সিলেটের জৈন্তাপুরে নিজের কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আকবর হোসেনকে (৩৬) ‘বিকৃত মানসিকতার’ বলে উল্লেখ করেছে পুলিশ। বুধবার (২০ মে) তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পরও আকবরের আচরণ ছিল অস্বাভাবিক; এমনকি পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায়ও তিনি হাসছিলেন। তবে আদালতে তোলা হলে তিনি দোষ স্বীকার করেননি।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, ‘আসামির কথাবার্তা ও ভাবভঙ্গি দেখে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে লোকটি ধর্মীয় লেবাসধারী হলেও বিকৃত মানসিকতার। গ্রেপ্তারের পরও তিনি হাসছিলেন। আদালতে তোলা হলে তিনি কোনো স্বীকারোক্তি দেননি।’
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে রাতে কিশোরীর মা মেয়েকে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন। গভীর রাতে আকবর হোসেন বাড়িতে ফিরে একই বিছানায় ঘুমান। ১৯ মে ভোর চারটার দিকে মেয়ের চিৎকারে মায়ের ঘুম ভেঙে যায়। তখন মেয়ে ভয় পেয়েছে মনে করে মা তাকে জড়িয়ে ধরে আবার ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে মেয়ের অস্বাভাবিক আচরণ দেখে মা কারণ জানতে চাইলে সে বাবার পৈশাচিক আচরণের কথা খুলে বলে।
ভুক্তভোগী কিশোরী জানায়, ঘটনার সময় তার বাবা মুখ চেপে ধরে তাকে ধর্ষণ করেন। এর আগেও মায়ের অনুপস্থিতিতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে জানায় সে। ঘটনা জানার পর স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আত্মীয়স্বজনদের পরামর্শে বুধবার থানায় মামলা করেন মা।
ওসি মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আপনার মতামত লিখুন