চব্বিশের
জুলাই আন্দোলনে যখন পুরো দেশ
উত্তাল, ছাত্র-জনতার ক্ষোভে কাঁপছে স্বৈরাচারের তখত, তখন সারা
দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার
নেপথ্যে ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর
বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা
সালমান এফ রহমানের সরাসরি
নির্দেশনা।
আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপন করা এক চাঞ্চল্যকর
অডিও রেকর্ডে উঠে এসেছে এই
সত্য। ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও
সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ১ মিনিট ৯
সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে
শোনানো হয়। সেখানে পলককে
স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে সালমানকে বলতে
শোনা যায়, “তুমি ইন্টারনেট রিস্টোর
(চালু) করবে না এখন।
কোনোভাবেই না।”
সোমবার
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা
মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই কল রেকর্ডটি
বাজিয়ে শোনানো হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের
মামলায় সালমান এফ রহমান ও
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্য আসামিদের
উপস্থিতিতেই এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন
হয়।
আন্দোলনকারীদের
‘দুর্বৃত্ত’ বানানোর নীল নকশা
সাবেক
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সাথে সালমান এফ
রহমানের সেই ফোনালাপে কেবল
ইন্টারনেট বন্ধ রাখাই নয়,
বরং আন্দোলনকারীদের ‘দুর্বৃত্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করার এক সুদূরপ্রসারী
পরিকল্পনার কথা বলতে শোনা
যায়। আন্দোলনকারীদের দমানোর কৌশল হিসেবে সালমান
ওই কলটিতে বলেন, “টিভি চ্যানেলকে বলা
হয়েছে, এদেরকে আন্দোলনকারী আর বলা যাবে
না। এদেরকে এখন ‘দুর্বৃত্ত’ বলতে
হবে। সো স্টেপ চেঞ্জ,
নো মোর আন্দোলনকারী।”
ট্রাইব্যুনালে
শোনানো ১ মিনিট ৯
সেকেন্ডের সেই ফোনালাপের হুবহু
অনুলিপি নিচে তুলে ধরা
হলো:
সালমান
এফ রহমান: তোমার কি খবর?
জুনাইদ
আহমেদ পলক: জি, ভালো।
সালমান:
তুমি ইন্টারনেট রিস্টোর (চালু) করবে না এখন।
পলক:
না।
সালমান:
কোনোভাবেই না।
পলক:
না।
সালমান:
পরে দেখা যাবে। ঠিক
আছে? আদারওয়াইজ (অন্যান্য বিষয়) ঠিক আছে তো
সব?
পলক:
হ্যাঁ, আদারওয়াইজ ঠিক আছে। এখন
ওই যে, ছাত্রদের পক্ষ
থেকে যেটা বলছে যে-
সহিংসতার সঙ্গে এরা জড়িত না,
এত বড় এটা যায়
না। এটার ওপর ভিত্তি
করে একটা প্রতিক্রিয়া দেওয়া
দরকার তো!
সালমান:
দিয়েছে, আরাফাত (সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী) দিয়েছে...
তো।
পলক:
আচ্ছা ঠিক আছে।
সালমান:
টিভি চ্যানেলকে বলা হয়েছে, এদেরকে
আন্দোলনকারী আর বলা যাবে
না। এদেরকে এখন ‘দুর্বৃত্ত’ বলতে
হবে। কারণ, ছাত্ররা ওদের সঙ্গে নেই।
সো স্টেপ চেঞ্জ, নো মোর (আর
নয়) আন্দোলনকারী। আমি একটা বিবৃতি
দিয়েছি, লাইন পড়তে পারেন।
রেকর্ড করে টিভিতে পৌঁছালে
করবে আরকি।
পলক:
আচ্ছা ঠিক আছে।
শেখ
রেহানার আকুতি: ‘এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না’
এর আগে, ৫ আগস্ট
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের
ঠিক আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর
উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে দ্রুত
‘সেফ জোনে’ চলে যাওয়ার তাগিদ
দিয়েছিলেন শেখ রেহানা। ওই
সময়কার আরও একটি ফোনালাপ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন, যেখানে শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগে
রাজি করানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে।
২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ওই
ফোনালাপে শেখ রেহানা ও
সালমান এফ রহমানের মধ্যকার
কথোপকথনের মূল অংশ হুবহু
তুলে ধরা হলো:
কর্নেল
রাজীব: সালামালাইকুম স্যার। স্যার কর্নেল রাজীব বলছি। রেহানা আপা একটু কথা
বলবেন। ওভার টু ওভার
স্যার।
সালমান:
কে?
কর্নেল
রাজীব: রেহানা আপা, রেহানা আপা।
রেহানা:
স্লামালাইকুম ভাইয়া।
সালমান:
হ্যাঁ, ওয়ালাইকুম সালাম।
রেহানা:
জি আপনি কই?
সালমান:
আমি আমার বাসায়।
রেহানা:
থাইকেন না।
সালমান:
থাকবো না, হ্যাঁ ঠিক
আছে।
রেহানা:
আমরা অন্য জায়গায় আছি।
আমরা মানে ববি, টিউলিপ
ওকে (শেখ হাসিনা) কনভিন্স
করছে... কল না করতে
পারলেও আল্লাহ যদি বাঁচায় রাখে
কথা হবে।
সালমান:
আচ্ছা, তো তোমরা অন্য
জায়গায় চলে গেছ? আপাও
গেছে?
রেহানা:
জি ভাই। তো আপনি...
সালমান:
আমরা যদি বাইর হইতে
পারি, বের হয়ে যাব।
আনিসুল হককেও বের করে ফেলি
সাথে?
রেহানা:
হ্যাঁ, হ্যাঁ, যেটা হয় আপনি
ইমিডিয়েটলি ওই যে শায়ান
আর জয় যেটা বলছে
আপনি ওইটা করেন। এক
সেকেন্ডও দেরি কইরেন না।
কারণ সম্পার বাসায় গেছে ফটো তুলছে
এবং চারদিকে মানে সাদা জোব্বা
পরা দাড়িওয়ালা এই আরকি। ইউ
শুড বি (আপনাকে হতে
হবে) মানে যত তাড়াতাড়ি
সম্ভব। এখানে একদম থাকা সেফ
না।
সালমান:
আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে
ও কি বলবে মার্শাল
ল ডিক্লেয়ার করতেছে না সে?
রেহানা:
ওইগুলো এখন বাদ দেন,
ইউ শুড লিভ ইমিডিয়েটলি
(আপনার এখনই চলে যাওয়া
উচিত)।
সালমান:
ওকে।
রেহানা:
জি ভাইয়া ফি-আমানিল্লাহ, দোয়া
করবেন।
আলোচিত
এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৯
জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ ছেড়ে
পালানোর চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার হন সালমান এফ
রহমান ও আনিসুল হকসহ
আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ
পর্যায়ের একাধিক মন্ত্রী ও উপদেষ্টা। বর্তমানে
তারা সবাই আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১৯ মে ২০২৬
চব্বিশের
জুলাই আন্দোলনে যখন পুরো দেশ
উত্তাল, ছাত্র-জনতার ক্ষোভে কাঁপছে স্বৈরাচারের তখত, তখন সারা
দেশে ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার
নেপথ্যে ছিল তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর
বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা
সালমান এফ রহমানের সরাসরি
নির্দেশনা।
আন্তর্জাতিক
অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপন করা এক চাঞ্চল্যকর
অডিও রেকর্ডে উঠে এসেছে এই
সত্য। ট্রাইব্যুনালে সালমান এফ রহমান ও
সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের ১ মিনিট ৯
সেকেন্ডের একটি ফোনালাপ বাজিয়ে
শোনানো হয়। সেখানে পলককে
স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে সালমানকে বলতে
শোনা যায়, “তুমি ইন্টারনেট রিস্টোর
(চালু) করবে না এখন।
কোনোভাবেই না।”
সোমবার
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা
মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এই কল রেকর্ডটি
বাজিয়ে শোনানো হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের
মামলায় সালমান এফ রহমান ও
সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ অন্য আসামিদের
উপস্থিতিতেই এই সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন
হয়।
আন্দোলনকারীদের
‘দুর্বৃত্ত’ বানানোর নীল নকশা
সাবেক
আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের সাথে সালমান এফ
রহমানের সেই ফোনালাপে কেবল
ইন্টারনেট বন্ধ রাখাই নয়,
বরং আন্দোলনকারীদের ‘দুর্বৃত্ত’ হিসেবে আখ্যায়িত করার এক সুদূরপ্রসারী
পরিকল্পনার কথা বলতে শোনা
যায়। আন্দোলনকারীদের দমানোর কৌশল হিসেবে সালমান
ওই কলটিতে বলেন, “টিভি চ্যানেলকে বলা
হয়েছে, এদেরকে আন্দোলনকারী আর বলা যাবে
না। এদেরকে এখন ‘দুর্বৃত্ত’ বলতে
হবে। সো স্টেপ চেঞ্জ,
নো মোর আন্দোলনকারী।”
ট্রাইব্যুনালে
শোনানো ১ মিনিট ৯
সেকেন্ডের সেই ফোনালাপের হুবহু
অনুলিপি নিচে তুলে ধরা
হলো:
সালমান
এফ রহমান: তোমার কি খবর?
জুনাইদ
আহমেদ পলক: জি, ভালো।
সালমান:
তুমি ইন্টারনেট রিস্টোর (চালু) করবে না এখন।
পলক:
না।
সালমান:
কোনোভাবেই না।
পলক:
না।
সালমান:
পরে দেখা যাবে। ঠিক
আছে? আদারওয়াইজ (অন্যান্য বিষয়) ঠিক আছে তো
সব?
পলক:
হ্যাঁ, আদারওয়াইজ ঠিক আছে। এখন
ওই যে, ছাত্রদের পক্ষ
থেকে যেটা বলছে যে-
সহিংসতার সঙ্গে এরা জড়িত না,
এত বড় এটা যায়
না। এটার ওপর ভিত্তি
করে একটা প্রতিক্রিয়া দেওয়া
দরকার তো!
সালমান:
দিয়েছে, আরাফাত (সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী) দিয়েছে...
তো।
পলক:
আচ্ছা ঠিক আছে।
সালমান:
টিভি চ্যানেলকে বলা হয়েছে, এদেরকে
আন্দোলনকারী আর বলা যাবে
না। এদেরকে এখন ‘দুর্বৃত্ত’ বলতে
হবে। কারণ, ছাত্ররা ওদের সঙ্গে নেই।
সো স্টেপ চেঞ্জ, নো মোর (আর
নয়) আন্দোলনকারী। আমি একটা বিবৃতি
দিয়েছি, লাইন পড়তে পারেন।
রেকর্ড করে টিভিতে পৌঁছালে
করবে আরকি।
পলক:
আচ্ছা ঠিক আছে।
শেখ
রেহানার আকুতি: ‘এক সেকেন্ডও দেরি কইরেন না’
এর আগে, ৫ আগস্ট
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের
ঠিক আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর
উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানকে দ্রুত
‘সেফ জোনে’ চলে যাওয়ার তাগিদ
দিয়েছিলেন শেখ রেহানা। ওই
সময়কার আরও একটি ফোনালাপ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করেছে প্রসিকিউশন, যেখানে শেখ হাসিনাকে দেশত্যাগে
রাজি করানোর বিষয়টিও উঠে এসেছে।
২ মিনিট ৯ সেকেন্ডের ওই
ফোনালাপে শেখ রেহানা ও
সালমান এফ রহমানের মধ্যকার
কথোপকথনের মূল অংশ হুবহু
তুলে ধরা হলো:
কর্নেল
রাজীব: সালামালাইকুম স্যার। স্যার কর্নেল রাজীব বলছি। রেহানা আপা একটু কথা
বলবেন। ওভার টু ওভার
স্যার।
সালমান:
কে?
কর্নেল
রাজীব: রেহানা আপা, রেহানা আপা।
রেহানা:
স্লামালাইকুম ভাইয়া।
সালমান:
হ্যাঁ, ওয়ালাইকুম সালাম।
রেহানা:
জি আপনি কই?
সালমান:
আমি আমার বাসায়।
রেহানা:
থাইকেন না।
সালমান:
থাকবো না, হ্যাঁ ঠিক
আছে।
রেহানা:
আমরা অন্য জায়গায় আছি।
আমরা মানে ববি, টিউলিপ
ওকে (শেখ হাসিনা) কনভিন্স
করছে... কল না করতে
পারলেও আল্লাহ যদি বাঁচায় রাখে
কথা হবে।
সালমান:
আচ্ছা, তো তোমরা অন্য
জায়গায় চলে গেছ? আপাও
গেছে?
রেহানা:
জি ভাই। তো আপনি...
সালমান:
আমরা যদি বাইর হইতে
পারি, বের হয়ে যাব।
আনিসুল হককেও বের করে ফেলি
সাথে?
রেহানা:
হ্যাঁ, হ্যাঁ, যেটা হয় আপনি
ইমিডিয়েটলি ওই যে শায়ান
আর জয় যেটা বলছে
আপনি ওইটা করেন। এক
সেকেন্ডও দেরি কইরেন না।
কারণ সম্পার বাসায় গেছে ফটো তুলছে
এবং চারদিকে মানে সাদা জোব্বা
পরা দাড়িওয়ালা এই আরকি। ইউ
শুড বি (আপনাকে হতে
হবে) মানে যত তাড়াতাড়ি
সম্ভব। এখানে একদম থাকা সেফ
না।
সালমান:
আচ্ছা ঠিক আছে। তাহলে
ও কি বলবে মার্শাল
ল ডিক্লেয়ার করতেছে না সে?
রেহানা:
ওইগুলো এখন বাদ দেন,
ইউ শুড লিভ ইমিডিয়েটলি
(আপনার এখনই চলে যাওয়া
উচিত)।
সালমান:
ওকে।
রেহানা:
জি ভাইয়া ফি-আমানিল্লাহ, দোয়া
করবেন।
আলোচিত
এই মামলায় এখন পর্যন্ত ৯
জন সাক্ষী ট্রাইব্যুনালে তাদের জবানবন্দি দিয়েছেন। চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে
শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশ ছেড়ে
পালানোর চেষ্টাকালে গ্রেপ্তার হন সালমান এফ
রহমান ও আনিসুল হকসহ
আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ
পর্যায়ের একাধিক মন্ত্রী ও উপদেষ্টা। বর্তমানে
তারা সবাই আন্তর্জাতিক অপরাধ
ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন