গাজীপুরের কাপাসিয়ার টোক ইউনিয়নে আগামী নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শফিকুল ইসলাম কবির ও জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা সোহেল তালুকদারের ওপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সকালে উপজেলার টোক নগর গ্রামে শফিকুল ইসলামের বাসভবনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা হামলাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
সংবাদ সম্মেলনে শফিকুল ইসলাম কবির (যিনি বর্তমানে টোক ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য) অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে টোক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুর রশিদ ও তার ছেলে টোক কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সাজরাতুল ইসলাম রাফি তার কাছে বিভিন্ন সময়ে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা না দেওয়ায় তাকে ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত ও দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি তিনি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে তার পোস্টার, বিলবোর্ড ও তোরণ ভাঙচুর করা হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গত ১৭ মে রাত ১০টার দিকে প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে টোক বাজারে গেলে আবদুর রশিদ ও সাজরাতুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল দুষ্কৃতকারী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় শ্রীপুর পৌর যুবদলের সভাপতি সোহেল তালুকদারসহ স্থানীয় কয়েকজন আমাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে তারাও আহত হন।’
আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় সোহেল তালুকদারকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় গত ১৮ মে শফিকুল ইসলাম কবির বাদী হয়ে আবদুর রশিদ ও সাজরাতুল ইসলামসহ চারজনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ৭ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে টোক ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আবদুর রশিদ বলেন, ‘শফিকুল ইসলাম কবির টোক ইউনিয়ন যুবলীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি। গত ১৭ মে গভীর রাতে তিনি নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিয়ে মিটিং করছিলেন। বাজারের ইজারাদার হিসেবে আমি তাদের বাজার থেকে চলে যেতে বলেছি মাত্র। কোনো মারামারি বা চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেনি।’
টোক পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিনহাজ উদ্দিন বলেন, গত ১৭ তারিখের মারামারির ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন