সংবাদ

বর্জ্য নয়, সম্পদ হবে ট্যানারির ছাঁট: চামড়া খাতে বৃত্তাকার অর্থনীতিতে জোর অংশীজনদের


সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
সংবাদ ডিজিটাল রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ মে ২০২৬, ১২:৩৬ এএম

বর্জ্য নয়, সম্পদ হবে ট্যানারির ছাঁট: চামড়া খাতে বৃত্তাকার অর্থনীতিতে জোর অংশীজনদের

​পরিবেশগত নিয়ম মেনে বর্জ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে চামড়া খাতের বর্জ্যই দেশের অর্থনীতিতে সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তবে অবকাঠামোগত সংকট ও নীতিমালার অভাবে বিপুল সম্ভাবনাময় এই উপজাত খাতটি এখনো অনানুষ্ঠানিক ও পিছিয়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৯ মে রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে আয়োজিত “বাংলাদেশে ট্যানারি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ পুনরুদ্ধার” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বর্জ্য থেকে সম্পদ: টিএসডব্লিউ বাইপ্রোডাক্ট এন্টারপ্রেনারশিপ প্রকল্পের আওতায় বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) এবং দি এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। সভায় সরকারি দপ্তর, চামড়া শিল্প সমিতি, ব্যাংক, পরিবেশবিদ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
​উদ্বোধনী পর্বে বিল্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, "পরিবেশগত মানদণ্ডের উন্নত পরিপালন, বর্জ্যের সঠিক শোধন ও ব্যবহার এবং সরকারি সংস্থা, শিল্পের অংশীজন ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি জানান, ট্যানারির কঠিন বর্জ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ কোনো শোধন ছাড়াই সরাসরি ফেলা হয়, যার মধ্যে চামড়ার ভেতরের অংশ এবং চামড়ার ছাঁটের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭৩ হাজার থেকে ৯০ হাজার টন ট্যানারির কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়, যার বেশিরভাগই বৈজ্ঞানিক শোধন ছাড়া ফেলায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। অথচ এগুলো দিয়ে গ্লাভস, জেলটিন, আঠা, লেদার বোর্ড, সাবান ও জুতোর সোল তৈরি সম্ভব।

​কারিগরি অধিবেশনে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ঢাকা (টিআইইডি)-এর ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। বিটিএ মনে করে যে, এটি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর অধীনে থাকাই শ্রেয় ছিল, কারণ তারা ঐতিহ্যগতভাবেই এসএমই-এর স্বার্থ রক্ষা করে থাকে।"
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নতুন ব্যবস্থার জন্য নতুন লিজ দলিলের প্রয়োজন হতে পারে, যা এস্টেটের উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে তিনি ক্ষুদ্র ট্যানারি বর্জ্য শিল্পের জন্য জমির জরুরি প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন এবং সাপ্লাই চেইনে শৃঙ্খলা আনতে একটি একক কোম্পানির মাধ্যমে বর্জ্যসামগ্রী পরিচালনার পরামর্শ দেন।
​দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার এ. এম. সাজ্জাদ হোসেন খান ট্যানারি খাতে বৃত্তাকার অর্থনীতির উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, "কার্যকর বৃত্তাকার সমাধানের জন্য সরকারি, শিল্প এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার পাশাপাশি এসএমই এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের আরও শক্তিশালী সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।"
অন্যদিকে, ট্যানারি বর্জ্য নিয়ে কাজ করা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য ও বাড়তি খরচের অভিযোগ তোলেন। তারা বিসিক এস্টেটে সুনির্দিষ্ট প্লট ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসার জন্য সরকারি নীতিগত স্বীকৃতির দাবি জানান।
​উদ্যোক্তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মু. খায়রুজ্জামান আশ্বস্ত করে বলেন, "সাভার ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে ট্যানারি বর্জ্য উদ্যোক্তাদের জন্য প্লট বরাদ্দের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা একটি চলমান সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা দ্বারা সমর্থিত।"

তিনি আরও জানান, সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি)-এর দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। একই সাথে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. মো. রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, "চামড়া খাতে মূল্য সংযোজনের শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে।" তিনি খাতের সুনির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সুযোগগুলো চিহ্নিত করতে একটি ঘাটতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
​সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ট্যানারির কঠিন বর্জ্যকে বায়োডিজেলে রূপান্তরের বিষয়ে তার নিজের করা গবেষণার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "চামড়ার বর্জ্য থেকে বায়োগ্যস ও জৈব সার উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।" তবে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনগুলো ছড়িয়ে দিতে তিনি ডেডিকেটেড জমি বরাদ্দ এবং বিনিয়োগ সহায়তার আহ্বান জানান।

কারিগরি সেশনে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা তু‌লে ধ‌রেন বিল্ড-এর সি‌নিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট তানজিলা মারজাহান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭৩,০০০–৯০,০০০ টন ট্যানারি কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বৈজ্ঞানিক শোধন ছাড়াই সরাসরি ফেলে দেওয়া হয়, যা মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করছে।

উপস্থাপনায় ফ্লেশিং, র ট্রিমিং, স্প্লিট লেদার বর্জ্য এবং শেভিং ডাস্টের মতো প্রধান বর্জ্য ধারাগুলো তুলে ধরা হয়, যার সবকটিরই মূল্য সংযোজনের (value addition) জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাংলাদেশে উদীয়মান উপজাত শিল্পগুলোকে প্রদর্শন করে যেগুলি বর্তমানে গ্লাভস, জেলটিন, আঠা (গ্লু), লেদার বোর্ড, জুতোর সোল, সাবান এবং ছোট চামড়াজাত পণ্য তৈরি করছে। তবে দুর্বল সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থা, সীমিত অবকাঠামো এবং নীতিগত স্বীকৃতির অভাবে এই কার্যক্রমগুলো এখনো বহুলাংশে অনানুষ্ঠানিক এবং খণ্ডিত রয়ে গেছে। সমীক্ষায় পরিবেশগত নিয়মের দুর্বল প্রয়োগ, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং আনুষ্ঠানিক বৃত্তাকার অর্থনীতি ব্যবস্থায় এসএমই-দের সীমিত একীভূতকরণসহ প্রধান কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বিল্ড-এর সিওও মো. ওয়াহিদ আলম বলেন, বর্জ্যকে টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করতে যৌথ পদক্ষেপের বিকল্প নেই। এই আলোচনার সুপারিশগুলো আগামী দিনে একটি পরিবেশবান্ধব চামড়া উপজাত শিল্প গড়ে তোলার নীতি তৈরিতে সহায়তা করবে।

আপনার মতামত লিখুন

সংবাদ

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬


বর্জ্য নয়, সম্পদ হবে ট্যানারির ছাঁট: চামড়া খাতে বৃত্তাকার অর্থনীতিতে জোর অংশীজনদের

প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬

featured Image

​পরিবেশগত নিয়ম মেনে বর্জ্যের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে চামড়া খাতের বর্জ্যই দেশের অর্থনীতিতে সম্পদ হয়ে উঠতে পারে। তবে অবকাঠামোগত সংকট ও নীতিমালার অভাবে বিপুল সম্ভাবনাময় এই উপজাত খাতটি এখনো অনানুষ্ঠানিক ও পিছিয়ে রয়েছে।

মঙ্গলবার, ১৯ মে রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টসে আয়োজিত “বাংলাদেশে ট্যানারি কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ পুনরুদ্ধার” শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ‘বর্জ্য থেকে সম্পদ: টিএসডব্লিউ বাইপ্রোডাক্ট এন্টারপ্রেনারশিপ প্রকল্পের আওতায় বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) এবং দি এশিয়া ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সভার আয়োজন করে। সভায় সরকারি দপ্তর, চামড়া শিল্প সমিতি, ব্যাংক, পরিবেশবিদ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা অংশ নেন।
​উদ্বোধনী পর্বে বিল্ড-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, "পরিবেশগত মানদণ্ডের উন্নত পরিপালন, বর্জ্যের সঠিক শোধন ও ব্যবহার এবং সরকারি সংস্থা, শিল্পের অংশীজন ও উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা পরিবেশগত ঝুঁকি হ্রাসের পাশাপাশি নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
তিনি জানান, ট্যানারির কঠিন বর্জ্যের প্রায় ৫০ শতাংশ কোনো শোধন ছাড়াই সরাসরি ফেলা হয়, যার মধ্যে চামড়ার ভেতরের অংশ এবং চামড়ার ছাঁটের পরিমাণই সবচেয়ে বেশি।

সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭৩ হাজার থেকে ৯০ হাজার টন ট্যানারির কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়, যার বেশিরভাগই বৈজ্ঞানিক শোধন ছাড়া ফেলায় পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। অথচ এগুলো দিয়ে গ্লাভস, জেলটিন, আঠা, লেদার বোর্ড, সাবান ও জুতোর সোল তৈরি সম্ভব।

​কারিগরি অধিবেশনে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট ঢাকা (টিআইইডি)-এর ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)-এর কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে। বিটিএ মনে করে যে, এটি বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)-এর অধীনে থাকাই শ্রেয় ছিল, কারণ তারা ঐতিহ্যগতভাবেই এসএমই-এর স্বার্থ রক্ষা করে থাকে।"
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই নতুন ব্যবস্থার জন্য নতুন লিজ দলিলের প্রয়োজন হতে পারে, যা এস্টেটের উদ্যোক্তাদের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। একই সঙ্গে তিনি ক্ষুদ্র ট্যানারি বর্জ্য শিল্পের জন্য জমির জরুরি প্রয়োজনের কথা তুলে ধরেন এবং সাপ্লাই চেইনে শৃঙ্খলা আনতে একটি একক কোম্পানির মাধ্যমে বর্জ্যসামগ্রী পরিচালনার পরামর্শ দেন।
​দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার এ. এম. সাজ্জাদ হোসেন খান ট্যানারি খাতে বৃত্তাকার অর্থনীতির উন্নয়নে অন্তর্ভুক্তিমূলক পদ্ধতির ওপর জোর দিয়ে বলেন, "কার্যকর বৃত্তাকার সমাধানের জন্য সরকারি, শিল্প এবং উন্নয়ন সহযোগীদের মধ্যে বর্ধিত সহযোগিতার পাশাপাশি এসএমই এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের উদ্যোক্তাদের আরও শক্তিশালী সম্পৃক্ততা প্রয়োজন।"
অন্যদিকে, ট্যানারি বর্জ্য নিয়ে কাজ করা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য ও বাড়তি খরচের অভিযোগ তোলেন। তারা বিসিক এস্টেটে সুনির্দিষ্ট প্লট ও নিরবচ্ছিন্ন ব্যবসার জন্য সরকারি নীতিগত স্বীকৃতির দাবি জানান।
​উদ্যোক্তাদের এই দাবির প্রেক্ষিতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মু. খায়রুজ্জামান আশ্বস্ত করে বলেন, "সাভার ট্যানারি ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেটে ট্যানারি বর্জ্য উদ্যোক্তাদের জন্য প্লট বরাদ্দের কাজ বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, যা একটি চলমান সম্ভাব্যতা যাচাই সমীক্ষা দ্বারা সমর্থিত।"

তিনি আরও জানান, সেন্ট্রাল এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (সিইটিপি)-এর দ্বিতীয় ধাপ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে। একই সাথে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব ড. মো. রাজ্জাকুল ইসলাম বলেন, "চামড়া খাতে মূল্য সংযোজনের শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে।" তিনি খাতের সুনির্দিষ্ট প্রতিবন্ধকতা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের সুযোগগুলো চিহ্নিত করতে একটি ঘাটতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
​সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ট্যানারির কঠিন বর্জ্যকে বায়োডিজেলে রূপান্তরের বিষয়ে তার নিজের করা গবেষণার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "চামড়ার বর্জ্য থেকে বায়োগ্যস ও জৈব সার উৎপাদনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।" তবে এই ধরনের পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনগুলো ছড়িয়ে দিতে তিনি ডেডিকেটেড জমি বরাদ্দ এবং বিনিয়োগ সহায়তার আহ্বান জানান।

কারিগরি সেশনে একটি বিস্তারিত উপস্থাপনা তু‌লে ধ‌রেন বিল্ড-এর সি‌নিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট তানজিলা মারজাহান। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭৩,০০০–৯০,০০০ টন ট্যানারি কঠিন বর্জ্য তৈরি হয়, যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনো বৈজ্ঞানিক শোধন ছাড়াই সরাসরি ফেলে দেওয়া হয়, যা মারাত্মক পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করছে।

উপস্থাপনায় ফ্লেশিং, র ট্রিমিং, স্প্লিট লেদার বর্জ্য এবং শেভিং ডাস্টের মতো প্রধান বর্জ্য ধারাগুলো তুলে ধরা হয়, যার সবকটিরই মূল্য সংযোজনের (value addition) জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এটি বাংলাদেশে উদীয়মান উপজাত শিল্পগুলোকে প্রদর্শন করে যেগুলি বর্তমানে গ্লাভস, জেলটিন, আঠা (গ্লু), লেদার বোর্ড, জুতোর সোল, সাবান এবং ছোট চামড়াজাত পণ্য তৈরি করছে। তবে দুর্বল সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থা, সীমিত অবকাঠামো এবং নীতিগত স্বীকৃতির অভাবে এই কার্যক্রমগুলো এখনো বহুলাংশে অনানুষ্ঠানিক এবং খণ্ডিত রয়ে গেছে। সমীক্ষায় পরিবেশগত নিয়মের দুর্বল প্রয়োগ, দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং আনুষ্ঠানিক বৃত্তাকার অর্থনীতি ব্যবস্থায় এসএমই-দের সীমিত একীভূতকরণসহ প্রধান কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বিল্ড-এর সিওও মো. ওয়াহিদ আলম বলেন, বর্জ্যকে টেকসই অর্থনৈতিক সুযোগে রূপান্তর করতে যৌথ পদক্ষেপের বিকল্প নেই। এই আলোচনার সুপারিশগুলো আগামী দিনে একটি পরিবেশবান্ধব চামড়া উপজাত শিল্প গড়ে তোলার নীতি তৈরিতে সহায়তা করবে।


সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক
আলতামাশ কবির

নির্বাহী সম্পাদক
শাহরিয়ার করিম

প্রধান, ডিজিটাল সংস্করণ
রাশেদ আহমেদ


কপিরাইট © ২০২৬ | সংবাদ | সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত