আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরসহ আশপাশের এলাকায় ডাকাত ও চোরের আতঙ্কে দিন কাটছে গ্রামবাসী ও গবাদিপশুর খামারিদের। সম্প্রতি ডাকাতরা অন্তত ১০টি বাড়িতে চিঠি দিয়ে ডাকাতির হুমকি দিয়েছে। চিঠিতে বাসাবাড়ির দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে। এমনকি ‘দরজা না খুললে জিন্দা খালাস করে দেবে’- স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কয়েকটি চিঠিতে ছিল রক্তমাখা আভাস। এসব চিঠি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে প্রশাসন সচেতন হয়। জেলা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় ডাকাত প্রতিরোধে নামে এলাকাবাসী। লাঠি, বাঁশি ও টর্চলাইট নিয়ে রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন তারা। রাস্তায় বাঁশকল পেতে বসানো হয়েছে অভিনব নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পুলিশ গ্রামবাসীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করছে। নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের পক্ষ থেকে পাহারাদারদের হাতে লাঠি, বাঁশি ও টর্চলাইট তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুধু বাসাবাড়ি নয়, খামার থেকেও রাতে গরু লুট করছে ডাকাত ও চোর চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই মাসে জেলাজুড়ে অর্ধশতাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি পদ্মার চর থেকে খামারিদের ১৭৬টি ছোট-বড় গরু লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ খবর পেয়ে সেগুলো উদ্ধার করে মালিকের কাছে হস্তান্তর করে।
গ্রামবাসীর মধ্যে টর্চ আর লাঠি বিতরণ
শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, গত ১৩ ও ১৪ মে এলাকার বিভিন্ন বাড়ির সামনে থেকে হাতে লেখা আট থেকে দশটি উড়ো চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। এটি চরমপন্থীদের কাজ নাকি স্থানীয় বিরোধের জের ধরে কেউ ভয় দেখাচ্ছে-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা মহড়া, পেট্রোল ডিউটি ও বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতি দিন ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক চলছে। গ্রামবাসীকে সচেতন করতে পুলিশ কাজ করছে।
শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করছে। গত মাসে দুটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। মামলা হয়েছে, ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতকদের ধরতে অভিযান চলছে।’
তিনি জানান, শাহজাদপুর এলাকায় গরুর দুগ্ধ খামারসহ প্রায় এক হাজার খামারি আছেন। গরু চুরির চেষ্টা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মোবাইল টিম ও মোটরসাইকেল টহল জোরদার করা হয়েছে।বুধবার (২০ মে) বিকেলে এলাকায় পুলিশ ও গ্রামবাসীর যৌথ বৈঠক হয়েছে। ঈদ পর্যন্ত নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে সারাদেশে সড়ক ও মহাসড়কে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরসহ আশপাশের এলাকায় ডাকাত ও চোরের আতঙ্কে দিন কাটছে গ্রামবাসী ও গবাদিপশুর খামারিদের। সম্প্রতি ডাকাতরা অন্তত ১০টি বাড়িতে চিঠি দিয়ে ডাকাতির হুমকি দিয়েছে। চিঠিতে বাসাবাড়ির দরজা খোলা রাখতে বলা হয়েছে। এমনকি ‘দরজা না খুললে জিন্দা খালাস করে দেবে’- স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়েছে।
কয়েকটি চিঠিতে ছিল রক্তমাখা আভাস। এসব চিঠি এ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা পুলিশকে জানালে প্রশাসন সচেতন হয়। জেলা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় ডাকাত প্রতিরোধে নামে এলাকাবাসী। লাঠি, বাঁশি ও টর্চলাইট নিয়ে রাত জেগে পালাক্রমে পাহারা দিচ্ছেন তারা। রাস্তায় বাঁশকল পেতে বসানো হয়েছে অভিনব নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
পুলিশ গ্রামবাসীদের নিয়ে উঠান বৈঠক করছে। নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশের পক্ষ থেকে পাহারাদারদের হাতে লাঠি, বাঁশি ও টর্চলাইট তুলে দেওয়া হয়েছে।
শুধু বাসাবাড়ি নয়, খামার থেকেও রাতে গরু লুট করছে ডাকাত ও চোর চক্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত দুই মাসে জেলাজুড়ে অর্ধশতাধিক গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি পদ্মার চর থেকে খামারিদের ১৭৬টি ছোট-বড় গরু লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ খবর পেয়ে সেগুলো উদ্ধার করে মালিকের কাছে হস্তান্তর করে।
গ্রামবাসীর মধ্যে টর্চ আর লাঠি বিতরণ
শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, গত ১৩ ও ১৪ মে এলাকার বিভিন্ন বাড়ির সামনে থেকে হাতে লেখা আট থেকে দশটি উড়ো চিঠি উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো নিয়ে তদন্ত চলছে। এটি চরমপন্থীদের কাজ নাকি স্থানীয় বিরোধের জের ধরে কেউ ভয় দেখাচ্ছে-তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এলাকায় নিরাপত্তা মহড়া, পেট্রোল ডিউটি ও বাড়তি ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতি দিন ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে উঠান বৈঠক চলছে। গ্রামবাসীকে সচেতন করতে পুলিশ কাজ করছে।
শাহজাদপুর থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘এলাকায় নিরাপত্তায় পুলিশ কাজ করছে। গত মাসে দুটি চুরির ঘটনা ঘটেছে। মামলা হয়েছে, ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজন স্বীকারোক্তি দিয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। পলাতকদের ধরতে অভিযান চলছে।’
তিনি জানান, শাহজাদপুর এলাকায় গরুর দুগ্ধ খামারসহ প্রায় এক হাজার খামারি আছেন। গরু চুরির চেষ্টা হয়েছে। পুলিশের তৎপরতায় এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মোবাইল টিম ও মোটরসাইকেল টহল জোরদার করা হয়েছে।বুধবার (২০ মে) বিকেলে এলাকায় পুলিশ ও গ্রামবাসীর যৌথ বৈঠক হয়েছে। ঈদ পর্যন্ত নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে সারাদেশে সড়ক ও মহাসড়কে বাড়তি নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন