ১১ ও ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ মে  সংশোধিত সময়সূচী অনুযায়ী ভোটগ্রহণের সিদ্বান্ত নেয় । এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ এপ্রিল ৪২ জন আইনজীবীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে এসসিবিএ। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি পদে ২ জন, সম্পাদক পদে ৭ জন ও কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জনসহ নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা রয়েছেন। 

সুপ্রিম কোর্ট বারের এক সাধারণ সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের প্রাধান্য থাকা ওই সভায় জানানো হয়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

তখন মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের নোটিশ বা প্রকাশ্যে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনের জন্য অযৌক্তিক, অবৈধ ও কলঙ্কজনক।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬


সুপ্রিম কোর্ট বার নির্বাচনে ভোট ৩৭ শতাংশের কম

প্রকাশের তারিখ : ১৪ মে ২০২৬

featured Image

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (সুপ্রিম কোর্ট বার) ২০২৬-২০২৭ সেশনের দুই দিনব্যাপী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে আইনজীবীদের উপস্থিতি ছিল বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক কম। ১১ হাজার ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে দুই দিনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন মাত্র ৪ হাজার ৪৮ জন। সে হিসেবে মোট ভোটারের মাত্র ৩৬.৪৮ শতাংশ ভোট দিয়েছেন।

বুধবার (১৩ মে) সকাল ১০টায় সমিতির অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বিকেল ৫টায় শেষ হয়। নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন নির্বাচন উপ-কমিটি।

নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ভোটদানের হারে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা চার বছর মোট ভোটার ছিল ৭ হাজার ৭০০ থেকে ৮ হাজার ৬০০-এর মধ্যে। এসব নির্বাচনে গড়ে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজারের কাছাকাছি ভোট কাস্ট হয়েছে। এর মধ্যে ২০২০-২০২১ মেয়াদে ৭ হাজার ৭৮১ জন ভোটারের মধ্যে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৯৪০টি ভোট পড়েছিল।

২০২৩-২০২৪ মেয়াদের নির্বাচনে ৮ হাজার ৬০২ জন ভোটারের বিপরীতে মাত্র ৪ হাজার ১৩৭টি ভোট কাস্ট হয়। তবে ২০২৪-২০২৫ মেয়াদে তা কিছুটা বেড়ে ৭ হাজার ৮৮৩ ভোটারের মধ্যে ৫ হাজার ৩১৯টি ভোট পড়ে।

সবশেষ ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে মোট ভোটার ছিল ১১ হাজার ৯৭ জন । ভোটার সংখ্যা বাড়লেও ভোটদানের চিত্রে চরম হতাশা দেখা গেছে। ১১ হাজারেরও বেশি ভোটারের এই নির্বাচনে দুই দিন মিলিয়ে ভোট পড়েছে মাত্র ৪ হাজার ৪৮টি (প্রথম দিন ১৭৭১, দ্বিতীয় দিন ২২৭৭)। অর্থাৎ, অর্ধেকেরও অনেক কম ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। 

একটি প্যানেলের ভোট বর্জনের ঘোষণা এবং কম ভোটার উপস্থিতি নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী অতীত ও বর্তমানের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আগে এই সিস্টেম ছিলো না, এখন তো অন্য সিস্টেম হইছে। আগে হাল্কা আওয়াজ ছিলো, আনন্দ ফুর্তি ছিলো। আমরা সারারাতই ফুর্তি করতাম। কিন্তু এই মারামারি, হাউকাউ ছিলো না।”

বিগত কয়েক বছরের নির্বাচনের বিশ্রী অবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “বিশেষ করে লাস্ট যে ইলেকশনটা, আমরা তো বাইরে, ভিডিওতে দেখছি। গ্যালারিতে সবার হাতে পকেটে মোবাইল, সব ওই টিপে পাঠায়ে দিচ্ছে। যে এইটার ভিতরে মারামারি, এবং ওই যে দুইজনরে সেক্রেটারি ডিক্লেয়ার করতে হইছে। ইলেকশনের যিনি দায়িত্বে ছিলেন উনি বাধ্য হইয়া এগুলা করছেন। তো যাক, আমরা তো সেই সিচুয়েশনটা হয় নাই, আশা করি ভবিষ্যতেও হবে না।”

ভোট বর্জন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে কোনো পক্ষ নাই, সবাই কলিগ। যারা বর্জনকারী পক্ষ হিসেবে পরিচিত, তাদের অনেকেও ভোট দিতে এসেছেন। সুতরাং ওই নোংরামিটা তারাও পছন্দ করে না। নানা জনের নানা মত থাকে, অনেকে মনে করতেছে ধুর, আজকে ভোট না গেলে কী হইবে।”

সাধারণ ভোটারদের পক্ষ থেকে ওঠা অভিযোগ নির্বাচন সাব-কমিটি উড়িয়ে দিয়েছে উল্লেখ করে এনসিপি সমর্থিত প্যানেলের সহ-সম্পাদক প্রার্থী মোস্তফা আসগর শরীফী বলেন, “যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, সেগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় লিখিতভাবে নিষ্পত্তি করা উচিত। এ ব্যাপারে নির্বাচন কমিশন অফিশিয়ালি কোনো জবাব দেয়নি। এই অফিশিয়াল জবাবটা সাধারণ ভোটারের জানার জন্য জরুরি ছিল।”

ভোটার উপস্থিতির হার নিয়ে শরীফী বলেন, “ভোটের হার কম ছিল, তবে যতটুকু কম মনে করা হয়েছিল আসলে ততটুকু কম হয়নি। ৪ হাজারের ওপরে ভোট কাস্ট হয়েছে, এটা মোটামুটি সন্তোষজনক।”

ভোটের সার্বিক পরিবেশ নিয়ে জামায়াত ইসলামী সমর্থিত সবুজ প্যানেলের সহ সভাপতি প্রার্থী মহিউদ্দিন ফারুকী জানান, একজনের সাতটি ভোট দেওয়ার যে গুঞ্জন উঠেছে, তা তিনি শুনেছেন তবে এখনো বিস্তারিত খবর নেননি। ভোটের পরিবেশ ভালো দাবি করে তিনি বলেন, “পরিবেশ খারাপ মনে হয় নাই। উপস্থিতি তো খুব কম না, এর আগেরবারও এরকমই হইছে।” আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের উপস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা পরিচিত মুখ বা যাদের উপরে ক্ষোভ আছে, এরকম আসে নাই। যারা সাইলেন্ট আওয়ামী লীগার বা অত বেশি অ্যাক্টিভিস্ট না, তারা বাদে এরা দিছে।”

জুলাই আন্দোলনে সরকারপতনের পর ২০২৫-২০২৬ মেয়াদে বারে কোনো নির্বাচন হয়নি। প্রায় দুই বছরের বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ১৪টি পদের বিপরীতে তিনটি প্যানেল থেকে ৪০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্যানেলগুলো হলো-বিএনপি সমর্থিত জাতীয়তাবাদী আইনজীবী নীল প্যানেল, জামায়াত সমর্থিত সবুজ প্যানেল এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি সমর্থিত লাল-সবুজ প্যানেল।

২০২৬-২০২৭ মেয়াদের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (এসসিবিএ) নির্বাচনের তফসিল ১৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা করা হয়। এই তফসিল অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী নির্বাচনটি ১১ ও ১২ মার্চ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরবর্তীতে ১৩ ও ১৪ মে  সংশোধিত সময়সূচী অনুযায়ী ভোটগ্রহণের সিদ্বান্ত নেয় । এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৭ এপ্রিল ৪২ জন আইনজীবীর মনোনয়নপত্র বাতিল করে এসসিবিএ। বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সভাপতি পদে ২ জন, সম্পাদক পদে ৭ জন ও কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জনসহ নির্বাহী কমিটির বিভিন্ন পদের প্রার্থীরা রয়েছেন। 

সুপ্রিম কোর্ট বারের এক সাধারণ সভায় আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বিএনপি ও জামায়াত সমর্থিত আইনজীবীদের প্রাধান্য থাকা ওই সভায় জানানো হয়, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়ায় আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্টরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না।

তখন মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা অভিযোগ করেছেন, কোনো ধরনের নোটিশ বা প্রকাশ্যে যাচাই-বাছাই ছাড়াই ৪০ জনের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা সুপ্রিম কোর্ট অঙ্গনের জন্য অযৌক্তিক, অবৈধ ও কলঙ্কজনক।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত