সংবাদ

নারী, তরুণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জনবান্ধব বাজেটের জোরালো দাবি


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ০৬:৩২ পিএম

নারী, তরুণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জনবান্ধব বাজেটের জোরালো দাবি

​আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা, জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু খাতে আরও টেকসই এবং জনবান্ধব বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা। তারা মনে করেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বড় সুযোগ হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও জলবায়ু সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সুরক্ষাকবচ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সময় এখনই: নারী, তরুণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জনবান্ধব বাজেট’ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই সংলাপে অর্থনীতিবিদ, জলবায়ুবিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
​সংলাপে উপস্থাপিত একশনএইড বাংলাদেশের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২.৮ শতাংশ থেকে কমে ১.৭২ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে জেন্ডার বাজেটও জিডিপির ৫.৭ শতাংশ থেকে কমে ৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বক্তাদের মতে, নারীদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এডিপি বরাদ্দ মাত্র ২.৮৯ শতাংশ বলে জানানো হয়। একই সাথে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বাস্তবায়নে অর্থায়নের বড় ঘাটতির কথাও সংলাপে তুলে ধরেন বক্তারা।
​অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, "সরকার এখন জলবায়ু অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক তহবিল ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন ও কার্বন ট্রেডিংয়ের মতো উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে।"
অন্যদিকে তরুণদের উন্নয়ন ও জেন্ডার বাজেট কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, "শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না; তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে না পারলে উন্নয়নের সুফল মিলবে না।"
​জেন্ডার বাজেটের পরিধি ও কার্যকারিতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, "জেন্ডার বাজেটকে কেবল নারীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।"
তবে বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতা ও জবাবদিহির অভাব নিয়ে জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ জানান, "গত এক দশকে প্রায় ২৫টি মন্ত্রণালয় জলবায়ু কার্যক্রমে যুক্ত হলেও গড় বাস্তবায়ন সক্ষমতা মাত্র ৭ শতাংশ। দুর্বল জবাবদিহির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না।"
​এই সংলাপ থেকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৮ সালের মধ্যে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করা, কারিগরি শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ ৪০ শতাংশে নেওয়া, নারী উদ্যোক্তা তহবিল গঠন, যুব উদ্যোক্তা তহবিল বাড়ানো এবং জলবায়ু অভিযোজন ও ক্ষতিপূরণের জন্য পৃথক বাজেট কোড চালু করা।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


নারী, তরুণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জনবান্ধব বাজেটের জোরালো দাবি

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

​আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা, জেন্ডার সমতা ও জলবায়ু খাতে আরও টেকসই এবং জনবান্ধব বরাদ্দের জোর দাবি জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও নীতিনির্ধারকেরা। তারা মনে করেন, নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের বড় সুযোগ হলেও বর্তমান অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যস্ফীতি ও জলবায়ু সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য কার্যকর সুরক্ষাকবচ গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত ‘ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সময় এখনই: নারী, তরুণ ও জলবায়ু সুরক্ষায় জনবান্ধব বাজেট’ শীর্ষক এক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই সংলাপে অর্থনীতিবিদ, জলবায়ুবিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, সরকারি কর্মকর্তা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
​সংলাপে উপস্থাপিত একশনএইড বাংলাদেশের বাজেট বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত পাঁচ বছরে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ২.৮ শতাংশ থেকে কমে ১.৭২ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে জেন্ডার বাজেটও জিডিপির ৫.৭ শতাংশ থেকে কমে ৪.২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। বক্তাদের মতে, নারীদের নিরাপত্তা, আইনি সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষাসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে বরাদ্দ কমে যাওয়ায় মাঠপর্যায়ে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। এছাড়া জলবায়ু ঝুঁকির মুখে থাকা বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এডিপি বরাদ্দ মাত্র ২.৮৯ শতাংশ বলে জানানো হয়। একই সাথে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা ও জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বাস্তবায়নে অর্থায়নের বড় ঘাটতির কথাও সংলাপে তুলে ধরেন বক্তারা।
​অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. সাইমুম পারভেজ সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, "সরকার এখন জলবায়ু অর্থায়ন, আন্তর্জাতিক তহবিল ও আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদন ও কার্বন ট্রেডিংয়ের মতো উদ্যোগ নিয়েও কাজ চলছে।"
অন্যদিকে তরুণদের উন্নয়ন ও জেন্ডার বাজেট কমে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা বলেন, "শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই হবে না; তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করতে না পারলে উন্নয়নের সুফল মিলবে না।"
​জেন্ডার বাজেটের পরিধি ও কার্যকারিতা নিয়ে অর্থনীতিবিদ ড. সায়মা হক বিদিশা বলেন, "জেন্ডার বাজেটকে কেবল নারীদের জন্য আলাদা বরাদ্দ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এটি সব মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত পরিকল্পনার অংশ হওয়া উচিত।"
তবে বাজেট বাস্তবায়নের দুর্বলতা ও জবাবদিহির অভাব নিয়ে জলবায়ু অর্থায়ন বিশেষজ্ঞ ড. আহসান উদ্দিন আহমেদ জানান, "গত এক দশকে প্রায় ২৫টি মন্ত্রণালয় জলবায়ু কার্যক্রমে যুক্ত হলেও গড় বাস্তবায়ন সক্ষমতা মাত্র ৭ শতাংশ। দুর্বল জবাবদিহির কারণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না।"
​এই সংলাপ থেকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে ধরা হয়। সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৮ সালের মধ্যে শিক্ষাখাতে বরাদ্দ জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করা, কারিগরি শিক্ষায় নারীর অংশগ্রহণ ৪০ শতাংশে নেওয়া, নারী উদ্যোক্তা তহবিল গঠন, যুব উদ্যোক্তা তহবিল বাড়ানো এবং জলবায়ু অভিযোজন ও ক্ষতিপূরণের জন্য পৃথক বাজেট কোড চালু করা।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত