সংবাদ

এ সপ্তাহের কবিতা


প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬, ১২:০৫ এএম

এ সপ্তাহের কবিতা

মোহিত সময়

আব্দুল্লাহ জামিল

 

সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার নাম সমঝোতা নয়|

সিদ্ধান্তহীনতায় মোড় ঘুরে গেলো

জীবনটা তো অন্যরকম হতে পারতো!

 

দেখার আকাঙ্ক্ষায় যে হৃদয় উন্মাদ ছিলো

তোমাকে দেখে সে উদাস হলো|

 

সরল একটি কথা যে অপমানের কারণ হবে

কখনো তা ভাবতে পারিনি|

বেশি তো নয়, থাকুক একটু যোগাযোগ

এই চাওয়াতে হলো কি খুব অন্যায়?

 

দিন আঁধারে আর রাত আলোতে প্রবেশ করে|

কিভাবে তা সংঘটিত হয় ভোর গোধূলিতে,

অবলোকন করে করে কখন যেনো

আলো-আঁধারিতে হারিয়ে যায় সময়|

 

 

আমাকে কে ডাকলো না-ডাকলো

রকিবুল হাসান

 

কয়া গ্রামের চাষার ঘর থেকে এসেছি একলা

এই শহরে আমার স্বজন ছিল না

আমি যে দু ক্লাস লেখাপড়া করেছি তাতেও

বাধা ছিল ঢের|

কেউই চায়নি, পড়াশোনা করি|

কাজ করেছি চৌচির রোদে বৃষ্টিতে,

পোষা কুকুরের মতো বিকেল সন্ধ্যা|

 

কখনো ভাবিনি নিজের ভবিষ্যৎ কী!

হিসাবের অঙ্কে ছিল শুধু কিছু ক্ষুধাতুর মুখ

বুকের গোপন ডায়েরিতে লেখা ছিল

অসহায় করুণ চাহনি

আমি নিজেকে মেলাতে চাইনি হিসাবে

কত বর্ষা কত গ্রীষ্ম কেঁদেছি লুকিয়ে

রাতের চাদরে|

 

করপোরেটের নীল চকচকে কাঁচের অফিস

অনাহূত আমি| কেউ গ্রহণ করেনি|

খাবারের দোকানের দিকে তাকিয়েছি

উঠোনে যেমন থাকে ক্ষুধার্ত কুকুর,

আমার পেটে ক্ষুধার আগুন ভীষণ

পৃথিবী পোড়ায়| মায়ের কবর চোখে ভাসে

রক্তের আপন চোখে ভাসে

জীবন কেন যে এত কঠিন রকিব!

একমুঠ ভাত আর আমার দূরত্ব কত শতাব্দী-শতাব্দী!

কতকাল একমুঠ ভাত যে খাইনি

ভাত তুমি কোন স্বর্গে ছিলে! ভাত কোন স্বর্গে থাকো!

 

কয়া গ্রামের চাষার ঘর থেকে একলা এসেছি

কেউ আমাকে ডাকেনি| একলাই, একদম একলা এসেছি

এখন আমাকে কে ডাকলো না-ডাকলো

তাতে রকিবের আর কিচ্ছু আসে যায় না মাবুদ!

 

 

বোধ

নাহিদ পারভেজ

 

কেন যেন সবকিছুতেই

দেরি হয়ে যায়|

প্রেমিকা সামনে এলে

কিছু বলার আগেই

দেখি তার চলে যাওয়া,

বিয়ের ফুল না ফুটতেই

মাথার সব চুল হলো হাওয়া|

পরের গল্পটা অবশ্য ভিন্ন,

কঠোর অধ্যবসায় আর

নিরলস পরিশ্রমের ফলে

জীবন নামের খাতায়

একে একে যুক্ত হয়েছে

বেশ কিছু পাওয়া|

তারপরেও কেন যে ছুটছি?

কেন যে মনে হয়

থেমে গেলেই হেরে গেছি|

ঠিক বুঝি না

এখনো কত কিছু আছে বাকি?

সেই খোঁজেই কাটছে দিনকাল|

কিন্তু সেটা আসলে কী,

বুঝবো যে কবে আবাল এই আমি!

 

 

আমি যেদিন চলে যাবো

প্রবল বিহঙ্গ

 

আমি যেদিন চলে যাবো, ধরো, তেষট্টি বছর বয়সে

জিপসী সময়টাকে হারিয়ে দিয়ে

জীবনের বিন্দুকে স্থির রেখে

তুমি সেদিন অস্থির হয়ে হয়তো কিছুক্ষণ

আমার কথা বলবে কাউকে, কাঁদবে ভুলোমন|

ভুলে যাবে দিন পরে, ভুলে যেতেই হয়

ভুলে থাকা বলেই বাঁচতে পারা, স্মৃতি বিভীষিকাময়|

সত্য হলো, তখন থেকেই তোমারও হবে এমন

কিছুতেই কেনো সুখ পাবে না আনন্দটাও তেমন|

স্বপ্ন নিভে যাবে, পিছনে তাকাবে শুধু খাঁ খাঁ রোদ্দুরে

জীবন ভোগ করা হবে না কিছুতেই আর তেমন করে|

প্রজন্ম তোমায় নিয়ে

হঠাৎ কখনও খানিক, পার্কে দিবে সময়

আর কিছু চাইলে পরে রাখবে সরিয়ে দূরে

বৃদ্ধের হোমেই হবে আশ্রয়|

স্বপ্নহীন মানুষের পৃথিবীটা মরে যায়

বন্ধু স্বজনহীন, এগোবার থাকে না উপায়|

ডানেবামেপিছে

সব চলে গেছে

ব্যস্ত পৃথিবী, ব্যস্ত সকলে|

আমার যাবার দিনেই

তোমারও মৃত্যু ঘটেছে আসলে

 

 

মুগ্ধতা খুঁজি

(অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ স্মরণে)

মুমির সরকার

 

ইদানীং

মুগ্ধতা কিছুই ঠাহরে আসে না|

কদাচিৎ মিলে যায় হোক এমন

ছাইপাশ কিংবা দুর্লভ, কিছু না|

 

ইদানীং

প্রিয়-অপ্রিয় বন্ধুসভায় মুগ্ধতা

ছড়াতেও হুটহাট বসে পড়ি না;

যখন তখন অভিন্ন কারো ঘরে

ঢুকে পড়ি না; সময়ে-অসময়ে

বেহেস্তি দরজা ভেবে, একদম

টোকাও দিই না ভুলে না-ভুলে|

 

ইদানীং

এতটুকু ফিটফাট হয়ে উঠি না|

শখের ওডিকোলন আর মনোহর

টয়লেট্রিজ,বেকার ওরা যে সবই;

এখন দেখার, শোনার, না-বোঝার

কত শত চ্যানেলেঢুঁও মারি না|

না কোনো প্রচ্ছদ-বই-পত্র-জার্নাল

এমনকি ঘরকন্নার নিজস্ব নারী

একদা ছিলো মুগ্ধতার ব্যাকরণ,

খুলেও দেখি না যে আর এখন|

 

ইদানীং

আর তেমন কোথাও বের হই না

সকল বাহির ভুলে ভেতরেই বাঁচি!

মানুষ বিবেচনায় জ্ঞাত অজ্ঞাত

সকল কৃত অপরাধে মুগ্ধতা খুঁজি!

 

 

 

বসন্ত আমার কবিতারা

দ্বীপ সরকার

 

কদমের ডালে ডালে যেনো শিরি ফরহাদ ফুটে আছে

হলদে দুপুরে, দুরন্ত বাতাস অতশত প্রেম বোঝে না

বাতাস কেবল ভাঙ্গে, গড়ে আর কি!

এক দুপুরে দেখি, শিরি ফরহাদ কদমতলে পড়ে আছে

 

আমের মুকুলে নেফারতিতি আখেনাতেন

পিরিত জমিয়েছে দেখার মতো

বহুদিন বৃষ্টি নেই

নেফারতিতিরা শুকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে

বসন্ত তাদের ভেতর ফোটাতে চেয়েছিলো আম

এবং আমের মতোন সবুজ সন্তানসন্ততি

 

বনলতা সেনের কথা মনে পড়ে খুব

সজনের মতো ঝুলে রেখেছিলো তার ঘন চুল

সেদিন ভোরে হাঁটতে দেখি সেটাও নেই ডালে

সেদিন থেকে বনলতাকে হারিয়েছি

 

আমার জীবনে একটা কোকিল সুর তুলেছিলো এই বসন্তেগত বছরে

সেই সুরে নেচে উঠেছিলো আমার ভেতরে বসত করা দরিদ্র জনগণ

আজ সেই কোকিল নেই

আহা! দরিদ্র জনগণ, দরিদ্রই রয়ে গেলো

 

দেশে বসন্ত আসে-যায়, ফুল ফোটে-ঝরে যায়

হলদে রমণীরা খোঁপায় গাঁদা রাখে বা রাখে না

অন্তত আমার মস্তিষ্কে বসন্ত ঢুকিয়ে দাও হে ঈশ্বর

কথা দিচ্ছি, মাথা থেকে শুধু বসন্ত প্রসব করবো, যদ্দিন বাঁচি

কালো অক্ষরের কবিতা, সর্ষে রং দিয়ে লিখবো

কবিতার শরীরে পরিয়ে দেবো হলুদ ভাষার শাড়ি

 

 

যেভাবে রোজ মরি

বাশার মাহফুজ

 

প্রথমবার যখন মারা গিয়েছিলাম

আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল ফুলের আঘাতে মরি

কিন্তু ভালোবাসার অভাবে তৃষ্ণার্ত বুকের ছাতি ফেটে

আহা সে কী তৃষ্ণা

মন চাইছিল সূর্যের সমস্ত আলো চুষে নিই!

 

দ্বিতীয়বার যখন মারা গিয়েছিলাম

বলেছিলাম আমাকে বিশ্বাসের সমুদ্রে ডুবিয়ে মারো

কিন্তু ওরা আমাকে হিংসার ধুলোয় শ্বাসরোধ করেছিল

দম বন্ধ হতে হতে আমি বিশ্বাসী মানুষগুলোর চোখে

হায়েনার নৃত্য দেখেছিলাম|

 

তৃতীয়বার মরার সময়

আমি বেশ সচেতন হয়ে উঠেছিলাম

এবার আমাকে কেউ আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে মারতে পারবে না

এবার আমি জোছনার জলে স্নান দিয়ে ˆনতিকতার পাঠ নিতে নিতে মরবো

কিন্তু কী দুর্ভাগ্য অনৈতিক বিষে

আমার সমস্ত অধ্যায় অন্ধকার হয়ে গেল!

 

এভাবে বহুবার আমার মরণ হয়েছে

এক টুকরো রোদের জন্য

একটি ঘাসফুল সমেত আদরের জন্য

প্রচণ্ড খরায় কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য!

 

এভাবে মরতে মরতে আমরা রোজ মরি

আমাদের উঠানে মৃত্যুরা পরে থাকে কালো গোলাপের অলংকার|

 

 

মানুষ অর্ধেক শামুক

আসাদ উল্লাহ

 

পাখির ভাষা আমার মতো অনেকেই বোঝে

পাখির ভাষায় গান থাকে, সুর থাকে, ফুর্তি থাকে

পাখি দিনমান উড়ে সন্ধ্যায় ফিরে নীড়ে|

 

মানুষের ভাষা ভিন্ন, কঠিন সান্ধ্য

বুঝি না কোনটি প্রেম, কোনটি প্রতিশ্রুতি,

মানুষের ভাষায় মিথ্যে আশ্বাস থাকে

অবশ্য কান্না গোপন ব্যথার তাপও থাকে|

 

মানুষ শেষাবধি অর্ধেক শামুকখোলসে থাকে

অর্ধেক নারী পুরুষের ছায়ার ফাঁকে হাঁটে,

আমাদের দেখা হয় না কখনো পুরো মানুষ

মানুষ প্রকৃতই নানা রঙ ফানুস|

 

চলো পুনর্জন্মে পাখি হয়ে যাই, হলুদ রঙের পাখি

চায়ের চুমুকের মতো তোমার ঠোঁটে রেখে প্রেম

যাবো উড়ে উড়ে দক্ষিণে না হয় উত্তরে|

 

 

আকাশের মতো একা

আলমগীর খোরশেদ

 

ছেড়ে দিয়েছ বলেই

থেমে গেছে গ্রহাণুর পথচলা,

বুকের ভিতর ব্ল্যাকহোলের অন্ধকার

মাধ্যাকর্ষণ টান আছে বলেই

তুমি আজো হৃদয় বিলে ফোটা নীল পদ্ম,

শূন্যস্থান পূরণে ছোটে পরমাণুরাজি

পদার্থের ফ্লাক্সুয়েশান সূত্র মেনে,

তুমিও কার পানে ছোটো উল্কাপাতের মতো

দিনশেষের হিসেবে কোথাও কেউ নেই,

পাশে থাকা মানুষটাকে ছেড়ে দিলে

থাকতে হয়, আকাশের মতো একা|

 

 

দুখু মিয়া থেকে বিদ্রোহী

নৈঃশব্দ্য সুমি

 

যখন , , , শিখছি,

তখনই প্রথম মায়ের মুখে শুনি দুখু মিয়ার কথা|

ওহে বিদ্রোহী,

তোমাকে চিনেছি বর্ণমালা শিখতে শিখতে|

 

মা আমার জানে না কোনো ভাষার ব্যাকরণ,

বোঝে না জাতির বিভাজন,

চিনে না কোনো কবির নাম|

 

তবুও সে বিদ্রোহী

তোমাকে চিনতদুখু মিয়ানামে|

মা বলত তার নিজস্ব ছন্দে,

দরিরামপুরে তুমি এসেছিলে

এক ছোট্ট বালক হয়ে|

 

কষ্টের আগুনে গেঁথেছিলে

বজ্রকণ্ঠের মালা|

মা শিখেছিল তোমার কাছ থেকে

মানুষে মানুষে নেই ভেদাভেদ,

নেই দূরত্ব, হিংসা কিংবা বিদ্বেষ|

 

অবুঝ বালিকাটির মায়ের চোখে দেখা

সেই দুখুই একদিন হয়ে উঠল

আমাদের বিদ্রোহী|

শিকল ভাঙার গান,

ইসরাফিলের শিঙায় জাগানো ফুঁ|

 

মসজিদের পাশে মন্দিরের বাঁশি”—

তুমিই শিখিয়েছিলে সেই সুর

এই অবুঝ বালিকার বুকে

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


এ সপ্তাহের কবিতা

প্রকাশের তারিখ : ২১ মে ২০২৬

featured Image

মোহিত সময়

আব্দুল্লাহ জামিল

 

সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার নাম সমঝোতা নয়|

সিদ্ধান্তহীনতায় মোড় ঘুরে গেলো

জীবনটা তো অন্যরকম হতে পারতো!

 

দেখার আকাঙ্ক্ষায় যে হৃদয় উন্মাদ ছিলো

তোমাকে দেখে সে উদাস হলো|

 

সরল একটি কথা যে অপমানের কারণ হবে

কখনো তা ভাবতে পারিনি|

বেশি তো নয়, থাকুক একটু যোগাযোগ

এই চাওয়াতে হলো কি খুব অন্যায়?

 

দিন আঁধারে আর রাত আলোতে প্রবেশ করে|

কিভাবে তা সংঘটিত হয় ভোর গোধূলিতে,

অবলোকন করে করে কখন যেনো

আলো-আঁধারিতে হারিয়ে যায় সময়|

 

 

আমাকে কে ডাকলো না-ডাকলো

রকিবুল হাসান

 

কয়া গ্রামের চাষার ঘর থেকে এসেছি একলা

এই শহরে আমার স্বজন ছিল না

আমি যে দু ক্লাস লেখাপড়া করেছি তাতেও

বাধা ছিল ঢের|

কেউই চায়নি, পড়াশোনা করি|

কাজ করেছি চৌচির রোদে বৃষ্টিতে,

পোষা কুকুরের মতো বিকেল সন্ধ্যা|

 

কখনো ভাবিনি নিজের ভবিষ্যৎ কী!

হিসাবের অঙ্কে ছিল শুধু কিছু ক্ষুধাতুর মুখ

বুকের গোপন ডায়েরিতে লেখা ছিল

অসহায় করুণ চাহনি

আমি নিজেকে মেলাতে চাইনি হিসাবে

কত বর্ষা কত গ্রীষ্ম কেঁদেছি লুকিয়ে

রাতের চাদরে|

 

করপোরেটের নীল চকচকে কাঁচের অফিস

অনাহূত আমি| কেউ গ্রহণ করেনি|

খাবারের দোকানের দিকে তাকিয়েছি

উঠোনে যেমন থাকে ক্ষুধার্ত কুকুর,

আমার পেটে ক্ষুধার আগুন ভীষণ

পৃথিবী পোড়ায়| মায়ের কবর চোখে ভাসে

রক্তের আপন চোখে ভাসে

জীবন কেন যে এত কঠিন রকিব!

একমুঠ ভাত আর আমার দূরত্ব কত শতাব্দী-শতাব্দী!

কতকাল একমুঠ ভাত যে খাইনি

ভাত তুমি কোন স্বর্গে ছিলে! ভাত কোন স্বর্গে থাকো!

 

কয়া গ্রামের চাষার ঘর থেকে একলা এসেছি

কেউ আমাকে ডাকেনি| একলাই, একদম একলা এসেছি

এখন আমাকে কে ডাকলো না-ডাকলো

তাতে রকিবের আর কিচ্ছু আসে যায় না মাবুদ!

 

 

বোধ

নাহিদ পারভেজ

 

কেন যেন সবকিছুতেই

দেরি হয়ে যায়|

প্রেমিকা সামনে এলে

কিছু বলার আগেই

দেখি তার চলে যাওয়া,

বিয়ের ফুল না ফুটতেই

মাথার সব চুল হলো হাওয়া|

পরের গল্পটা অবশ্য ভিন্ন,

কঠোর অধ্যবসায় আর

নিরলস পরিশ্রমের ফলে

জীবন নামের খাতায়

একে একে যুক্ত হয়েছে

বেশ কিছু পাওয়া|

তারপরেও কেন যে ছুটছি?

কেন যে মনে হয়

থেমে গেলেই হেরে গেছি|

ঠিক বুঝি না

এখনো কত কিছু আছে বাকি?

সেই খোঁজেই কাটছে দিনকাল|

কিন্তু সেটা আসলে কী,

বুঝবো যে কবে আবাল এই আমি!

 

 

আমি যেদিন চলে যাবো

প্রবল বিহঙ্গ

 

আমি যেদিন চলে যাবো, ধরো, তেষট্টি বছর বয়সে

জিপসী সময়টাকে হারিয়ে দিয়ে

জীবনের বিন্দুকে স্থির রেখে

তুমি সেদিন অস্থির হয়ে হয়তো কিছুক্ষণ

আমার কথা বলবে কাউকে, কাঁদবে ভুলোমন|

ভুলে যাবে দিন পরে, ভুলে যেতেই হয়

ভুলে থাকা বলেই বাঁচতে পারা, স্মৃতি বিভীষিকাময়|

সত্য হলো, তখন থেকেই তোমারও হবে এমন

কিছুতেই কেনো সুখ পাবে না আনন্দটাও তেমন|

স্বপ্ন নিভে যাবে, পিছনে তাকাবে শুধু খাঁ খাঁ রোদ্দুরে

জীবন ভোগ করা হবে না কিছুতেই আর তেমন করে|

প্রজন্ম তোমায় নিয়ে

হঠাৎ কখনও খানিক, পার্কে দিবে সময়

আর কিছু চাইলে পরে রাখবে সরিয়ে দূরে

বৃদ্ধের হোমেই হবে আশ্রয়|

স্বপ্নহীন মানুষের পৃথিবীটা মরে যায়

বন্ধু স্বজনহীন, এগোবার থাকে না উপায়|

ডানেবামেপিছে

সব চলে গেছে

ব্যস্ত পৃথিবী, ব্যস্ত সকলে|

আমার যাবার দিনেই

তোমারও মৃত্যু ঘটেছে আসলে

 

 

মুগ্ধতা খুঁজি

(অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ স্মরণে)

মুমির সরকার

 

ইদানীং

মুগ্ধতা কিছুই ঠাহরে আসে না|

কদাচিৎ মিলে যায় হোক এমন

ছাইপাশ কিংবা দুর্লভ, কিছু না|

 

ইদানীং

প্রিয়-অপ্রিয় বন্ধুসভায় মুগ্ধতা

ছড়াতেও হুটহাট বসে পড়ি না;

যখন তখন অভিন্ন কারো ঘরে

ঢুকে পড়ি না; সময়ে-অসময়ে

বেহেস্তি দরজা ভেবে, একদম

টোকাও দিই না ভুলে না-ভুলে|

 

ইদানীং

এতটুকু ফিটফাট হয়ে উঠি না|

শখের ওডিকোলন আর মনোহর

টয়লেট্রিজ,বেকার ওরা যে সবই;

এখন দেখার, শোনার, না-বোঝার

কত শত চ্যানেলেঢুঁও মারি না|

না কোনো প্রচ্ছদ-বই-পত্র-জার্নাল

এমনকি ঘরকন্নার নিজস্ব নারী

একদা ছিলো মুগ্ধতার ব্যাকরণ,

খুলেও দেখি না যে আর এখন|

 

ইদানীং

আর তেমন কোথাও বের হই না

সকল বাহির ভুলে ভেতরেই বাঁচি!

মানুষ বিবেচনায় জ্ঞাত অজ্ঞাত

সকল কৃত অপরাধে মুগ্ধতা খুঁজি!

 

 

 

বসন্ত আমার কবিতারা

দ্বীপ সরকার

 

কদমের ডালে ডালে যেনো শিরি ফরহাদ ফুটে আছে

হলদে দুপুরে, দুরন্ত বাতাস অতশত প্রেম বোঝে না

বাতাস কেবল ভাঙ্গে, গড়ে আর কি!

এক দুপুরে দেখি, শিরি ফরহাদ কদমতলে পড়ে আছে

 

আমের মুকুলে নেফারতিতি আখেনাতেন

পিরিত জমিয়েছে দেখার মতো

বহুদিন বৃষ্টি নেই

নেফারতিতিরা শুকিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে

বসন্ত তাদের ভেতর ফোটাতে চেয়েছিলো আম

এবং আমের মতোন সবুজ সন্তানসন্ততি

 

বনলতা সেনের কথা মনে পড়ে খুব

সজনের মতো ঝুলে রেখেছিলো তার ঘন চুল

সেদিন ভোরে হাঁটতে দেখি সেটাও নেই ডালে

সেদিন থেকে বনলতাকে হারিয়েছি

 

আমার জীবনে একটা কোকিল সুর তুলেছিলো এই বসন্তেগত বছরে

সেই সুরে নেচে উঠেছিলো আমার ভেতরে বসত করা দরিদ্র জনগণ

আজ সেই কোকিল নেই

আহা! দরিদ্র জনগণ, দরিদ্রই রয়ে গেলো

 

দেশে বসন্ত আসে-যায়, ফুল ফোটে-ঝরে যায়

হলদে রমণীরা খোঁপায় গাঁদা রাখে বা রাখে না

অন্তত আমার মস্তিষ্কে বসন্ত ঢুকিয়ে দাও হে ঈশ্বর

কথা দিচ্ছি, মাথা থেকে শুধু বসন্ত প্রসব করবো, যদ্দিন বাঁচি

কালো অক্ষরের কবিতা, সর্ষে রং দিয়ে লিখবো

কবিতার শরীরে পরিয়ে দেবো হলুদ ভাষার শাড়ি

 

 

যেভাবে রোজ মরি

বাশার মাহফুজ

 

প্রথমবার যখন মারা গিয়েছিলাম

আমার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল ফুলের আঘাতে মরি

কিন্তু ভালোবাসার অভাবে তৃষ্ণার্ত বুকের ছাতি ফেটে

আহা সে কী তৃষ্ণা

মন চাইছিল সূর্যের সমস্ত আলো চুষে নিই!

 

দ্বিতীয়বার যখন মারা গিয়েছিলাম

বলেছিলাম আমাকে বিশ্বাসের সমুদ্রে ডুবিয়ে মারো

কিন্তু ওরা আমাকে হিংসার ধুলোয় শ্বাসরোধ করেছিল

দম বন্ধ হতে হতে আমি বিশ্বাসী মানুষগুলোর চোখে

হায়েনার নৃত্য দেখেছিলাম|

 

তৃতীয়বার মরার সময়

আমি বেশ সচেতন হয়ে উঠেছিলাম

এবার আমাকে কেউ আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে মারতে পারবে না

এবার আমি জোছনার জলে স্নান দিয়ে ˆনতিকতার পাঠ নিতে নিতে মরবো

কিন্তু কী দুর্ভাগ্য অনৈতিক বিষে

আমার সমস্ত অধ্যায় অন্ধকার হয়ে গেল!

 

এভাবে বহুবার আমার মরণ হয়েছে

এক টুকরো রোদের জন্য

একটি ঘাসফুল সমেত আদরের জন্য

প্রচণ্ড খরায় কয়েক ফোঁটা বৃষ্টির জন্য!

 

এভাবে মরতে মরতে আমরা রোজ মরি

আমাদের উঠানে মৃত্যুরা পরে থাকে কালো গোলাপের অলংকার|

 

 

মানুষ অর্ধেক শামুক

আসাদ উল্লাহ

 

পাখির ভাষা আমার মতো অনেকেই বোঝে

পাখির ভাষায় গান থাকে, সুর থাকে, ফুর্তি থাকে

পাখি দিনমান উড়ে সন্ধ্যায় ফিরে নীড়ে|

 

মানুষের ভাষা ভিন্ন, কঠিন সান্ধ্য

বুঝি না কোনটি প্রেম, কোনটি প্রতিশ্রুতি,

মানুষের ভাষায় মিথ্যে আশ্বাস থাকে

অবশ্য কান্না গোপন ব্যথার তাপও থাকে|

 

মানুষ শেষাবধি অর্ধেক শামুকখোলসে থাকে

অর্ধেক নারী পুরুষের ছায়ার ফাঁকে হাঁটে,

আমাদের দেখা হয় না কখনো পুরো মানুষ

মানুষ প্রকৃতই নানা রঙ ফানুস|

 

চলো পুনর্জন্মে পাখি হয়ে যাই, হলুদ রঙের পাখি

চায়ের চুমুকের মতো তোমার ঠোঁটে রেখে প্রেম

যাবো উড়ে উড়ে দক্ষিণে না হয় উত্তরে|

 

 

আকাশের মতো একা

আলমগীর খোরশেদ

 

ছেড়ে দিয়েছ বলেই

থেমে গেছে গ্রহাণুর পথচলা,

বুকের ভিতর ব্ল্যাকহোলের অন্ধকার

মাধ্যাকর্ষণ টান আছে বলেই

তুমি আজো হৃদয় বিলে ফোটা নীল পদ্ম,

শূন্যস্থান পূরণে ছোটে পরমাণুরাজি

পদার্থের ফ্লাক্সুয়েশান সূত্র মেনে,

তুমিও কার পানে ছোটো উল্কাপাতের মতো

দিনশেষের হিসেবে কোথাও কেউ নেই,

পাশে থাকা মানুষটাকে ছেড়ে দিলে

থাকতে হয়, আকাশের মতো একা|

 

 

দুখু মিয়া থেকে বিদ্রোহী

নৈঃশব্দ্য সুমি

 

যখন , , , শিখছি,

তখনই প্রথম মায়ের মুখে শুনি দুখু মিয়ার কথা|

ওহে বিদ্রোহী,

তোমাকে চিনেছি বর্ণমালা শিখতে শিখতে|

 

মা আমার জানে না কোনো ভাষার ব্যাকরণ,

বোঝে না জাতির বিভাজন,

চিনে না কোনো কবির নাম|

 

তবুও সে বিদ্রোহী

তোমাকে চিনতদুখু মিয়ানামে|

মা বলত তার নিজস্ব ছন্দে,

দরিরামপুরে তুমি এসেছিলে

এক ছোট্ট বালক হয়ে|

 

কষ্টের আগুনে গেঁথেছিলে

বজ্রকণ্ঠের মালা|

মা শিখেছিল তোমার কাছ থেকে

মানুষে মানুষে নেই ভেদাভেদ,

নেই দূরত্ব, হিংসা কিংবা বিদ্বেষ|

 

অবুঝ বালিকাটির মায়ের চোখে দেখা

সেই দুখুই একদিন হয়ে উঠল

আমাদের বিদ্রোহী|

শিকল ভাঙার গান,

ইসরাফিলের শিঙায় জাগানো ফুঁ|

 

মসজিদের পাশে মন্দিরের বাঁশি”—

তুমিই শিখিয়েছিলে সেই সুর

এই অবুঝ বালিকার বুকে


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত