ফেনী কাস্টমসের নিলাম প্রক্রিয়া ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট প্রথা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বন্ধ হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিলাম নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন তা অন্য একটি পক্ষের কবজায় চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকার যেমন ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিলামে অংশ নিতে পারছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের আগে ফেনী কাস্টমসের নিলাম ছিল ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন বাহারের মালিকানাধীন ‘অয়ন এন্টারপ্রাইজ’-এর নিয়ন্ত্রণে। তখন কাগুজে-কলমে আরও দু-তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও ঘুরেফিরে অয়ন এন্টারপ্রাইজই কাজ পেত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই জায়গা দখল করেছেন ফেনী পৌর যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু। অভিযোগ আছে, কাস্টমসের গুদাম কর্মকর্তা আবদুর রবসহ কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে বাবলু ও জেলা যুবদলের সদস্য গিয়াস উদ্দিন খোন্দকার এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন।
নিলামের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফায় প্রাক্কলিত দরের অন্তত ৬০ শতাংশ দর না পাওয়া গেলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। সিন্ডিকেট সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় কম দাম হাঁকান। ফলে তৃতীয় দফায় নামমাত্র মূল্যে পণ্য হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এই আইনি মারপ্যাঁচকে কাজে লাগিয়েই সিন্ডিকেটটি বিপুল অঙ্কের সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে বাবলু সিন্ডিকেটের ভয়ে অন্য কেউ দরপত্র জমা দেওয়ার সাহস পান না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিলামে অংশ নিতে আগ্রহীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে নিলামের সংখ্যা কমছে এবং গুদামে পড়ে থেকে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, ‘আমরা যথাযথ নিয়ম মেনে এবং বাজার যাচাই করে কোটেশন জমা দিই। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবেই আমি নিলাম পেয়েছি। এখানে সিন্ডিকেটের কোনো বিষয় নেই।’
ফেনী কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার অলোক কুমার হাজরা বলেন, ‘নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে এবং পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এখানে কোনো সিন্ডিকেট আছে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন কি না, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬
ফেনী কাস্টমসের নিলাম প্রক্রিয়া ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট প্রথা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও বন্ধ হয়নি। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিলাম নিয়ন্ত্রণ করলেও এখন তা অন্য একটি পক্ষের কবজায় চলে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সরকার যেমন ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরা নিলামে অংশ নিতে পারছেন না।
অভিযোগ রয়েছে, গত ৫ আগস্টের আগে ফেনী কাস্টমসের নিলাম ছিল ফেনী পৌরসভার কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন বাহারের মালিকানাধীন ‘অয়ন এন্টারপ্রাইজ’-এর নিয়ন্ত্রণে। তখন কাগুজে-কলমে আরও দু-তিনটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও ঘুরেফিরে অয়ন এন্টারপ্রাইজই কাজ পেত। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই জায়গা দখল করেছেন ফেনী পৌর যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সভাপতি জাহিদ হোসেন বাবলু। অভিযোগ আছে, কাস্টমসের গুদাম কর্মকর্তা আবদুর রবসহ কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে বাবলু ও জেলা যুবদলের সদস্য গিয়াস উদ্দিন খোন্দকার এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন।
নিলামের নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দফায় প্রাক্কলিত দরের অন্তত ৬০ শতাংশ দর না পাওয়া গেলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়। সিন্ডিকেট সদস্যরা পরিকল্পিতভাবে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় কম দাম হাঁকান। ফলে তৃতীয় দফায় নামমাত্র মূল্যে পণ্য হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এই আইনি মারপ্যাঁচকে কাজে লাগিয়েই সিন্ডিকেটটি বিপুল অঙ্কের সরকারি রাজস্ব আত্মসাৎ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী জানান, বর্তমানে বাবলু সিন্ডিকেটের ভয়ে অন্য কেউ দরপত্র জমা দেওয়ার সাহস পান না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিলামে অংশ নিতে আগ্রহীদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এতে নিলামের সংখ্যা কমছে এবং গুদামে পড়ে থেকে পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জাহিদ হোসেন বাবলু বলেন, ‘আমরা যথাযথ নিয়ম মেনে এবং বাজার যাচাই করে কোটেশন জমা দিই। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবেই আমি নিলাম পেয়েছি। এখানে সিন্ডিকেটের কোনো বিষয় নেই।’
ফেনী কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার অলোক কুমার হাজরা বলেন, ‘নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করতে এবং পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। এখানে কোনো সিন্ডিকেট আছে কি না, তা আমার জানা নেই। তবে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে কেউ বিশেষ সুবিধা পাচ্ছেন কি না, বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখব।’

আপনার মতামত লিখুন